top of page
Search

বাইকে সাতকোশিয়া ভ্রমন, ১০ টি স্বাস্থ্যকর রান্না..

Updated: Dec 3, 2023

বছর শেষের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাইকে ওড়িশার সাতকোশিয়া, কটক; কলমে সরোজ মজুমদার। সঙ্গে রইলো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের জন্য ভীষন কম তেল মশলায় বানানো সুস্বাদু সব রান্নার রেসিপি।





ওড়িশার সাতকোশিয়া আর কটক ভ্রমণ

সরোজ মজুমদার

২১শে জানুয়ারি ২০২৩, শনিবার , ১ম দিন (কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওড়িশার সাতকোশিয়া) :


ওড়িশার কটক এ নেতাজীর জন্ম ভিটেয় যাওয়ার ইচ্ছেটা অনেকদিনের ছিল । তার সাথে ট্যুর প্ল্যান এ জুড়ে নিলাম ওড়িশার সাতকোশিয়া টাইগার রিসার্ভ ফরেস্ট কেও। রাত ২: ২০ তে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিয়ে, রেডি হয়ে ভোর ঠিক ৩:২৭ মিনিটে বেলঘরিয়ার বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ওড়িশার সাতকোশিয়ার উদ্দেশে। এই ভ্রমণে আমার সঙ্গী হলেন বনগাঁও এর পিযুশদা (পিযুষ কান্তি ঘোষ) তাঁর কেটিএম এডভেঞ্চার ৩৯০ বাইক নিয়ে।


বালি ব্রিজ, রাজচন্দ্রপুর হয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৬ / এন.এইচ-১৬ (NH-16) বা বোম্বে রোড ধরে, ৬৮ কিমি রাইড সেরে ভোর ৪:৪০ এ কোলাঘাটে পৌঁছে চা পানের একটা বিরতি নিলাম। কোলাঘাট পেরিয়ে রাইড শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ কুয়াশা ও ঠান্ডার সম্মুখীন হলাম। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ভীষণ ভাবে কমে এলো আর সঙ্গে বাইকের গতিও মন্থর হয়ে গেল। ঠান্ডা এতটাই লাগতে শুরু করলো যে, রাস্তায় এক জায়গায় বাইক দাড়করিয়ে বাইকের টপ-বক্স থেকে রেইন কোটের উপরের পার্ট বের করে রাইডিং জ্যাকেটের উপর পরে নিলাম। ১২৩ কিমি পথ পেরিয়ে খড়্গপুর সিটি বাইপাস দিয়ে বামদিকে টার্ন নিয়ে চেন্নাই রোড বা ন্যাশনাল হাইওয়ে ৬০ / এন.এইচ-৬০ (NH-60) তে প্রবেশ করলাম সকাল ৫:৫৫ মিনিটে।

ওড়িশার সাতকোশিয়া টাইগার রিসার্ভ ফরেস্টে থাকার ব্যাপারে এবার কিছু বলে নেয়া যাক । ওড়িশার সাতকোশিয়া টাইগার রিসার্ভ ফরেস্টের ভিতরে থাকার জন্য কোনো বেসরকারি হোটেল নেই । আপনাকে থাকতে হবে ওড়িশা ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এর নেচার'স ক্যাম্পে । ফরেস্টের ভিতরে সাতকোশিয়া নেচার ক্যাম্পের অন্তৰ্গত ছোটকেই, পুরুনাকোটে, টিকারপাড়া, তারাভা ও বাঘামুন্ডা এবং সাতকোশিয়া স্যান্ডস রিসোর্ট - বাদমূল এ থাকা যায়।


ওডিশা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট https://www.ecotourodisha.com থেকে আপনাকে অনলাইনে কটেজ বা টেন্ট বুক করতে হবে । বুকিংয়ের সময়েই অনলাইন পেমেন্ট করে দিতে হবে । আমি ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ এ সাতকোশিয়া নেচার ক্যাম্পের অন্তৰ্গত পুরুনাকোটেতে টেন্ট বুক করি ২১ ও ২২ জানুয়ারি দুরাতের জন্য । একটি টেন্টে দুজন থাকা যায় এই হিসেবে দুরাতের জন্য থাকা খাওয়াসহ কটেজ ভাড়া, এন্ট্রি -ফী ও ট্রানসাকশান চার্জসহ মোট খরচ পড়েছিল ৭৬৬৮ টাকা । এখানকার নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন হলো আঙ্গুল।

