top of page

দেশ-বিদেশী ডিম, পাতে সমুদ্র, অফিসের ব্যস্ততায় সামাজিকতা বজায় রাখবেন কীভাবে? রবিবারের গল্প: স্ফুলিঙ্গ

Updated: 7 days ago

অফিসের ব্যস্ততায় সামাজিকতা বজায় রাখবেন কীভাবে?

আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হল সময়ের অভাব। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপে মানুষ ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কর্পোরেট অফিস, আইটি সেক্টর, ব্যাঙ্কিং বা অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের ক্ষেত্রে দিনের একটি বড় অংশই কেটে যায় কর্মক্ষেত্রে। ৮-১০ ঘণ্টা কখনও কখনও ১২ ঘণ্টায় পৌঁছে যায়। ফলে পরিবার, বন্ধু, আত্মীয় সবাই যেন ধীরে ধীরে জীবনের প্রান্তে সরে যেতে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠে, এত ব্যস্ততার মধ্যেও কীভাবে সামাজিকতা বজায় রাখা সম্ভব?


অনেকেই মনে করেন, সময়ের অভাবই সামাজিক সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। সময়ের অভাব যেমন আছে, তেমনই সময় ব্যবস্থাপনার অভাবও একটি বড় কারণ। দিনের অনেকটা সময় আমরা অজান্তেই ব্যয় করি অপ্রয়োজনীয় কাজে বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যহীন সময় কাটানোয়। অথচ সেই সময়ের সামান্য অংশও যদি সচেতনভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে সম্পর্কগুলোকে টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন নয়। সামাজিকতা মানেই দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা দেওয়া বা নিয়মিত দেখা করা নয়। বরং ছোট ছোট যোগাযোগই অনেক বড় ভূমিকা নেয়। প্রতিদিন না পারলেও, মাঝে মাঝে একটি ছোট বার্তা “কেমন আছো?” বা একটি সংক্ষিপ্ত ফোন কল সম্পর্ককে জীবিত রাখে। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা অন্য বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানানোও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখে। এই সামান্য উদ্যোগগুলোই মানুষে মানুষে দূরত্ব কমায়।


ব্যস্ত জীবনে ‘কোয়ালিটি টাইম’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। সময়ের দৈর্ঘ্য নয়, বরং সেই সময়ের গভীরতাই আসল। সপ্তাহে একদিন বা মাসে কয়েক ঘণ্টা যদি পরিবারের সঙ্গে কাটানো যায়, সেটাকে অর্থবহ করে তোলাই জরুরি। মোবাইল ফোন বা অন্য বিভ্রান্তি দূরে রেখে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা, মন খুলে কথা বলা, পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া—এই সবকিছুই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। অফিসকেও সামাজিকতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখা যেতে পারে। সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক শুধুমাত্র কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, একটু আন্তরিকতা যোগ করলে কর্মপরিবেশ অনেক বেশি আনন্দময় হয়ে ওঠে। একসঙ্গে লাঞ্চ করা, চা-বিরতিতে গল্প করা বা অফিসের ছোটখাটো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং একধরনের পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করে।


প্রযুক্তি আজ আমাদের অনেক কাছাকাছি এনে দিয়েছে। দূরত্ব এখন আর সম্পর্কের অন্তরায় নয়। ভিডিও কল, গ্রুপ চ্যাট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সহজেই যোগাযোগ রাখা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, ভার্চুয়াল যোগাযোগ কখনও বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না। তাই প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়, বিকল্প হিসেবে নয়। ব্যস্ত জীবনে সামাজিকতার জন্য সময় বের করতে গেলে পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন অফিসের মিটিং বা কাজের সময়সূচি ঠিক করা হয়, তেমনই ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্যও সময় নির্দিষ্ট করে রাখা প্রয়োজন। মাসে অন্তত একটি দিন পরিবার বা বন্ধুদের জন্য বরাদ্দ করা, উৎসব বা ছুটির দিনগুলো আগে থেকে পরিকল্পনা করা এই অভ্যাসগুলো সামাজিক সম্পর্ককে মজবুত করে।


পরিবারের ভূমিকা এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অফিসের চাপের কারণে অনেক সময় পরিবারই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়। অথচ দিনের শেষে পরিবারই আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। প্রতিদিন অন্তত একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে খাওয়া, তাঁদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা বা তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা এই ছোট ছোট অভ্যাস সম্পর্ককে গভীর করে তোলে। নিজের জন্য সময় রাখাও সমান জরুরি। মানসিকভাবে ক্লান্ত বা অবসন্ন থাকলে সামাজিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় বের করা, যেমন বই পড়া, গান শোনা, রান্না করা বা হাঁটাহাঁটি করা, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিজেকে ভালো রাখলেই অন্যদের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হয়।


একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘না’ বলতে শেখা। অনেক সময় কাজের চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য আর সময়ই অবশিষ্ট থাকে না। এই পরিস্থিতিতে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে না নিয়ে, প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নেওয়া এবং অতিরিক্ত কাজ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। নিজের সময়ের মূল্য বোঝা সামাজিক জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। পুরোনো সম্পর্কগুলোকেও নতুন করে জাগিয়ে তোলা যেতে পারে। ব্যস্ততার কারণে অনেক বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে ফিকে হয়ে যায়। কিন্তু একটি ফোন কল, একটি বার্তা বা একটি ছোট মিলনমেলার আয়োজন সেই সম্পর্ককে আবার জীবন্ত করে তুলতে পারে। এতে শুধু সম্পর্কই নয়, ব্যক্তিগত জীবনও আনন্দময় হয়ে ওঠে।

বাঙালির জীবনে উৎসব একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বন্ধন। দুর্গাপুজো, পয়লা বৈশাখ বা অন্যান্য পার্বণ কেবল আনন্দের নয়, সম্পর্ক পুনর্গঠনেরও সুযোগ। এই সময়গুলোতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো বা একসঙ্গে সময় কাটানো সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজ যেমন জীবনের অপরিহার্য অংশ, তেমনই ব্যক্তিগত সম্পর্কও সমান মূল্যবান। অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করার চেষ্টা করা, বাড়িতে এসে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং নিজের জন্য কিছু সময় রাখা এই অভ্যাসগুলো জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল ও আনন্দময় করে তোলে। সুতরাং, অফিসে ৮-১০ ঘণ্টা সময় কাটানো আজকের জীবনের বাস্তবতা হলেও, তার মধ্যেও সামাজিকতা বজায় রাখা অসম্ভব নয়। প্রয়োজন শুধু সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং আন্তরিকতা। কারণ, জীবনের শেষে কাজ নয়, সম্পর্কই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে থাকে।

দেশ-বিদেশি ডিম

আশ্চর্য একখানা বস্তু ডিম! পুষ্টিগুণে ভরপুর এই উপাদানটি সকালের জলখাবার হিসেবে যেমন দুর্দান্ত, তেমনি দুপুর-রাতের মূল খাবার থেকে বিভিন্ন মুখরোচক স্ন্যাক্সে'ও অসাধারণভাবে মানিয়ে যায়। আলু সেদ্ধ, ঘি ভাতে নরম কুসুমের ডিম সেদ্ধ থেকে মুচমুচে পরোটার সঙ্গে লাল লাল, ঝাল ঝাল ডিম কষা পর্যন্ত প্রতিটি পদ'ই সবার মনের অত্যন্ত কাছের। প্রতিনিয়ত ছুটে চলা এই ব্যস্ততার জীবনে প্রতিদিনের রান্না থেকে অতিথি আপ্যায়নের নানা পদ নিয়ে আমাদের এবারের সংকলন। চলুন চেখে দেখি সেসব জিভে জল আনা পদ।


পাঁচফোড়নি ডিম কারি

সুতপা বৈদ্য


কী কী লাগবে

ডিম ৪টি, পেঁয়াজ ১টি (কুচি), রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, কাঁচালঙ্কা ২টি (চেরা), লবণ স্বাদমতো, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, দই ২ টেবিল চামচ, Shalimar's Sunflower তেল ২ টেবিল চামচ, জল পরিমাণ মতো, পাঁচফোড়ন ভাজা গুঁড়ো ১/২ চা চামচ


