top of page
Search

তুঙ্গভদ্রার তীরে..খিচুড়ি তেলেভাজায় আজ বর্ষামঙ্গল..

সে এক সময় ছিল, এক ছিল রাজা আর ছিল তার রাজত্ব! রূপকথায় শোনা গল্পের মতো লাগে কখনও। কিন্তু কল্পনাকে হার মানিয়ে যখন ইতিহাস মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, বিস্ময় জাগে, তাক লাগে। এমনই এক তাক লাগানো সময়ের সাক্ষী হতে চলুন হাম্পি।



বিজয়নগর সাম্রাজ্য। ভারতের বিশেষ ক'টি রাজত্বকালের মধ্যে অন্যতম। সেই সাম্রাজ্যের কিছু নমুনা আজও বিদ্যমান, অতীতের কথা বলতে। সেই কথায় সাজানো ছোট্ট এক গ্রাম হাম্পি, অবস্থান উত্তর কর্ণাটকে। ১৯৮৬ সালে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-এর স্বীকৃতি পায় হাম্পি। ৪৬.৮ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে হাম্পির পর্বতমালা।



হাম্পির সমস্ত স্থাপত্যের মূল উপাদান গ্রানাইট পাথর। ধ্বংসাবশেষে পরিণত পর্যটক প্রতি বছর এখানে বেড়াতে আসেন। বিশালকায় সব প্রস্তরখণ্ড দিয়ে তৈরি দিগন্তবিস্তৃত পর্বতমালা যেন হাপির চারপাশে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যপট। রচনা করেছে। এখানকার পাহাড়ি উপাচাকা জুড়ে ইতঃস্তত ছড়িয়ে আছে প্রায় ৫০০-টির বেশী মিনার!


এগুলির মধ্যে রাজপ্রাসাদের গর্ভগৃহ, কৃত্রিম সরোবরের অবশেষ, প্রাচীন নিদর্ণাকেন্দ্র ও তার রাস্তা-ঘাট, রাজোদ্যান, যজ্ঞাগার, রাজ-মঞ্চ ও চৈতা তথা কোষাগারের ভগ্নস্তূপ- তালিকা সীমাহীন হওয়া এ যুগের হাম্পি আজও সমান ভাবে মনোমুগ্ধকর। একদিনে গোটা জায়গাটা দেখা সম্ভব নয়। তাই ভালো করে দেখতে চাইলে দু' চারটে দিন থাকার ব্যবস্থা করে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, নয়তো পরে। মনে হতে পারে নারী দেখলাম কী হারালাম।

সময়ের অতলে ডুব দেওয়ার মজাই আলাদা। শহরে ঢুকাতেই প্রথমেই বিরূপাক্ষ মন্দির বা সাজাপতিরা মন্দির। সবচেত্রে পুরনো মন্দির এটা। কয়েক দশক আগে তৈরি হয়েছে এক অনন্য স্থাপত্য। হেমকূট পাহাড়ের উপরের চারিদিক খোলা রঙমণ্ডপটি এক কথায় অনবদ্য।



এই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো- মন্দিরের প্রবেশ পথে দু'টি গোপুরম এবং দু'টি বৃহৎ প্রাঙ্গণ। মন্দিরের গর্ভগৃহটি গোপুরমের একেবারে সোজাসুজি। দ্বিতীয় গোপুরমটি রায় গোপুরম হিসেবে পরিচিত। এটি পেরোলেই প্রাঙ্গন। সেখান থেকে কিছু দূর এগোলেই বাম দিকে পাতালেশ্বরের মন্দির, মুক্তি নরসিংহ এবং সূর্যনারায়ণের মন্দির। আর ডান দিকে পড়বে লক্ষ্মীনরসিংহ ও মহিষাসুরমর্দিনীর মন্দির। মন্দির চারিদিক ঘুরে দেখে ঢুকুন গর্ভগৃহে। এখানেই একখন্ড পাথর কুঁদে তৈরি বিশালাকায় শিব, দেবী পার্বতী, ভুবেনশ্বরী। এছাড়াও নানা দেবতারমুর্তি রয়েছে এখানে।

