top of page
Search

সিঙ্গাপুর ভ্রমন, শীতের সবজি দিয়ে রান্না...

বাজারে উপচে পড়া টাটকা তাজা রংবেরঙের সবজি, দেখলেই মনে হয় সব কিনে ফেলি। শীতের সময়টাই এমন, রেঁধে-বেড়ে খেয়ে এবং খাইয়ে সুখ। আরো একটা জিনিস এইসময় ভারী ভালো লাগে, তা হচ্ছে বেড়াতে যেতে। হাতে ক'দিনের ছুটি পেলেই মন পালাই পালাই করে। এবারের অনন্যা রোববারে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলেন সুনৃতা মাইতি, সঙ্গে শীতের সবজি দিয়ে দুর্দান্ত ১২ টি রান্না।


সিঙ্গাপুরের সঙ্গলাভে

সুনৃতা মাইতি


‍দীপাবলির রাতকে টা টা বাইবাই জানিয়ে সপরিবারে চলেছি দেশান্তরে ঘুরতে। সারারাত জেগে থাকা কলকাতার মাত্রাহীন আনন্দে বিরাম নেই কোনওফ্র। বাজির ধোঁয়ায় চারিদিক ভরে গেছে। সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে ঠিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারলাম। চলেছি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে। দঃ পূর্ব এশিয়ার বুকে একটুকরো প্রথম বিশ্বের ঝলক দেখতে। সত্যি বলতে কি,পরবর্তীকালে সবসময়ই মনে হয়েছে সমর্থ ভারতীয়দের উচিৎ জীবনে একবার অন্তত সিঙ্গাপুরটা দেখে আসা। শৃঙ্খলা আর নিয়মানুবর্তিতা একটি দেশকে কোন উচ্চতায় যে নিয়ে যেতে পারে তা দেখতে হলে সিঙ্গাপুর আসতেই হবে।

সিঙ্গাপুরের নাম নাকি ছিল সিঙ্গাপুরা, অর্থাৎ সিংহের শহর। একটি সিংহ দেখতে পেয়ে শ্রী বিজয়া সাম্রাজ্যের রাজপুত্র স্যাঙ নিলা উতামা প্রাচীন তেমাসিক দ্বীপটির নাম রেখেছিলেন সিঙ্গাপুরা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সিঙ্গাপুরে সিংহ একেবারেই নেই, রাজপুত্র সম্ভবতঃ মালয়েশিয়ান বাঘ দেখে সিংহ ভেবে ভুল করেছিলেন। তবে সিঙ্গাপুরের রক্ষক দেবতা হলেন মারলায়ন, যিনি গঠনবৈশিষ্ট্যে অর্ধেক সিংহ আর অর্ধেক মৎস্য। তাকে নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে । ১৮১৯ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে ব্রিটিশরা নিজেদের বানিজ্য বন্দর হিসেবে রূপান্তরিত করবার আগে অবশ্য সিঙ্গাপুর মালয় সুলতানী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হস্তগত হলেও কয়েক বছর পরেই মালয় ফেডারেশনের সাথে যুক্ত হয় সিঙ্গাপুর এবং লাভ করে খানিক স্বশাসনের অধিকার। শেষপর্যন্ত ১৯৬৫ সালের ৯ ই আগষ্ট সিঙ্গাপুর আনুষ্ঠানিকভাবে মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর পরের কয়েকটি বছর সিঙ্গাপুরের জন্য মোটেই সুখকর ছিলনা। একদিকে ইন্দোনেশিয়ার মিলিটারি আক্রমণ , অন্যদিকে মালয়েশিয়ার বৈদেশিক চাপ সব মিলিয়ে এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা আরও ভয়াবহ! বাসস্থান সংকট, অপর্যাপ্ত পয়ঃপ্রনালী ব্যবস্থা , বেকারত্ব, খাদ্যসংকট, জাতিবিদ্বেষ ... এই সবকিছু নিয়ে সমস্যা জর্জরিত একটি গরীব দেশ কিভাবে যে ঘুরে দাঁড়াল এবং কালক্রমে এশিয়ান চার বাঘের ( দঃ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুর) অন্যতম হয়ে উঠল ,তা অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়। এই চার এশিয়ান বাঘের রাজকীয় ভঙ্গিমা থেকে এখন চোখ ফেরানো দায়।