কীভাবে বানাবেন

ডিম অল্প ভেজে তুলে রাখুন। তেলে পেঁয়াজ, রসুন, আদা বাটা ও কাঁচালঙ্কা নেড়ে নিন। লবণ, হলুদ ও দই দিয়ে মাঝারি আঁচে মশলা কষান। জল দিয়ে ঝোল করে ভাজা ডিম দিয়ে ফুটতে দিন। শেষে পাঁচফোড়ন গুঁড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।


মুখি কচু দিয়ে ডিম


কী কী লাগবে

ডিম ৪টি (সিদ্ধ), মুখি কচু ২০০ গ্রাম (কাটা), আলু ১টি (কাটা), পেঁয়াজ ১টি (কুচি), আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, কাঁচালঙ্কা ২টি, Shalimar's Chef Spices ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices জিরে গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, Shalimar's সর্ষের তেল ২ টেবিল চামচ, জল প্রয়োজনমতো


কীভাবে বানাবেন

সিদ্ধ ডিমে লবণ, হলুদ মেখে ভেজে তুলে রাখুন। মুখি কচু ও আলু লবণ, হলুদ দিয়ে হালকা ভেজে নিন। পেঁয়াজ কুচি ভেজে আদা, রসুন, কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে মশলা কষান। ধনে, জিরে, হলুদ গুঁড়ো দিয়ে নেড়ে কচু ও আলু মিশিয়ে দিন। জল দিয়ে ঢেকে সিদ্ধ করুন। সব নরম হলে ডিমকে মাঝখান থেকে কেটে দিন। একটি ডিমের কুসুম ঝোলে ভেঙে মিশিয়ে দিন। কয়েক মিনিট ফুটে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন গরম ভাতের সঙ্গে।


ডিম বিরিয়ানি


কী কী লাগবে

বাসমতি চাল ২ কাপ, আলু ৩টি, সেদ্ধ ডিম ৫টি, পেঁয়াজ কুচি ৩টি, কাঁচালঙ্কা, আদা, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, টমেটো ১টি, টক দই আধ কাপ, লবণ স্বাদমতো, Shalimar's Chef Spices কাশ্মিরি লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা ১ চা চামচ, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, স্টার অ্যানিস কয়েকটি, ঘি/Shalimar's Sunflower তেল পরিমাণমতো, গোলাপজল, কেওড়া জল, মিঠা আতর সামান্য, ভাজা পেঁয়াজ, ধনেপাতা কুচি


কীভাবে বানাবেন

ডিম ও আলু লবণ, হলুদ মেখে ভেজে নিন। তেলে গরম মশলা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ ভেজে আদা, রসুন, কাঁচালঙ্কা, টমেটো দিয়ে কষান। দই, গরম মশলা, লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো দিয়ে মিশিয়ে ভাজা ডিম দিন। বড় পাত্রে ভাত ও ডিমের মসলা স্তর করে সাজান। ওপরে বিরিয়ানি মশলা, ঘি, সুগন্ধী জল, ভাজা পেঁয়াজ ও ধনেপাতা ছড়িয়ে ঢেকে ১০ মিনিট দম দিন। ইচ্ছে মতো সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।


বিহারী আন্ডা কারি


কী কী লাগবে

ডিম ৫টি (সেদ্ধ ও খোসা ছাড়ানো), পেঁয়াজ ৩টি (কুচি), কাঁচালঙ্কা ৩টি + আদা-রসুন থেঁতো ২ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মিরী লাল লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, গোটা গরম মশলা (বড় এলাচ, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, সামান্য জায়ফল জয়িত্রি), Shalimar's সরষের তেল ৩ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, আস্ত রসুন ১ কোয়া, গরম জল দেড় কাপ, ধনেপাতা (ঐচ্ছিক)


কীভাবে বানাবেন

ডিমগুলো হালকা কেটে লবণ ও সামান্য হলুদ মেখে সরষের তেলে সোনালি করে ভেজে আলাদা রেখে দিন। একই কড়াইতে তেল গরম করে গোটা গরম মশলা ও শুকনো লঙ্কা দিন। পেঁয়াজ কুচি ভেজে বাদামি হলে কাঁচালঙ্কা, আদা, রসুন বাটা দিয়ে ভালো করে কষে নিন। এবার হলুদ, কাশ্মিরী লঙ্কা গুঁড়ো ও ধনে গুঁড়ো অল্প জল দিয়ে ভেজে নিন। তেল ছাড়লে বুঝবেন মশলা ঠিকমতো কষেছে। ভাজা ডিম ও আস্ত রসুন দিয়ে নেড়ে দিন। দেড় কাপ গরম জল দিয়ে ঢেকে ৫-৭ মিনিট রান্না করুন। ধনেপাতা থাকলে শেষে ছড়িয়ে দিন। গরম ভাত, লুচি কিংবা পরোটার সঙ্গে এই বিহারী আন্ডা কারি অসাধারণ লাগে। একবার খেলেই বুঝবেন সাধারণ ডিম কীভাবে “রাজকীয়” স্বাদ পেতে পারে!


ডিমের রেজালা



কী কী লাগবে

সেদ্ধ ডিম ৪টি, Shalimar's soyabean তেল ৫ টেবিল চামচ, ঘি ২ টেবিল চামচ, টক দই আধ কাপ, কাজু বাটা ১ টেবিল চামচ, কিশমিশ বাটা ১ টেবিল চামচ, সেদ্ধ পেঁয়াজ বাটা পরিমাণমতো, তেজপাতা ২টি, দারচিনি ১ টুকরো, গোটা গোলমরিচ ৫-৬টি, শুকনো লঙ্কা ২টি, কাঁচালঙ্কা পরিমাণমতো, নুন স্বাদমতো, Shalimar's Chef Spices জিরা গুঁড়ো, আদা-রসুন বাটা পরিমাণমতো, ভাজা পেঁয়াজ, কেওরা জল, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো

কীভাবে বানাবেন

ডিমের খোসা ছাড়িয়ে হালকা চিরে নিন। তেল ও ঘি গরম করে তেজপাতা, দারচিনি, শুকনো লঙ্কা ও গোলমরিচ ফোড়ন দিন। সেদ্ধ পেঁয়াজ বাটা ভেজে দই, কাজু-কিশমিশ বাটা ও অন্যান্য মশলা দিয়ে কষান। এরপর ডিম দিয়ে মিশিয়ে নাড়ুন। প্রয়োজন মতো জল দিয়ে গ্রেভি ঘন হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। শেষে গরম মশলা গুঁড়ো, কেওরা জল, ভাজা পেঁয়াজ ও চেরা কাঁচালঙ্কা ছড়িয়ে নামিয়ে লুচি, পরোটা বা পোলাও এর সঙ্গে পরিবেশন করুন।


ডিম, ফুলকপির পোলাও

সুস্মিতা দে দাস


কী কী লাগবে

বাসমতি চাল দেড় কাপ, আলু ২টি (ডুমো কাটা), ফুলকপি ৭-৮টি বড় ফুল, কড়াইশুঁটি আধ কাপ, সেদ্ধ ডিম ৪টি, নুন স্বাদমতো, Shalimar's Chef Spices হলুদ ২ চা চামচ, আদা-রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ ৩টি (স্লাইস), কাঁচা লঙ্কা ৩টি (চেরা), চিনি আধ চা চামচ, Shalimar's সর্ষের তেল ৫ টেবিল চামচ, তেজপাতা ১টি, শুকনো লঙ্কা ১টি, এলাচ ৪টি, দারচিনি ১ স্টিক, লবঙ্গ ৪টি, স্টার অ্যানিস ১টি (ঐচ্ছিক), ঘি ১ টেবিল চামচ, জল ৩ কাপ।


কীভাবে বানাবেন

চাল ধুয়ে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। ডিমে নুন–হলুদ মেখে হালকা ভেজে নিন। একই তেলে আলু ও ফুলকপি নুন, হলুদ দিয়ে ভেজে তুলুন। কড়াইয়ে তেল ও ঘি গরম করে তেজপাতা, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, শুকনো লঙ্কা ও স্টার অ্যানিস ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ ভেজে আদা-রসুন বাটা, নুন, হলুদ ও করাইশুঁটি দিয়ে কষুন। এবার চাল দিয়ে ২ মিনিট ভাজুন। আলু, ফুলকপি মিশিয়ে ৩ কাপ জল ও কাঁচা লঙ্কা দিন। ঢেকে কম আঁচে ১০ মিনিট রান্না করুন। চিনি মেশান, শেষে ঘি দিয়ে ৩ মিনিট ঢেকে রেখে পরিবেশন করুন।


