জয়েন্ট পেইন? রইলো ঘরোয়া আরামদায়ক উপায় চুলের, যত্নে বানানা লিফ হেয়ার স্পা, কিচেন ক্যানভাসে সেরা ১০, রবিবারের গল্প: পথের বাঁকে রহস্য
- রোজকার অনন্যা

- Dec 6, 2025
- 15 min read

ঠান্ডায় জয়েন্ট পেইন? রইলো ঘরোয়া আরামদায়ক উপায়!
শীতকাল এলে অনেকেই হঠাৎ করে জয়েন্ট পেইন বা গেঁটে ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত হাঁটু, কোমর, আঙুল, কাঁধ কিংবা গোড়ালির জয়েন্টে ব্যথা দেখা দেয়। অনেকে ভাবেন এটা শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফল, কিন্তু সত্যি বলতে শীতের সঙ্গে জয়েন্ট পেইনের সম্পর্ক বেশ গভীর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। অনেক সময় এই ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠা নামা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। বয়সজনিত ক্ষয়, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, ওজনাধিক্য কিংবা পূর্বের আঘাত সবকিছু মিলেই এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তোলে। তবে সুসংবাদ হলো, সঠিক পরিচর্যা ও ঘরোয়া চিকিৎসার সাহায্যে এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
শরীরের জয়েন্টগুলি হাড় ও কার্টিলেজের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। আর এই সংযোগস্থলগুলিকে মসৃণভাবে নড়াচড়া করাতে সাহায্য করে সিনোভিয়াল ফ্লুইড নামের বিশেষ তরল পদার্থ। কিন্তু শীতের সময় শরীরের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে সেই তরলের প্রবাহে বাধা তৈরি হয় এবং জয়েন্টের টিস্যুগুলিও সংকুচিত হয়ে যায়। এর সঙ্গে কমে যায় উষ্ণতা ও রক্তসঞ্চালন, ফলে জয়েন্ট শক্ত হয়ে ব্যথা অনুভব হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে অ্যাটমোস্ফেরিক প্রেসার বা বায়ুচাপ কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ঠান্ডা পড়লে বায়ুচাপ কমে গিয়ে জয়েন্টের টিস্যুগুলো ফুলে ওঠে এবং স্নায়ুর ওপর চাপ তৈরি করে। ফলে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
অন্য একটি বড় কারণ হলো শীতকালে শরীরের নড়াচড়া কমে যাওয়া। অনেকেই ঠান্ডার কারণে বাইরে বের হতে বা হাঁটাচলা করতে অনীহা বোধ করেন। এর ফলেই পেশির নমনীয়তা কমে গিয়ে জয়েন্ট আরও শক্ত হয়। এ ছাড়া শীতের দিনে সূর্যের আলো কম পাওয়ার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দেয়, যা ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হাড় দুর্বল হয় এবং ব্যথার সম্ভাবনা আরও বাড়ে। যাদের ওজন বেশি, তাদের ক্ষেত্রে হাঁটু ও গোড়ালির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার কারণে শীতে ব্যথা অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।
যাদের পূর্বে কোনো দুর্ঘটনায় জয়েন্টে আঘাত লেগেছিল, তাদের ক্ষেত্রে শীতে সেই পুরনো ব্যথা আবার জেগে ওঠে। বিশেষ করে খেলাধুলায় চোট পাওয়া মানুষদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে শীতের ব্যথায় বেশি ভোগেন। এমনকি হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে নারীদের মধ্যেও জয়েন্ট পেইন তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
ব্যথার পাশাপাশি বিভিন্ন লক্ষণও প্রকাশ পায়। যেমন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে ফুলে ওঠা বা উষ্ণতা অনুভব করা, হাঁটতে গেলে বা সিঁড়ি ভাঙলেই ব্যথা বেড়ে যাওয়া, হাতের আঙুল বা হাঁটুতে কচ কচ আওয়াজ হওয়া ইত্যাদি। কখনো কখনো ব্যথা রাতে এতটাই বৃদ্ধি পায় যে ঘুম ভেঙে যায়। এসব লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ অবহেলা করলে জয়েন্টের ক্ষয় বাড়তে পারে এবং স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