মন্দির থেকে বেরিয়ে এলেই দেখতে পাবেন পশ্চিমে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে মাতুঙ্গা পাহাড়। সেখানে রয়েছে বীরভুবনেশ্বরের মন্দির। এখানে উঠলেই বিধ্বস্ত হাম্পির পুরো দৃশ্য ধরা পড়বে জানা যায়, মন্দির চত্বরে একসময় দামি দামি পাথর ও মুক্তোর বাজার ছিল। এখান থেকে কিছুটা হাঁটলেই কিংস ব্যাল্যান্স। সেখানে রাজা নিজের ওজনের সমান মণি-মুক্তো-রূপো পাল্লায় মেপে ব্রাহ্মণ ও গরিবদের যৌতুক দিতেন।

সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লে বিরুপাক্ষ দেখে হাতে সময় বাঁচবে। তখন মন্দিরের কাছের বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে সোজা চলে যান ভিলা বা বিউঠল মন্দির দেখতে। তুঙ্গভদ্রা নদীর পাড় ধরে প্রাচীন সময়ের ধ্বংসাবশেষকে সাক্ষী রেখে এই পথ। বাস কিন্তু মন্দির পর্যন্ত যায় না। কিছুটা রাস্তা হাঁটতে হয়। মোটর গাড়ির ব্যবস্থাও আছে। কিন্তু পুরনো শহরের ফেলে আসা স্মৃতি চাখতে চাখতে হাঁটতে কিন্তু মন্দ লাগে না। এই মন্দির আজও অসম্পূর্ণ।




এর পরেই চোখে পড়বে পাথরের সেই অদ্ভুত অসাধারণ রথ। এটিকে সোনার রথ ও বলা হয়। কারণ, সূর্যের আলো এর গায়ে লাগলেই পাথরে সোনার মতো ঝিলিক ধরে। রথের গায়ের সুক্ষ কাজ, মন্দিরের গায়ে কারুকাজ, থামে খোদাই করা হাতি-ঘোড়া-সিংহ দেখতে দেখতে সময় কোথা দিয়ে কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না। অবশ্য ফিরে আসার আগেমন্দিরের থামে টোকা মারতে ভুলবেন না। এগুলোকে বলা হয় মিউজিক্যাল পিলারস। টোকা দিলেই নাকি আওয়াজে সরগরম হয়ে ওঠে চারিদিক।


বিরুপাক্ষ মন্দিরের কাছেই বিখ্যাত রেস্তোরাঁ 'ম্যাঙ্গো ট্রি', এখানে অথেনটিক দক্ষিণী থালি চেখে দেখতে পারেন। খাওয়াদাওয়ার পর সোজা জেনানা এনক্লোজার। পুরনো সেই সময় রানিরা এখানেই স্নানবিলাসের সুখ নিতেন। ১৫ বর্গ। মিটার জুড়ে স্নানাগারটি অত্যন্ত সুন্দর। এখানকার প্রতিটা গম্বুজের। তখনকার দিনে এটি থেকে নাকি সুগন্ধি জল বেরত অনবরত।

জলের উৎস ছিল নিকটবর্তী পম্পানদী। এরই উত্তরপশ্চিমে কারুকার্য খচিত আট মিটার উঁচু বর্গাকার ভিতে ১৪ শতকের মহানবমী ডিব্বা। ডিব্বা থেকেও রাজপরিবার নবরাত্রি ও দশেরা উৎসব দেখত প্রাসাদের ট্রেজারি বিল্ডিং লোটাস মহল, সেটিও দেখে নিন এই ফাঁকে। এই মহলের পিছনে পৃথিবী বিখ্যাত ও সবচেয়ে বড় হাতিশালা। এইসব দেখতে দেখতে সূর্য পাটে যাবে আর আপনি ফিরবেন। হোটেলে। রাতটুকু রেস্ট নিয়ে পরদিন আবার বেরিয়ে পড়ুন।

পরদিন দেখতে যান হাজারা রাম মন্দির কমপ্লেক্স। ১৫ শতাব্দিতে বিজয়নগরের রাজা দ্বিতীয় দেবরায় এই মন্দির নির্মাণ করেন। এই মন্দিরে অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে রামায়ণের ১মধ্যায়। সেখান থেকেই এই মানদারোর নাম হাজারা রাম। সেখান থেকে সোজা নবরাত্রি ও দশেরা উৎসব দেখত। প্রাসাদের ট্রেজারি বিল্ডিং লোটাস মহল, সেটিও দেখে নিন এই ফাঁকে। এই মহলের পিছনে পৃথিবী বিখ্যাত ও সবচেয়ে বড় হাতিশালা। এইসব দেখতে দেখতে সূর্য পাটে যাবে আর আপনি ফিরবেন হোটেলে। রাতটুকু রেস্ট নিয়ে পরদিন আবার বেরিয়ে পড়ুন।