ডিম মুরগি কষা



কী কী লাগবে

১টা বড় এলাচ, ১/২ জায়ফল, ৫টা ছোট এলাচ, ১টা জয়িত্রী, ৪ টুকরো দারচিনি, ৫টা লবঙ্গ, ৪টে শুকনোলঙ্কা, ২টো তেজপাতা, ২ চা চামচ গোটা ধনে, দেড় কেজি মুরগীর মাংস, ১ কাপ টকদই, ১/২ চামচ Shalimar's Chef Spices ধনেগুঁড়ো, ১ ১/২ চামচ Shalimar's Chef Spices শুকনোলঙ্কার গুঁড়ো, ৩ চামচ আদা-রসুন বাটা, ১ চামচ Shalimar's Chef Spices হলুদগুঁড়ো, ১/২ চামচ Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো, ২ চামচ গ্রাইন্ড করা মশলা, ৫ চামচ সরষের তেল, মাঝারি মাপের ৮-৯ টা আলু, ১ চামচ নুন, ৬টা সেদ্ধ হাঁসের ডিম, ৫টা মাঝারি মাপের পেঁয়াজ কুচি, ১টা টমেটো কুচি।


কীভাবে বানাবেন

বড় এলাচ, জায়ফল, ছোট এলাচ, জয়িত্রী, দারচিনি, লবঙ্গ, শুকনোলঙ্কা, তেজপাতা, গোটা ধনে, শুকনো খোলায় ভেজে গ্রাইন্ড করুন। এর পর চিকেনে টকদই, ১/২ চামচ ধনেগুঁড়ো, স্বাদ অনুযায়ী নুন, ১/২ চামচ শুকনোলঙ্কার গুঁড়ো, ৩ চামচ আদা-রসুন বাটা, ১ চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/২ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, ২ চামচ গ্রাইন্ড করা মশলা দিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করুন। এর পর একটি পাত্রে ৫ চামচ সরষের তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হয়ে গেলে মাঝারি মাপের ৮-৯ টা আলু কাঁটা চামচ দিয়ে ফুটো করে নিন। এর পর ১ চামচ নুন,১/২ চা চামচ শুকনোলঙ্কার গুঁড়ো,১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো দিয়ে হালকা আঁচে আলু ভেজে নিন। ওই একই তেলে ৬টা সেদ্ধ হাঁসের ডিম সামান্য ভেজে আলাদা করে রেখে দিন। এর পর ৪ চামচ সরষের তেল যোগ করুন, ৫টা মাঝারি মাপের পেঁয়াজ কুচি হালকা আঁচে ভাজুন। এর পর ১ চামচ নুন যোগ করুন। ১টা টমেটো কুচি, ১ চামচ শুকনোলঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে হালকা আঁচে ৫ মিনিট কষান। এর পর ম্যারিনেট করা চিকেন যোগ করুন। ১০ মিনিট হালকা আঁচে কষান, গ্রাইন্ড করা বাকি মশলা যোগ করুন। ভেজে রাখা আলু দিয়ে আরও ১০ মিনিট কষান। ম্যারিনেট করা পাত্রে ২-৩ কাপ জল মশলায় গুলে দিন। হালকা আঁচে ১০ মিনিট ঢাকা দিন। ভেজে রাখা ডিম যোগ করুন, ২-৩ মিনিট পর আঁচ নিভিয়ে দিন।পরিবেশন করুন ভাত বা রুটির সঙ্গে।


এগ-চিকেন ফ্রাইড রাইস



কী কী লাগবে

বাসমতি চাল ২ কাপ, চিকেন ২০০ গ্রাম (বোনলেস ছোটো টুকরো), ডিম ২টি, ক্যাপসিকাম অর্ধেক টি, বেলপেপার লাল অর্ধেক টি, বেলপেপার হলুদ অর্ধেক টি, গাজর ১টি (মাঝারি), পেঁয়াজ ২টি (চপ), রসুন ৭–৮ কোয়া (কুচি), পেঁয়াজ পাতা সবুজ ও সাদা অংশ আলাদা করে কুচি, সয়া সস ২ চামচ, ভিনিগার ২ চামচ, Shalimar's sunflower তেল ৩ টেবিল চামচ, নুন স্বাদমতো, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ, বাটার ১ টেবিল চামচ।

কীভাবে বানাবেন

চাল ধুয়ে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। জল ফোটালে নুন দিয়ে চাল প্রায় ৮৫% সেদ্ধ করুন, ভিনিগার ও ১ চামচ তেল মেশান, ছেঁকে রাখুন। চিকেন ছোটো টুকরো করে নুন, গোলমরিচ, সয়া সস, আদা-রসুন বাটা মেখে ২০ মিনিট ম্যারিনেট করুন। কড়াইতে সাদা তেল গরম করে ডিম ঝুড়ি ভাজুন, তুলে রাখুন। একই তেলে চিকেন ২-৩ মিনিট হাই ফ্লেমে ভেজে, তারপর মিডিয়াম ফ্লেমে ৩-৪ মিনিট হালকা লাল হওয়া পর্যন্ত ভেজুন। রসুন কুচি ও পেঁয়াজের সাদা অংশ দিয়ে হালকা ভেজুন, এরপর পেঁয়াজ কুচি, গাজর, ক্যাপসিকাম ও বেলপেপার হাই ফ্লেমে নাড়ুন। নুন, গোলমরিচ, সয়া সস ও ভিনিগার মিশান। চিকেন ও ডিম ঝুড়ি মেশান। অর্ধেক ভাত দিয়ে মিশিয়ে, পরে বাকি ভাত মিশান। সবশেষে বাটার দিয়ে হালকা মিশিয়ে পেঁয়াজ পাতা সবুজ অংশ ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।


সর্ষে-পোস্ত ডিম ভাপা



কী কী লাগবে

ডিম ৫টি, সর্ষে ৩ টেবিল চামচ, পোস্ত ২ টেবিল চামচ, টক দই ৩ টেবিল চামচ, নুন স্বাদমতো, Shalimar's Chef Spices হলুদ আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ (ঐচ্ছিক), কাঁচা লঙ্কা ৫-৬টি, চিনি কয়েক দানা (ঐচ্ছিক), Shalimar's সর্ষের তেল ২ টেবিল চামচ।

কীভাবে বানাবেন

ডিম সিদ্ধ করে অর্ধেক কেটে নুন, হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে হালকা ভেজে নিন। সর্ষে, পোস্ত, টকদই, কাঁচালঙ্কা, নুন ও অল্প জল দিয়ে পেস্ট বানান। মাইক্রোপ্রুফ বাটিতে এই মিশ্রণ, হলুদ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, চিনি, ১ টেবিল চামচ তেল ও ভাজা ডিম দিয়ে ভালোভাবে মেশান। অ্যালুমিনিয়াম পেপার দিয়ে ঢেকে ৬০০ পাওয়ারে ৭ মিনিট মাইক্রো করুন। নুন দেখে নিয়ে ১ মিনিট মতো রান্না করুন। ওপর থেকে কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।


ডিমের পাফ



কী কী লাগবে

সেদ্ধ আলু ২টি, ডিম ২টি, ময়দা ২ কাপ, টক দই ২ টেবিল চামচ, খাবার সোডা আধ চা চামচ, নুন স্বাদমতো, চিনি ১ চা চামচ, Shalimar's sunflower তেল ১ টেবিল চামচ, দুধ ২-৩ টেবিল চামচ, Shalimar's সরষের তেল ২ টেবিল চামচ, জিরা আধ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১টি, লঙ্কা কুচি ২টি, Shalimar's Chef Spices হলুদ আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices জিরে গুঁড়ো আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices আমচুর ১ চা চামচ।


কীভাবে বানাবেন

আলু ও ডিম সেদ্ধ করে আলু নুন মাখুন, ডিম অর্ধেক কেটে রাখুন। ময়দা, টক দই, সোডা, নুন, চিনি, সাদা তেল ও দুধ মিশিয়ে ১ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। সরষের তেলে জিরা ফোড়ন দিয়ে আদা-রসুন বাটা, পেঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি, হলুদ, জিরে গুঁড়ো, আমচুর দিয়ে কষান। আলু মাখা দিয়ে নেড়ে ভাজুন; পুর তৈরি। ময়দা কেটে ছোট লেচি বানিয়ে আলুর পুর ও ডিম রেখে পছন্দমতো মুড়ে নিন। নন-স্টিক পাত্রে স্ট্যান্ড দিয়ে ৫ মিনিট গরম করুন। পাফগুলো স্ট্যান্ডে বসিয়ে উপরে দুধ ব্রাশ করুন, ঢাকা দিয়ে ১০ মিনিট বেক করুন। একবার দুধ ব্রাশ করে পুনরায় বেক করুন যতক্ষণ না হালকা লাল রং আসে। চা অথবা কফির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

পাতে সমুদ্র: সি-ফুড কি শুধুই স্বাদের জন্য?