শীতের জয়েন্ট পেইন বেশি দেখা যায় যাদের বয়স ৫০-৬০ এর বেশি, যাদের ওজন বেশি, যাদের পরিবারে আর্থ্রাইটিসের ইতিহাস আছে, যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন না বা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন। যারা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, গাউট, লুপাস, অস্টিওপেনিয়া কিংবা অস্টিওপোরোসিসে ভোগেন, ঠান্ডা পড়ে তাদের ব্যথা সবচেয়ে বেশি বাড়ে।
ব্যথার ধরন ভেদে লক্ষণও ভিন্ন হয়। যেমন— অস্টিওআর্থ্রাইটিসে সাধারণত হাঁটু, হিপ, আঙুল ও মেরুদণ্ডে ব্যথা হয় এবং ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ব্যথার পাশাপাশি ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহও দেখা যায়, যা হাতের কবজি ও আঙুলের সংযোগস্থলে বেশি প্রভাব ফেলে। আবার গাউট নামের আরেক ধরনে সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুল ফুলে ওঠে ও প্রচণ্ড ব্যথা হয়। সব ক্ষেত্রেই শীত একটি ট্রিগার ফ্যাক্টরের মতো কাজ করে।
তবে ঘরে বসেই এই ব্যথা কমানোর অনেক পদ্ধতি রয়েছে। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীর গরম রাখা। উষ্ণ কাপড়, মোজা, হাতমোজা ব্যবহার, উষ্ণ জল দিয়ে স্নান, গরম সেঁক ইত্যাদি ব্যথা হ্রাসে সাহায্য করে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে পেশির নমনীয়তা বজায় থাকে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ে। হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাইক্লিং, সুইমিং— এগুলো খুব উপকারী। তবে অতিরিক্ত লাফঝাঁপ বা ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।
উষ্ণ জল ও নোনতা জল দিয়ে সেঁক জয়েন্টের প্রদাহ কমায় এবং ব্যথা প্রশমিত করে। পাশাপাশি গরম হালকা তেল যেমন তিলের তেল, সর্ষের তেল, নারকেল তেল ইত্যাদি দিয়ে মালিশ করলে পেশি রিল্যাক্স হয় এবং আরাম পাওয়া যায়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে উষ্ণ তেল দিয়ে হাঁটু বা কাঁধে আলতো মালিশ করলে ব্যথা কম হয়। কিছু ভেষজ উপকরণও অত্যন্ত উপকারী— হলুদ, আদা, মেথি, রসুন, কালোজিরা ইত্যাদি প্রদাহ কমিয়ে ব্যথা উপশম করে।
হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ, দই, পনির, ডিম, ছোট মাছ (রুই, কাতলা ছাড়াও বিশেষত কাঁটাওয়ালা মাছ), পালংশাক, ব্রকোলি, তিল ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। শীতে কম সূর্য পাওয়া গেলেও দুপুরবেলা অন্তত ১৫-২০ মিনিট সূর্যালোকে থাকা ভাল। পানি কম খাওয়ার প্রবণতা শীতে বেড়ে যায়, ফলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে গ্রিসিং ফ্লুইড কমে যায়। তাই প্রচুর জল পান জরুরি।
এছাড়া মোটা মানুষের ক্ষেত্রে কিছুটা ওজন কমালে হাঁটু ও গোড়ালির ওপর চাপ কমে এবং ব্যথা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। যারা নিয়মিত বসে কাজ করেন, তাদের প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর উঠে একটু হাঁটা উচিত। খুব বেশি শক্ত মেঝেতে বা ঠান্ডা জমিতে বসা বা দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকুন। শীতের ঠান্ডা বাতাস সরাসরি জয়েন্টে লাগলে ব্যথা বাড়তে পারে, তাই বাইরে গেলে অবশ্যই উষ্ণ পোশাক দিয়ে হাঁটু ও কবজি ঢেকে রাখা উচিত।
অনেকেই ঘরোয়া ভাবে কিছু ভেষজ পানীয় খেয়ে স্বস্তি অনুভব করেন। যেমন— হলুদ-দুধ, আদা-লেবু ও মধুর কाढ़া, শুকনো মেথি বীজ ভেজানো পানি ইত্যাদি। এগুলো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। রসুন-সর্ষের তেল গরম করে মালিশ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। আবার ইপসম সল্ট দিয়ে উষ্ণ জলে পা ডুবিয়ে রাখলে অনেকের ক্র্যাম্প ও ব্যথা কমে যায়।
তবে কোনও অবস্থাতেই ব্যথা বেশি বাড়লে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া উচিৎ নয়। নিয়মিত ব্যথা, অতিরিক্ত ফোলা, জ্বরসহ ব্যথা, জয়েন্ট লাল বা গরম হয়ে যাওয়া— এসব ক্ষেত্রে অবহেলা করলে জয়েন্ট স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে রিউমাটোলজিস্ট বা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। প্রয়োজনে এক্স-রে, ব্লাড টেস্ট, এমআরআই বা ইউএসজি করানো লাগতে পারে।
শীতের ব্যথা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যও বড় বিষয়। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেকেই হতাশা বা স্ট্রেসে ভোগেন, যা ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম ও ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখা জরুরি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সঠিক রুটিন মেনে চলা এগুলোর প্রভাব শারীরিক ব্যথা কমাতেও সহায়ক।

পরিশেষে বলা যায়, শীতকাল মানেই ব্যথার যন্ত্রণা তা নয়। জীবনযাপনে কিছু ছোট পরিবর্তন আনলেই জয়েন্ট পেইন অনেকটাই কমানো যায়। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, সঠিক পোশাক, পর্যাপ্ত সূর্যালোক, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পরিমিত জল পান, এগুলো অভ্যাসে আনতে পারলে অস্বস্তি অনেকটাই কম হবে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং নিজের যত্ন নিজে নিন। শীতের ঠান্ডাকে ভয় নয় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে সঙ্গী করে ব্যথামুক্ত শীত উপভোগ করুন।
চুলের যত্নে বানানা লিফ হেয়ার স্পা :
কলা গাছ আয়ুর্বেদে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কলাপাতা শুধু খাবারের প্লেট হিসেবেই নয়; চিকিৎসাগত গুণেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনলস, অ্যালানটয়িন, এবং ভিটামিন A, B, C, ও E। এইসব উপাদান চুলের গোড়া মজবুত করে, স্ক্যাল্পের রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং খুশকি-ব্যাকটেরিয়া-ফাঙ্গাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। কলাপাতা চুলের কিউটিকলকে সিল্কি টেক্সচার দেয়, যার ফলে চুল নরম ও উজ্জ্বল দেখায়। রাসায়নিক কন্ডিশনারের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও কার্যকর।
কাদের জন্য বানানা লিফ স্পা বিশেষভাবে উপকারী ?
যাদের চুল অত্যন্ত শুষ্ক, রুক্ষ বা ফ্রিজি তাদের জন্য এটি এক দারুণ সমাধান। যারা নিয়মিত চুলে রং করেন বা স্ট্রেটনিং/স্মুথেনিং করেছেন, তাদের চুলে ড্যামেজ বেশি হয়, ফলে এই স্পা তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যাদের চুল খুব দ্রুত পড়ে যাচ্ছে, স্ক্যাল্পে চুলকানি বা খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও কলাপাতা এক অসাধারণ রিলিফ দেয়। পাতলা ও প্রাণহীন চুলে ভলিউম ও সজীবতা ফিরিয়ে আনে এই ট্রিটমেন্ট। শীতকালে যখন চুল বেশি ড্রাই হয়, তখন তো এটি একেবারেই অপরিহার্য।