আসলে কিনা ১৯৫৯ থেজে ১৯৯০ এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী লি ক্যু ইউ এর শাসনকালে মজবুত হলো সিঙ্গাপুর । লি কঠোর হস্তে দূর্নীতি দমন করলেন, জীবনযাত্রার মান উন্নত করবার দিকে সুগভীর মনোযোগ দিলেন এবং সামগ্রিকভাবে সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চাঙ্গা করবার সমস্ত উদ্যোগ নিলেন।

কলকাতা থেকে রওনা হয়ে রাতের দিকে চার ঘন্টারও বেশি বিমান যাত্রা সেরে পৌঁছে গেলাম চাঙ্গি বিমান বন্দরে। এই ঝাঁ চকচকে বিমানবন্দরটি আমার দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিমানবন্দর। এমনিতে তৃতীয় বিশ্বের আমস্য আম আউরাত , তাই এই জাঁকজমক দেখে ঢোক গেলাই ভুলে যেতে বসেছি। বাইরে বেরিয়ে দেখি রাস্তাঘাট অতি পরিচ্ছন্ন , যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা । মানুষজন আইন মেনে চলেন প্রতি পদে। ট্রাফিক মেনটেইন করা হয় প্রচন্ড দক্ষতার সাথে। সিকিউরিটি নাকি সাংঘাতিক! ট্যাক্সি চালক থেকে শুরু করে হকার সবাই প্রায় তুখোড় ইংলিশ বলিয়ে । দেশের মুখ্য ভাষা ইংরেজি তবে মান্দারিণের চল আছে মোটামুটি । এছাড়া তামিলও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষা। এক মহিলা ট্যাক্সিচালিকার সাথে আলাপ হয়েছিল, সে নাকি জীবন বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী। কথাপ্রসঙ্গে জানালেন মহিলাদের জন্য এর মতো নিরাপদ স্থান এশিয়ায় আর একটিও নেই। অল্প থেকে অত্যল্প জামাকাপড় পরে সারারাত টইটই করে সিঙ্গাপুর চড়ে বেড়ান, কোনও আশঙ্কা নেই। এদিকে রাস্তাঘাটে পুলিশ টুলিশ তো কিছু নেই ! শুনলাম প্রতিটি রাস্তার কোণে কোণে নাকি সিসিটিভি লাগানো । বেআইনি কিছু বেচাল দেখলেই পুলিশপ্রবরেরা মাটি ফুঁড়ে কোথা থেকে যে হাজির হবে বুঝতেই পারবেন না। ট্যাক্সিচালিকা বলেছিলেন যে তার বাহনে একা যাতায়াতকারী সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রাণী ছিল এক পাঁচ বছরের কন্যা। আমাদের দেশে ভাবা যায়! শিক্ষা দিক্ষার ব্যাপারে আর কি বলি! সিঙ্গাপুরের মেধা তো এখন ভুবন বিখ্যাত।

চারিদিকে সুরম্য ও বিশালাকার সব অট্টালিকা , ঘোরানো প্যাঁচানো ব্রীজের উপরিভাগ দিয়ে আমাদের গাড়ি চলছে গন্তব্যেের দিকে। উপরে নীল উন্মুক্ত আকাশ। সব মিলিয়ে খানিক চমকে চ আর কি! হোটেলে ঢুকতেই আমার ভারতীয় ছাপ মারা চেহারা দেখেই বুঝি হ্যাপি দীপাবলি উইশ করতে শুরু করলেন সবাই। একটি ট্রিপ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বুকিং করা ছিল হোটেল।

সিঙ্গাপুরে খাওয়া দাওয়ার অঢেল আয়োজন। চাইনিজ , মালয় খাবার তো বটেই, কে এফ সি বা ম্যাকডোনাল্ডের মতো খাবার দোকানের ছড়াছড়ি চারিদিকে। আমরা যেহেতু ভারতীয় অধ্যুষিত লিটল ইন্ডিয়ায় ছিলাম , ভারতীয় রেস্তোরাঁর কোনও অভাব দেখতে পাইনি। কিন্তু মুশকিল হলো যে আমি বাদে আমার বাকি পরিবারের সদস্যরা " হোয়াইল ইন রোম..." মতবাদে বিশ্বাসী। সুযোগ পেলেই ফুটপাত সংলগ্ন একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় সাঁটাতে বসে যেত তারা। সেখানে পর্ক , বিফ কিংবা চাইনিজ শুঁটকি জাতীয় কিছুর ঝাঁঝালো গন্ধে "আমি ভারতীয়" র তো ওষ্ঠাগত অবস্থা হতো। করুন মুখে একগ্লাস কমলালেবুর জুস হাতে নিয়ে ইষ্টদেবকে স্মরণ করে সে অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি চাইতাম। পরের দিকে তো রেস্তোরাঁ মালিকের সাথে এমন সুসম্পর্ক হয়ে গেল যে ঢুকেই বিশুদ্ধ বাংলায় জিজ্ঞাসা," করতাম, দাদা, ভালো তো?"