সামুদ্রিক খাবার বা সি-ফুড মানে শুধুই বিলাসী খাওয়াদাওয়া নয়, এগুলো আমাদের শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। নানা জাতের মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক, স্কুইড, অক্টোপাস-সহ এক বিশাল জগতের খাবার নিয়ে গড়ে উঠেছে সি-ফুডের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। এগুলোর পুষ্টিগুণ যেমন বৈচিত্রপূর্ণ, তেমনি স্বাদেও অতুলনীয়। কীভাবে আমাদের খাবারের তালিকায় এলো সি-ফুড এবং এর ভালোমন্দ নিয়ে আলোচনায় সুদেষ্ণা ঘোষ।


মানুষ যখনই সাগরের ধারে দাঁড়িয়েছে, বসতি গড়ে তুলেছে। সেখান থেকে শুধুমাত্র জল নয়, খাবার হিসেবে জলজ শস্য তুলেছে। আর সেই খাবার শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, ধীরে ধীরে রন্ধনশৈলী, সংস্কৃতি আর উৎসবের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। সি-ফুড খাওয়ার ইতিহাস আসলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাসেরই প্রাচীনতম অধ্যায়গুলোর একটি। মানুষ যখন আগুন জ্বালাতে শিখেছিল, তারও অনেক আগে থেকেই সে সাগরের পাড়ে খুঁজে নিয়েছিল তার খাবার, যেমন বিভিন্ন রকম মাছ, ঝিনুক, কাঁকড়া, এমনকী সামুদ্রিক শসাও! আফ্রিকার উপকূলে পাওয়া প্রাচীন ঝিনুকের খোলস থেকে বোঝা যায়, হাজার হাজার বছর আগে মানুষ ঝিনুক খেত। চিনের হান রাজবংশের সময় থেকে মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী চাষের প্রমাণও মেলে। ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চল, যেমন পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, ওডিশা, গুজরাত, গোয়া, তামিলনাড়ু; এইসব জায়গায় নদী ও সমুদ্রের পাশে গড়ে ওঠা সমাজের সঙ্গে সঙ্গে মাছ এবং সামুদ্রিক খাবারও ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক। শুধু ব্রাহ্মণ্য খাবার নয়, গ্রামীণ ও উপজাতি সম্প্রদায়গুলোর খাদ্যতালিকাতেও ছিল চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক। সি-ফুড তাই শুধুই পেটভরার জন্য নয়, এ এক যুগের পর যুগ ধরে চলা ঐতিহ্যের স্বাদ!


বিভিন্ন রকম সি-ফুডের ধরন:


১। ফিনফিশ: যেমন স্যামন, কড, টুনা, তেলাপিয়া, যারা পাখনা ও আঁশযুক্ত।


২। শেলফিশ: ঝিনুক, স্ক্যালপ, ক্ল্যাম খোলসযুক্ত সামুদ্রিক প্রাণী।


৩। ক্রাস্টেসিয়ান: চিংড়ি, কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি।


৪। সেফালোপড: স্কুইড, অক্টোপাস, কাটলফিশ, প্রাণী যারা বুদ্ধিমান ও উচ্চপ্রোটিন সমৃদ্ধ।


৫। সামুদ্রিক প্রাণী: যেমন সামুদ্রিক শসা, সামুদ্রিক অর্চিন ও অ্যাবালোন, যাদের গঠন ও পুষ্টিগুণ অনন্য।


প্রাচীন সভ্যতায় সি-ফুডের ব্যবহার:


মিশরীয় সভ্যতা (২৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ): মাছ ও শেলফিশ ছিল খাদ্যের অন্যতম অংশ।


গ্রিক ও রোমান সভ্যতা: তাজা সামুদ্রিক মাছ ও ঝিনুক ছিল রাজভোজের অবিচ্ছেদ্য উপাদান।


চিনা সভ্যতা: হান রাজবংশ থেকে আজ অবধি সি-ফুড চিনা রান্নার অন্যতম ভিত্তি।


বিভিন্ন রকম শেল-ফিশের পুষ্টিগুণ:


স্কুইড: উচ্চ প্রোটিন, কম ফ্যাট, হৃদরোগ ও প্রদাহ হ্রাসে সহায়ক।


অক্টোপাস: অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।


কাটলফিশ: ত্বক ও কোষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।


সামুদ্রিক শসা: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহ-নিরোধী, ক্ষত নিরাময়ে কার্যকর।


অর্চিন: ওমেগা-৩, প্রোটিন ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ।


অ্যাবালোন: চোখ ও হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে, সেলেনিয়াম ও জিংকেহর ভালো উৎস।


এক্ষেত্রে কারা সতর্কতা অবলম্বন করবেন?


শেল-ফিশ অ্যালার্জি, উচ্চ কোলেস্টেরল, গাউটে আক্রান্তরা এই ধরনের সি-ফুড এড়িয়ে চলুন।


বিভিন্ন রকম সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণ এবং সাবধানতা:


গলদা চিংড়ি: গলদা চিংড়ি উচ্চমানের প্রোটিনের একটি দারুণ উৎস। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম এবং জিংক, যা হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। তবে যাদের শেলফিশ অ্যালার্জি আছে, গেঁটে বাতে আক্রান্ত, কিংবা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত।

বারামুন্ডি: এটি একটি হালকা ও সহজপাচ্য মাছ, যা উচ্চ প্রোটিন, ওমেগা-৩, ভিটামিন ডি ও আয়রনে সমৃদ্ধ। বারামুন্ডি হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো এবং প্রোটিন ঘাটতি পূরণে সহায়ক। তবে মাছ অ্যালার্জি যাদের আছে, অথবা গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী নারীদের এটি পরিমিত খাওয়া উচিত, কারণ এতে পারদের উপস্থিতি থাকতে পারে।

ট্রাউট: ট্রাউট মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ, যা চোখের স্বাস্থ্য ও টিস্যু মেরামতে সহায়ক। হৃদরোগীদের জন্য এটি দারুণ উপকারী। যদিও কিছু প্রজাতিতে পারদের মাত্রা বেশি থাকায় সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সচেতনতা জরুরি।

তেলাপিয়া: সহজে হজমযোগ্য এবং উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ তেলাপিয়া মাছ কম কোলেস্টেরলযুক্ত হওয়ায় অনেকের জন্য নিরাপদ। তবে কিছু বাণিজ্যিক চাষকৃত তেলাপিয়ায় ফ্যাটি অ্যাসিডের অনুপাত কমে যেতে পারে, ফলে কার্ডিওভাসকুলার রোগীদের জন্য এটি সবসময় সেরা পছন্দ নাও হতে পারে।

সার্ডিন: ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর সার্ডিন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের এক চমৎকার উৎস। হাড় ও দাঁতের জন্য খুব উপকারী। তবে এতে উচ্চ মাত্রার পিউরিন থাকায় গেঁটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অনুপযুক্ত হতে পারে।

ম্যাকারেল: ম্যাকারেল একটি প্রিয় এবং জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ, যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর। তবে ‘রাজা ম্যাকারেল’ জাতের মাছ পারদে ভারী হওয়ায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বেছে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

টুনা ফিশ: টুনা মাছ উচ্চ প্রোটিন ও ওমেগা-৩-এ সমৃদ্ধ। এটি হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক। তবে পারদের পরিমাণ কিছু প্রজাতিতে বেশি হওয়ায় গর্ভবতী, স্তন্যদাত্রী নারী ও ছোট শিশুদের টুনা সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

কড ফিশ: কড মাছ কম ফ্যাটযুক্ত ও উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ। এটি ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের উৎস, যা হাড়, ত্বক ও স্নায়ুর জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত আয়োডিন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সাবধানে খাওয়া উচিত।

