ভালোবাসার রং লাল(এক ডজন রান্না), রঙে রঙে ফাগুন! প্রসঙ্গ যখন হৃদয়, রবিবারের গল্প: ফেরা
- রোজকার অনন্যা

- 3 days ago
- 21 min read

ভালোবাসার রং লাল
"শহর জুড়ে যেন প্রেমের মরশুম "... অনুপমের সুরে আজ ভালোবাসার শহর কলকাতায় বসন্তের মেজাজ! সবথেকে কাছের, প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসার জন্য আলাদা করে একটা দিনের প্রয়োজন আছে কি নেই; এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক তো চলতেই থাকবে! সেসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে, গোটা একটা দিন যদি প্রিয় মানুষটির জন্য উৎসর্গ করাই যায়, মন্দ কি! সারাদিনের কাজের শেষে বাড়ি ফিরে নিজের পাশাপাশি টুকটাক ঘর সাজানো, পছন্দের উপহার আদান প্রদান আর মোমবাতি লাল-গোলাপে মাখামাখি নিজের হাতে বানানো খাবার ভর্তি টেবিল।প্লে সিস্টেমে বাজুক প্রিয়জনের সবথেকে প্রিয় গান, আর হাতে হাত রেখে সুরের মূর্ছনায় হারিয়ে যান দু'জনে। এই মরশুমে সবার জীবনে বসন্ত আসুক!
ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে অনন্যা পরিবারের সদস্যরা আয়োজন করেছেন ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের। একডজন রেসিপি রইলো, দেখুন তো আপনার স্পেশ্যাল ডে মেনুতে কোন কোন টা রাখবেন!

কাঁকড়ার কারি
প্রিয়াঙ্কা সামন্ত

কী কী লাগবে
৬০০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়া, ২ টো পেঁয়াজের পেস্ট, ১ টেবিল চামচ আদা বাটা, ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা, ১ টা টমেটো কুচনো, ১ টেবিল চামচ Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ Shalimar's Chef Spices লঙ্কা গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ টকদই, ৩ টে এলাচ, ২ টো দারুচিনি, স্বাদমতো নুন, স্বাদমতো চিনি, পরিমান মতো Shalimar's সর্ষের তেল
কীভাবে বানাবেন
প্রথমে কাঁকড়া ছাড়িয়ে ভালো করে ধুয়ে নুন হলুদ মাখিয়ে আধঘন্টা ঢাকা দিয়ে রেখে দিতে হবে।আধঘন্টা পর ফ্রাইং প্যানে সরষের তেল দিয়ে কাঁকড়া গুলো উল্টেপাল্টে গুলো হালকা করে ভেজে নিতে হবে। এবার কড়ায় সরষের তেল দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হলে চিনি দিয়ে দিতে হবে। চিনি টা লালচে রং হলে এলাচ, দারুচিনি দিয়ে এবারে রসুন বাটা, আদাবাটা দিতে নেড়েচেড়ে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে স্বাদমতো নুন আর চিনি দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে, যতক্ষণ না আদা রসুনের কাঁচা গন্ধটা না কাটে।পেঁয়াজ টা ভাজা ভাজা হয়ে এলে টমেটো কুচি দিয়ে দিতে হবে। টমেটো টা ভালো করে ভাজা হলে হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে সামান্য জল দিয়ে ভালো করে মশলা কষিয়ে নিয়ে টকদই দিয়ে আরও পাঁচ মিনিট মশলাটা কষিয়ে ভেজে রাখা কাঁকড়া গুলো দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে আরও কিছুক্ষন। এবার মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু হলে তখন পরিমান মতো জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিতে হবে। দশ মিনিট ফুটতে দিতে হবে। দশ মিনিট পর ঢাকা খুলে গ্যাস অফ করে নামিয়ে নিলেই কাঁকড়া কারি তৈরি। এবার গরম গরম ভাতে কাঁকড়া কারি পরিবেশন করতে হবে।
গাজরের সন্দেশ
প্রিয়াঙ্কা সামন্ত

কী কী লাগবে
৪০০গ্রাম গাজর, ২০০গ্রাম ছানা, ১/৪ কাপ লিকুইড দুধ, ১০০গ্রাম খোয়াক্ষীর, ৫০ গ্রাম গুঁড়ো দুধ, স্বাদমতো চিনি, ১৫ টা কাজুবাদাম কুচি, ১৫টা কিসমিস কুচি, ১৫টা পেস্তা কুচি, ১৫-২০ টা থেঁতো এলাচ, ১ চিমটি কেশর, পরিমাণ মতো ঘি/ Shalimar's Soyabean তেল
কীভাবে বানাবেন
প্রথমে একটা কড়ায় ঘি দিয়ে গাজরের বাটা দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে লিকুইড দুধ দিয়ে তারপর জল ঝরানো ছানা, খোয়া ক্ষীর, গুঁড়ো দুধ দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে চিনি দিয়ে ভালো করে নাড়তে হবে। এবার হয়ে এলে এলাচ গুঁড়ো, কেশর, কাজু কুচি, কিসমিস কুচি, পেস্তা কুচি দিয়ে ভালো করে নাড়তে হবে। নাড়তে নাড়তে একদম কড়া থেকে উঠে আসবে। এবার একটা থালায় ঘি মাখিয়ে নিয়ে গাজরের মিশ্রণটা ঢেলে দিয়ে হাত দিয়ে চেপে চেপে দিয়ে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিয়ে হার্ট শেপে কেটে নিয়ে ওপরে একটা করে কাজু বাদাম দিলেই তৈরি গাজরের সন্দেশ।

রোজ চকোলেট
প্রিয়াঙ্কা সামন্ত

কী কী লাগবে
১/২ কাপ Shalimar's নারকেল তেল, ৩/৪ কাপ গুঁড়ো দুধ, ১/৪ কাপ আইসিং সুগার, ২ ফোঁটা রোজ এসেন্স, ১ ফোঁটা পিঙ্ক ফুড কালার, পরিমাণ মতো রোজ পেটাল
কীভাবে বানাবেন
প্রথমে একটা সসপ্যানে জল গরম করতে হবে তার ওপরে একটা বড় কাঁচের বাটি নিতে হবে। বাটিটা হালকা গরম হলে তাতে নারকেল তেল দিয়ে দিতে হবে। নারকেল তেল মেল্ট হয়ে গেলে আইসিং সুগার আর গুঁড়ো দুধ দিয়ে ভালো করে নাড়তে হবে যতক্ষণ না তিনটে উপকরণ ভালোভাবে না মিশছে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালোভাবে নাড়তে হবে। ভালোভাবে মিশে গেলে পিঙ্ক ফুড কালার আর রোজ এসেন্স দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিয়ে হার্ট শেপ চকোলেট মোল্ডে প্রথমে রোজ পেটাল গুলো দিয়ে এই চকোলেটের ব্যাটার টা দিয়ে দিতে হবে সব মোল্ড গুলোতে। এবার ফ্রিজে ২ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। দুই ঘন্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে ডিমোল্ড করলেই তৈরি রোজ চকোলেট।
বিটের পরোটা
প্রিয়াঙ্কা সামন্ত

কী কী লাগবে
২ কাপ ময়দা, ২ টো মাঝারি সাইজের বিটের পেস্ট, ১ টেবিল চামচ আদা বাটা, ১/২ চা চামচ কাঁচালঙ্কা বাটা, ১/২ টেবিল চামচ Shalimar's Chef Spices জিরে গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ Shalimar's Chef Spices চাট মশলা, ১/২ চা চামচ জোয়ান, স্বাদমতো নুন, স্বাদমতো চিনি, পরিমাণ মতো Shalimar's Soyabean তেল
কীভাবে বানাবেন
প্রথমে বাটিতে ময়দা নিয়ে তাতে নুন, চিনি, তেল দিয়ে ভালো করে মেখে নিতে হবে। এবার বিটের পেস্ট টা দিয়ে তাতে আদাবাটা, লঙ্কা বাটা, জিরে গুঁড়ো, চাট মসলা, জোয়ান দিয়ে ভালো করে ময়দার সাথে মেখে অল্প জল দিয়ে ঠেসে ঠেসে মেখে নিয়ে আধ ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে দিতে হবে। আধ ঘন্টা পর ওই মিশ্রণ থেকে লেচি কেটে বেলে নিয়ে হার্ট শেপে কেটে নিতে হবে। এবার ফ্রাইং প্যানে উল্টে পাল্টে হালকা করে ভেজে নিয়ে সামান্য তেল দিয়ে আবার ভালো করে ভেজে নিলেই তৈরি বিটের পরোটা। এবার সব্জির তরকারির সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন বিটের পরোটা।

