top of page
Search

বসন্ত পঞ্চমী স্পেশ্যাল ১৫ টি ভোগের রেসিপি

হাতে আর কয়েকটা দিন, বাগদেবীর আরাধনায় মাতবেন সবাই। বাকি প্রস্তুতির পাশাপাশি কি কি ভোগ রাঁধবেন তারজন্য সঠিক পরিকল্পনাও তো হওয়া চাই। মুশকিল আসান করতে হাজির রোজকার অনন্যা পরিবারের সদস্যারা। এবারের প্রতিবেদনে রইলো ১৫ টি সাবেকি ভোগের রেসিপি। সংকলন - সুস্মিতা মিত্র


প্রচ্ছদ ছবি - রক্তিমা কুন্ডু

_____________________________________________

সুপর্না মন্ডল

লুচি, আলুর বাটি চচ্চড়ি

কি কি লাগবে

ময়দা ৫০০ গ্রাম, নুন চিনি স্বাদমতো, ঘি ২ টেবিল চামচ, সাদা তেল ভাজার জন্য

বাটি চচ্চড়ির জন্য: ছোট ডুমো করে কাটা আলু ৫০০ গ্রাম, কালোজিরা ১/২ চা চামচ, নুন চিনি স্বাদ মতো, চেরা কাঁচা লঙ্কা ২টি, সাদা তেল ২ টেবিল চামচ, জল পরিমাণ মতো।



কিভাবে বানাবেন

ময়দা, নুন চিনি ঘি দিয়ে ময়ান দিয়ে পরিমাণ মতো জল দিয়ে মেখে রাখুন একঘন্টা। লেচি কেটে বেলে ডুবো তেলে ভেজে নিন।

বাটি চচ্চড়ির জন্য আলু সেদ্ধ করে নিন। তেল গরম করে কালোজিরা কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিয়ে সেদ্ধ আলু, নুন, চিনি দিয়ে নেড়ে বেশ মাখামাখা হলে নামিয়ে নিন।


বাসন্তী পোলাও

কি কি লাগবে

গোবিন্দ ভোগ চাল ৫০০ গ্রাম, কেশর পরিমাণ মতো, দুধ ১ কাপ, নুন চিনি স্বাদমতো, গরমমশলা গুঁড়ো ১ চা চামচ, ঘি ৪ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম কিশমিশ, তেজপাতা ২ টি।



কিভাবে বানাবেন

চাল ভিজিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এর মধ্যে ঘি, নুন, গরমমশলা গুঁড়ো মেখে নিন। ঘি গরম করে তেজপাতা দিয়ে চাল ঢেলে নাড়তে থাকুন। পরিমাণ মতো গরম জল দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। কেশর গরম দুধে ভিজিয়ে ঢেলে দিন। কাজুবাদাম কিশমিশ ও চিনি মিশিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন। আলুর দমের সাথে ভালো লাগবে।

_________________________



মৌমিতা মুখার্জি

নারকেল ছাপা


কি কি লাগবে

নারকেল কোরা ২ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ১/২ কাপ, চিনি অথবা গুড় পরিমাণ মতো, এলাচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, কর্পূর সামান্য।



কিভাবে বানাবেন নারকেল কোরা শিলনোড়ায় বেটে নিন। কড়াইতে ঘি দিয়ে একে একে বাটা নারকেল, চিনি অথবা গুড়, এলাচ গুঁড়ো দিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। নামিয়ে কর্পূর মিশিয়ে ঘি মাখানো ছাঁচে ফেলে তক্তিগুলো বানিয়ে নিন। তিলের নাড়ু

কি কি লাগবে সাদা তিল ২০০ গ্রাম, আখের গুড় ২০০ গ্রাম, জল ১/২ কাপ, ঘি ১ চামচ

কিভাবে বানাবেন তিল পরিষ্কার করে ভেজে নিন। এবার প্যানে জল দিয়ে তাতে গুড় দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ওর মধ্যে ভাজা তিল দিয়ে নাড়তে থাকুন। ভালো ভাবে পাক হলে ২ মিনিট পর নামিয়ে নিন। এবার ঠান্ডা হলে হাতে ঘি মাখিয়ে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। হাতে গোল্লা পাকিয়ে বানিয়ে নিন নাড়ু। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন। প্রয়োজনে বাদাম গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিতে পারেন। সাবুর খিচুড়ি