কীভাবে করা হয় বানানা লিফ হেয়ার স্পা ?
প্রথমে হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হয় যাতে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর হয়। এরপর কলাপাতার রস, পেস্ট বা নির্যাস স্ক্যাল্প থেকে ডগা পর্যন্ত লাগানো হয়। এই পেস্টের সঙ্গে নারকেল তেল, অ্যালো ভেরা জেল, দই, বা মেথি মিশিয়ে ব্যবহার করা হয় চুলের ধরন অনুযায়ী। এরপর সতেজ কলাপাতা মাথার চারদিকে জড়িয়ে স্টিম দেওয়া হয়, যা সাধারণত ১৫–৩০ মিনিট ধরে চলতে পারে। স্টিমের কারণে স্ক্যাল্পের রোমছিদ্র খুলে যায় এবং পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পরে হালকা মাসাজ দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলা হয়। এতে চুল হয় নরম, রেশমি এবং জৌলুসপূর্ণ।
স্পার উপকারিতা:
এই স্পার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একেবারেই ন্যাচারাল এবং সাইড ইফেক্ট মুক্ত। নিয়মিত বানানা লিফ স্পা করলে চুল পড়ার সমস্যা কমে, নতুন চুল গজায় এবং চুলের ভলিউম বৃদ্ধি পায়। স্ক্যাল্পের সংক্রমণ, চুলকানি ও খুশকি কমে। রাসায়নিক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত চুলও পুনরায় স্বাস্থ্য ফিরে পায়। ডগা ফাটা কমে, রুক্ষতা দূর হয় ও চুল হয় নরম ও মসৃণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ চুলে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে, ফলে সূর্যের তাপ, ধুলো, দূষণের ক্ষতি রোধ করে। মাথা ঠান্ডা রাখায় মানসিক চাঙা ভাবও আসে।
বাড়িতে বানানা লিফ স্পা করার সহজ পদ্ধতি:
বাড়িতে করতে চাইলে কলাপাতা ভালোভাবে ধুয়ে শিরা ছাড়িয়ে নরম অংশগুলো ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিতে হবে। তাতে নারকেল তেল বা দুধ, অ্যালো ভেরা, বা দই মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করা চুলে পেস্ট লাগিয়ে কলাপাতা চেপে দিয়ে কাপড় বা শাওয়ার ক্যাপ পরতে হবে। সম্ভব হলে পাতাগুলো হালকা গরম করে নিন, এতে স্টিমিং ইফেক্ট ভালো হবে। ২৫–৩০ মিনিট রেখে সাধারণ জল বা সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার করলেই চুলে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা দেবে।
পার্লারের সাধারণ স্পার তুলনায় বানানা লিফ স্পা কেন বেশি উপকারী ?
অনেক স্যালনে যেসব হেয়ার স্পা হয়, সেগুলোতে সাধারণত সিলিকন, সালফেট, প্যারাবেন প্রভৃতি রাসায়নিক থাকে। এগুলো মুহূর্তে চুল সুন্দর দেখায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ফলিকল দুর্বল করে। অন্যদিকে বানানা লিফ স্পা চুলকে ভিতর থেকে পুষ্টি দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য প্রদান করে। এতে চুলের ন্যাচারাল প্রোটেকশন লেয়ার নষ্ট হয় না বরং শক্তিশালী হয়। তাই যারা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টে ক্লান্ত, তাদের জন্য এটি নিখুঁত সমাধান।
আমরা সাধারণত চুলের ডগা শুষ্ক হলে কন্ডিশনার ব্যবহার করি। কিন্তু চুলের প্রকৃত সমস্যা বেশিরভাগই শুরু হয় স্ক্যাল্প থেকে। কলাপাতা স্ক্যাল্পের মৃত কোষ তুলে দেয় এবং প্রদাহ কমায়। খুশকির জীবাণু দমন করে ও স্ক্যাল্পের pH ব্যালান্স ঠিক রাখে। এর ফলে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন ও পুষ্টি সঠিকভাবে পৌঁছে চুল আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

স্টিমিংয়ের সুবিধা কী ?
কলাপাতা দিয়ে মাথা মোড়ানোর পর স্টিম দেওয়ার যে পদ্ধতি, তা চুলের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। কারণ স্টিমে স্ক্যাল্পের রোমকূপ খুলে যায় এবং রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। ফলে পুষ্টি উপাদান সহজেই শোষিত হয়। যাদের মাথাব্যথা বা স্ট্রেস বেশি, তারাও এই স্পা করলে আরাম পান।
চুলের সমস্যার মাত্রা অনুযায়ী বানানা লিফ স্পা:
সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ১ বার
মাঝারি সমস্যায় মাসে ২ বার
চরম ড্রাই বা ড্যামেজড হেয়ারে সপ্তাহে ১ বার
৩–৪ সেশনেই সুস্পষ্ট ফল দেখা যায়।
খুব ঠান্ডা পাতায় মোড়ানো বা অতিরিক্ত গরম স্টিম ব্যবহার করলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। চুল ভেজা অবস্থায় জোরে চিরুনি করা ঠিক নয়। অত্যন্ত সেনসিটিভ স্ক্যাল্প হলে আগে একটুখানি লাগিয়ে দেখে নেওয়া উচিত, কোনো অ্যালার্জি হচ্ছে কি না। এছাড়া ব্যবহৃত সব উপকরণ অবশ্যই পরিষ্কার ও তাজা হওয়া জরুরি!
কলাপাতা সহজলভ্য এবং পরিবেশের কোনও ক্ষতি করে না। নষ্ট হয়ে গেলেও তা মাটির সঙ্গে মিশে প্রকৃতিতে ফিরে যায়। তাই এটি শুধু আমাদের চুল নয়, প্রকৃতিরও বন্ধু। আর বাজারের দামী স্পা ট্রিটমেন্টের তুলনায় এটি অনেক সস্তা তবু ফলাফল অনেক বেশি কার্যকর ও স্থায়ী।
চুলের যত্নে আমরা এতদিন নানা কেমিক্যাল-সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহার করেছি, যার খারাপ ফলাফল পিছিয়ে নেই। কিন্তু প্রকৃতি সব সময়েই নিঃস্বার্থভাবে আমাদের যত্ন নিয়েছে। বানানা লিফ হেয়ার স্পা সেই প্রকৃতিরই এক অপূর্ব উপহার। এটি একদিকে চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে ভেতর থেকে চুলকে সুস্থ করে তোলে। নিয়মিত এই স্পা করলে চুলের শক্তি, উজ্জ্বলতা ও ঘনত্ব প্রাকৃতিকভাবেই ফিরে আসে। তাই সবারই উচিত অন্তত মাসে একবার হলেও চুলকে প্রকৃতির এই স্নেহস্পর্শে সঞ্জীবিত করা। কারণ সুন্দর চুল সুন্দর জীবনযাত্রারই প্রতিচ্ছবি।