পরদিন দেখতে যান হাজারা রাম মন্দির কমপ্লেক্স। ১৫ শতাব্দীতে। বিজয়নগরের রাজা দ্বিতীয় দেবরায় এই মন্দির নির্মাণ করেন। এই মন্দিরে অসাধারণ ভাস্কর্যে ফুটে উঠেছে রামায়ণের প্রতি অধ্যায়। হাজারা রাম। সেখান থেকে সোজা চলে যান ভুঙ্গভদ্রার তীরে টলটলে জলে গোলাকার নৌকো করে জলাক্রমণের হৃদ না দিলে হাম্পি আসা অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেখান থেকে আরও একবার চলুন মাতঙ্গ পাহাড়। তবে আজ আর পাহাড়চূড়োয়। নয়। আশেপাশে ঘুরে হাত ছুঁয়ে দেখে নিন দিগন্ত বিস্তৃত পাথরের চাঁই। এমনিতে মনে হবে নুড়ির ঢিবি, কিন্তু কী সুন্দর! চাইলে রক ক্লাইম্বিং করতে পারেন, ব্যবস্থা আছে।

এরপর বাকি সময় কেনাকাটা করুন। ঘুরে দেখুন স্থানীয় বাজার। জানাইট পাথরের তৈরি বিভিন্ন মনকাড়া জিনিস পাবেন এখানে। লম্বানি মহিলাদের হাতে তৈরি এমব্রয়ডারি কাজের নানারকম সামগ্রী কিনতেও ভুলবেন না।

এছাড়া হাম্পিতে চামড়ার তৈরি ব্যাগ ও নানারকম জিনিস বেশ বিখ্যাত। সুর-সঙ্গীতের শখ থাকলে এখান থেকে বিভিন্ন রকম বাদ্যযন্ত্র কিনতে পারেন। শেষমেশ যেটা কিনতে ভুলবেন না সেটা হল কলাগাছের তন্তু দিয়ে তৈরি হরেকরকম জিনিসপত্র।


খিচুড়ি তেলেভাজায় আজ বর্ষামঙ্গল...

রইলো ১০ টি দুপুরের খিচুড়ি আর বিকেলের তেলে ভাজার জম্পেশ আয়োজন।

বৃষ্টি ভেজা দুপুরে মায়ের হাতের খিচুড়ি আর বিকেলে রাস্তার ধারের গুমটি ঘর কিম্বা খোলা আকাশের নিচে ঠেলা গাড়ির মুচমুচে গরম তেলেভাজা,, এর কোনো বিকল্প নেই। তবুও স্বাস্থ্য সচেতন আম-জনতা আজকাল পোড়া তেলের ভয়ে বাড়িতেই এসব বানিয়ে নেয়। ভালো খেতে, খাওয়াতে গেলে এইটুকু ঝক্কি তো পোহাতেই হবে, তাই না? বৃষ্টির দিনগুলোতে কীরকম খাবারের আয়োজন করতে পারেন আজ রইলো তার ছোট্ট ঝলক।



সমিতা হালদার


ভোগের খিচুড়ি

কী কী লাগবে

গোবিন্দভোগ চাল, মুগডাল, সাদা তেল, গাওয়া ঘি, আদা বাটা, জিরা বাটা, নুন, হলুদ গুঁড়ো, চেরা কাঁচালঙ্কা, চিনি, জয়িত্রি জায়ফল গুঁড়ো, এলাচ বাটা, নারকেল কোরা, কড়াইশুঁটি, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, সাদা জিরে


কীভাবে বানাবেন

চাল ডাল ফুটিয়ে সেদ্ধ করে নিন। তেল আর ঘি গরম করে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, সাদা জিরে আদা বাটা, জিরা বাটা দিয়ে কষুন। কড়াইশুঁটি, নারকেল কোরা, এলাচ বাটা দিয়ে ভেজে ওর মধ্যে খিচুড়ি ঢেলে দিন। চিনি, জায়ফল জয়িত্রি গুঁড়ো আর গাওয়া ঘি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলুরি

ফুলুরি

কী কী লাগবে

বেসন, নুন, হলুদ গুঁড়ো, ফ্রুট সল্ট, কালোজিরা, সাদা তেল


কীভাবে বানাবেন

বেসন, নুন, হলুদ গুঁড়ো, কালোজিরা পরিমাণ জল‌ দিয়ে ফেটিয়ে নিন। একদম হালকা হয়ে গেলে ফ্রুট সল্ট মিশিয়ে নিন। তেল ভালোভাবে গরম হলে ছোট ছোট ফুলুরি ছাঁকা তেলে ভেজে তুলে নিন।

দেবযানী গুহ বিশ্বাস

সব্জি খিচুড়ি


কী কী লাগবে

২ কাপ গোবিন্দভোগ আতপ চাল, কোয়ার্টার কাপ সোনা মুগ ডাল, ১ চা আদা বাটা, ১ চা চামচ জিরে বাটা, ১ চা চামচ কাঁচালঙ্কা বাটা, ৩-৪টে চেরা কাঁচালঙ্কা, সবজি(ফুলকপি, পটল, গাজর) লবণ স্বাদমতো, ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ টা শুকনো লঙ্কা, ২টো তেজপাতা, ১ চা চামচ গোটা জিরে, এক চিমটে গোটা মেথি, চিনি স্বাদমতো, ৩ টেবিল চামচ সর্ষের তেল, ১ টেবিল চামচ ঘি, জল পরিমাণ মতো,২ টেবিল চামচ দুধ


কীভাবে বানাবেন

প্রথমে আতপ চাল ভালো করে ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে তারপর জল ঝরিয়ে রাখতে হবে। সোনা মুগ ডাল শুকনো কড়াইয়ে নেড়ে নিয়ে ভালো করে ধুয়ে, গরম জলে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে সবজিগুলো হালকা করে ভেজে তুলে নিতে হবে। ওই তেলেই ঘি দিয়ে তাতে শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, গোটা জিরে, মেথি দানা ফোড়ন দিয়ে একে একে আদা বাটা, জিরে বাটা ও কাঁচা লঙ্কা বাটা দিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে নিয়ে সামান্য লবণ ও হলুদ গুঁড়ো দিতে হবে। আবার কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে ভিজিয়ে জল ঝরিয়ে রাখা আতপ চাল ও ভিজিয়ে রাখা মুগ ডাল দিয়ে দিতে হবে। ভালো করে মশলার সাথে মিশিয়ে নিয়ে ভেজে রাখা সবজি গুলো এবার দিয়ে দিতে হবে। সব একসাথে ১-২ মিনিট নাড়াচাড়া করে পরিমাণ মতো জল দিয়ে দিতে হবে। ঢাকা দিয়ে ফুটতে দিন, পরে আঁচ কমিয়ে রান্না করুন। চাল ও ডাল সেদ্ধ হয়ে গেলে চিনি, ঘি আর দুধ দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। ঢেকে রেখে ১০ মিনিট পর পরিবেশন করুন গরম গরম আলু ভাজা, বেগুন ভাজা আর অমলেটের সাথে।

রোস্টেড এগপ্ল্যান্ট চিজ ফিঙ্গার

রোস্টেড এগপ্ল্যান্ট চিজ ফিঙ্গার

কী কী লাগবে

১টা মাজারি মাপের বেগুন, ১/২ কাপ পেঁয়াজ কুচি, ১ চা চামচ আদা কুচি, ১ চা চামচ রসুন কুচি, ২ টেবিল চামচ সুজি, দেড় কাপ ব্রেড ক্রাম্ব, লবণ স্বাদমতো, ১/২ চা চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১/২ চা চামচ ড্রাই অরিগ্যানো, ১ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার, চিজ স্লাইস ৬-৭টা, সাদা তেল


কীভাবে বানাবেন

বেগুনের গায়ে সামান্য তেল মাখিয়ে পুড়িয়ে নিন। এবার ঠান্ডা হলে খোসা ছাড়িয়ে একটা মসলিন কাপড়ে রেখে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিন। বেগুনের জল ঝরে গেলে তাতে পেঁয়াজ কুচি, আদা কুচি, রসুন কুচি, ব্রেড ক্রাম্ব, সুজি, কর্নফ্লাওয়ার, লবণ, চিলি ফ্লেক্স, অরিগ্যানো সব দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মেখে নিতে হবে। একটা মন্ড মতো তৈরি হলে তার থেকে ছোট ছোট ফিঙ্গার বানিয়ে তাতে চিজ স্লাইস ভরে আবার ভালো করে শেপ দিন। সব গুলো বানানো হলে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। এরপর কড়াইয়ে সাদা তেল দিয়ে গরম হলে তাতে চিজ ফিঙ্গার গুলো ডিপ ফ্রাই করে নিন। আর গরম গরম সার্ভ করুন চায়ের সাথে।