এদিকে এত নির্ঘণ্ট লিখতে লিখতে ভুলেই গেছি যে সিঙ্গাপুরে প্রচুর দর্শনীয় স্থান আছে। ঘোরবার জন্য অন্তত সাতটি দিন হাতে রাখতেই হবে। আমাদের হাতে সময় ছিল কম, তাই ট্যুর ছিল হেকটিক।

প্রথমদিনের সকালটা নষ্ট কারণ বিশ্রাম না নিলে মুশকিল হবে। বিশ্রাম টিশ্রাম নিয়ে দুপুরের দিকে লিটল ইন্ডিয়ার আনাচে কানাচে ঘোরা হলো, খুঁজে ফেলা হলো লোকাল ট্যুর অপারেটর। তারা পরামর্শ দিলেন সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানার রাতের সাফারিটা সেদিনই সেরে ফেলতে। সেইমতো রওনা দিলাম জু। আমরা যখনই কোনও স্হানে যাই সেখানকার স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের সাথে কথা বলে ট্যুর প্ল্যান করি।

সিঙ্গাপুর জুতে আপনি প্রায় ৩০০ প্রজাতির প্রাণী দেখতে পাবেন। বেশ নাটকীয় আলো ফেলে ফেলে তাদের দৃশ্যমান করা হচ্ছিল। এদিকে অন্ধকার বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে চলছিল আমাদের গাড়ি। এগুলো দেখলেই আমার মন খারাপ হয়ে যায়। মনে হয় আমাদের দেশে কতো রিসোর্স , অথচ সর্বস্তরে কি হেলাফেলা! আর এখানে সামান্য বস্তুগুলোকেই অসামান্য করে পেশ করা হচ্ছে দক্ষতার সঙ্গে ।

পরদিন চললাম সান্তোসা আইল্যান্ড । ট্যুর অপারেটর গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তবে লোকাল বাসে চড়েও দিব্য যাওয়া সম্ভব । ছেলেপুলে অত্যন্ত উত্তেজিত কারণ তারা ইউনিভারসাল স্টুডিও দেখতে পাবে। এছাড়াও সান্তোসায় আছে নানান রকম শো এর গ্যালারি, ওয়াটার পার্ক, মাদাম তুঁসোর কীর্তিকলাপ, ক্লাব হাউস, ইন্ডোর স্কাই ডাইভিং সহ আরও অনেক রকমের আকর্ষণ । বজরংবলীর নাম নিয়ে একখান বিপজ্জনক রাইডে চড়েছিলুম, বিশ্বাস করবেন না পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব তুমুল নাড়িয়ে চাড়িয়ে তারপর ছাড়ান দিল। পাওয়া গেল এক ত্রিমাত্রিক স্টুডিও যেখানে রূপকথার সাথে আপনি একাত্ব হয়ে যেতে পারেন, হয়ে উঠতে পারেন রূপকথার একটি চরিত্র ।একটি অ্যাপ ডাউনলোড করলেই সব ধরা থাকবে আপনার ফোনে। সান্তোসায় মনোরেল আছে তাই যাতায়াতের বিশেষ অসুবিধা হয়না। ফুড স্টলেরও ছড়াছড়ি চারিদিকে। সারাদিন এই রাইড থেকে ওই রাইড, এই শো থেকে ওই শো, ডিজনীল্যান্ডের ফান্ডা থেকে ইজিপ্টের মমি দেখতে দেখতে পা টনটন মাথা ভনভন অবস্থা। শুধু ছেলেপুলেদের উৎসাহে কোনও ঘাটতি নেই।

হাড়ে মজ্জায় ব্যাথা বেদনা অগ্রাহ্য করে পরদিন গেলাম জুরং বার্ড পার্কে। এখানে আপনি পাঁচ হাজারেরও বেশি পাখির প্রজাতি দেখতে পাবেন। সবথেকে সুন্দর হলো আভাইরি জলপ্রপাত । সারাদিন ধরে ট্রেনিং প্রাপ্ত পাখিদের নানারকম শো চলতেই থাকে। দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়।