কিচেন ক্যানভাসে সেরা ১০
রান্না কেবল খাবার নয় এ এক সৃজনশীলতা, আনন্দ ও গল্পের মিশ্রণ। কিচেন ক্যানভাস গ্রুপের এই প্রতিযোগিতায় সদস্যরা জমা দিয়েছেন নানা স্বাদ, কল্পনা ও প্রজন্মের রান্নার গল্প। বিচারকেরা বেছে নিয়েছেন সেরা ১০টি রেসিপি, যা স্বাদ, সৃজনশীলতা ও উপস্থাপনায় বিশেষ। এই সংকলন শুধু রেসিপি নয়, রান্নার আনন্দ, পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনার গল্পও বয়ে আনে। প্রতিটি রেসিপি আপনাকে নতুন কিছু চেষ্টা করার প্রেরণা দেবে এবং রান্নাঘরে আনন্দ ছড়িয়ে দেবে।

সোনালী ইলিশ ভাপা
স্বাগতা বিশ্বাস

কী কী লাগবে :
ইলিশ মাছ ৪ পিস, টক দই ১ কাপ, সাদা সর্ষে বাটা আধ কাপ, কালো সর্ষে বাটা আধ কাপ, পেঁয়াজ বাটা সামান্য (ছোট), লঙ্কা বাটা ৪ টেবিল চামচ, কাসুন্দি ৫ টেবিল চামচ, নুন পরিমাণ মতো, হলুদ পরিমাণ মতো, সর্ষের তেল প্রয়োজন মতো, গোটা কাঁচা লঙ্কা ৪টি, কালোজিরে অল্প।
কীভাবে বানাবেন :
মাছ ধুয়ে নিন। সব উপকরণ একত্রে মেখে মাছ ম্যারিনেট করুন। মাইক্রোওয়েভ-প্রুফ পাত্রে মাছ তুলে উপর দিয়ে আরেকটু সর্ষের তেল ছড়িয়ে দিন। মাইক্রোওয়েভে মাত্র ১০ মিনিট ভাপিয়ে নিন।


হাতে মাখা বেগুন ইলিশ
মৌসুমী দাস

কী কী লাগবে
ইলিশ মাছ (১ কেজি), নুন ৫–৬ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো ২–৩ চা চামচ, সর্ষের তেল ২৫–৩০ গ্রাম, কালোজিরে ২/৩ চা চামচ, চেরা কাঁচালঙ্কা ৫–৬টি, সরু ফালি করা বেগুন পরিমাণমতো।
কীভাবে বানাবেন
মাছ ধুয়ে জল ঝরিয়ে নুন, হলুদ, কাঁচালঙ্কা ও বেগুন একসাথে মাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে কালোজিরে দিন, তারপর মাছ-বেগুন ছাড়ুন। চড়া আঁচে ৫–৬ মিনিট রান্না করে উল্টে আরও ২–৩ মিনিট দিন। প্রয়োজনে গরম জল দিয়ে ঢিমে আঁচে সিদ্ধ করুন, শেষে চড়া আঁচে জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিন।

চিকেন পোলাও সাথে রায়তা
বর্নালী দেব দাস

কী কী লাগবে
চিকেন ১/২ কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, আদা-রসুন পেস্ট ১ চা চামচ, টমেটো কুচি ১টি, লাল লঙ্কা কুচি ৩টি, জিরের গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, সাদা তেল ৩ চা চামচ, ঘি ২ চা চামচ, লবন স্বাদমতো, গোবিন্দভোগ চাল ১ কাপ।
কীভাবে বানাবেন
চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। চিকেনে ধনে গুঁড়ো, জিরের গুঁড়ো, লবন মাখুন। ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ সোনালি ভেজে আদা-রসুন ও টমেটো কষিয়ে নিন। মশলা মিশিয়ে চিকেন দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজুন। চাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে পরিমাণমতো জল দিয়ে ঢেকে কম আঁচে রান্না করুন। চাল সেদ্ধ হলে ঘি ও পাঁকা লঙ্কা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন। চিকেন পোলাও রায়তার সাথে পরিবেশন করুন।