স্যামন: স্যামন মাছের মধ্যে রয়েছে EPA ও DHA জাতীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হার্ট ও ব্রেন হেলথে কার্যকর। এটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। যদিও ফার্ম-রেইজড স্যামনে দূষিত পদার্থ থাকতে পারে, তাই গর্ভবতীদের অর্গানিক বা ওয়াইল্ড স্যামন বেছে নেওয়া উত্তম।

কাঁকড়া: কাঁকড়া একটি শক্তিশালী ইমিউন বুস্টার, যার মধ্যে আছে ওমেগা-৩, আয়রন, সেলেনিয়াম ও জিংক। তবে গাঁটে আক্রান্ত, উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত এবং শেলফিশ অ্যালার্জিযুক্ত ব্যক্তিদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

ঝিনুক: ঝিনুক পুষ্টিগুণে ভরপুর। জিংক, আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং ওমেগা-৩ এর উৎস। এটি রক্তশূন্যতা দূর করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। তবে ঝিনুকে উচ্চ পিউরিন ও শেলফিশ অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে। তাই গেঁটে আক্রান্ত ও অ্যালার্জি যুক্তদের জন্য এটি নিরাপদ নয়।


কারও কাছে চিংড়ি মানেই পছন্দের পদ, তো কারওর রোজকার তালিকায় থাকে সার্ডিন বা টুনা। কিন্তু যেটা সবচেয়ে জরুরি, সেটা হলো বুঝেশুনে খাওয়া। কোন মাছ কার জন্য ভালো, আর কার জন্য ক্ষতিকর সেটা জানা খুব দরকার। অনেকেই আছেন যাঁদের শেল-ফিশে অ্যালার্জি, আবার কেউ কেউ গেঁটে বাত বা কোলেস্টেরলে ভোগেন; তাদের এই খাবার থেকে সাবধান হওয়া জরুরি। খাবার যতই পুষ্টিকর হোক, যদি শরীর মেনে না নেয়, তাহলে সেটা উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে। তাই নিজের শরীর বুঝে, নিজের চাহিদা বুঝে, পরিমিত পরিমাণে খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। শেষে একটাই কথা, সামুদ্রিক শস্যের স্বাদ নিন, কিন্তু জেনে-বুঝে, নিজের মতো করে। তাহলেই সি-ফুড হবে আপনার শরীরের বন্ধু।

স্ফুলিঙ্গ

তপন বন্দ্যোপাধ্যায়


রাতের দার্জিলিং মেল ধরার আগে টুুকিটাকি গোছগাছ সারছিল ঋষিতা, গুনে দেখছিল ঘরের মেঝেয় সব ব্যাগগুলো ঠিকঠাক রাখা আছে কি না, কোনটায় কী আছে, কোন–কোনটা হাতের কাছে রাখা দরকার ইত্যাদি৷ আর একটু পরেই ট্যাক্সি এসে পৌঁছোবে, ট্যাক্সিতে এতখানি পথ পাড়ি দিয়ে ট্রেনে না ওঠা পর্যন্ত স্বস্তি নেই তার৷ হনিমুন বলে কথা৷ হনিমুন তো আর এক জীবনে দুবার হবে না।

ব্যাগগুলো মেলাতে গিয়েই চোখে পড়ল একটা পেটমোটা ভারী ব্যাগ, এতটাই ভারী যে ঋষিতা এক হাতে টেনে তুলতেই পারল না, তাতে তার চোখে বিস্ময়ের রসগোল্লা৷ ব্যাগের মুখ তালাবন্ধ দেখে অধীপের শরণাপন্ন হয়, বারান্দায় চোখ রেখে ট্যাক্সির আগমনের অপেক্ষায় থাকা অধীপের হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে এল ঘরে, দরজা আধভেজানো করে বলল, কী নিয়েছ এই দশমেসে গর্ভবতী ব্যাগটায়?

অধীপ তার নতুন বৌয়ের অব্যাকরণীয় ভাষাপ্রয়োগ শুনে ঠোেঁট তর্জনী রেখে বলল, চুপ, চুপ৷ পাশের ঘরে মা–বৌদি সব রয়েছে৷ কী ভাববে বলো তো?

ঋষিতা মুখ ব্যাজার করে বলল, আমি এমন কিছু মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কথা বলিনি যে, ঘরের দরজা পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় নেমে তোমার মা–বৌদির কানে গিয়ে কথাগুলো পৌঁছোবে ঠিক আছে দরজা বন্ধ করে কথা বলছি।

বলে দরজায় ছিটকিনি তুলে দিতেই অধীপ আরও আতঙ্কিত, বলল, এই রে, পাশের ঘরে সবাই রয়েছে, আর তুমি ছিটকিনি দিয়ে দিলে?

ঋষিতার চোখে বিস্ময়ের ছোটো ছোটো টুকরো, বলল, তাতে কী হয়েছে? তুমি তো তোমার নিজের বৌয়ের সঙ্গে কথা বলছ পরের বৌয়ের সঙ্গে তো নয়৷ ঠিক আছে, দরজাটা না হয় হাট করে খুলে দিলাম৷ হ্যাঁ, এইবার বলো তো কী আছে ভারী ব্যাগটায়?

অধীপ অম্লান বদনে বলল, কী আবার? বই৷

––বই? কী বই? এত বই দিয়ে তুমি কী করবে দার্জিলিঙে?

––কী আর করব পড়ব৷ বই আর লোকে কী করে? খায়ও না, মাথায়ও দেয় না৷

––তুমি যাচ্ছ নতুন বউ নিয়ে দার্জিলিং৷ আর সেখানে গিয়ে তুমি বই পড়বে? কেউ পড়ে?

––কেউ না পড়লেও আমি পড়ব৷ সাতদিন দার্জিলিঙে বসে কী করব?

––কী করবে মানে? হনিমুনে কি কেউ বই পড়তে যায়? হনিমুনে গিয়ে পড়ার একটাই সাবজেক্ট, বউ৷ নতুন স্বামীরা বউ পড়ে৷

অধীপের কোনও ভাবন্তর হয় না, মুচকি হেসে বলে, সে তো পড়বই৷ কিন্তু টানা সা–– আ–ত দিন মানে সাত ইন্টু চব্বিশ ঘন্টা, মানে ইন্টু ষাট মিনিট, বুঝতে পারছ এতখানি সময় কী করে কাটাব?

ঋষিতা কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করে অধীপকে৷ বিয়ের আগে শুনেছিল পাত্র লেখাপড়ায় খুব ভালো ছেলে৷ বই–অন্ত প্রাণ৷ চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্সিতে ভালো রেজাল্ট করে ভালো চাকরি করে৷ সারাক্ষণ অঙ্কে নিবেদিত পুরুষ৷ কিন্তু ভালো ছেলেরা বই তো পড়বেই৷ পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করবে, তারপর সেই রেজাল্ট কাজে লাগিয়ে পার্স মোটা হয় এমন একটা চাকরি করে ঋষিতার মতো সুন্দরী বৌ জোগাড় করবে৷ কিন্তু সে তো বিয়ের আগে৷ বিয়ের পরে কেউ বই পড়ে না, বৌ পড়াই রেওয়াজ৷

ঋষিতা চোখেমুখে ঝঙ্কার মাখিয়ে বলল, কী করে কাটাবে মানে? হনিমুনে সময় কাটানোর কত উপায়৷ আর তুমি কিনা––

ঋষিতা কিছুক্ষণ চোখেমুখে ‘হা–হতোস্মি’ অভিব্যক্তি মাখিয়ে অধীপকে বোঝার চেষ্টা করে৷ এমন সুন্দরী বৌ নিয়ে হনিমুন করতে যাওয়ার সময় যার বই পড়ে সময় কাটাতে ইচ্ছে করে তার সম্পর্কে এই মুহূর্তে কী ধারণা করা যায় ভেবে দিশেহারা৷ অনন্যোপায় হয়ে ভারী ব্যাগটা টেনে একপাশে সরিয়ে দিয়ে বলল, এখন ঠিক করো হনিমুন–ট্রিপে সঙ্গে বই নেবে, না বৌ? যে কোনও একটা৷