ভ্যালেন্টাইন্স স্মুদি
স্বর্ণাভ হালদার

কী কী লাগবে
কুচিয়ে নেওয়া বিটরূট ১ কাপ, কুচিয়ে নেওয়া গাজর ১ কাপ, কুচিয়ে নেওয়া আপেল ১ কাপ, খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া আদার টুকরো ১ ইঞ্চি, পুদিনাপাতা ১ মুঠো, চিনি ২ টেবিল চামচ বা স্বাদমতো, টকদই আধ কাপ, পাকা মর্তমান কলা ২টি, কাজুবাদাম ২ টেবিল চামচ, বরফের টুকরো, বেশ কিছুক্ষণ ধরে জলে ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিডস ৪ টেবিল চামচ, ডালিমের দানা ২ টেবিল চামচ
কীভাবে বানাবেন
কুচিয়ে নেওয়া বিট, গাজর, আপেল, আদা, পুদিনা পাতা এবং ১ টেবিল চামচ চিনি একসাথে মিক্সারে দিয়ে খুব ভালো করে বেটে নিতে হবে যাতে একেবারে মসৃণ হয় এবং এই লাল রংয়ের মিশ্রণটিকে ফ্রিজে আধা ঘন্টার জন্য ঠান্ডা হতে দিতে হবেI অন্য একটি পাত্রে টক দই, কলা, কাজুবাদাম এবং বাকি চিনি টুকু দিয়ে খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক বিটারের সাহায্য নিলে খুব ভালো হয়। এটিও একইভাবে ফ্রিজে আধা ঘন্টা জন্য ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এবার ডিপ ফ্রিজারে আগে থেকে ঠান্ডা করে রাখা কাঁচের গ্লাসে প্রথমে দিতে হবে ২ টেবিল চামচ ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিডস এবং তার ওপরে যথাক্রমে ১/৪ কাপ লাল রংয়ের বিটের মিশ্রণ, কয়েকটি বরফের কুচি, ১/৪ কাপ ফেটানো দই এর মিশ্রণ এবং সবশেষে উপর থেকে ডালিমের দানা এবং কাজুবাদাম দিয়ে ফ্রিজে আরো মিনিট দশেক ঠান্ডা করে পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবেI

বেকড পটেটো রোজ
স্বর্ণাভ হালদার

কী কী লাগবে
আলু ২-৩ টি, Shalimar's Chef Spices লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, লবণ স্বাদ মতো, গলিয়ে নেওয়া মাখন বা Shalimar's Soyabean তেল ১/৪ কাপ, Shalimar's Chef Spices চাট মশলা পরিমাণ মতো, মিক্সড হার্বস পরিমাণ মতো, চিজের কিউব ২টি বা মোজারেলা চিজ ২ টেবিল চামচ
কীভাবে বানাবেন
আলুগুলো ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে একটি স্লাইসার এর সাহায্যে গোল গোল বা চাকা চাকা করে খুব পাতলা করে কেটে নিতে হবে। এরপর কেটে রাখা আলুতে একে একে লঙ্কা গুঁড়ো,গোলমরিচ গুড়ো, লবণ এবং গুলিয়ে নেওয়া মাখন বা সাদা তেল খুব ভালো করে মাখিয়ে এক ঘন্টা ঢাকা দিয়ে রেখে দিতে হবে। এক ঘন্টা পর আলু থেকে যে জল বেরোবে সেটিকে পুরোপুরি ছেঁকে নিয়ে আলুর চাকা গুলিকে তুলে রাখতে হবে। মাফিন মোল্ডে তেল বা মাখন ব্রাশ করে আলুর চাকা গুলি একে একে সাজিয়ে গোলাপের পাপড়ির মতো আকার নিলে এর উপর ছড়িয়ে দিতে হবে চাট মসলা, মিক্সড হার্বস, গ্রেট করে নেওয়া চিজ। ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় প্রিহিট করে নেওয়া ওভেনে ২০ মিনিট বেক করে উপর থেকে আরও কিছুটা চিজ ছড়িয়ে আরো দশ মিনিট বেক করে নিলেই তৈরি আলুর মুচমুচে গোলাপ। পছন্দের মত সস বা ডিপের সাথে পরিবেশন করতে পারেন।

দিলওয়ালা চাট
স্বর্ণাভ হালদার

কী কী লাগবে
১ কাপ সেদ্ধ ভুট্টার দানা, ১ কাপ কুচি করে কাটা মৌসুমি সবজি (টমেটো, শসা, গাজর, গোলমরিচ), ১/২ কাপ কুচি করে কাটা পেঁয়াজ, ১/৪ কাপ কুচি করে কাটা ধনেপাতা, ১ টেবিল চামচ রসুন কুচি, ১ চা চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১/৪ কাপ তেঁতুলের চাটনি, ১/৪ কাপ ধনেপাতা বা পুদিনার চাটনি, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ Shalimar's Chef Spices চাট মশলা গুঁড়ো, স্বাদমতো লবণ, সাজানোর জন্য ১-২ চা চামচ ভাজা নুডলস, মাখন ১ টেবিল চামচ
কীভাবে বানাবেন
একটি বড় পাত্রে ভুট্টার দানা, মিশ্র সবজি, পেঁয়াজ এবং ধনেপাতা একসাথে মিশিয়ে নিনI প্যানে মাখন দিয়ে রসুন কুচি এবং চিলি ফ্লেক্স দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে ভুট্টা ও সবজির মিশ্রণ দিয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পাঁচ মিনিট ভেজে নিন। এই সময় সমানে নাড়তে হবে যাতে কোনভাবেই লেগে না যায়। একটি ছোট পাত্রে তেঁতুলের চাটনি, স্বাদমতো লবণ, সবুজ চাটনি, লেবুর রস এবং চাট মশলা গুঁড়ো একসাথে ফেটিয়ে নিন। ভুট্টা-সবজির মিশ্রণের উপর চাটনির মিশ্রণ ঢেলে ভালো করে মেশান। ভাজা নুডলস এবং মুচমুচে ভাজা পেঁয়াজ দিয়ে সাজিয়ে সাথে সাথে পরিবেশন করুন এবং উপভোগ করুন।
সুজির লাভ বাইটস
স্বর্ণাভ হালদার

কী কী লাগবে
সুজির বেসের জন্য:
২ টেবিল চামচ Shalimar's Sunflower তেল, ১ চা চামচ সরষে, ১ চা চামচ জিরা, ১ চিমটি হিং, কয়েকটি কারি পাতা, দেড় কাপ সুজি (মোটা দানা), ১ কাপ দই, ১/২ চা চামচ লবণ, ১/২ কাপ জল, ২ টেবিল চামচ ক্যাপসিকাম কুচি, ২ টেবিল চামচ গাজর কুচি, ২ টেবিল চামচ ধনেপাতা কুচি, ১/২ চা চামচ ইনো অথবা ফ্রুট সল্ট
পুর বানানোর জন্য:
২ টেবিল চামচ Shalimar's সর্ষের তেল, ১ চা চামচ সরষে, ১ চা চামচ জিরা, ১ চিমটি Shalimar's Chef Spices হিং, ২ টি মিহি করে কুচিয়ে নেওয়া কাঁচালঙ্কা, আধ কাপ পেঁয়াজ (মিহি করে কাটা), ১/৪ চা চামচ Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ লবণ, ৩ টি আলু (সেদ্ধ করে চটকে নেওয়া), ২ টেবিল চামচ ধনেপাতা কুচি
অন্যান্য উপকরণ:
সবুজ চাটনি, Shalimar's Sunflower তেল, মেয়োনিজ