গন্ধরাজ এগ কারি
অনন্যা মন্ডল

কী কী লাগবে
সেদ্ধ ডিম ৩টি, পেঁয়াজ কুচি ২টি, সর্ষের তেল পরিমাণমতো, টমেটো কুচি ১টি, লবণ পরিমাণমতো, চিনি সামান্য, আদা-রসুন বাটা ১ চা চামচ, তেজপাতা ১টি, শুকনো লঙ্কা ১টি, সাদা জিরে সামান্য, টক দই ২ চা চামচ, দুধ ১ কাপ, হলুদ গুঁড়ো সামান্য, লঙ্কার গুঁড়ো পরিমাণমতো, ধনে-জিরে গরম মসলা ১ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি সামান্য, গন্ধরাজ লেবুর সবুজ অংশ ঘষা।
কীভাবে বানাবেন
কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে সামান্য লবণ ও হলুদ দিয়ে ডিম হালকা করে ভেজে নিন। একই তেলে সাদা জিরে, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা ও পেঁয়াজ ভেজুন। পেঁয়াজে টমেটো, আদা-রসুন বাটা, টক দই, লেবুর সবুজ অংশ, লবণ, চিনি, লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে নাড়ুন। দুধ, ধনেপাতা, লেবুর রস ও ভাজা ডিম যোগ করে ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। কিছুক্ষণ কম আঁচে রান্না করুন, নামিয়ে পরিবেশন করুন। সুগন্ধী, ক্রিমি ও স্বাদের দিক থেকে অনন্য গন্ধরাজ এগ কারি প্রস্তুত।

সেল রুটি
অ্যাঞ্জেলিকা থাপা

কী কী লাগবে
চালের গুঁড়ো ৫০০ গ্রাম, আটা ৩০০ গ্রাম, ময়দা ২০০ গ্রাম, ঘি ৫ টেবিল চামচ গলানো, গরুর দুধ ১ কেজি সেদ্ধ, মৌরি ২ টেবিল চামচ, চিনি ৪ টেবিল চামচ, ভাজার জন্য তেল ১ লিটার, ভাজার জন্য ঘি ১/৪ কাপ।
কীভাবে বানাবেন
মিক্সিং বাটিতে চালের গুঁড়ো, আটা, ময়দা, মৌরি, চিনি মিশান। ঘি যোগ করে সমানভাবে মেশান। ঠান্ডা দুধ যোগ করে ব্যাটার তৈরি করুন; খুব ঘন বা পাতলা নয়। ১ ঘন্টা ঢেকে রাখুন। প্যানে তেল গরম করে ঘি যোগ করুন। একটি কাপে ব্যাটার নিয়ে তেলে ছোট ছোট বৃত্তাকার আকারে দিন। উল্টে অন্য দিকে বাদামী না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। সমস্ত ব্যাটার শেষ হওয়া পর্যন্ত একইভাবে রান্না করুন। নেপালি স্টার্টার হিসেবে নন-ভেজি বা ভেজি কারির সাথে ভাই টিক্কার জন্য পরিবেশন করুন।

পটেটো ফিঙ্গার
লিসা মুখার্জি

কী কী লাগবে
আলু সিদ্ধ ২টি (বড়ো মাপের), নুন পরিমাণমতো, জিরে গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, চাট মশলা ১ চা চামচ, গরম মশলা ১/২ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১/২ চা চামচ, সর্ষার তেল ২ টেবিল চামচ, কাঁচালঙ্কা কুচি ১ চা চামচ, ব্রেডক্রাম্ব ২ কাপ, কর্ণফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ, সাদা তেল ২ কাপ।
কীভাবে বানাবেন
কড়াইয়ে সর্ষার তেল গরম করে আদা-রসুন বাটা ও কাঁচালঙ্কা কুচি নেড়ে দিন। সিদ্ধ আলু দিয়ে মিশিয়ে জিরে, ধনে, চাট মশলা, গরম মশলা ও নুন দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নামিয়ে রাখুন। একটি বাটিতে জল ও কর্ণফ্লাওয়ার মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আলুর মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট অংশ নিয়ে লম্বা আকারে গড়ে নিন। গড়ে রাখা আলু কর্ণফ্লাওয়ার পেস্টে ডুবিয়ে ব্রেডক্রাম্বে মাখিয়ে গরম সাদা তেলে ভেজে নিন।সুস্বাদু, খাস্তা পটেটো ফিঙ্গার প্রস্তুত!

মেইল পোল্লো
শ্রাবন্তী দত্ত

কী কী লাগবে
চিকেন ব্রেস্ট পিস স্লাইস ৮টি, ভুট্টার দানা ১ কাপ, ময়দা ৫ টেবিল চামচ, দুধ ১ কাপ, গ্রেটেড চীজ ২ টেবিল চামচ, কর্ণফ্লাওয়ার ৫ টেবিল চামচ, পাতিলেবুর রস ১ টেবিল চামচ, সাদা তেল ১ কাপ, গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, নুন স্বাদমতো।
কীভাবে বানাবেন
চিকেন ব্রেস্ট স্লাইস পাতিলেবুর রস ও নুন মাখিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ভুট্টার দানা জল ও নুন দিয়ে সেদ্ধ করুন। ঠান্ডা দুধে ময়দা মিশিয়ে আঁচে বসান, ক্রিমি হয়ে এলে গ্রেটেড চীজ, নুন ও ১/২ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো মিশান। সেদ্ধ ভুট্টার দানা ক্রিম মিশ্রণে যোগ করুন। একটি চিকেন স্লাইস নিয়ে মিশ্রণ লম্বা করে দিন, রোল করে দুই দিকে মুড়ে রাখুন। বাকি স্লাইসও একইভাবে রোল করুন, ফ্রিজে ১ ঘন্টা রাখুন।কর্ণফ্লাওয়ার, জল, নুন, বাকি ১/২ চা চামচ গোলমরিচ দিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। রোল করা চিকেন ডুবিয়ে গরম সাদা তেলে বাদামী করে ভেজুন। ইচ্ছামত সস বা ডিপ দিয়ে পরিবেশন করুন। লেটুস পাতার ওপর সাজিয়ে চিলি-মেয়োনিজ ডিপের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