অধীপ কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরে একটি ঝকঝকে ট্যাক্সির থেমে যাওয়া, ফলোড বাই হর্ন৷ অধীপ করুণ মুখে বইভর্তি ব্যাগটার দিকে চেয়ে দীর্ঘশ্বাসে ভরিয়ে দেয় ঘরের আমেঝেছাদ৷ পেটমোটাটিকে মেঝের এক কোণে সরিয়ে রেখে বাকি ব্যাগ–বাক্স তুলতে থাকে ট্যাক্সির ডিকিতে৷

ভাগ্যিস এ সি–তে টিকিট কেটেছিল অধীপ, নইলে এপ্রিলের ভ্যাপসা গরমে হনিমুনজার্নি মাথায় উঠততাদের৷ পাশাপাশি দুটো আপার বাঙ্ক পেতে ভারী মজা ঋষিতার৷ রাতের অনেকটা সময় মুখ ভেংচে, বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাগিয়ে রাখতে চেষ্টা করছিল অধীপকে৷ অধীপ যেই না চোখ বোজে অমনি মুখে একটা অদ্ভুত শব্দ করে জাগিয়ে তুলে অমনি ভেংচি৷ অধীপ একসময় ভুরু কুঁচকে চোখের ইশারায় ঋষিতাকে ঘুমোনোর প্রেসক্রিশন দেয় ও নিজেও একসময় কখন যে ঘুমের কোলে ঢ়লে পড়েছে তা জানে না৷ ভোরে ঘুম ভাঙতে দেখে ঋষিতা দিব্যি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে তার দিকে৷ বিস্মিত অধীপ ভুরু কাঁপিয়ে জানতে চায়, কী হল, তুমি রাতে ঘুমোওনি?

ঋষিতা মুখ ভেংচে বলল, কী জানি তুমি ঘুমিয়েছ তা দেখেছি, কিন্তু আমি ঘুমিয়েছিলাম কি না তা আমি দেখব কী করে?

ছোটোবেলায় একবারই দার্জিলিং এসেছিল ঋষিতা, তেমন মনে ছিল না জার্নির মজাটা৷ এবারে দারুণ মজা পাচ্ছে অধীপের পাশে বসে, যাওয়ার পথে স্মৃতিতে উসকে উঠছে এক–একটি ছবি, আর বলছে, জানো, এখানে না...


এবার আর শুধু বেড়ানো নয়, মধুচন্দ্রিমায় যাওয়া৷

তার বিয়ের কথাবার্তা শুরু হওয়ার পর থেকে সে একটাই কথা ভেবে এসেছে গরমকালে কিছুতেই বিয়ে করবে না৷ গরমে বিয়ে করে কোনও আরাম নেই৷ কিন্তু বরাত এমনই যে, সেই ভ্যাপসা এপ্রিলেই কি না তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হল কিন্তু কী আর করা অতএব তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হনিমুন করতে কোনও শীতের দেশেই যাবে৷ পারলে কোনও বরফের দেশে৷ বরফ খুব পছন্দের বিষয় ঋষিতার৷ তারপর কাশ্মীর থেকে সিমলা–মানালি, গাড়োয়াল, কুমায়ুন হয়ে গোটা হিমালয় রেঞ্জে মানসিক ভ্রমণের পর বাঙালির অগতির গতি দার্জিলিঙে এসে ঠেক খেয়েছে তাদের দৌড়৷

––ঠিক আছে দার্জিলিং ই সই, পরে অন্য কোথাও––বলে টিকিট কাটায় সম্মতি দিয়েছে ঋষিতা৷

সেই দার্জিলিং যাওয়ার পাহাড়ি পথটা খুব শিগগির যেমন পার হয়ে গেল ওদের৷ অধীপ অবশ্য চুপচাপ, কবি–কবি চোখে দেখছিল এক পাশের গভীর খাদ, অন্যপাশের জঙ্গুলে পাহাড়৷ ঋষিতা তার মধ্যেই দু–চারবার চিমটি কেটে অস্থির করে দিতে চাইল অধীপকে৷ কিন্তু অধীপ নির্বিকার, পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে কী খুঁজছে কে জানে?

দার্জিলিঙে পৌঁছে অনেক খোঁজাখুঁজির পর আবিষ্কার করা গেল হোটেলটি৷ হোটেল নয়, গেস্ট হাউস৷ কুলির মাথা থেকে টাল দেওয়া ব্যাগ–বাক্স নামাচ্ছে, হঠাৎ ঋষিতা বলল, হোটেলের বদলে মহেঞ্জোদারোয় থাকতে হবে তা আগে বলোনি তো?

––মহেঞ্জোদারো? অধীপের চোখ তালুতে৷

––এই বাড়িটা দেখলে মহেঞ্জোদারোর কথা মনে পড়ছে না? খসে পড়ছে দেওয়ালের পলেস্তারা, ঝুঁকে অছে ছাদের প্যারাপিট৷

অধীপ সেদিকে তেরচা নজর চালিয়ে বলল, এটা আমাদের এক ক্লায়েন্টের গেস্ট হাউস৷ ভাড়াটা একটু কম অন্য হোটেলের তুলনায়৷ তারা বলেছে বাইরেটা সামান্য ভাঙাচোরা হলেও ভিতরটা থ্রি স্টারের মতো ঝকঝকে৷

––উঁহু, মহেঞ্জোদারোতে পৌঁছে ঐতিহাসিকরা উচ্ছ্বসিত, উল্লসিত হতে পারেন, কিন্তু এখানে হনিমুন নৈব নৈব চ৷ চলো অন্য হোটেল দেখি৷

––বাহ, এত টাকা দিয়ে গেস্ট হাউস বুক করলাম, এখন বলছ অন্য হোটেলে যাব?

––তুমি টাকার কথা ভাবছ ? ঋষিতা হেলায় উড়িয়ে দেয় অধীপের কথা, আমার কতদিনের স্বপ্ণ হনিমুন হবে এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে৷ তার জন্য টাকাও জমিয়েছি অনেকদিন ধরে৷ টাকাটা এনেওছি সঙ্গে করে৷ এখানে হবে না৷ আবার কুলির মাথায় মাল ওঠাও৷

মিনিট দশেকের মধ্যে বেশ চাম্পিয়ন একটা হোটেল আবিষ্কার করে ফেলল ওরা৷ ঋষিতা হোটেলের মধ্যে ঢুকে এক পাক নেচে নিয়ে বলল, দারুণ না?

বলে অধীপের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেল জানালার ধারে, দ্যাখো, দ্যাখো, কাঞ্চনজঙঘার নাক দেখা যাচ্ছে না? কী চমৎকার ঝকঝক করছে বরফের দৃশ্য।

অধীপ অনেক উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করল দৃশ্যটা, বলল, ওটা নাক কি কান তা কী করে বুঝব? কাঞ্চনজঙ্ঘা না হয়ে রৌপ্যজঙ্ঘাও তো হতে পারে রূপোর মতোই তো মনে হচ্ছে বরফের রংটা৷

––সে যাই হোক, হোটেলের জানালা দিয়ে বরফের টুকরো দেখে কীরকম শিহরন হচ্ছে না শরীরে?

অধীপ হয়তো অনুভব করার চেষ্টা করল তার শরীরের প্রতিক্রিয়া, পরক্ষণে বলল, এতগুলো টাকা বেঘোরে নষ্ট হয়ে গেল সেই শিহরনটা দিব্যি অনুুভব করতে পারছি কিন্তু৷

ঋষিতা রাগমাগ করে বলল, ধুর ধুর, টাকার কথা ভাবলে আর হনিমুন করার মজা পাওয়া যাবে না৷ ভারী তো এসেছি দার্জিলিঙে৷ আমার তো স্বপ্ণ ছিল যদি হনিমুনে যেতে হয়, তবে আল্পসের চূড়ায়৷

––আল্পস? অধীপকে দিশেহারা দেখায়, মানে সেই আল্পস পর্বতমালায়?