ন্যাশনাল হাইওয়ে ৬০ ধরে রামপুরা, দাঁতন হয়ে সোনাকানিয়াতে এসে পশ্চিমবঙ্গের বর্ডার পেরিয়ে ওড়িশা রাজ্যের জলেস্বরে এসে পৌছালাম । রাস্তায় মাঝে একজায়গায় আজকের সকালের প্রাতরাশ সেরে নিলাম । রাস্তায় চলতে চলতে বেশ কয়েকবার পুরুনাকোটে নেচার ক্যাম্পের ম্যানেজার বিরজুদার ফোন এলো । বিরজুদা জানতে চাইছিলেন আমি এখন কোথায় আছি, কখন ক্যাম্পে পৌছাব ইত্যাদি । কটকের একটু আগে মানগুলি চওকে এসে ন্যাশনাল হাইওয়ে - ৬০ কে ছেড়ে ডানদিকের ৫৫ নং জাতীয় সড়কে ঢুকে পড়লাম। এখান থেকে সাতকোশিয়া পুরুনাকোটে নেচার ক্যাম্পের দূরত্ব ১৩৬ কিমি । এর পর ৬৫৫ নং জাতীয় সড়কে প্রবেশ করলাম। এই রাস্তায় আমের মুকুলে ভর্তি প্রচুর আমগাছ ও রাস্তার দুধারে প্রচুর পলাশ গাছ দেখতে পেলাম । বসন্তে নিশ্চয় পলাশের আগুন লাগে এখানে আমাদের পুরুলিয়ার মতো । আমের মুকুলের গন্ধে প্রাণ শৈশবের ন্যায় কুণ্ঠাহীন আনন্দে ভোরে উঠলো।

ওরান্ডা, দুদুরকোটে, বানতলা হয়ে পম্পাসার ফরেস্ট চেক পোস্টে এসে যখন পৌছালাম তখন সময় দুপুর ২:৪৫ । চেক পোষ্টের কাউন্টারে নেচার ক্যাম্পের অনলাইন বুকিং স্লিপ ও আমাদের পরিচয়পত্র হিসাবে আঁধার কার্ড দেখিয়ে আমাদের ফরেস্টের মধ্যে প্রবেশের অনুমতি মিললো । ঘন সবুজে ঘেরা ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চললাম । অবশেষে ১২ ঘন্টার রাইড সেরে বিকেল ৩:২৭ এ পুরুনাকোটে নেচার ক্যাম্পে এসে পৌছালাম । টেন্টের বদলে আমাদের রুম মিললো । তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আমরা লাঞ্চ সেরে নিলাম । রুমে খানিক্ষন রেস্ট নিয়ে সন্ধ্যানাগাদ পকোড়া ও চা খেয়ে ফরেস্টের মধ্যে কিছুক্ষন ঘোড়া ঘুড়ি করে পুরুনাকোটের ছোট্ট বাজারটিতে এসে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার আমাদের নেচার ক্যাম্পে ফিরেএলাম । রাত ৯টা নাগাদ বিরজুদা ডিনার করতে ডাকদিল । ডিনার সেরে বিরজুদা একটি বারো টর্চ লাইট নিয়ে জঙ্গলের ধারে হরিণ দেখাতে নিয়ে গেলো । বেশ ঠান্ডা লাগছিলো । রাতের অন্ধকারে টর্চের আলোয় ভীষণ সুন্দর একদল হরিণ দেখতে পেলাম । হরিনের দলকে শুভরাত্রি জানিয়ে রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।




২২শে জানুয়ারি ২০২৩, রবিবার , ২য় দিন (সাতকোশিয়া টাইগার রিসার্ভ ফরেস্ট, ওড়িশা ) :