তেল কই
সমাপ্তি দে

কী কী লাগবে
কৈ মাছ ৫ পিস, নুন পরিমাণমতো, হলুদ পরিমাণমতো, ধনে-জিরে-লঙ্কা গুঁড়ো ২ চামচ, সর্ষের তেল ১/২ কাপ, মেথি ১/৩ চামচ (ফোড়নের জন্য), কাঁচালঙ্কা চেরা ৫টি, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ১/২ চামচ।
কীভাবে বানাবেন
মাছের আঁশ ছাড়িয়ে ধুয়ে নুন ও হলুদ মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে মাছ ভেজে নিন। একই তেলে মেথি ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে ফোড়ন তৈরি করুন। সমস্ত মশলা দিয়ে নেড়ে তেলের সাথে মিশিয়ে মশলার গা থেকে তেল ছাড়া পর্যন্ত রান্না করুন। সামান্য গরম জল দিয়ে মাছ দিয়ে ৭ মিনিট ফোটান। নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। সুস্বাদু, মশলাদার তেল কৈ ভাইফোঁটার ভোজের জন্য প্রস্তুত!

আলুর পুর ভরা ব্রেড
সমিতা সর

কী কী লাগবে
ডো জন্য:
ময়দা বা আটা ১ কাপ, গুঁড়ো দুধ ২ টেবিল চামচ, নুন ১/২ চা চামচ, চিনি ১ চা চামচ, ইষ্ট ১ চা চামচ, বাটার বা তেল ১ চা চামচ, গরম জল প্রয়োজন মতো, ভাজার জন্য তেল।
পুরের জন্য:
আলু ২টি, আদা কুচি সামান্য, লঙ্কা কুচি সামান্য, নুন স্বাদমতো, আলুর দম মশলা ১ চা চামচ, ভাজা গুঁড়ো মশলা ১ টেবিল চামচ (জিরে, ধনে, শুকনো লঙ্কা), কালোজিরে সামান্য, হলুদ সামান্য, তেল পরিমাণমতো।
কীভাবে বানাবেন
আলু কুকারে সেদ্ধ করে ঠান্ডা হলে ম্যাশ করুন। প্যানে তেল গরম করে কালোজিরা ফোড়ন দিন, আলু দিয়ে নেড়ে নুন, হলুদ, আদা-লঙ্কা কুচি, আলুর দম মশলা ও ভাজা গুঁড়ো মশলা মিশিয়ে পুর তৈরি করুন। ডো বানাতে ময়দা, নুন, চিনি, গুঁড়ো দুধ, ইষ্ট ও তেল মিশিয়ে গরম জল দিয়ে সফ্ট ডো তৈরি করুন। ১ চামচ তেল মেখে ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন। ডো থেকে ৫টি লেচি কেটে বেলে মধ্যে আলুর পুর ভরে মুখ আটকে দিন, চাইলে ছুরি দিয়ে হালকা ডিজাইন করুন। কড়াইয়ে তেল গরম করে অল্প আঁচে ব্রেড লাল করে ভেজুন। ভাজা ব্রেডের ওপর সামান্য মাখন মেখে পরিবেশন করুন। টমেটো সসের সঙ্গে পরিবেশন করলে আরও সুস্বাদু। টিফিন বা স্ন্যাক্স হিসেবে দারুন টেস্টি আলুর পুর ভরা ব্রেড।

বাঙালি ফিশ চপ
যুথি চক্রবর্তী

কী কী লাগবে
মাছ (রুই/কাতলা/ভেটকি) ২০০ গ্রাম, আলু ২টি সেদ্ধ, পেঁয়াজ কুচি ১টি, আদা কুচি ১ চা চামচ, রসুন কুচি ১ চা চামচ, কাঁচা লঙ্কা কুচি ২–৩টি, জিরে গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, গরম মশলা ১/২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, ব্রেডক্রাম্বস প্রয়োজনমতো, ডিম ১টি, ভাজার জন্য তেল।
কীভাবে বানাবেন
মাছ সেদ্ধ করে কাঁটা বেছে চটকে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, কাঁচালঙ্কা ভেজে মসলা ও মাছ দিয়ে নেড়ে পুর তৈরি করুন। আলু চটকে মাছের পুরের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। সিলিন্ডার/ওভাল আকারে চপ বানান। ডিম ফেটে চপ ডুবিয়ে ব্রেডক্রাম্বসে গড়িয়ে নিন। গরম তেলে সোনালি রঙা না হওয়া পর্যন্ত ডিপ ফ্রাই করুন।

পথের বাঁকে রহস্য
জয়দেব দত্ত
তখন সবেমাত্র ভারতীয় রেলওয়ের ইস্টার্ন জোনে চাকরি পেয়েছি। অফিস থেকে চার বন্ধু মিলে ঠিক করলাম, আমরা পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করে সান্দাকফু ও ফালুট বেড়াতে যাব। সেটা সম্ভবত ১৯৮৫ সালের চৈত্রের মাঝামাঝি কোনো এক সময়। সেই মতে টিকিট হাতে গরমের এক সন্ধ্যায় দার্জিলিং মেলে চেপে বসলাম।
পরদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছালাম। আগেই কলকাতা থেকে টয় ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছিলাম, তাই টিকিট কাটার ঝামেলা এড়ানো গেল। স্টেশনের লাগোয়া রেস্তোরাঁয় সামান্য প্রাতরাশ সেরে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা পৃথিবীখ্যাত পাহাড়ি মূষিক—টয় ট্রেনে চড়ে বসলাম। মহানন্দে টয় ট্রেন তার মাথা-লেজ দুলিয়ে দুলকি চালে জঙ্গল ফুঁড়ে বেশ এগিয়ে চলল। সারাদিন ধরে স্থানীয় বহু হাসিখুশি মুখ ইচ্ছেমতো তার ধীর গতির দেহ বেয়ে কাজের ফাঁকে যোগে ইতিউতি প্রয়োজনে নামছে আর উঠছে। অজানাকে জানার মাদকতায় আচ্ছন্ন হয়ে সারাদিন পাহাড়ি সৌন্দর্যের বুক চিরে ডুব দিয়ে সন্ধ্যায় ঘুম স্টেশনে এসে উঠলাম। ক্লান্ত শরীরে ব্যাগ-পত্তর নিয়ে উপযুক্ত হোটেল খোঁজা কষ্টকর ও ব্যয়সাপেক্ষ, তাই বাধ্য হয়েই কাছের একটা সরাইখানায় রাতটা থেকে গেলাম।