––বাহ্ ভাবতে কী দোষ ধরো তুমি আমি পৌঁছে গেলাম আল্পস্ পর্বতমালার চূড়ায় এক নির্জন বাংলোয়৷ রুমে বসে দেখতে পাচ্ছি চারপাশ শুধু বরফ আর বরফ৷ অনেক নীচে থেকে একটা লম্বা পিচরাস্তা এঁকেবেঁকে উঠে এসেছে বাংলোর কাছে৷ হঠাৎ দেখতে পাচ্ছি অনেক নীচে সেই পাহাড়ি পথে ভেড়ার পাল তাড়িয়ে নিয়ে আসছে দুই রাখাল বালক৷ অদ্ভুত তাদের পরনের পোশাক৷ মাথায় লাল ফেট্টি বাঁধা৷ হাতে চমৎকার এক–একটি ঘাড়–বাঁকানো লাঠি৷ সেই ভেড়ার পালের ভিড়ে পথে হঠাৎ আটকে গেল দ্রুত ড্রাইভ করে আসা এক দম্পতি৷ ভেড়ার পালকে যাওয়ার জায়গা করে দিতে পথের একপাশে দাঁড়িয়ে গেল তাদের লাল মারুতি৷ ভেড়ার পাল চলে গেল কিন্তু সেই মারুতি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল স্থানু হয়ে৷ যেন সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য ছেড়ে তারা আর কোনও দিনও যাবে না কোথাও৷ ভাবতে পারো ধু ধু নির্জন পাহাড়ি ল্যান্ডস্কেপে শুধু একটা লাল মারুতি

পরক্ষণে ঋষিতা চোখ নাচিয়ে বলল, কী, এরকম একটি দম্পতির একজন হতে ইচেছ করে তোমার?

অধীপ তার সুন্দরী বৌয়ের ধারাবিবরণী শুনছিল চোখ স্থির করে, এতক্ষণে বলার সুযোগ পেয়ে বলল, তোমার আর এরকম কী কী শখ আছে?

––এরকম কত কত দৃশ্য মগজে ঝিলিক দিচ্ছে সারাক্ষণ৷ যেমন ধরো গ্রিনল্যান্ডের একটি বরফে ঢ়াকা রাস্তা বরাবর আমরা দুজনে যাচ্ছি একটা বিশাল স্লেজগাড়িতে চড়ে৷ আমাদের গন্তব্য একটি এস্কিমোদের অদ্ভুত গড়নের বাড়ি৷ কিন্তু সেই বাড়িটির আর দেখা নেই, অথচ সন্ধে হতে চলল৷ হঠাৎ আমার চোখে পড়ল দূরে চিকচিক করে উঁকি দিচ্ছে স্বপ্নের মতো একটা নদী৷ তার পাশে একটি বিশাল তাবুর অবস্থান৷ ব্যস, অমনি স্লেজগাাড়ির উপর থেকে লাফিয়ে নেমে ছুটতে থাকি তাবুর উদ্দেশে৷

––সেটা মরীচিকা নয় তো?

––বাহ্, মরীচিকা হতে যাবে কেন? স্বপ্নের নদী কখনও মিথ্যে হয়?

––তা মন্দ বলোনি? স্বপ্ণের পোলাওয়ে ঘি বেশি ঢ়ালারই প্রেসক্রিপশন জানা আছে আমাদের৷

––কিন্তু এখন তো তুমি আমি বাস্তবের মুখোমুখি, তাই না? তাকিয়ে দ্যাখো বাইরে৷ রুমের জানলা দিয়ে হাত বাড়ালেই বরফ, ভাবা যায়!

কিন্তু ঋষিতার মজাটা উবে গেল একটু পরেই কেন না কোত্থেকে একটুকরো মেঘ এসে ঘিরে ধরল বরফখণ্ডটিকে৷ অধীপ বলল, হল তো, রুমে বসে কাঞ্চনজঙঘা দেখা!

ঋষিতা কিছুটা সময় নিষ্প্রভ থেকে হঠাৎ বলল, মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে৷ তা হলেও তো মজা কম নয়৷ জানালার ওপাশে ছোট্ট এক টুকরো ব্যালকনি আছে৷ বৃষ্টি হলেই দুজনে হাত ধরাধরি করে খুব ভিজব৷

অধীপ আঁতকে উঠে বলল, এই ঠাণ্ডায় বৃষ্টিতে ভিজবে?

––বাহ্, ঠাণ্ডা কোথায়? দিব্যি নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া৷ এরকম ওয়েদারেই তো ভিজতে আরাম৷ তারপর চিন্তা নেই, শীত করলে আমি গরম করে দেবখনে৷ শীত অমনি জানলা দিয়ে হাওয়া৷

অধীপ জুলজুল করে তাকায় ঋষিতার দিকে, ঋষিতা কী পারে আর কী পারে না তা এখনও পুরো দেখা হয়নি তার৷

কিন্তু মেঘখণ্ডগুলি কিছুক্ষণ এলোমেলো ঘোরাঘুরি করার পর কোথায় যেন উধাও৷ রাতের খাওয়া সেরে দুজনে হোটেলের রুমে ঢুকতে যাবে, হঠাৎ ঋষিতা বলল, কী ফাটাফাটি জ্যোৎস্না উঠেছে দেখেছ? মনে হচ্ছে পরীরা নাচ করবে এক্ষুনি৷

অধীপ তেরচা চোখে তাকায় হোটেলে বাইরে জিরোতে থাকা জ্যোৎস্নারাশির দিকে, বলল, পরীরা নাচতে শুরু না করলেও তুমি যে নাচতে শুরু করেছ তা দেখতেই পারছি৷

––চলো না, জ্যোৎস্নায় দুজনে ভিজি৷

––জ্যোৎস্নায় ভিজবে? কী করে ভিজবে৷ রাস্তায় নেমে গড়াগড়ি খাবে নাকি?

ঋষিতা ভ্রুকুটি করে বলল, রাস্তায় যাব কেন? ছাদে যাই৷

––ছাদে এত রাতে?

––রাত কোথায় সন্ধে পেরিয়েছে এই ঘন্টা তিনেক আগে৷ সাহিত্যের ভাষায় বলা যায় রাত এখনও যথেষ্ট তরুণী৷ নাইট ইজ টু––উ–উ–– ইয়াং৷ চলো না ছাদে?

অধীপ পরিত্রাণ পেতে চাইল, ধুর, ছাদ কোথায়? এই হোটেলে ছাদে যাওয়া যায় নাকি

––কেন যাবে না৷ আমি একফাঁকে টুক করে দেখে এসেছি ছাদে যাওয়ার সিঁড়িটা, বলে অধীপের হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিল, চলো না ছাদে––

বাধ্য হয়ে অধীপকে রওনা দিতেই হয় ঋষিতার ইচ্ছেয়৷ হোটেলের ছাদাটা তত মনোরম নয়, কিন্তু জ্যোৎস্না ঝরে ঝরে ছড়িয়ে পড়ে আছে সারা ছাদে৷ ঋষিতা সারা গায়ে জ্যোৎস্না মেখে ঝপ করে বসে পড়ল হাঁটু ভাঁজ করে, বলল, খুব গান গাইতে ইচ্ছে করছে৷

––গান?

––হ্যাঁ৷ এরকম রাতের কথা ভেবেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, আজ জোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে––

অধীপ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, সবাই গেছে, শুধু আমরা দুজনই যাইনি৷ যাই হোক, তুমি যে গান জানো তা তো বিয়ের আগে পাঠানো তোমার বায়োডাটায় ছিল না?

ঋষিতা হেসে উঠে বলল, আমার আরও অনেক কিছু আছে তা বায়োডাটায় হয়তো ছিল না৷ কিন্তু মশাই, আমি যে–গান জানি তা সবই বাথরুম সঙ্৷ স্নান করতে করতে গাওয়া যায়, আর শুধু হনিমুন ট্রিপে এসে বরের সামনে গাওয়া যায়৷

––কেন? শুধু বরের সামনে কেন?