কীভাবে বানাবেন
সুজির বেস তৈরীর জন্য:
দই, লবণ এবং জল মিশিয়ে ভালো করে ফাটিয়ে একটি ঘন ব্যাটার তৈরি করে সুজি মিশিয়ে আবারো ভালোভাবে মিশিয়ে ঢেকে রাখুন ১০ মিনিট। এবার কুচিয়ে নেওয়া ক্যাপসিকাম, গাজর এবং ধনেপাতা ওই একই মিশ্রণে দিয়ে ভালো করে মেশান। একটি প্যানে সাদা তেল গরম করে সরষে, জিরা, হিং এবং কয়েকটি কারি পাতা দিয়ে দই এবং সুজির মিশ্রণ যোগ করুন এবং সুগন্ধযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। হালকা বাদামি এবং শক্ত হয়ে যখন প্যান এর গা থেকে ছেড়ে আসবে তখন প্যান থেকে নামিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা করে বড় পাত্রে ভালো করে মেখে একটি ডো তৈরি করে ফেলুন। মেখে রাখা ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে বেলে নিয়ে একটি কুকি কাটারের সাহায্যে হৃদয় বা heart এর আকারে কেটে নিন।
স্টাফিং এর জন্য:
একটি প্যানে সাদাতেল গরম করে আবারো সরষে, জিরা, হিং এবং কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিন। কাটা পেঁয়াজ যোগ করুন এবং ভালো করে ভাজুন। পেঁয়াজ বাদামি বর্ণ ধারণ করলে হলুদ গুঁড়ো এবং লবণ যোগ করুন এবং মশলা সুগন্ধযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। কিছুক্ষণ পর আলু সেদ্ধ যোগ করে আরো কিছুক্ষণ নেড়ে সব মিশিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করুন সুগন্ধ বেরোনোর। সবশেষে ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। আলু স্টাফিং প্রস্তুত।
লাভ বাইটস তৈরির জন্য:
একটি হার্ট আকৃতিতে কেটে নেওয়া সুজির টুকরো নিয়ে সবুজ চাটনি ছড়িয়ে দিন। এর উপরেই আলুর মশলা রাখুন এবং সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। সবশেষে আরেকটি একই আকৃতির সুজির টুকরো দিয়ে ঢেকে দিন। সব কটা লাভ বাইটস বানানো হয়ে গেলে প্যানে সাদা তেল দিয়ে মাঝারি তাপমাত্রায় shallow fry করে তুলুন এবং মেয়োনিজ বা টমেটো সস দিয়ে পছন্দমত সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
স্ট্রবেরি স্পঞ্জ কেক
সঞ্চিতা দাস

কী কী লাগবে
১০০ গ্ৰাম ময়দা, ১০০গ্ৰাম চিনি গুঁড়ো, ২ টি ডিম, ৫০ গ্ৰাম Shalimar's Sunflower তেল, ১ চা চামচ বেকিং পাউডার, ১ কাপ স্ট্রবেরি পিউরি, ১/২ চা চামচ স্ট্রবেরি এসেন্স, প্রয়োজন মতো দুধ, ২ ফোঁটা অর্গানিক কালার(পিঙ্ক)
কীভাবে বানাবেন
একটি পাত্রে ময়দা, বেকিং পাউডার একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। অন্য পাত্রে ২টি ডিম ও চিনি দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। তারপর স্ট্রবেরি পিউরি, এসেন্স ও কালার দিয়ে ফেটিয়ে নিতে হবে। একটু একটু করে ময়দা দিয়ে স্প্যাচুলা দিয়ে ব্যাটারে পুরো টা মিশিয়ে নিতে হবে। যদি শুকনো হয় তাহলে পরিমাণ মতো দুধ দিতে পারেন। একটু ঘন ব্যাটার বানাতে হবে। প্রথমে ১৬০° তে ওভেন গরম করতে দিতে হবে। ততক্ষণ ২ পাউন্ড সাইজের কেক মোল্ড এ বাটার পেপার দিয়ে কেকের ব্যাটার টা ঢেলে দিতে হবে। ওভেন গরম হয়ে গেলে ১৬০° তাপমাত্রায় ৩০-৩৫ মিনিট টাইম সেট করে দিন।৩০-৩৫ মিনিট পর তৈরি গরম গরম স্ট্রবেরি স্পঞ্জ কেক।

গোলাপ লস্যি
সঞ্চিতা দাস

কী কী লাগবে
টকদই ২০০ গ্রাম, গোলাপ জল ২ চা চামচ, রোজ সিরাপ ৩ টেবিল চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, গোলাপের পাপড়ি ৪-৫ টি, আমন্ড ২-৩ টি, পেস্তা ২-৩ টি
কীভাবে বানাবেন
মিক্সিং জারে টকদই, গোলাপের পাপড়ি, চিনি আর ৬-৭ টি বরফের টুকরো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এতে এবার গোলাপ জল ও রোজ সিরাপ মিশিয়ে ভাল করে নাড়ুন। সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশে মিহি হয়ে যাবে। পরিবেশন করার গ্লাসে একটু উঁচু থেকে গোলাপের লস্যি ঢালুন। উপর থেকে আমন্ড কুচি ও পেস্তা কুচি ছড়িয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
বিটের পোলাও
সঞ্চিতা দাস

কী কী লাগবে
২ কাপ বাসমতী চাল, ১ টি মাঝারি বিটরূট, স্বাদ মত লবণ, ১ চা চামচ Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো, ১০০ গ্রাম চিনি, ৪-৫ ফোঁটা গোলাপ জল, ২ ফোঁটা মিঠা আতর, ৩ টেবিল চামচ ঘি/ Shalimar's Sunflower তেল, ১ টি তেজপাতা, স্প্রিং অনিয়ন, কাজুবাদাম কিশমিশ একমুঠো
কীভাবে বানাবেন
প্রথমেই বাসমতী চালের ভাত বানিয়ে নিতে হবে। স্বাভাবিক এর থেকে একটু শক্ত থাকবে ভাতটা। এবার বিটরূট কেটে নিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। একটা প্যান গরম করে তাতে ঘী অথবা সাদা তেল দিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে বিটের পেস্ট দিয়ে নাড়তে হবে কিছুক্ষণ। তারপর দিতে হবে আধ সিদ্ধ চালের ভাত। লবণ ও চিনি দিতে হবে। গোলাপজল, মিঠা আতর ও গরম মশলা গুঁড়ো দিয়ে ভালো ভাবে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন। কাজুবাদাম কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন স্যালাড ও রায়তার সঙ্গে।

গুলাবী শাহী টুকরা
সঞ্চিতা দাস

কী কী লাগবে
পাউরুটির স্লাইস ৫-৬ টি,
১ লিটার তরল দুধ, ১ কাপ মিল্ক মেইড, ১/২ কাপ চিনি,১ টেবিল চামচ ঘি, পরিমাণ মতো Shalimar's Sunflower তেল, ২-৩টি ছোট এলাচ, ১/৪ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো, গুলকন্দ ১ চা চামচ
কীভাবে বানাবেন
পাউরুটির ধার বাদ দিয়ে হার্ট শেপে কেটে নিন। সাদা তেলে ভেজে তুলে নিন। সমান পরিমাণ চিনি আর জল, ছোট এলাচ সহ ফুটিয়ে সিরা বানিয়ে তাতে ভাজা পাউরুটি ডুবিয়ে তুলে নিন। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। ঘি, মিল্কমেড, এলাচ গুঁড়ো, গুলকন্দ মিশিয়ে ঘন হলে নামিয়ে নিন। পাউরুটির ওপর এই ক্ষীর ছড়িয়ে প্লেটে সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