সকাল ৫:৩০ এ ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে দেখি চারিদিক ঘন কুয়াশায় ঢাকা আর বাইরে দারুণ ঠান্ডা । কুয়াশায়র মধ্যে একটু এদিক ওদিক পায়চারি করে রুমে ফিরেএসে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে সকাল ঠিক ৭টার সময় বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম । প্রথমে পুরুনাকোটের ছোট্ট বাজারটিতে এসে একটু চা খেয়ে নিলাম । সাতকোশিয়া টাইগার রিসার্ভ ফরেস্টর সকালবেলার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেদিয়ে এগিয়েচললাম ছোটকেই এর দিকে । পথে মাঝে মাঝে কিছু জনবসতি এলাকা মিললো । ছোটকেই জঙ্গলের কোর এরিয়া প্রবেশের চেক পোস্টের সামনে এসে উপস্থিত হলাম । এখানে উপস্থিত বন দপ্তরের একজন কর্মী জানালেন যে কোর এরিয়ার মধ্যে প্রবেশ নিষেধ । পায়ে পায়ে জঙ্গলের মধ্যে কিছুটা ঘুরে, ছোটকেই নেচার ক্যাম্প দেখে আমাদের পুরুনাকোটে নেচার ক্যাম্পে ফিরে এসে দেখি আমাদের ব্রেকফাস্ট রেডি । গরম গরম প্রাতরাশ সেরে সাথে এক কাপ চা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম টিকারপাড়ার উদ্দেশ্যে। চলার পথ ও পথের ধারের প্রাকৃতিক শোভা মনোমুগ্ধকর । চলার পথে সুন্দর একটি পাথরে ভর্তি পাহাড়ি নদীর দেখা পেলাম । পাথরে পাথরে পা রেখে নদির এপার ওপার করলাম কয়েকবার । টিকারপাড়া চেক পোস্ট পেরিয়ে একটু এগিয়ে রাস্তার বাঁক নিতেই অপরূপ সুন্দর মহানদির পাড়ে এসে দাঁড়ালাম । মহানদি এখানে দারুন প্রশস্ত আর বিপরীত দিকে নদির পারটি সোনালী বালুতে বিস্তৃত তটভূমি তৈরি করে পাহাড়ের কোলে গিয়ে মিশেছে। নদীর পারে জেলেদের নৌকা বেঁধে রাখা আছে। গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি ছল করে দেখা অনুখন, এর মতোই মহানদী এখানে সুন্দর।


পার্কিং লট এ বইকে রেখে আমরা প্রবেশ করলাম, মহানদী নদির তীরে অবস্থিত টিকারপাড়া ঘড়িয়াল রিসার্চ এন্ড কনসারভেশন সেন্টারে । কনসারভেশন সেন্টারের ভিতর টি ভীষণ সুন্দর, ছোটদের এবং বড়দের বিভিন্ন রকম এক্টিটিভিস এর উপকরণ এখানে আছে । ওয়াচ টাওয়ার এ উঠে মহানদি নদিকে উপর থেকে দেখার অভিজ্ঞাতা দারুন । কনসারভেশন সেন্টারের ভিতরে অনেক ঘড়িয়াল এর দেখা পেলাম । প্রকাণ্ড আকারের কিছু ঘড়িয়াল কে দেখলাম জল থেকে উপড়ে উঠে রোদ পোয়াচ্ছে । এখানে মহানদি নদির পাড়ে নদিতে বোটিং এর ব্যবস্থা আছে । একটি বোটে সর্বাধিক আট জন মানুষের ৪০ মিনিটের বোটিংয়ে খরচ পরবে ১৬০০ টাকা । সব মিলিয়ে আমরা সাতজন একত্রিত হয়ে একটি বোট ভাড়া করে নিলাম । বন দপ্তরের যারা কর্মী আছেন তারাই সব ব্যবস্থা করে দেবেন । অফিস থেকে বোটিং এর টিকিট নিয়ে আমরা সবাই চললাম মহানদি নদির পাড়ে যেখানে বোট রাখা আছে । সিঁড়ি বেয়ে উপর থেকে অনেকটা নিচে মহানদি নদির তীরে এসে বোটে উঠে পড়লাম। লাইফ জ্যাকেট পরে নিয়ে বোটের চেয়ারে বসে পড়লাম। আমাদের বোট যাত্রা শুরু হলো।

মহানদীর জলে সাদা ফেনা তৈরি করতে করতে বোট চলতে থাকলো । মহানদীর বুকে ভেসে চলতে চলতে নদীর দুপাড়ে শুকনো তটে অনেক ঘড়িয়ালকে আরামে রোদ পোয়াতে দেখলাম । নদীর পারে বিভিন্ন জায়গায় পাথরের উপরে ছোট ছোট কচ্ছপের বাচ্চাদের চুপটি করে রোদের আমেজ নিতে দেখা গেলো । বিভিন্ন রকমের চেনা অচেনা পাখির সমাবেশ আছে এখানে । কয়েকটি পাখিকে তীব্র গতিতে উড়ে এসে নদীর বুক থেকে নির্ভুল নিশানায় মাছ ধরে আবার উড়ে যেতেও দেখা গেলো । মহানদির দুপাড়ের সবুজ পাহাড়ের সারি অনবদ্য । ৪০ মিনিটের অসাধারণ বোট যাত্রা শেষ করে আমরা সবাই আবার বোটিং পয়েন্টে ফিরে এলাম সকাল সাড়ে এগারোটায় । টিকারপাড়া ঘড়িয়াল রিসার্চ এন্ড কনসারভেশন সেন্টার থেকে বেরিয়ে বাইক পার্কিং এ চলে এলাম ।