পরদিন ঠিক করলাম নিজেরাই ইচ্ছেমতো ঘোরাঘুরি করব। সেইমতো রেস্ট নিয়ে চললাম সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার এর উদ্দেশ্যে । বিশাল একটি চাকার মতো ঘুর্নমান ফ্লায়ারে উঠে পৌঁছে যাওয়া যায় একবারে টঙে যেখান থেকে পাবেন সম্পুর্ণ সিঙ্গাপুরের একটি এরিয়াল ও মনোমুগ্ধকর ভিউ। এরপর সারাদিন ধরে বুগিস স্ট্রিট , চায়না টাউন এবং টেলক এয়ারে ঘুরে ফিরে আমরা হোটেলে ফিরে এলাম। বুগিস স্ট্রিট সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত শপিং সেন্টারগুলোে মধ্যে অন্যতম। আর খাঁটি সিঙ্গাপুরী খাবারের স্বাদ পেতে হলে অবশ্য ম্যাক্সওয়েল ফুড সেন্টারে যেতে হবে। টিলক এয়ারে গেলে অবশ্যই ইন্দোনেশিয়ান খাবার চিকেন সাঁতে টেস্ট করবেন। তবে হোটেলে ফিরেই আমাদের মনে হলো সিঙ্গাপুরের রাতের রূপটিই বা ছাড়ি কেন? পয়সা উসুলই হলো ভারতীয় মধ্যবিত্তের মুল মন্ত্র। সেইমতো রওনা হলাম মেরিনা বের দিকে। সেখানে আছে মার্লায়নের বিশালাকায় মুর্তি। সিংহ আর মৎস্যের মিশেল এই দেবতা নাকি সিঙ্গাপুরের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ঝাঁ চকচকে আলো ঝলমলে রাস্তায় হরেম কিসিমের রেস্তোরাঁর আগ্রহী আহ্বান , এধারে ওধারে নাচন কোঁদন আর হল্লাগুল্লার খুল্লামখুল্লা ব্যবস্থা আর কি! রঙিন সব রাতচরা মানুষজন প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াচ্ছে। দেখেতো ছেলেপুলেসহ আমার বেশ ভ্যাবলাচরণ অবস্থা ! তারপর চল্লুম সমুদ্রের ধারে লেজার শো দেখতে। সিঙ্গাপুরের শাস্তর- পূরাণ ইত্যাদির গল্পগাছা ওই সব লেজার শো এর মুখ্য বিষয়। এরপর হোটেলে ফিরে এলেই হতো কিন্তু সিঙ্গাপুরের নাইট লাইফের আদ্যশ্রাদ্ধ না করে আমরা দেশে ফিরব না যেন এই প্রতিজ্ঞা ! বাচ্চাদুখানিও যেন চৌবাচ্চার মতো সর্ব এন্টারটেইনমেন্ট গ্রাসী। অতএব আমরা গেলাম ক্লার্ক কোয়েতে ; যেখানে এক ইউরোপিয়ান রোলের দোকানে চিকেন রোল খেয়ে পেটের বৌনি করা হলো। এরপর বোটে চেপে সিঙ্গাপুর নদী ভ্রমণের পালা। রাতের সিঙ্গাপুর যে কি মোহময়ী তা ভাষায় বোঝানো অসম্ভব ! মাঝরাতে এরাস্তা ও রাস্তা ঘুরে ফিরে জব্বর খিদে পেয়ে গেল। ফুটপাতের এক দুর্দান্ত দেখতে স্টলে খাওয়া হলো ফিশ এন্ড চিপস।

পরের দিন সবারই মন খারাপ। ফেরার পালা। রাতের দিকে ফ্লাইট তাই ঠিক হলো বোটানিক্যাল গার্ডেন দেখে ফিরে এসে সবাই ঝটপট তৈরি হয়ে নেব। সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি সেদিন। আকাশের মুখ ভার। তাপমাত্রার পারদও মিইয়ে গেছে।

সিঙ্গাপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রায় ১৫০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী। হাজার হাজার অর্কিডের খোঁজ পাবেন এখানে। শান্ত এক স্থান। এক একটি গাছপালা সমাবৃত স্থান অতি মনোহর! অপূর্ব সব পুষ্পরাজির সমাহার চতুর্দিকে।