রঙে রঙে ফাগুন, আপনার সাজেও লাগুক রং এর ছোঁয়া!
বসন্ত মানেই চারিদিকে রং এর ছোঁয়া। প্রকৃতির যত রূপ, যত রং তার ছাপ পড়ে মানুষের মনেও। তাই তো বসন্ত কে বলা হয় ঋতুরাজ। সরস্বতী পুজো, ভ্যালেন্টাইন্স ডে আর তারপর বিয়ে বাড়ির মরশুম; সবমিলিয়ে সাজগোজ করার জম্পেশ আয়োজন। বসন্তের রং হলুদ আর ভালোবাসার রং লাল। এছাড়াও সামনেই আসছে দোল। রঙে রঙে মাখামাখি হয়ে কেমন ভাবে সাজিয়ে তুলবেন নিজেকেও চলুন জেনে নিই।
১.চোখের সাজে প্যাস্টেল আইশ্যাডো লুক:
খুব ফর্সা ত্বকের ক্ষেত্রে পীচ, ল্যাভেন্ডার, মিন্ট গ্রিন বা বেবি পিঙ্কের মতো নরম শেড ব্যবহার করতে পারেন। এরপর পাতলা ব্ল্যাক বা ব্রাউন আইলাইনার ব্যবহার করলে আরো সুন্দর লাগবে।
মাঝারি গায়ের রঙের জন্য কোরাল, পীচ এবং রোজ গোল্ডের শেড একদম পারফেক্ট। ক্রিজে সফট পিঙ্ক আইশ্যাডো ব্লেন্ড করুন এবং পাতায় শিমার লাগান।
ফ্লাটারি ল্যাশের পড়লে আরও উজ্জ্বল দেখাবে।
২.গোল্ডেন গ্লো আইজ:
গোল্ডেন ও ব্রোঞ্জ শেড ভারতীয় ত্বকের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়।পাতায় সোনালি শিমার লাগান এবং ক্রিজে গাঢ় ব্রাউন ব্যবহার করুন। নরম, মোহনীয় লুকের জন্য কাজল বা স্মাজ করা ব্রাউন কাজল লাগান।
৩.সবুজ ও নীল রঙের ছোঁয়া:
টিল, এমারেল্ড বা অ্যাকোয়া শেড দিয়ে একটি সাহসী লুক তৈরি করতেই পারেন। সাধারণ কালোর পরিবর্তে সবুজ বা নীল আইলাইনার ব্যবহার করুন নতুনত্ব আনতে। চোখের কোণে হালকা শিমার লাগালে আরও উজ্জ্বল দেখাবে।
লিপশেডের ক্ষেত্রে স্কিন টোনের পাশাপাশি কীরকম সাজপোশাক হবে সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তবেই মানানসই সাজ হবে। চলুন জেনে নিই কারা কোন রং এর লিপস্টিক ব্যবহার করবেন।
ফর্সা থেকে গমের মতো ত্বকের জন্য:
নিউড শেড: পীচি নিউড, উষ্ণ ক্যারামেল, ব্রাউন-টোনড নিউড
গোলাপি শেড: রোজ পিঙ্ক, মভ পিঙ্ক, বেরি পিঙ্ক
লাল শেড: ব্লু-টোনড রেড, ক্লাসিক উষ্ণ লাল
কোরাল ও পীচ শেড: সফট কোরাল, পীচি পিঙ্ক

২.মাঝারি থেকে ট্যান ত্বকের জন্য:
নিউড শেড: উষ্ণ ব্রাউন, দারচিনি, পোড়া কমলা নিউড
গোলাপি শেড: ডিপ রোজ, প্লাম, রাস্পবেরি পিঙ্ক
লাল শেড: ইট লাল, গাঢ় মেরুন, টেরাকোটা লাল
কোরাল ও কমলা শেড: উষ্ণ কোরাল, ট্যানজারিন কমলা
৩.শ্যামলা থেকে গাঢ় ত্বকের জন্য:
নিউড শেড: চকলেট ব্রাউন, এসপ্রেসো, টফি নিউড
গোলাপি শেড: ডিপ বেরি, ফুশিয়া, ওয়াইন পিঙ্ক
লাল শেড: অক্সব্লাড রেড, বারগান্ডি, ডিপ মেরুন
কোরাল ও কমলা শেড: রাস্ট অরেঞ্জ, উষ্ণ টেরাকোটা
মেক-আপ বেসের জন্য:
ত্বক সতেজ রাখতে লাইটওয়েট, হাইড্রেটিং প্রাইমার ব্যবহার করুন।
স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে ডিউই বা সাটিন ফিনিশ ফাউন্ডেশন বেছে নিন। নো-মেকআপ লুকের জন্য টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার বা বিবি ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
উজ্জ্বল ও ফ্রেশ ব্লাশ:
উষ্ণ ব্লাশ শেড বেছে নিন, যেমন পীচ, কোরাল বা রোজ পিঙ্ক। ন্যাচারাল ও ডিউই ফিনিশের জন্য ক্রিম ব্লাশ ব্যবহার করুন।
উজ্জ্বল হাইলাইটার:
গাঢ় গ্লিটার এড়িয়ে গিয়ে স্বাভাবিক দীপ্তির জন্য গোল্ডেন হাইলাইটার ব্যবহার করুন। গালের হাড়, ভ্রু-এর নিচের অংশ ও নাকের টিপে হাইলাইটার লাগান।
মেকআপ দীর্ঘ সময় সতেজ রাখতে লাইটওয়েট, হাইড্রেটিং সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। ভারী পাউডার এড়িয়ে যান।শুধু টি-জোনের তেলতেলে অংশে ট্রান্সলুসেন্ট সেটিং পাউডার ব্যবহার করুন।

প্রসঙ্গ যখন হৃদয়
লাল রং হার্ট সেপ আর ভ্যালেন্টাইন উইকের ঘর সাজানো, সাজপোশাক থেকে ভালবাসা উদযাপনের, ছোটবড় হাজার খুঁটিনাটি, এবারের আলোচনায় একসাথে থাকছে সব কিছু। আলোচনায় এলিজা।
একসময় সরস্বতী পূজোয় ছিল বাঙালির প্রেম দিবস। সদ্য কৈশোরের পা রাখা ছেলেমেয়েরা স্কুলের গণ্ডি প্রেরণের আগেই সহপাঠী কে সাবেকী পোশাকে সরস্বতী পূজায় কোন একদিন দেখে আবিষ্কার করতো মনের উথাল পাথাল আবেগ। সেই আবেগ প্রেম নিবেদন হয়ে সহপাঠীর কাছে পৌছতে আবার লেগে যেত আর একটা বছর কারণ প্রেম নিবেদন করার জন্য সরস্বতী পূজার মতন দিন বছরে দ্বিতীয়টি ছিল না। তাই বিশ্বায়নের হাওয়া লেগে ভ্যালেন্টাইন্স ডে এদেশে এলেও বাঙালিকে আলাদা করে ভাবতে হয়নি, বরং ক্রমশ সরস্বতী পুজোর সাথে ভালেন্টাইনস ডে হয়ে ভ্যালেন্টাইন্স উইক একসাথে জুড়ে সম্পূর্ণ প্রেমের একটা মরশুম পেয়ে গেছি আমরা। সমস্যা হল আজকের দিনে সারা সপ্তাহ স্কুল কলেজ অফিস সংসার সামনে এই দিনগুলো উদযাপন করা বেশ ঝক্কির, তবে মন ভালো রাখতে দরকার হয় অজুহাৎ, সে আপনি একাই হন কিংবা দোকা...
তাই নিজের বাড়ি কটা দিনের জন্য সাজিয়ে নিলেই হল শুধু কিশোর-কিশোরী কিংবা যুবক-যুবতী কেন মনের মানুষকে মনের কথাগুলো আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বয়স কোন বাধা হতে পারে না আর প্রেমপত্র লিখেই যে মনের অনুভূতি প্রকাশ করতে হবে এমন কোন কথা নেই। তাই valentines থিমে ঘরটা সাজিয়ে মনের মানুষকে বুঝিয়ে দিন মনের কথা। আর যদি আপনি একা হয়ে থাকেন তাহলে সাজানো ঘরের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে দেবেন কাউকে যদি কিছু বলার থাকে তাহলে তারা বুঝে যাবেন ঠিকই কথায় বলে না, "সমঝদারো কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যায়"..
ভ্যালেন্টাইন্স ডেকে ঘরটা যেন সাজানো গোছানো থাকে তাই আগের বিকেন্দ্রীয় ছোটখাটো কাজগুলো সেরে নিন। গোলাপি লাল মগ এই ধরনের কাগজ কাপড় মোমবাতি যা যা আছে জোগাড় করে ফেলুন। সঙ্গে পুরনো ফটো ফ্রেম, পুরনো পাপোশ, টিস্যু পেপার, সলিড কালারের পর্দা, কুষাণ কভার, সুচ , সুতো, গাছের শুকনো ডাল, কিংবা তার, এমনকি পুরনো বই বা ম্যাগাজিন ও কাজে এসে যাবে। সারা সপ্তাহের প্রতিটি দিনের জন্য লাল কাগজ দিয়ে তৈরি করতে পারেন একটি একটি খাম কিংবা লাল রঙের কাগজের খাম কিনেও আনতে পারেন সমস্ত খানগুলি দিয়ে একটি দেওয়াল সাজিয়ে নিতে পারেন আর প্রতিটি খামের ভেতর লিখে দিতে পারেন এক একটি করে ভালোবাসার মেসেজ।
ভ্যালেন্টাইনস উইকের প্রতিদিন এক একটি মেসেজ খাম খুলে বার করে পড়া যাবে। রঙিন কাগজ থেকে হার্ট সেপ কেটে , সুতোয় গেঁথে নিয়ে সলিড কালারের পর্দার ওপর ঝুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে, একইভাবে রিবন দিয়ে ফুল বানিয়ে কিংবা কাগজ দিয়ে ফুল বানিয়ে অথবা আসল ফুল দিয়েও এইভাবে সাজানো যেতে পারে। পুরনো কাঁচের বোতলে ফেলে দেওয়া তার কিংবা শুকনো গাছে ডাল রেখে তাতে হার্ড চেপে কাটা কাগজ লাগিয়ে কিংবা কাগজের ফুল লাগিয়ে অথবা লাল গোলাপি কমলা জাতীয় কোন রঙের মোমবাতিকে গলিয়ে তিনটি আঙুলের মাথা গলা মোম এ ডুবিয়ে তাই দিয়ে ছোট ছোট ফুল বানানো যেতে পরে। পুরনো খালি কোনো ফটো ফ্রেম থাকলে তাতে কাপড় বা কাগজের হাড় কেটে লেস বাটন রিবন ইত্যাদি দিয়ে ভ্যালেন্টাইন থিমে ডেকোরেশন করা যেতে পারে পুরনো ম্যাগাজিনের পাতায় এক্রেলিক কালার দিয়ে হার্ট এঁকে কিংবা লাল গোলাপি কাগজের স্ট্রিট কেটে তাই দিয়ে হার্ট সেপের চেন বানিয়ে সেটা দিয়েও ঘর সাজানো সম্ভব। এছাড়া কার্ডবোর্ডের বক্স থেকে কার্ডবোর্ড কেটে তার উপর ভ্যালেন্টাইনস ডে মেসেজ লিখেও ঘরের বাইরে সুন্দর করে ঝোলানো যেতে পারে বাইরে এক রঙের পাপোশ রাখা থাকলে তার উপরে এক্রেলিক কালার দিয়ে হার্ট এঁকে দিতে পারেন। এছাড়া এছাড়া ভালোবাসার গান আর স্পেশাল রান্না তো আছেই।