––যেহেতু ধরে নেওয়া যায় নতুন বৌয়ের গানের সুরে এক–আধটু ভুল হলে নিজগুণে মার্জনা করে নেবেন মিস্টার বর ৷

অধীপ হঠাৎ বলল, কিন্তু বর না হয় কিছু বলবে না৷ কিন্তু দার্জিলিঙের কোনও এক উপকথায় আমি পড়েছি ভুল সুরে গান গাইলে মোরগ ডেকে উঠতে পারে মাঝরাতে৷

ঋষিতার আত্মাভিমানে ঘা লাগল হঠাৎ, বলল, তা হলে গান থাক৷

গান বন্ধ রাখতেই হল কেন না সারা ছাদ ভরে মারকাটারি জ্যোৎস্না ছিল, হঠাৎ কোত্থেকে দার্জিলিঙের আকাশে উড়ে এসে জুড়ে বসল মেঘ৷ এ দেশে মেঘের দাপট একটু বেশিই হয়, ফলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিবর্ষণে ব্যস্ত হয়ে উঠল অধীপ, বলল, যাহ্, তোমার জ্যোৎস্নারাতের বারোটা বাজল বোধহয়৷ এবার আমাদের দুজনকেও বনে যেতে হবে৷

––না যাব না৷ বৃষ্টিতে দুজনে ভিজব৷ তুমি বরং দু–একটা জোক বলো৷

অধীপ খুসি হয়ে বলল, হ্যাঁ, এই মুহূর্তে একটা জোক মনে পড়ল৷ এক নব দম্পতি হনিমুনে গেছে৷ সুন্দরী বৌ পেয়ে বর তো খুবই ডগোমগো৷ খুব ভালো বায়োডাটা৷ সুন্দরী, শিক্ষিতা, গৃহকর্মনিপুণা, চাকুরিরতা৷ কিন্তু যা লেখা ছিল না তা হল বৌটা আসলে পাগল৷

ঋষিতা অমনি রেগেমেগে উঠে পড়ল চোখে বিদ্যুৎ ঝলকিয়ে৷ অধীপকে তার ভ্রম সংশোধনের সুযোগমাত্র না দিয়ে৷ সেই রাতে মেঘের দৌরাত্ম্য ক্রমবর্ধমান হয়, সারা রাত পপাত ধরণীতলে হল বৃষ্টিবিন্দুসমূহ৷ ভোরে বাইরে বেরিয়ে ঋষিতা আবিষ্কার করে দার্জিলিঙের বৃষ্টিস্নাত সৌন্দর্য৷ ঘুমন্ত অধীপকে ডেকে তোলে, দ্যাখো, দ্যাখো, কী দারুণ লাগছে শহরটা মনে হচ্ছে বরফ পড়েছে৷ বরফ পড়লে যা হত না!

অধীপ গভীর ঘুমে নিবিষ্ট ছিল, ধড়মড়িয়ে উঠে বসে বলল, ওহ্, আমি ভেবেছি কী না কী হয়েছে তুমি যে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছ তা কী করে বুঝব?

কিন্তু একটু পরেই খবর এল দার্জিলিঙে নয়, কাল রাতে নাকি বরফ পড়েছে গ্যাংটকে৷ খুব সুন্দর লাগছে গোটা গ্যাংটক শহর৷ দার্জিলিঙের ট্যুরিস্টরা লোটাকম্বল বেঁধে ছুটছে গ্যাংটকের বরফ দেখতে৷

শুনেই ঋষিতার চোখেমুখে রামধনুর সাত রং, বলল, চলো, আমরাও গ্যাংটকে যাই৷

অধীপ আঁতকে উঠে বলল, সে কী, কালই চারদিনের ভাড়া গুনলাম এখানে৷ আবার গচ্চা যাবে টাকাটা

ঋষিতার কোনও ভাবান্তর নেই, যাক না গচ্চা৷ এত কাছে এসে বরফ পড়ার দৃশ্য জীবনে কি আর দেখতে পারবে? চলো, শিগগির গুছিয়ে নাও সব৷

অধীপ বুঝে পাচ্ছে না তার নতুন বৌ কখন কী বলবে৷ ঋষিতার তাড়ায় আবারও গুছোতে বসল ব্যাগ–বাক্স৷ আবার একটা মারুতি ভাড়া করে গ্যাংটকে পৌঁছে গেল দুজনে৷ যাওয়ার পথে আকাশ মেঘলা সহ ঝিরঝিরে বৃষ্টি, কিন্তু বরফের ব–ও নেই সেখানে৷ আবার একটা হোটেলে তিনদিনের টাকা গুনে দিয়ে এসে অধীপ দেখে ঋষিতার মুখ ব্যাজার, মুচকি হেসে বলল, বরফ নেই বলে মন খারাপ? কুমোরটুলিতে বরফ তৈরি হচ্ছে৷ এখনও এসে পৌঁছোয়নি৷

ঋষিতা চোখে আগুন ছুড়ছে দেখে আবার বলল, তা হলে কী করব গ্যাংটকে থাকবে, না এখন বলবে ইউনথাম চলো৷

ঋষিতা মুখ গোঁজ করে গিয়ে ঢুকে পড়ল হোটেলের রুমে৷ বাইরে বেরোতেই চাইল না৷ বেরোল একেবারে সন্ধের পর রাতের খাওয়ার তাগিদে৷ বাইরে বেরোতেই শোনে চেঁচামেচি হচেছ কোথাও৷ ট্যুরে এসে চেঁচামেচি ইত্যাদি শুনলে ছ্যাঁত করে ওঠে বুকের ভিতরটা৷ অধীপকে জিজ্ঞাসা করল, দ্যাখো তো, কী হচ্ছে বাইরে৷

অধীপ একটু পরেই ফিরে এসে বলল, কী জানি কী হচ্ছে হয়তো বৃষ্টিফিস্টি হচ্ছে৷ ট্যুরিস্টরা সব বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়৷ হই হই করে ভিজছে সবাই৷

কলকাতার ট্যুরিস্ট গ্যাংটকে এসে বৃষ্টিতে ভিজছে শুনে ঋষিতার যেন কেমন–কেমন ঠেকল হঠাৎ৷ বলৱল, চলো তো, দেখি ব্যাপারটা৷

বাইরে বেরিয়ে হাড় কাঁপানো শীতের মধ্যে ঋষিতা দেখল মানুষের মেলা বসে গেছে হোটেলের চত্বর পেরিয়ে প্রধান রাস্তা পর্যন্ত৷ সবারই পরনে শীতের ভারী পোশাক৷ সেই পোশাকের উপর জমে আছে টুকরো টুকরো বরফ৷ কেউ ভিজছে, ভিজতে ভিজতে নাচছে, কেউ উবু হয়ে বসে বরফ কুড়োচ্ছে ইচ্ছেমতো৷ ঋষিতা হঠাৎ লাফিয়ে উঠে বলল, বরফ পড়ছে৷ বরফ পড়ছে৷ শিগগির চলো৷ আমরাও বরফ কুড়োই৷

অধীপ শিউরে উঠে বলল, এখন রাতের বেলা বরফ কুড়োবে?


ঋষিতা তার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেল হোটেলের চত্বরে যেখানে নানা বয়সের আরও বহু মানুষ বরফভেজা হয়ে হই হই করছে৷ ঋষিতার চুলে কপালে কার্ডিগানে ভর্তি হয়ে গেছে বরফকুচি৷ হাতেও লোফালুফি করছে টুকরো টুকরো বরফ৷

অধীপ আর কী করে, তারও সারা শরীর জুড়ে বরফের আস্তরণ৷ কিন্তু তাতেও রেহাই নেই৷ ঋষিতা ততক্ষণে তার দিকে ছুড়ে দিচ্ছে বরফের টুকরোগুলি, আর হাততালি দিয়ে বলছে, কী মজা, কী মজা

অধীপ সেই আক্রমণ ঠেকাচ্ছে আর বলছে, আর নয়৷ আর নয়৷ বেশি ভিজলে কিন্তু––

ঋষিতা হৈ হৈ করে উঠে বলল, ও কিছু হবে না, দেখছ না বাচ্চাগুলোও কেমন ভিজছে৷ বরফে ভিজব বলেই তো এত কাণ্ড করা৷ বলছে আর বরফের টুকরো ছুড়েই যাচ্ছে অধীপের দিকে৷


ঘন্টাখানেক এমন বরফকেলি করার পর রণে ক্ষান্ত দেয় ঋষিতা৷ ততক্ষণে দুজনের শরীরেই বেশ শীত ধরে গেছে৷ অধীপ রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলল, আজ নির্ঘাত নিউমোনিয়ায় ধরবে আমাদের৷


ঋষিতা তার ভাষণ নস্যাৎ করে দিয়ে বলল, কিচ্ছু হবে না৷ আজ রাতে বরফে আগুন জ্বালব আমরা৷ এমন আগুন জ্বালব যে নিউমোনিয়া ছুটে পালানোর পথ পাবে না৷


Comments


ssss.jpg
sssss.png

QUICK LINKS

ABOUT US

WHY US

INSIGHTS

OUR TEAM

ARCHIVES

BRANDS

CONTACT

© Copyright 2025 to Debi Pranam. All Rights Reserved. Developed by SIMPACT Digital

Follow us on

Rojkar Ananya New Logo.png
fb png.png

 Key stats for the last 30 days

bottom of page