কি কি লাগবে সাবু ১০০ গ্রাম, মুগডাল ৫০ গ্রাম, লেবুর রস ১ চা চামচ, কাঁচালঙ্কা কুচি ১ চা চামচ, গোটা সরষে, কারিপাতা, শুকনো লঙ্কা, নুন চিনি পরিমাণমতো, ঘি ১ টেবিল চামচ, রোস্টেড বাদাম একমুঠো, কিউব করে কাটা আলু ১ কাপ।

কিভাবে বানাবেন প্রথমে সাবু ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। মুগডাল ভেজে তুলে নিন। তেলে সরষে কারিপাতা ফোড়ন দিয়ে কুচোনো আলু দিয়ে ভাজুন। মুগডাল, সাবু, নুন, কাঁচালঙ্কা কুচি নেড়েচেড়ে অল্প জল দিয়ে ধিমে আঁচে ঢেকে রান্না করুন। সেদ্ধ হয়ে ঝরঝরে হলে লেবুর রস, রোস্টেড বাদাম মিশিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

____________________________


মৌমিতা মিত্র

নতুন গুড়ের পায়েস

কি কি লাগবে দুধ ১ লিটার, গোবিন্দভোগ চাল ১০০ গ্ৰাম, খেজুর গুড়ের পাটালি ২৫০ গ্ৰাম, ঘি ১ টেবিল চামচ, তেজপাতা ১ টি, এলাচ ২ টি, কাজুবাদাম ও কিশমিশ এক মুঠো

কিভাবে বানাবেন একটু গভীর পাত্রে দুধ হালকা আঁচে জ্বাল দিয়ে ঘন করুন৷ গরম করার সময় অনবরত নাড়তে থাকুন হাতা দিয়ে। অন্য একটি কড়াইতে এক টেবিল চামচ ঘি গরম করে তাতে তেজপাতা আর এলাচ থেঁতো অল্প করে নেড়ে দুধে ঢেলে ফুটতে দিন। চাল ধুয়ে দিয়ে নেড়ে সেদ্ধ হলে খেজুর গুড় দিন। পায়েস হয়ে গেছে বুঝলে কাজুবাদাম কিশমিশ মিশিয়ে নামিয়ে নিন।

মালপোয়া

কি কি লাগবে ময়দা ২০০ গ্রাম, সুজি ৫০ গ্রাম, দুধ পরিমাণ মতো, চিনি ১/২ কাপ, নুন এক চিমটি, মৌরি ১ চা চামচ, কাজুবাদাম গুঁড়ো করা ১/২ কাপ, ভাজার জন্য সাদা তেল।

কিভাবে বানাবেন সুজি দুধে ভিজিয়ে রাখুন একঘন্টা। ওর মধ্যে ময়দা, চিনি, গুঁড়ো বাদাম, মৌরি, নুন মিশিয়ে ফেটিয়ে নিন। তেল ভালো করে গরম হলে এক হাতা করে এই মিশ্রন দিয়ে ভেজে তুলে নিন। চিনির নাড়ু

কি কি লাগবে নারকেল কোরা ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি ১+১ টেবিল চামচ, খোয়া ক্ষীর ১ কাপ, এলাচ গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ।

কিভাবে বানাবেন একটি কড়াইতে নারকেল কোরা, চিনি, ঘি একসাথে চটকে মেখে নিন। চিনি গলে গেলে আঁচে বসিয়ে অল্প আঁচে সমানে নাড়তে থাকুন। পাক এসে গেলে খোয়া ক্ষীর আর আর এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে অল্প ঠান্ডা হলে হাতে ঘি মেখে নাড়ু গুলো বানিয়ে নিন।