পরদিন সকালে ট্যাক্সি ধরলাম পাহাড়ি গ্রাম মানেভঞ্জনের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। কাছাকাছি পাহাড়ি ঢালে এক গৃহস্থের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া হল। সেখানে জমিয়ে আড্ডা, রাতের খাওয়া-দাওয়া ও রাত্রিবাস সেরে পরদিন সকালে গৃহকর্তার দেওয়া কিছু পথনির্দেশিকা মেনে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে যাত্রা শুরু করলাম। সে পথে সারাদিন হেঁটে টংলু হয়ে টুমলিং-এ সন্ধ্যায় পৌঁছালাম। সেখানে ট্যুরিস্ট লজে রাত্রিবাস। পরদিন সকালে রুকস্যাক পিঠে, হাতে লাঠি—আবার যাত্রা শুরু হল। মেঘমায় দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম নিলাম।
মেঘমা অঞ্চলটা প্রায় সারা বছরই কুয়াশা আর জলভরা মেঘে আচ্ছন্ন থাকে। সেই মেঘের মধ্যেই পথ চলা। চারিদিকের পাহাড়ে কিংবা পাদদেশে লাল-সাদা-গোলাপি রডোডেনড্রনের পাপড়ি আপন খেয়ালে যেন ফুলসজ্জা সাজিয়েছে। কোথাও ক্যামেলিয়া, ম্যাগনোলিয়া, কোথাও বা পাহাড় ফুঁড়ে ডেইজি হাসছে। বিকেলে যখন জৌবাড়ি গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছালাম, তখন চারিদিক মেঘে মেঘে ঢেকে গেছে—যেন গায়ের ওপরে মেঘমালা খেলা করছে। আর গায়ে-মুখে ঝিরিঝিরি তুষারকণা পেঁজা তুলোর মতো জড়িয়ে যাচ্ছে। এমন পাহাড়ি নকশীকাঁথার নয়নকাড়া দৃশ্যে বিভোর হয়ে আছি। এদিকে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে পড়ন্ত সূর্যের রক্তছটা পাহাড়ি বনের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এই এলাকার বিশেষত্ব এই যে, এটা প্রায় চীন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা। পাশেই চীনের ইয়োগ্রাম।

ট্রেকিং-এর সময় দুজন সহযাত্রী আমাদের দুজনকে পিছনে ফেলে কিছুটা এগিয়ে চলেছে। এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে আমাদের অনভিজ্ঞতার কারণে ভয় হচ্ছিল—যদি ভুল করে চীনা অঞ্চলের দিকে উত্তুরে রাস্তা বরাবর এগিয়ে যাই! তাই সতর্কভাবেই পথনির্দেশগুলো অনুসরণ করছিলাম। এদিকে আলো-আধাঁরির মাঝেই শুরু হল গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকল।
ভিজতে ভিজতে ব্যস্ত হয়ে যখন টুমলিং এলাকা পেরিয়ে যাচ্ছি, এমন সময় হঠাৎই আমাদের চোখে পড়ল—বিশাল দেহী দুটো কালো দৈত্যের মতো, আপাদমস্তক আলখাল্লায় ঢাকা কী যেন মেঘের আড়ালে পাশের জঙ্গল রাস্তায় হেঁটে চলেছে। হঠাৎ কানের পাশেই একটা খটাখট শব্দ বাজতে লাগল। মনে হল—কেউ বুঝি আমাদের গায়ের পাশেই হাঁটছে, এই বুঝি আমাদের ধরে ফেলবে!
ভয়ে আমাদের গায়ে কাঁটা দিয়ে রক্ত হিম হয়ে গেল। মুহূর্তে এ জনমানবশূন্য এলাকায় ভয়ে বেশ কুঁকড়ে গেলাম, জোরে জোরে নিশ্বাস পড়তে লাগল। আমরা দুজন অজানা গভীর আশঙ্কায় রাস্তা ছেড়ে পাশের ঘন জঙ্গলে টুপ করে লুকিয়ে পড়লাম। খানিক বাদেই সেই অস্পষ্ট বিশাল দেহী পাহাড়ের কোলে মেঘের আড়ালে মিশে গেল।