মায়া দাস

ওটসের খিচুড়ি


কী কী লাগবে

ওটস ২ কাপ, মুগডাল ১ কাপ, নুন চিনি স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, চেরা কাঁচালঙ্কা ২ টি, সরষের তেল ১ চা চামচ, টমেটো কুচি, ফোড়নের জন্য (তেজপাতা শুকনো লঙ্কা পাঁচফোড়ন)




কীভাবে বানাবেন

মুগডাল অল্প ভেজে প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করে নিন। ওর মধ্যে ওটস, নুন, হলুদ গুঁড়ো, চিনি, চেরা কাঁচালঙ্কা, টমেটো কুচি দয়ে সেদ্ধ করুন। তেল গরম করে ফোড়নের সব উপকরণ দিয়ে নেড়েচেড়ে খিচুড়ি ওর মধ্যে ঢেলে মিশিয়ে নামিয়ে নিন।

পনীর শাসলিক


কী কী লাগবে

পনীর ২৫০ গ্রাম, আদা রসুন বাটা ১ চা চামচ, তন্দুরি মশলা ১ চা চামচ, নুন স্বাদ মতো, লঙ্কা গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, টকদই ২ টেবিল চামচ, কসৌরি মেথি, সরষের তেল ১ চা চামচ, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ, টমেটো, টিক্কার কাঠি, ঘি


কীভাবে বানাবেন

পনীর টুকরো করে কেটে নিন। একটি পাত্রে সরষের তেল, টকদই, তন্দুরি মশলা, আদা রসুন বাটা, কসৌরি মেথি, নুন, লঙ্কা গুঁড়ো ফেটিয়ে নিন। ওর মধ্যে পনীর, টমেটো, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম মাখিয়ে কাঠিতে পরপর গেঁথে নিন। ননস্টিক প্যানে ঘি ব্রাশ করে উল্টেপাল্টে সেঁকে নিন।

কমলিকা ভৌমিক


চিকেন কাটলেট

কী কী লাগবে

চিকেন কিমা ৩৫০ গ্রাম, ধনেপাতা ২ গ্রাম,

পুদিনা পাতা ৪ টে, লেবুর রস ১/২ চা চামচ, কাঁচা লঙ্কা ৫ গ্রাম, আদা ৫ গ্রাম, রসুন ৩ গ্রাম,

লবন ৫ গ্রাম, চিনি ৫ গ্রাম, গোলমরিচ গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, গরম মশলা গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ, ভাজা মশলার গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ, আজিনোমোতো ১/৪ চা চামচ, টমেটো সস ১০ গ্রাম,

কোটিং এর জন্য:

ডিম ৩ টি, ব্রেড ক্রাম ৩০০ গ্রাম, ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল


কীভাবে বানাবেন

প্রথমে চিকেন কিমা, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা, লেবুর রস, কাঁচালঙ্কা, আদা কুচি, রসুন কুচি, লবন, চিনি, গোলমরিচ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো, গরম মশলা, ভাজা মশলা, আজিনোমোতো ও টমেটো সস দিয়ে ভালো করে মেখে ১ ঘন্টা রেখে দিন। একটি বাটিতে ডিম ভেঙে ফেটিয়ে নিন। অন্য একটি পাত্রে ব্রেড ক্রাম্ব ছড়িয়ে রাখুন। এবার মেখে রাখা চিকেন কিমাকে সমান ভাগে ভাগ করে নিয়ে হাতের তালুতে অল্প তেল লাগিয়ে কাটলেট গুলো গড়ে নিন। ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বে এর মধ্যে ভালো করে গড়িয়ে নিতে হবে।

এই প্রসেসটা ২ বার করতে হবে। এভাবে সব কটা কাটলেট তৈরি হয়ে গেলে করাইতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল গরম করে ভালো করে ভেজে নিলেই তৈরি সুস্বাদু চিকেন কাটলেট।