ঘর সাজানো হলো, এবার নিজেকে সাজাবেন কি করে পড়ার জন্য গোলাপী কাপ্তান বা সাদার উপর লাল গোলাপি প্রিন্টেড কাপ্তান অথবা মভ, পিংক, রেড জাতীয় ক্যাজুয়াল ম্যাক্সি কিংবা কোঅর্ড সেট পরলে ভালো মানাবে। হঠাৎই যদি ডিনারে বাইরে যাওয়ার প্ল্যান হয় তাহলে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে যে কোন নিউট্রাল কালারের সঙ্গে গোলাপি লাল মগ কালার পড়তে পারেন। অফিস শেষে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বাইরে সময় কাটাতে চাইলে অফিস ফর্মেন্সের সঙ্গে একটু রেট বা পিঙ্ক হাইলাইট অ্যাড করতে পারেন এতে সফিস্টিগেশনও যেমন আসবে তেমন আপনাকে চার্মিংও লাগবে। তবে হাতে সময় থাকলে valentine থিম কালারের শাড়ির কোন বিকল্প হয় না।
পুরুষরা ফরমেন্সের সঙ্গে লাল গোলাপি বা মক্কার কিংবা পকেট স্কয়ার ব্যবহার করতে পারেন অফিসের শেষে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বেরোনোর জন্য। ক্যাজুয়ালি কোথাও যেতে হলে লাল গোলাপি এসব রঙের চেক শর্ট ব্যবহার করতে পারেন অথবা লাল মেরুন এই জাতীয় কোন টি-শার্টের ওপর কন্ট্রাস্ট কালারের শার্ট লেয়ারিং করতে পারেন। কিংবা শুধুমাত্র রেড স্নিকার আর রেড ব্যান্ডের ঘড়ি পড়ে একেবারেই অন্যরকম ভাবে সাজতে পারেন। আগে থেকে প্ল্যান করা ডিনার হলে রেড প্রিন্ট বা মগ কালারের ফ্লোরাল প্রিন্টেড শার্ট দারুন মানানসই লাগবে। এছাড়া মেরুন জ্যাকেট মেরুন সোয়েটার কিংবা মেরুন কোন টি-শার্ট ও পরা যেতে পারে।
বক্স ওয়ান বুলেট পয়েন্ট ফর ইন্টেরিয়র
1. হার্ট শিপে কাগজ কেটে তাই দিয়ে ছোটখাটো হাতে তৈরি করা জিনিস দিয়ে ঘর সাজানো যায়।
2. পেপার ন্যাপকিন কে রং করে কিংবা কালার পেপার ন্যাপকিন ইউজ করে ফুল বানিয়ে ডিনার টেবিল সাজানো যেতে পারে।
3. কাঠের বড় বড় পুটিকে মোটা তারের মধ্যে গেঁথে সেই তারটিকে হার্ট সেপ দিতে পারেন সাজাতে পারেন লাল রিবন দিয়ে।
4. লাল রঙের খাম এর ভেতর মেসেজ লিখে খামের মুখ হার্ড শেপের স্টিকার দিয়ে বন্ধ করে তা দিয়ে ঘরের একটি দিক সাজানো যেতে পারে।
5. শুকনো গাছের ডালে, গলা মোমবাতি দিয়ে ফুল বানিয়ে ঘর সাজাতে পারেন।
Box 2 বুলেট পয়েন্ট ফর ফ্যাশন
1. ঘড়ি ইনফরমালি সময় কাটাতে গোলাপি মত বা ওই রঙের প্রিন্টের লঞ্চ ব্যাক কিংবা গড সেট পরে যেতে পারে।
2. অফিসের পর বাইরে একসাথে সময় কাটাতে চাইলে, অফিসের পোশাকের সাথে লাল গোলাপি মেরুন রংকে হাইলাইট করুন মহিলাদের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যাংকার টপ ইত্যাদি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে পকেট স্কয়ার টাই ইত্যাদি পরা যেতে পারে।
3. হঠাৎ ডিনার প্ল্যান হলে, লাল অথবা মেরুনের সাথে কন্ট্রাস্ট মিক্স এন্ড ম্যাচের জুড়ি মেলা ভার।4. হাতে সময় নিয়ে ডিনারী বেরোতে পারলে মেয়েরা শাড়ি পড়তে পারেন আর ছেলেরা ফ্লোরাল প্রিন্টেড শার্ট কিংবা মরণ জ্যাকেট ইত্যাদি বেছে নিন।