কিছুক্ষণ পরে তুষারপাত খানিক দুর্বল হলে চারিদিক স্পষ্ট হল। আমরাও স্বাভাবিক হয়ে জঙ্গল ছেড়ে রাস্তায় উঠে এলাম। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি হতেই লাগল। রেইনকোটে সারা শরীর মুড়ে বৃষ্টির মধ্যেই কঠিন পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে গৌরীবাসের ট্যুরিস্ট লজে কোনোভাবে এসে পৌঁছালাম। পৌঁছিয়েই অন্য বন্ধুদের সেই আশ্চর্যজনক অস্বাভাবিক ঘটনার বিস্তারিত জানালাম। তারাও সেই অতিমানবীয় ঘটনা শুনে বিস্মিত হল।
গৌরীবাসের ট্যুরিস্ট লজেই সেই রাত্রিটা থেকে গেলাম। সেখানে কেয়ারটেকার অত্যন্ত ব্যস্ততার সঙ্গে লণ্ঠনের আলোয় অতি যত্নসহকারে আমাদের জন্য স্যুপ, রুটি-মাংস-ভাজা প্রস্তুত করলেন। খাওয়া-দাওয়া সেরে সবাই মিলে আড্ডা মারতে বসলাম। কেউ কেউ চুরুট সেবনে ব্যস্ত হল। সারা রাত ধরে মুষলধারে শিলাবৃষ্টি হয়েই চলল। এমন আকাশভাঙা বৃষ্টি আমার জীবনে কখনও দেখিনি। চারিদিক নিস্তব্ধ, ঘুটঘুটে অন্ধকার। বজ্রবিদ্যুতের আলোয় মাঝেমধ্যে পাহাড়ের বীভৎস মুখ দেখে রোমাঞ্চিত হচ্ছি। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা ঐ আশ্চর্য ঘটনার বিষয়ে নানা আলোচনা করতে করতে রাতের নৈঃশব্দ ভাঙা বৃষ্টিপাতের ছন্দ-তালে, গাছে গাছে পাহাড়ি পোকার ‘কিঁন্ কিঁন্ ঝিন্ ঝিন্’ উৎকট সঙ্গীতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম—মনে নেই।
ভোরের দিকে হয়তো বৃষ্টি থেমে গেছে। পরদিন সকালে আকাশ পরিষ্কার। আমরা স্নান সেরে ট্রেকিং-এর উদ্দেশ্যে পোশাক পরে নিলাম। তারপর রুকস্যাক কাঁধে, হাতে লাঠি নিয়ে পরবর্তী যাত্রার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। পাশেই পাহাড়ের ঢালে একটা ছোট্ট খাবারের দোকান। দোকানি আছে, কিন্তু কোনো খরিদ্দার নেই। আমরাই একমাত্র খাবারের অর্ডার দিলাম। সেখানে বসে সবে রুটি-সবজি খাচ্ছি, এমন সময় দেখি—বিশাল দেহী দুটো কালো লোমশ বন্য ইয়াকের উপরে সওয়ারি সুঠাম দেহের দুই সুপুরুষ যুবক আমাদের কাছে এসে দাঁড়াল। তারা মাথায় এক ধরনের লম্বা চোঙা টুপি ও জমকালো লোমশ পোশাক পরে আছে—দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। গোর্খা ভাষায় আমাদের নমস্কার জানিয়ে জিজ্ঞেস করল—আমাদের যাত্রাপথ। আমরা জানালাম—সান্দাকফুর কথা। সব শুনে তাঁরা জানাল—সামনের রাস্তা খুবই চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা। এ রাস্তায় আপনাদের যাওয়া খুবই কঠিন হবে। তাই লোকপিছু ৮০ টাকা করে দিলে, তারা আমাদেরকে আপাত শান্ত বিশাল ইয়াকের পিঠে চড়িয়ে “সান্দাকফু”-তে পৌঁছে দিতে পারে।
কিন্তু আমরা তাঁদের প্রস্তাবে রাজি হতে পারলাম না, কারণ আমরা ট্রেকিং করে সান্দাকফু যাব—এটা স্থির করাই আছে। তাই খুব কষ্ট হলেও পায়ে হেঁটেই যাব—এমনটা তাঁদের জানিয়ে দিলাম।
এদিকে পরিষ্কার আকাশ আমাদের অজান্তেই কখন মেঘে মেঘে ঢেকে গেছে, খেয়ালই নেই। এখানকার প্রকৃতি বুঝি রহস্যে ঘেরা, এমনই ভয়ঙ্কর সুন্দর। ধীরে ধীরে গায়ের আশেপাশে মেঘ আর কুয়াশায় ঢেকে গেল। ঠিক আগের দিনের বিকেলের মতোই মাঝে মাঝে পূর্ব আকাশে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে নরম সূর্যের আলো চারিদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর বৃষ্টিভেজা তুষারের স্ফটিক কণায় সে আলো ফেটে ফেটে পড়ছে।
এদিকে ইয়াক সওয়ারি দুজন আমাদের নমস্কার জানিয়ে ধীরে ধীরে পাহাড়ি পথে সামনের দিকে এগিয়ে চলল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বন্য অতিকায় ইয়াক সওয়ারিরা ক্রমে ক্রমে আলো-আঁধারে মাখা ঘন জলভরা মেঘের মধ্যে প্রবেশ করলে আমরা পিছন থেকে দেখছি—ইয়াক দুটোকে আর তেমনভাবে বোঝা যাচ্ছে না। দুই যুবকের দেহও লম্বা-চওড়ায় খানিকটা বিবর্ধিত হয়ে পড়েছে, অনেকটা অস্পষ্ট প্রতিরূপের মতো—যা মেঘে মেঘে ভেসে থাকা অসংখ্য জলকণায় আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিসরণে সম্ভব। আর দূর থেকে লোমশ ইয়াক দুটোকে মনে হচ্ছে—তাঁদের পরিহিত লম্বা-চওড়া কালো আলখাল্লা পোশাক।
সেই অতিমানবীয় ভয়ংকর মূর্তি দুটো পাহাড়ের খাঁজে হারিয়ে গেল। ঠিক আগের দিনের সন্ধ্যার মতোই—মুষলধারে বৃষ্টিতে পাথরে খুরের শব্দ জঙ্গল ভেদ করে এমন দ্রুত তীক্ষ্ণভাবে কানে বাজছিল, ঐ অতিকায় জীব বীভৎসভাবে ঠিক আগের দিনের মতোই ঝোড়ো তুষারের ভিতর থেকে আমাদের কাছেই ধেয়ে আসছিল।
সব মিলিয়ে আগের দিনের সেই অতিমানবীয় ভয়ঙ্কর মূর্তি পুনরায় দৃশ্যমান। এভাবেই প্রকৃতির পরতে পরতে কত সম্ভাব্য ঘটনার ভূতুড়ে জ্ঞান মানুষের অজানাই থেকে যায়। এমন আলো-আঁধারি রহস্যে হতবাক হয়ে গৌরীবাস পিছনে রেখে দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম সান্দাকফুর পথে……









Comments