__________________________________


সুস্মিতা চক্রবর্তী

সবজি দিয়ে মিষ্টি পোলাও


কি কি লাগবে

বাসমতি চাল ২৫০ গ্রাম, কুচোনো সবজি( গাজর, বিনস, মটরশুটি, ফুলকপি), নুন চিনি স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, সাদা তেল ২ টেবিল চামচ, গোটা গরম মশলা তেজপাতা ফোড়নের জন্য, কাজুবাদাম কিশমিশ।


কিভাবে বানাবেন

চাল ভিজিয়ে রেখে জল ঝরিয়ে নিন। তেল গরম করে গোটা গরম মশলা তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে সব সবজি, নুন, হলুদ গুঁড়ো দিয়ে ভাজুন। এবার ওর মধ্যে চাল দিয়ে নেড়েচেড়ে পরিমাণ মতো গরম জল দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।‌‌‌ চাল সেদ্ধ হলে চিনি, ঘি, কাজুবাদাম কিশমিশ মিশিয়ে নামিয়ে নিন।


পালং পাতার পকোরা

কি কি লাগবে

গোটা পালং পাতা ১০ টি, বেসন ১ কাপ, চালের গুঁড়ো ১/২ কাপ, নুন স্বাদ মতো, হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, কালোজিরা ১/৪ চা চামচ, জোয়ান ১/৪ চা চামচ, খাবার সোডা ১/৪ চা চামচ, সাদা তেল ভাজার জন্য।


কিভাবে বানাবেন

পালং পাতা আর তেল বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণ মতো ঠাণ্ডা জল দিয়ে ঘন মিশ্রন বানিয়ে নিন। তেল গরম করে গোটা পালং পাতা এক এক করে ঐ মিশ্রনে ডুবিয়ে মুচমুচে করে ভেজে তুলে নিন।

কড়াইশুঁটির ধোঁকার ডালনা

কি কি লাগবে

ধোঁকার জন্য

কড়াইশুঁটি বাটা ২ কাপ, নুন চিনি স্বাদমতো, হিং ১/২ চা চামচ, আদাবাটা ১ চা চামচ, পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ, কাঁচালঙ্কা বাটা ১/২ চা চামচ।

ঝোলের জন্য

আদাবাটা ১ চা চামচ, হিং ১/২ চা চামচ, নুন চিনি স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো ১চা চামচ, লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ চা চামচ, টমেটো বাটা ২ টেবিল চামচ, গোটা গরম মশলা ফোড়নের জন্য, তেজপাতা ১টা, গরমমশলা গুঁড়ো ১ চা চামচ, পরিমাণ মতো সরষের তেল, ঘি ২ টেবিল চামচ।


কিভাবে বানাবেন

অল্প তেল গরম করে হিং, আদাবাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা, পাঁচফোড়ন দিয়ে অল্প নেড়ে কড়াইশুটি বাটা, নুন, চিনি দিয়ে ভাজুন। একদম শুকনো হয়ে কড়াই এর গা ছেড়ে এলে তেল মাখানো থালাতে সমান ভাবে ছড়িয়ে দিন। ঠাণ্ডা হলে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ডুবো তেলে ভেজে তুলে রাখুন।

এবার তেল কমিয়ে তেজপাতা, গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিয়ে একে একে আদাবাটা, হিং, লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, নুন, চিনি, টমেটো বাটা দিয়ে অল্প আঁচে কষুন। পরিমাণ মতো জল দিয়ে ফুটতে শুরু করলে ভাজা ধোঁকা দিয়ে ওপর থেকে ঘি গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। _____________________________________




ছন্দা গুহ

ভোগের খিচুড়ি


কি কি লাগবে

গোবিন্দ ভোগ চাল ২৫০ গ্রাম, সোনামুগডাল ২৫০ গ্রাম, নুন চিনি স্বাদ মতো, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, চেরা কাঁচালঙ্কা ৩-৪ টি, কাজুবাদাম কিশমিশ, সরষের তেল ৪ টেবিল চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ২ চা চামচ, গরমমশলা তেজপাতা ফোড়নের জন্য।