ফেরা
দেবদত্ত পুরোহিত
চাকরিতে অবসর গ্রহণের পরের দিনই সরকারি বাংলো ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে উঠে এলাম। আরও কিছুদিন থাকা যেত, কিন্তু আমি ভাবলাম সরকারি বাসস্থানে থাকলে অন্যদের কাজে কর্মে ব্যস্ত জীবন দেখে মনের মধ্যে নৈরাশ্যবাদ বাসা বাঁধতে পারে। তাই অবিলম্বে ছোট একটি ভাড়া বাড়িতে উঠে গেলাম।
এই নতুন পাড়ায় আসার পর থেকেই বাড়ির কাছের ছোট ত্রিভুজাকৃতি “শ্রীলঙ্কা পার্ক”-এ কয়েকজন পেনশনভোগীদের আড্ডায় আমিও অবিলম্বে স্থান করে নিলাম। কী করে যে পার্কটির নাম “শ্রীলঙ্কা-পার্ক” হয়ে গেল আমি জানি না। কিন্তু এখন শুধু এ পাড়ায় নয় এই শহরের প্রায় সবাই জানে “লঙ্কা পার্কের” নাম— এমনকি পোস্ট অফিসের ঠিকানাতেও লেখে, “লঙ্কা পার্ক”। আসলে নাকি এই পার্কের (তখন পার্ক ছিল না) স্থানে একটি ভূগোলের “শ্রীলঙ্কা” দ্বীপ আকারের বড় পুকুর ছিল। কালক্রমে সেই পুকুর মজে-হজে গিয়ে এই পার্কের জমি তৈরি হয়ে গেল; পরে স্থানীয় মিউনিসিপালিটি এখানে শুধু বয়স্কদের জন্য একটি পার্ক বানিয়ে দিয়েছেন। যদিও কিছু বালখিল্য “শচীন তেন্ডুলকার” ব্যাট-বল হাতে নিয়ে হাজির হয়ে দারোয়ানের তাড়া খেয়ে চলে যায়। তবে পার্কের এক নির্জন কোনে “সিনিয়র”দের জন্য ইংরেজি ‘ইউ’ অক্ষরের ন্যায় সাজানো তিনটি বেঞ্চ সকলেই সম্ভ্রমের সঙ্গে ‘অনধিকার’ মেনে ছেড়ে দেয়। চকখড়ি দিয়ে আবার কে যেন অপটু হাতে লিখেও দিয়েছে— “দাদু-দিদা স্পেশাল”। সরকারি বাংলো এলাকায় এ সুবিধে ছিল না; খালি একচিলতে ঝুলানো বারান্দায় বসে নিচের রাস্তায় চলমান বিভিন্ন জাতের বাহনের মিছিল দেখাই ছিল একমাত্র নিশুল্ক মনোরঞ্জনের উপায়, তাই আজকাল রঙ-ধোওয়া বিকালেই এসে হাজির হই আমরা ক’জন এই লঙ্কা পার্কে। আমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ বসন্ত-দা ওরফে বসন্ত সামন্ত সবার আগে এসে আসর সাজিয়ে বসেন। আশি ছুঁই ছুঁই অকৃতদার বসন্ত-দা রোজই আসরের জন্য ঝালমুড়ি, চানাচুর, মশলা-দেওয়া চিনে বাদাম ইত্যাদি নিয়ে আসেন। কেবল এক কাপ গরম গরম চায়েরই ছিল অভাব। আমরা আপত্তি করলে প্রাণখোলা হাসি হেসে বলেন, “আরে ভাই, পেনশনের টাকাগুলো খরচ না করলে মরার পর আবার যে সরকারের কাছেই ফেরত চলে যাবে।”

আমাদের মধ্যে কনিষ্ঠ সুশোভন হালদার জানতে চাইল, “সেটা আবার কীভাবে হবে বসন্ত-দা?”
“আরে ভাই, আমার তো তিন কুলে বাতি দেবার কেউ নেই, টাকাগুলো ব্যাংকে পড়ে থাকলে আমার মরার পরে আনক্লেইমড ফান্ড হিসাবে সরকারের কাছে চলে যাবে না?” বলেই নিজের ঠাট্টায় হো হো করে হেসে উঠলেন।
এসব শুনতে আমাদের ভাল লাগে না— সবাই একসঙ্গে আপত্তি জানাই, “সে দিনের এখনও দেরি আছে দাদা, এখন থাক না ওসব।”
“বেশ, থাক তাহলে— তোমাদের যখন ভাল লাগছে না শুনতে”, বলে ঝালমুড়ি অথবা চানাচুরের প্যাকেট এগিয়ে দেন বসন্ত-দা। এহেন বসন্ত-দাকে এ-অঞ্চলের প্রায় সকলেই চেনেন, কেবল আমার মত নবাগতরাই ওঁর সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানে না। পোস্ট-অফিসের পোস্টম্যানও বাড়ি খুঁজতে অসুবিধায় পড়লে বসন্ত-দার শরণাপন্ন হয়।
কারণ আমি চায়ের কেবল ভক্ত নই, নেশাগ্রস্তও, তাই আমি একটা নতুন ব্যবস্থা চালু করলাম। বসন্ত-দা তো এটা ওটা টুকটাক খাবার নিয়েই আসেন, আমরা একেক দিন ফ্লাস্কে করে চা নিয়ে আসব— তাতে করে ‘টা’-এর সঙ্গে ‘চা’-এর অভাবও দূর হয়ে যাবে। প্রস্তাবটা সবার মনমত হল— সবাইকে ফ্লাস্ক কিনতে হবে না, একটা ফ্লাস্কই হাতে হাতে ঘুরতে থাকবে।
অন্য দিনের মত আজও পড়ন্ত বিকালে আমরা ক’জন জুটেছিলাম শ্রীলঙ্কা পার্কের নির্জন কোনে। কোনে হলেও ত্রিভুজাকৃতি পার্কের ‘ভার্টেক্স’ বা শীর্ষবিন্দুতে থাকায় আমাদের বেঞ্চগুলি থেকে শুধু পার্কেরই নয় দু’ধারের রাস্তারও পুরো দৃশ্য দেখা যেত। আসর বেশ জমে উঠেছিল, এমন সময় পার্কের লাগোয়া মেটে রঙের পুরানো আমলের দোতলা বাড়িটা থেকে এক সম্পূর্ণ শুভ্রকেশ, দীর্ঘদেহী অভিজাত সুপুরুষ, হাতে একটি সৌখিন ছড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে এলেন। আমাদের দিকে নজর পড়তেই ভদ্রলোক ছড়ি-সহ দু’হাত তুলে আমাদের প্রতি নমস্কার জানালেন। একগাল হেসে বসন্ত-দা সেদিকে চেয়ে মাথা হেলিয়ে ইশারা করলেন, “সব ভালো তো?”

ভদ্রলোক স্মিত হেসে বিনীতভাবে হাত জোড় করে ঘাড় হেলিয়ে কুশল জানিয়ে রাস্তায় এগিয়ে চললেন। আগেও কয়েকবার দেখেছি ভদ্রলোককে এইভাবে চলে যেতে: পরনে কোঁচানো ধবধবে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, হাতে একটি দামী পাহাড়ি ছড়ি। ছড়িটির ব্যবহারিক প্রয়োজন কম কিন্তু সৌখীন-মেজাজ আর আভিজাত্যের পরিচায়ক বেশি। প্রায় দু’ঘণ্টা পরে আমাদের আড্ডা যখন তুঙ্গে তখনই ভদ্রলোক ফিরে আসেন আর আমাদের অগোচরেই ওঁর বাড়িতে ফিরে যান। অতএব আমাদের মধ্যে অনেকেই রহস্যময় মানুষটির ফিরে আসাটা দেখতে পান না।
ভদ্রতার খাতিরে কখনও বসন্ত-দাকে জিজ্ঞেস করার সাহস হয়নি। সবাই ভেবেছি একদিন বসন্ত-দা নিজেই এই রহস্যের পর্দা তুলবেন।
সেদিন সন্ধ্যায় কী একটা সামাজিক অনুষ্ঠান থাকায় তাড়াতাড়ি আড্ডা ভেঙে গেল। কেবল আমি আর বসন্ত-দা রয়ে গেলাম। কী হল জানি না, আমার মাথায় যেন ভূত চেপে গেল— ঠিক করলাম আজ বসন্ত-দার মুখ খুলিয়েই ছাড়ব। ওই রহস্যময় মানুষটি সম্বন্ধে কিছু জানতেই হবে। তাই আড্ডা শেষে সবাই বিদায় নেবার পরেও আমি এটা-ওটা কথা বলে টিকে রইলাম। শেষে সুযোগ বুঝে কথাটা পাড়লাম, “আচ্ছা দাদা, একটা কথা অনেকদিন ধরেই মনে পুষে রেখেছি অথচ আপনাকে জিজ্ঞেস করার সাহস করে উঠতে পারছি না।”
স্বভাবসুলভ একগাল হেসে বললেন বসন্ত-দা, “কি এমন কথা যেটা আমাকে জিজ্ঞেস করতে পাচ্ছ না আর তাতে মনে অস্বস্তি বোধ করছ? আমার জীবনটা তো পাড়ার লাইব্রেরির একটা খোলা বই ভাই, যে কেউ পড়ে নিতে পারে।”
আমি একটু গম্ভীর হয়ে বললাম, “না না দাদা, আপনার কথা নয়, আমি ভাবছিলাম ওই ভদ্রলোকের কথা”, বলে আমি আঙুল দিয়ে আলোকিত দোতলা বাড়িটা দেখিয়ে দিলাম।
আমার কথার তক্ষুনি কোন জবাব না দিয়ে বসন্ত-দা একটু যেন গম্ভীর আর ভাবাবিষ্ট হয়ে ওই বাড়িটার দিকেই তাকিয়ে রইলেন।