দ্বিতীয়ার্ধে দেখতে গেলাম গার্ডেন বাই দ্য বে। এটি এক হাই ফান্ডার বাগান। মানুষের তৈরি আধুনিকতম উদ্যান। ক্লাউড ফরেস্ট, ফ্লাওয়ার ডোম কিংবা ফ্লোরাল ফ্যান্টাসি...দেখলে হাঁ হয়ে থাকা ছাড়া কোনও উপায় নেই। এশিয়ার বৃহত্তম কাঁচ- বাগানের শিরোপা পাওয়া এই উদ্যানে বহু রকমের ফুলগাছের দেখা পেয়ে যাবেন। যা দেখে মাথা খারাপ হয়ে যায়।

রুডিয়ার্ড কিপলিং এর একটা কবিতা ছিল সং অব সিটিজ । সেখানে তিনি সিঙ্গাপুর সম্পর্কে লিখেছিলেন,

" Hail, Mother! East and West must seek my aid ..."


কিপলিং লিখেছিলেন বহু আগে কিন্তু কথাগুলো আজ একদম খাপে খাপ । দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর এখন বিদ্যাচর্চা হোক বা বানিজ্য ...সবেতেই বিশ্বের সেরা।





শীতের সবজির এক ডজন রান্না...

সুস্মিতা মিত্র

নিরামিষ বাঁধাকপি ঘন্ট


কী কী লাগবে

২৫০-৩০০ গ্রাম বাঁধাকপি মিহি করে কুচনো, ১টা মাঝারি সাইজের টোম্যাটো কুচি, কাঁচা লঙ্কা: ২টো, আধ ইঞ্চি আদা কুচনো, ১টা তেজপাতা, ১ চা চামচ জিরে, ১টা মাঝারি সাইজের আলু ডুমো করে কাটা, আধ কাপ কড়াইশুটি, আধ চামচ গরম মশলা গুঁড়ো, নুন, ১ টেবল চামচ তেল


কীভাবে বানাবেন

কড়াইতে তেল গরম করে গোটা জিরে, তেজপাতা, কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন। জিরে ফাটতে শুরু করলে টোম্যাটো কুচি দিন। নুন দিয়ে ৩-৪ মিনিট নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না টোম্যাটো নরম হয়ে তেল ছাড়ছে। টোম্যাটোর কাঁচা গন্ধ চলে গেলে আদা বাটা দিন। একটু নেড়েচেড়ে নিয়ে ডুমো করে কাটা আলু দিয়ে ১/৪ কাপ জল দিয়ে আলু ঢাকনা দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন।

আলু সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে এলে ঢাকনা খুলে কুচনো বাঁধাকপি দিয়ে দিন।

নুন ও হলুদ গুঁড়ো দিয়ে চাপা দিয়ে দিন। বাঁধাকপি জল ছাড়বে। যতক্ষণ না জল ছেড়ে নরম হয়ে আসছে ততক্ষণ সেদ্ধ হতে দিন। বাঁধাকপি নরম হয়ে এলে কড়াইশুটি দিয়ে দিন। সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে গেলে গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। তৈরী বাঁধাকপির নিরামিষ ঘন্ট।

বেকড কলিফ্লাওয়ার ইন আওয়াধি গ্রেভি


কী কী লাগবে

১ টা গোটা ফুলকপি, ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বাটা, ১ চা চামচ রসুন বাটা, ২ টেবিল চামচ টকদই, ২ টেবিল চামচ কাজুবাদাম বাটা, স্বাদমত নুন, ২ চা চামচ চিনি, ২ চা চামচ কাশ্মীরি লংকা গুঁড়ো, ১ চা চামচ জিরে গুঁড়ো, ১ চা চামচ তন্দুরি মশলা, ৪ টেবিল চামচ সাদা তেল, ২ চা চামচ ঘি, প্রয়োজন অনুযায়ী গোটা গরম মশলা (ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি)

ফোড়নের জন্য

২ টি তেজপাতা, ১ চা চামচ কেওরা জল, প্রয়োজন অনুযায়ী ধনেপাতা কুচি, ২ চা চামচ ফ্রেশ ক্রিম


কীভাবে বানাবেন

অল্প নুন দিয়ে ফুলকপি টা ভাপিয়ে নিন।

একটি পাত্রে একে একে টকদই, কাশ্মীরি লংকা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, তন্দুরী মশলা, নুন ভালো করে মিশিয়ে রাখুন। ভাঁপিয়ে রাখা ফুলকপির গায়ে এই মিশ্রণ ভালো করে মাখিয়ে নিন। প্রিহিটেড ওভেনে ১৬০ ডিগ্রি তে ১০ মিনিট বেক করুন। কড়াইতে তেল গরম করে তেজপাতা আর গোটা গরম মশলা ফোঁড়ন দিন। এবার একে একে পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, নুন দিয়ে অল্প আঁচে কষুন। এবার ফুলকপি ম্যারিনেশনের জন্য বানানো টকদই এর বাকি মিশ্রণ এর মধ্যে ঢেলে কষতে থাকুন।