ডালিয়ার ভুনি খিচুড়ি


কী কী লাগবে

ডালিয়া ১ কাপ, মুগডাল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, গোটা গরমমশলা, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, আদা বাটা ১ চা চামচ, কাজুবাদাম কিশমিশ, নুন চিনি স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, সরষের তেল ২ টেবিল চামচ


কীভাবে বানাবেন

তেল গরম করে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, আদাবাটা দিয়ে নেড়ে একে একে মুগডাল, ডালিয়া, নুন, হলুদ দিয়ে ৩-৪ মিনিট ভাজুন। পরিমাণ মতো গরম জল দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। সেদ্ধ হয়ে ঝরঝরে হলে চিনি, ঘি, থেতো করা গোটা গরমমশলা, কাজুবাদাম কিশমিশ মিশিয়ে নামিয়ে নিন।

সঞ্চারি কর্মকার

আচারি সবজির খিচুড়ি


কী কী লাগবে

১/২ কেজি গোবিন্দভোগ চাল/ বাসমতী চাল, ১ কাপ মুসুর ডাল, ১ কাপ টক-ঝাল-মিষ্টি আমের আচার, ১/২ কাপ পেঁপে (কিউব করে কাটা), ১/২ কাপ বরবটি, ১/২ কাপ গাজর (লম্বা ছোট টুকরো করে কাটা), ১/২ কাপ ফুলকপি, ১/২ কাপ সর্ষের তেল, ৩ টেবিল চামচ রসুন কুচি, ৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজ কুচি, ৪-৫ টি শুকনো লঙ্কা, ১ টেবিল চামচ পাঁচফোড়ন, ২ টি তেজপাতা, ১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ জিরা গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ শুকনো লংকা গুড়োঁ, ১ টেবিল চামচ আদা বাটা, পরিমান মত জল, স্বাদমতো নুন


কীভাবে বানাবেন

কড়াইয়ে তেল গরম করে শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা ও পাঁচফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ রসুন কুচি দিয়ে বাদামি করে ভাজা হলে এতে হলুদ গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো, লংকা গুড়োঁ, আদা বাটা ও সামান্য জল দিয়ে কষাতে হবে। মশলা ভালো মতো কষানো হলে নুন মেশান। এক এক করে পেঁপে, বরবটি, গাজর, ফুলকপি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। এবার আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা চাল, ডাল দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কষিয়ে নিন। পরিমাণমতো জল দিয়ে মিনিট কুড়ি ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন।

চাল ডাল সেদ্ধ হয়ে গেলে ওরমধ্যে আচার দিয়ে পুরো খিচুড়ির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিলেই হয়ে যাবে মজাদার আচারি সবজির খিচুড়ি। চাইলে সঙ্গে রাখতে পারেন ডিম ভাজা, গোল গোল আলু ভাজা, তোপসে ফ্রাই।

মুচমুচে তোপসে ফ্রাই


কী কী লাগবে

তোপসে মাছ ৮-১০ টি, সর্ষের তেল পরিমান মত, নুন স্বাদমতো, হলুদ দেড় চা চামচ, লংকা গুঁড়ো ১ চা চামচ, পাতিলেবু ১/২ টুকরো, পেঁয়াজ বাটা ২ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১/২ চা চামচ, মটর ডালের বেসন ১ কাপ, আতপ চালের গুড়োঁ ১/৪ কাপ, কালোজিরে ১/২ চা চামচ


কীভাবে বানাবেন

তোপসে মাছে নুন, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো মাখিয়ে রাখুন। পেঁয়াজ আদা রসুন বাটা, পাতিলেবুর রস দিয়ে আরো ১০-১৫ মিনিট ম্যারিনেট করে নিন। অন্য পাত্রে মটর ডালের বেসন আর আতপ চালের গুঁড়ো নিয়ে তাতে নুন, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, কালোজিরে মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প জল দিয়ে, না ঘন না পাতলা এমন ব্যাটার বানিয়ে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করুন ধোঁয়া উঠলে গ্যাস কমিয়ে দিন। ম্যারিনেট করা মাছ ব্যাটারে ডুবিয়ে কোট করে গরম তেলে ছাড়ুন। মিডিয়াম ফ্লেমে লালচে মুচমুচে করে ভেজে নিলেই তৈরী।

Comments


bottom of page