নিজেকে সামান্য অপরাধী মনে হতে লাগল। মনে হল, না জেনে হয়ত বসন্ত-দার মনের কোন গোপন স্থানে আঘাত করে ফেলেছি। ম্লানমুখে তাই বললাম, “না না, বসন্ত-দা কোন ব্যাপার নয়, অসুবিধা থাকলে আপনাকে কিছু ---”
আমাকে বলতে না দিয়ে বসন্ত-দা স্মিত হেসে খুব লঘুস্বরে বলে উঠলেন, “আরে না না ভাই তেমন কিছু ব্যাপার নয়; আমি ভাবছি কোথা থেকে শুরু করব, মানে, কোথা থেকে শুরু করলে তোমার মনে হবে না আমি কোন গল্প-উপন্যাসের কাহিনী শোনাচ্ছি।”
আমি ওর ইতস্তত ভাবের কারণ বুঝতে পেরে সামান্য হেসে বললাম, “দাদা, আপনার যেখান থেকে খুশি বলুন।”
এবার বসন্ত-দা আর ইতস্তত করলেন না। শুরু করলেন, “এ পাড়ার আদি ও বনেদি পরিবার দত্ত চৌধুরী বংশের একমাত্র ওয়ারিশ জমিদার শঙ্কর নারায়ণ দত্ত চৌধুরী কেবল নামেই জমিদার রয়ে গেছেন, ঘাটে ঘটিও ডুবত না। তাই জমিদারী নাম বর্জন করে ছেলের নাম রেখেছিলেন অলিন্দ। জমিদারীর আয় না থাকলেও বাপ-ঠাকুরদার আমলের জমি-জমা থেকে আয় কম হত না। শঙ্কর নারায়ণের পরমাসুন্দরী স্ত্রী সুরবালা কম বয়সেই তখনকার দিনে দুরারোগ্য রোগে মারা যান। মাথায় অসম্ভব ব্যথা হত, পরে জানা গিয়েছিল ওঁর ঘাড়ের নিচে শিরদাঁড়ায় নাকি টিউমার হয়েছিল। মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে উনি মারা যান। অলিন্দ তখন মাত্র সাত বছরের বালক।”
একটু থেমে আবার শুরু করলেন বসন্ত-দা, “অলিন্দ পড়াশুনোয় আর খেলা-ধুলোয় দুইতেই ছিল তুখোড়। স্কুলে ওর খেলার সাথী অনেক থাকলেও পাড়ায় কিন্তু ওর একমাত্র সাথী ছিল পাঁচ বছরের ছোট ‘খেয়া’— ওর ঠাকুরদার আমলের জমিদারীর সরকার অনিল সরখেল-এর নাতনি। দুই কিশোর-কিশোরীর স্নেহ-ভালবাসা ছিল অপরিসীম। ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠেই ওরা ফুল-ফল কুড়োতে ছুটত দত্ত পুকুরে। এককালে এই দত্তপুকুর দত্ত চৌধুরী পরিবারেরই সম্পত্তি ছিল। বড় দীঘি আর চারপাশে নানা জাতের ফল ও ফুলের বাগান। দীঘির পাড়ে একটি বড় আমলকীর গাছ ছাড়াও ছিল আম, জাম, কয়েতবেল, কুল, নারকেল আর তালের গাছ। দুই কিশোর-কিশোরীর ‘নেশা’ যেন ছিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই ওখানে দৌড়ান আর ফল-ফুল দিয়ে কোঁচড় ভরা। কুড়ানো ফুল-ফল কিন্তু দুজনের কেউই বাড়ি নিয়ে যেত না—ফেরার পথে সেগুলো বিলিয়ে দিয়ে খালি হাতেই ফিরত। সব সময়েই ওদের একসঙ্গে দেখা যেত। সবাই তাই আদর করে ওদের ডাকতো, “খেয়া-অলি জুটি”। সেটাই ক্রমে ক্রমে লোকের মুখে হয়ে দাঁড়ালো “খেয়ালী”-জুটি।”
একনাগাড়ে অনেকক্ষণ বলে বসন্ত-দা এবার থামলেন। ওনার কাঁধের ব্যাগ থেকে ছোট জলের বোতলটি বের করে কয়েক ঢোক জল খেয়ে নিয়ে আমাকেও ইশারা করলেন; আমি মাথা নেড়ে ‘না’ করলাম। আমার তখন জলের তৃষ্ণা ছেড়ে গল্পের নেশা ধরে গেছে। স্মিত হেসে পাঞ্জাবির আস্তিনে মুখ মুছে আবার শুরু করলেন, “স্কুলের পড়া শেষ হতেই শঙ্কর নারায়ণ ছেলেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিলেত পাঠিয়ে দিলেন। ওখানেই থাকাকালীন অলিন্দ ঠিক করলো সে বড় ডাক্তারি পড়বে আর তার মা যে রোগে মারা গেছেন সেই রোগেরই চিকিৎসক হবে। ওদিকে অলিন্দ বিলেত চলে যাওয়ার পর খেয়া যেন কেমন হয়ে গেল। তাকে কেউ আর বাইরেই দেখতে পেত না। শুধু খুব কাছের মানুষগুলি ওকে দেখতে পেল ওর বিয়ের রাতে। পরের দিন পরমাসুন্দরী খেয়া গ্রাম ছেড়ে স্বামীর ঘর করতে চলে গেল সুদূর নিউজিল্যান্ড।”