এরপর কাজুবাদাম বাটা, ঘি, কেওরা জল, ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে মিশিয়ে নামান। এবার পরিবেশন করার পাত্রে বেকড ফুলকপি রেখে ওপর থেকে গ্রেভি ঢেলে ধনেপাতা কুচি আর ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে ইচ্ছে মত সাজিয়ে পরিবেশন করুন।


শীতের সবজি দিয়ে মাংস


কী কী লাগবে

মুরগীর মাংস ১ কেজি, পছন্দ মত সবজি কিউব করে কাটা (গাজর, টমেটো, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, বিনস) ২০০ গ্রাম, ছোট নতুন আলু ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, আদা রসুন বাটা ১ চা চামচ, নুন স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, কাঁচালঙ্কা বাটা ১ চা চামচ, জিরে বাটা ১ চা চামচ, সরষের তেল ৪ টেবিল চামচ, তেজপাতা ২টি, থেতো করা গোটা গরম মশলা ১ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি।


কীভাবে বানাবেন

মাংস, আদা রসুন বাটা, নুন, পেঁয়াজ বাটা, জিরে বাটা, হলুদ গুঁড়ো, কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে মেখে রাখুন ১ ঘন্টা। তেল গরম করে তেজপাতা আর থেতো করা গরম মশলা দিয়ে আলু গুলো দিয়ে ভাজুন। এবার মেখে রাখা মাংস দিয়ে কষুন। অর্ধেক কষা হলে সবজি গুলো দিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে রান্না করুন ২০ মিনিট। পরিমান মত গরম জল দিয়ে ফুটতে দিন। ঝোল‌ ঘন হয়ে এলে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

বেগুন বড়ি দিয়ে মাছের ঝোল


কী কী লাগবে

যে কোন সামুদ্রিক মাছ ৪ টুকরো, বিউলি ডালের মশলা বড়ি এক মুঠো, লম্বা করে কাটা বেগুন ১০ টুকরো, চেরা কাঁচালঙ্কা ৪-৫ টা, জিরে গুঁড়ো ১ চা চামচ, কালোজিরা ফোড়নের জন্য, নুন স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, সরষের তেল ২ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি।


কীভাবে বানাবেন

মাছে নুন হলুদ মেখে হালকা ভেজে তুলে নিন। বড়ি ভেজে তুলে রাখুন। ঐ তেলে কালোজিরা ফোড়ন দিয়ে একে একে বেগুন, নুন, হলুদ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, চেরা কাঁচালঙ্কা আর অল্প জল দিয়ে কষুন। মাপমতো জল দিয়ে ফুটে উঠলে ভাজা মাছ দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

জলপাই এর আচার


কী কী লাগবে

টুকরো করে ভাপিয়ে নেওয়া জলপাই ২৫০ গ্রাম, ভেলি গুড় ১৫০ গ্রাম, ভাজা মশলা(মৌরি, ধনে, পাঁচফোড়ন, শুকনো লংকা) গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, বিট নুন ১ চা চামচ, নুন স্বাদ মতো, হলুদ গুড়ো ১/২ চা চামচ, সরষের তেল ২ টেবিল চামচ।


কীভাবে বানাবেন

তেল গরম করে জলপাই নুন আর হলুদ গুড়ো দিয়ে অল্প ভাজুন। এবার ওর মধ্যে গুড় আর খুব অল্প জল দিয়ে ফুটতে দিন। মাখামাখা হলে ভাজা মশলা আর বিট নুন মিশিয়ে নামিয়ে ঠান্ডা করে কাচের বয়ামে রাখুন। মাঝে মাঝে রোদে দেবেন অনেক দিন ভালো থাকবে।

মটন কিমা স্টাফড টমেটো


কী কী লাগবে

টমেটো ৪ টি, সেদ্ধ মটন কিমা ১ কাপ, নুন চিনি স্বাদ মত, আদা রসুন বাটা ১ চামচ, টমেটো সস ২ চামচ, কাঁচালংকা কুচি ১ চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চামচ, সাদা তেল ২ চামচ, গ্রেটেড চিজ ১/২ কাপ, মিক্সড হার্ব ১/৪ চামচ