কিভাবে বানাবেন

মুগডাল ভেজে ধুয়ে সেদ্ধ করে নিন। জল গরম হলে চাল, সেদ্ধ মুগডাল, নুন, হলুদ গুঁড়ো, চেরা কাঁচালঙ্কা ফুটে সেদ্ধ হতে দিন। অন্য একটি কড়াতে তেল গরম করে গোটা গরম মশলা তেজপাতা আদাবাটা দিয়ে নেড়েচেড়ে খিচুড়ির মধ্যে ঢেলে দিন। কাজুবাদাম কিশমিশ আর ঘি মিশিয়ে নামিয়ে নিন। বেগুনী ও চাটনির সাথে পরিবেশন করুন।

সবজির খিচুড়ি


কি কি লাগবে

গোবিন্দ ভোগ চাল ২৫০ গ্রাম, মুগডাল ২৫০ গ্রাম, সবজি( ফুলকপি, গাজর, বিনস, কড়াইশুটি, টমেটো), নুন চিনি স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, আদাবাটা ১ চা চামচ, সাদা জিরে তেজপাতা শুকনো লঙ্কা ফোড়নের জন্য, সরষের তেল ৪ টেবিল চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, গরমমশলা গুঁড়ো ১ চা চামচ, কাজুবাদাম কিশমিশ।


কিভাবে বানাবেন

পেতলের হাড়িতে তেল গরম করে গোটা জিরে তেজপাতা শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে আদাবাটা আর মুগডাল ভাজুন। ওর মধ্যে জল ঢেলে ফুটতে দিন। ডাল সেদ্ধ হলে ধুয়ে জল ঝরানো গোবিন্দ ভোগ চাল, নুন, হলুদ, চেরা কাঁচালঙ্কা, সব সবজি দিয়ে ফুটতে দিন। হয়ে গেছে বুঝলে চিনি, ঘি, গরমমশলা গুঁড়ো, কাজুবাদাম কিশমিশ মিশিয়ে নামিয়ে নিন।


শাহী পায়েস


কি কি লাগবে

গোবিন্দ ভোগ চাল ১ কাপ, দুধ ২ কেজি, চিনি স্বাদমতো, নুন এক চিমটি, খোয়া ক্ষীর ২০০ গ্রাম, ঘি ২+১ টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, ড্রাই ফ্রুটস, কেশর।


কিভাবে বানাবেন

দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। চালের সাথে ১ টেবিল চামচ ঘি মেখে ওর মধ্যে দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। নুন, চিনি আর গ্রেট করা খোয়া ক্ষীর দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। অন্য একটি প্যানে ঘি গরম করে ড্রাই ফ্রুটস হালকা ভেজে ওর মধ্যে মেশান। এলাচ গুঁড়ো আর কেশর মিশিয়ে ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।


ইন্সট্যান্ট জিলিপি


কি কি লাগবে

ময়দা ২ কাপ, ইনো ১ প্যাকেট, নুন ১ চিমটি, খাবার রং (ঐচ্ছিক), চিনি ৩ কাপ, জল ৩ কাপ, থেঁতো করা এলাচ ২ টি, ভাজার জন্য সাদা তেল।


কিভাবে বানাবেন

চিনি জল আর এলাচ ফুটিয়ে ঘন রস বানিয়ে নিন। একটি পাত্রে ময়দা, নুন, ইনো, খাবার রং পরিমাণ মতো জল দিয়ে ঘন মিশ্রন বানিয়ে ঢেকে রাখুন ১০ মিনিট। পাইপিং ব্যাগে ভরে গরম তেলে জিলিপি গুলো ভেজে তুলে নিন। রসে ২ মিনিট ভিজিয়ে তুলে নিলেই তৈরী।

____________________________________






bottom of page