বসন্ত-দা এবার থেমে গেলেন, আর যেন কোন গল্পই বাকি নেই। আমি রাস্তার ল্যাম্প-পোস্টের স্বল্প আলোতে উন্মুখ হয়ে ওঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
নামি নিউরোসার্জন হয়ে ১৬ বছর পরে দেশে ফিরে এলো অলি। ততদিনে শঙ্কর নারায়ণ মারা গেছেন। দেশে এসেও কত যে মানুষকে বাঁচিয়েছেন তার সীমা-সংখ্যা নেই। প্রথমে কলকাতার বড় হাসপাতালে, পরে নিজেই নার্সিং হোম খুলে কম খরচে ওই রোগের চিকিৎসা আর প্রয়োজনে অপারেশন করত।
এতটা বলে বসন্ত-দা চুপ করে গেলেন, যেন আর কোন গল্পই নেই। আমিও ওঁর মুখের দিকে চেয়ে চুপ করে রইলাম।
পরে আবার একটু জল খেয়ে শুরু করলেন, “সবই ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু হঠাৎ একদিন পরেশ দাস, যে ছিলেন ও বাড়ির আত্মা, সুরবালার মৃত্যুর পরও সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল যার জন্য, সেই পরেশ দাস অসুস্থ হয়ে পড়ল। ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা গেল ওর মাথার পিছনে একটি টিউমার বাসা বেঁধেছে। হয়েছিল অনেক দিনই, কিন্তু বলেনি। অলিন্দ হেসে বলল, “আরে ভয় কিসের, পরেশ-দা, অমন টিউমার আমি প্রতিদিন চারটে বের করে আনি; তোমারটা তো আমি দু’ঘণ্টার মধ্যে বের করে আনব।”
বসন্ত-দা আবার চুপ করে গেলেন।
“তুমি তো জান কি সূক্ষ্ম কাজ এটি—একটি ছোট নার্ভ কেটে গেলে রুগী জীবনের মত পঙ্গু হয়ে যাবে।”
আমি সম্মতি সূচক ঘাড় নেড়ে দিলাম।
“ভগবানের কি ইচ্ছা ছিল জানিনা, ঠিক ওই দিনই জীবনে প্রথমবার হাত কেঁপে গেল অলিন্দের। সহকারী ডাক্তার-নার্সরা দেখল, টিউমার ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও আর কিছু করতে পারল না অলিন্দ। পরেশ জীবনের মত পঙ্গু হয়ে গেল, আজও বিছানায় শুয়ে। অলিন্দই এখন ওর সেবা করে। তারপর দিন থেকে এত বড় সার্জেন আর ছুরি হাতে নেয়নি। পরিবর্তে হাতে তুলে নিলো পরেশের সেবা আর আঁকার ব্রাশ-তুলি।”
এবার বসন্ত-দা একেবারেই চুপ হয়ে গেলেন।
অনেক পরে গভীর রাতের পাতা ঝরার স্বরে বললেন, “শুধু একবার ওর লাইব্রেরিতে উঁকি মারার সুযোগ এসেছিল আমার: সমস্ত দেওয়াল জুড়ে শুধু একটি মানুষের মুখ। সেই মানুষটির বাল্য, কৈশোর, যৌবন, পড়ন্ত-যৌবন, বার্ধক্যের মুখের ছবি। বয়সের সঙ্গে মানুষের মুখের কি পরিবর্তন হয় তার হুবহু বর্ণনা করে আঁকা ওই ছবিগুলো। ছবিগুলো ভিন্ন কিন্তু মুখটি একটি; একই মানুষের মুখ কিভাবে পরিবর্তিত হয় বয়সের সঙ্গে। অপূর্ব সুন্দর আর নিখুঁত সে সব ছবি। সে মুখটি কার জান?”
গল্পের মাঝেই বসন্ত-দার প্রশ্নে আমি অবাক হয়ে ওঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম আর আমার অজান্তেই বাঁয়ে-ডায়ে মাথা ঘোরালাম, “কার দাদা?”
মুহূর্ত-কাল থেমে বসন্ত-দা ম্লান হেসে বললেন, “সে মুখ, অলিন্দের বাল্য-কৈশোরের সাথী খেয়ার।”
আমি অবাক হয়ে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম।
সন্ধ্যার ছায়া-ছায়া অন্ধকার মিলিয়ে গিয়ে জোনাকি-জ্বলা রাত হয়েছিল। আমরা দু’জন ছাড়া আর কেউ ছিল না, আর এরপর অন্য গল্প জমবার কথাও হয় না। তাই ভাবছিলাম এবার উঠে পড়ব, ঠিক সেই সময় একটা বকের মত সাদা বড় গাড়ি যেন বড় ডানা মেলে এসে থামল রাস্তার উপর। আমরা দু’জনে একটু অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইলাম। এই রাস্তায় সাধারণত খুব বেশি গাড়ি চলাচল করে না, বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে। যে লোকটি চালাচ্ছিল সে বেরিয়ে এসে পিছনের দরজা খুলে ঘাড় বেঁকিয়ে কিছু বলতেই এক সাদা-কালো চুল মাথার মহিলা বেরিয়ে এলেন। ভদ্রমহিলা শাড়ি সামলে, মাথার এলো-মেলো চুলগুলোকে সামান্য বিন্যস্ত করে নিয়ে চোখের চশমাটা ঠিক করে নিলেন। রাস্তার কম-পাওয়ারের হলদে আলোতে একবার চারদিক পরখ করে নিলেন। মনে হল কারও বাড়ি খুঁজছেন। এ অঞ্চলে তো বাড়ির নম্বর দেওয়া নেই, তাই বুঝি বুঝতে পারছেন না। রাস্তায় আর কোন লোক না থাকায় আমি ভাবছিলাম এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করব কিনা, কার বাড়ি খুঁজছেন। আমি না জানলেও বসন্ত-দা নিশ্চয়ই জানবেন। সেই সময়েই ড্রাইভার ভদ্রলোক আমাদের পানে এগিয়ে এসে বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করলেন, “স্যার, এখানে দত্ত পুকুর বলে জায়গাটা কোথায় হবে, বলতে পারেন?”

আমি লোকটিকে যখন জরিপ করছিলাম, ততক্ষণে বসন্ত-দা উঠে দাঁড়িয়েছেন, “দত্ত-পুকুরে কোথায় যাবেন ভাই?” ততক্ষণে ভদ্রমহিলাও এগিয়ে এসেছেন আমাদের পানে। রাস্তার আলো ওঁর পিছনে থাকায় মুখটা পরিষ্কার দেখা গেল না, কিন্তু এটুকু বুঝতে অসুবিধা হল না যে মহিলা বেশ সম্ভ্রান্ত ঘরের।
বসন্ত-দা এগিয়ে এসে চোখের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত করে বলে উঠলেন, “দত্ত-পুকুর তো এখন নেই, মজে-হেজে গিয়ে ছোট একটি ডোবা মতন হয়ে গেছে। ক্ষমা করবেন মা, আমি বৃদ্ধ মানুষ, তাই রাস্তার আলোও কম দেখছি। তোমার মুখটি কিন্তু চেনা লাগছে। তুমি কি ‘খেয়ালী’র খেয়া? অলিন্দকে খুঁজছ?”
হঠাৎ যেন আকাশ ফেটে বজ পড়ল। রাস্তার ফিকে আলোতে ভদ্রমহিলা অপলক দৃষ্টিতে বসন্ত-দার দিকে তাকিয়ে রইল। মুখ দিয়ে কোন কথা বের হলো না। পরে ক্ষীণ-কণ্ঠে বলে উঠলেন, “হ্যাঁ, কিন্তু—”
এবার বসন্ত-দা স্বভাবসিদ্ধ একগাল হেসে বললেন, “মা, আমাকে তুমি চিনতে পারবেন না, আমি কিন্তু তোমাকে চিনেছি।”
“কি করে চিনলেন? আমি তো পঁয়ত্রিশ বছর পরে এলাম দেশে।”
মুচকি হেসে বসন্ত-দা খুব ধীরে ধীরে বলে উঠলেন, “যে মানুষটা প্রতিদিন তোমাকে দেখে আর তার ঘরে সাজিয়ে রাখে তার আঁকা ছবিতে, সেখানেই তোমাকে দেখেছি খেয়া।”
“কে সে?” অবাক চোখে প্রশ্ন করলেন মহিলা।
“এই বিরাট পৃথিবীতে সে যে একটি মানুষই আছে, সে তোমার বাল্য-কৈশোরের সাথী: অলিন্দ। অলিন্দ দত্ত চৌধুরী।”
“অলিন্দ, অলিদা!! কোথায় কোথায় পাব তাকে? আমি যে তার খোঁজেই এসেছি?” কিছুটা আকুল হয়ে প্রশ্ন করলেন মহিলা।
বসন্ত-দা স্মিত হেসে মাথা দুলিয়ে বললেন, “আমি জানি, তুমি ছাড়া আর কে করবে তার খোঁজ? সেও যে তোমারই ফেরার অপেক্ষায় জীবন কাটিয়ে দিল।”
তারপর হাত বাড়িয়ে মেটে রঙের দোতলা বাড়ির আলোকিত জানালার দিকে আঙুল দেখিয়ে বসন্ত-দা বললেন, “ওই দেখ, তোমার অলি ছবি আঁকছে, ওর ঘরেই তো আমি আজকের তোমাকে দেখেছি।”
বসন্ত-দার কথা শেষ হবার আগেই খেয়া দৌড়াতে আরম্ভ করেছিল মেটে রঙের দোতলা বাড়িটার দিকে। সেদিকে তাকিয়ে আমিও ম্লান হেসে বলে উঠলাম, “চলুন দাদা, এবার আমরাও যাই।”
“হ্যাঁ, চল ভাই, এতদিনে আমারও পথ দেখা শেষ হলো, আমি জানতাম খেয়া একদিন না একদিন ফিরবেই তার অলির কাছে।”
আমি আলোকিত দোতলা বাড়ির জানালার দিকে তাকাতে তাকাতে বসন্তদার হাত ধরে নির্জন পিচের রাস্তায় নেমে এলাম।








Comments