কীভাবে বানাবেন

তেল গরম করে একে একে সেদ্ধ মটন কিমা, আদা রসুন বাটা, নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো, টমেটো সস, কাঁচালংকা কুচি দিয়ে কষে পুর বানিয়ে নিন। টমেটোর মুখ কেটে স্কুপের সাহায্যে পাল্প বের করে ওর মধ্যে কিমার পুর ভরে ওপর থেকে গ্রেটেড চিজ দিয়ে মিক্সড হার্ব আর অলিভ অয়েল ছড়িয়ে ১৬০° তে বেক করুন ১০ মিনিট।

গার্লিক ব্রেডের সাথে পরিবেশন করুন।

ধাবা স্টাইল পালং পনীর


কী কী লাগবে

পালং শাক ১ আঁটি, পনীর ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ আদা রসুন ২:১:১ অনুপাতে বাটা ২ টেবিল চামচ, নুন চিনি স্বাদ মতো, কাঁচালঙ্কা বাটা ১ চা চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ গুঁড়ো, গরম মশলা গুঁড়ো ১ চা চামচ, কসৌরি মেথি ১ চা চামচ, ঘি ১ চা চামচ, ফ্রেশ ক্রিম ২ টেবিল চামচ, সাদা তেল ৪ টেবিল চামচ।


কীভাবে বানাবেন

পালং শাক ব্লাঞ্চ করে বেটে নিন। এতে সুন্দর সবুজ রং আসবে। তেল গরম করে একে একে পেঁয়াজ আদা রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা বাটা, নুন চিনি, জিরে গুঁড়ো একসাথে কষুন। তেল আলাদা হলে পালং শাক বাটা দিয়ে ফুটতে শুরু করলে পনীরের টুকরো, ফ্রেশ ক্রিম, ঘি, গরমমশলা গুঁড়ো, কসৌরি মেথি দিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে কিছুসময় রান্না করুন। পরিবেশনের আগে পর্যন্ত ঢাকনা খুলবেন না। লাচ্ছা পরোটা, রুমালী রুটি, নানের সাথে ভালো লাগবে।

বেগুন বাসন্তী


কী কী লাগবে

বেগুন ২ টি, টকদই ৩ চা চামচ, সরষেবাটা ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ কাঁচালঙ্কা ২ টি, কালোজিরে ১ চা চামচ, শুকনো লঙ্কা ২ টি, তেঁতুলগোলা জল ১/২ চা চামচ, সরষের তেল ১ কাপ, নুন চিনি স্বাদ মতো।


কীভাবে বানাবেন

বেগুনগুলো গোল গোল বা লম্বালম্বি করে কেটে নুন হলুদ মেখে ভেজে তুলে নিন। টক দইয়ের সঙ্গে পরিমাণ মতো নুন, চিনি, হলুদ মিশিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে নিন। কড়াইয়ে যে অতিরিক্ত তেল থাকবে তাতে শুকনো লঙ্কা ও কালোজিরে ফোড়ন দিয়ে সরষেবাটা, কাঁচালঙ্কা ও দইয়ের মিশ্রণ কড়াইয়ে ঢেলে অল্প নাড়ুন। বাসন্তী রঙের এই মিশ্রণটি নামানোর আগে তেঁতুলজল মিশিয়ে ভেজে রাখা বেগুনগুলোর ওপর ছড়িয়ে গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

মেথির পরোটা


কী কী লাগবে

কুচোনো মেথি শাক ১কাপ, ময়দা ২০০ গ্রাম, নুন চিনি স্বাদমতো, লঙ্কা গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, গোটা জোয়ান ১ চা চামচ, ঘি ২ চা চামচ, ভাজার জন্য সাদা তেল পরিমাণ মতো।


কীভাবে বানাবেন

মেথি শাক সেদ্ধ করে নিন। ময়দা, নুন চিনি, লঙ্কা গুঁড়ো, গোটা জোয়ান, ঘি একসাথে মিশিয়ে পরিমাণ মতো গরমজল দিয়ে ঠেসে ঠেসে মেখে নিন। লেচি কেটে বেলে তাওয়াতে তেল ব্রাশ করে ভেজে তুলে নিলেই তৈরী মেথির পরোটা।

হরিয়ালি ফুলকপি


কী কী লাগবে


ফুলকপি ১ টা (টুকরো করে ফুল ছাড়িয়ে নেওয়া), আলু ২টো (টুকরো করে কাটা), তেল ১/২ কাপ, জিরে ১/৪ চা চামচ।

সর্ষে পোস্ত মিশ্রনের জন্য লাগবে:

সাদা সর্ষে ১!চামচ, কালো সর্ষে ১ চামচ, নারকেল কোড়া ২ টেবিল চামচ, পোস্ত ১ চামচ, কাঁচালংকা ২ টি, নুন স্বাদমত, হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, চিনি ১/২ চা চামচ

হরিয়ালি পেস্ট এর জন্য লাগবে:

পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, রসুন ৬ কোয়া, কাজু ৮ টা, ধনে পাতা ১ আঁটি, টক দই ২ চামচ, নুন স্বাদ মত, চিনি ১ চা চামচ, কাঁচা লংকা ৬ টা।


কীভাবে বানাবেন

ননস্টিক প্যানে ১ চামচ তেল গরম করতে হবে।

এতে পেঁয়াজ, রসুন, লংকা, ধনেপাতা, কাজুবাদাম, নুন, চিনি দিয়ে সাঁতলে নিয়ে ঠান্ডা করে বেটে ওর মধ্যে টকদই মিশিয়ে রাখুন। অন্য দিকে দু রকম সর্ষে, পোস্ত, লংকা, নারকেল, নুন আর হলুদ একসাথে বেটে রাখুন। এবারে কড়াই আঁচে বসিয়ে তেল গরম করে জিরে ফোড়ন দিয়ে আলু আর ফুলকপি নুন-হলুদ দিয়ে ভাজুন। এবার সর্ষে পোস্ত বাটা দিয়ে সামান্য নেড়ে জল ঢেলে কপি আর আলু সেদ্ধ হতে দিন। মাখামাখা হলে হরিয়ালি পেস্ট ঢেলে ঢেকে আরো কিছু সময় রেখে নামিয়ে নিলেই তৈরী হরিয়ালি ফুলকপি।

পেঁয়াজকলি মেটে চচ্চড়ী


কী কী লাগবে

পাঁঠার মেটে ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল চামচ, আদা রসুন বাটা ২ চা চামচ, নুন স্বাদ মতো, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ চা চামচ, লংকা গুঁড়ো ১ চা চামচ, টমেটো কুচি মাঝারি ১ টা, পেঁয়াজকলি কুচোনো ২০০ গ্রাম, গরমমশলা বাটা ১ চা চামচ, সরষের তেল ১ কাপ, শুকনো লংকা ২ টি, তেজপাতা ২ টি, গোটা জিরে ১ চা চামচ।


কীভাবে বানাবেন

একটি পাত্রে মেটে, নুন, হলুদ, পেঁয়াজবাটা, আদা রসুন বাটা, জিরে গুড়ো, লংকা গুড়ো একসাথে মেখে রাখুন আধঘন্টা। তেল গরম করে তেজপাতা, জিরে, শুকনো লংকা ফোড়ন দিয়ে মেখে রাখা মেটে ঢেলে ঢেকে অল্প আচে রান্না হতে দিন। সেদ্ধ হলে অল্প জল, টমেটো কুচি আর কুচোনো পেয়াজকলি দিয়ে মিশিয়ে ঢেকে আরো কিছু সময় রান্না করুন। তেল ওপরে ভেসে উঠে কষা কষা হলে গরমমশলা বাটা মিশিয়ে নামিয়ে গরম ভাত বা রুটির সাথে খান।


বিটরুট চিকেন মোমো


কী কী লাগবে

বিট বাটা ২ টেবিল চামচ, ময়দা ২ কাপ, চিকেন কিমা ২০০ গ্রাম, নুনস্বাদ মতো, সয়াসস ১ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ চা চামচ, সাদা তেল ২ চা চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ চা চামচ, রসুন কুচি ১/৪ চা চামচ।


কীভাবে বানাবেন

একটি পাত্রে ময়দা, বিটবাটা, নুন, সাদা তেল একসাথে মিশিয়ে পরিমাণ মতো জল দিয়ে ডো মেখে নিন। এবার একটি পাত্রে বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে পুর বানিয়ে নিন। ময়দার ডো থেকে লেচি কেটে ছোট ছোট লুচির মতো বেলে মাঝে পুর দিয়ে ইচ্ছে মতো শেপে মোমো গুলো বানিয়ে স্টিমারে ভাপিয়ে নিলেই তৈরী। পছন্দের চাটনির সাথে পরিবেশন করুন ভিন্ন স্বাদের বিটরুট মোমো।


bottom of page