বাইক নিয়ে মহানদীর তীর বেয়ে বেশ কিছুটা সময় ধরে ঘোরা ঘুরি করলাম । টিকারপাড়াতে একটি চায়ের দোকানে চা খেয়ে পুরুনাকোটে নেচার ক্যাম্পে ফেরার পথ ধরলাম । ক্যাম্পে ফিরে এসে স্নান ও লাঞ্চ সেরে একটু রেস্ট করে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আবার বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম টিকারপাড়ার উদ্যেশ্যে, সাতকোশিয়া গর্জ থেকে সূর্যাস্ত দেখবো বলে । খুব ভালো লাগলো এখানকার সূর্যাস্ত । সাতকোশিয়া পাহাড়ের মাথায় সূর্য লুকিয়ে পড়তেই ক্যাম্পে ফেরা শুরু করলাম । সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে সাতকোশিয়ার জঙ্গলের ভিতর দিয়ে বাইক চালানো মনে শিহরণ জাগালো । ক্যাম্পে ফিরে দেখি আমাদের ক্যাম্পের ম্যানেজার আমাদের কথা মতো বনফায়ার ও বামবু চিকেন এর সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন, শুধু আগুন লাগাবার অপেক্ষা ।


সন্ধ্যা ঘন হতেই বনফায়ার শুরু হয়ে গেল আর তার সাথে সাথে তৈরি হতে থাকলো আমাদের বনফায়ার ও বামবু চিকেন । হঠাৎ ক্যাম্পের চারপাশের জঙ্গলে একটা শব্দ শুনে ক্যাম্পের ম্যানেজার টর্চ নিয়ে এসে হাঁক দিলেন আসুন দেখে যান হরিণ এসেছে । আমরা সবাই ছুটে গিয়ে টর্চের আলোয় দেখি জঙ্গলের মধ্যে একদল হরিণ । ক্যাম্পের ম্যানেজার জানালেন যে লোকজন না থাকলে হরিনের দল রাতে ক্যাম্পের বারান্দায় এসে শুয়ে থাকে । বামবু চিকেন সহ রাতের আহার সেরে শুয়ে পড়লাম ।


২৩শে জানুয়ারি ২০২৩, সোমবার , ৩য় দিন (সাতকোশিয়া থেকে কটক, ওড়িশা ) :


ভোর ৪ টেয় ঘুম থেকে উঠে সমস্ত কিছু সেরে সকল ৬ টায় বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সাতকোশিয়া থেকে কটক এর উদ্দেশ্যে, দূরত্ত ১৩৮ কিমি ।

সকাল বেলায় সাতকোশিয়া ফরেস্টের মধ্যে হালকা কুয়াশা দেখলাম । পম্পাসার ফরেস্ট চেক পোস্ট হয়ে এগিয়ে চললাম বানতলা, দুদুরকোটে হয়ে মধুসূদন সেতু পেরিয়ে কটক শহরে চলে এলাম । কটকের রিং রোড ধরে ‘প্রবীর রেসিডেন্সি ইন’ হোটেলে এসে পৌছালাম সকাল ১০:৩০ এ । স্নান সেরে বাইক নিয়ে সোজা চলে এলাম নেতাজি জন্মস্থান সংগ্রহালয় – কটক, এ অর্থাৎ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস এর জন্ম ভিটেয় দুপুর ১২টায় । আজ ২৩শে জানুয়ারি নেতাজির জন্ম দিনে এখানে আজ প্রবেশ অবাধ ও বাড়ির ভিতরে ফোটোগ্রাফি তে কোনো নিষেধ নেই । অন্য দিনে এখানে প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা ও বাড়ির ভিতরে ফোটোগ্রাফি বারণ । নেতাজির জন্ম দিনে তাঁর জন্ম ভিটেয় উপস্থিত হতে পেরে ভীষণ গর্ব ও আনন্দ অনুভব হলো - জয় হিন্দ ।


মূল প্রবেশ দ্বার দিয়ে ঢুকতেই নেতাজির একটি মূর্তি আছে আর চারিদিক ফুলের বাগানে সুসজ্জিত, তার মধ্যে সাদা রঙের দোতালা বাড়ি । সিঁড়ি বেয়ে দোতালায় উঠে যে ঘরটিতে নেতাজির জন্ম হয়ে ছিল তার সামনে এসে দাঁড়ালাম ।


মনে ভেসে এলো কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর লেখা কিছু কথা, - "তুমি তো দেশের জন্য সমস্ত দিয়েছো, তাই তো দেশের খেয়া-তরী তোমাকে বহন করিতে পারে না, দুর্গম পাহাড় পর্বত তোমাকে ডিঙ্গাইয়া চলিতে হয় ....কারাগার তো শুধু তোমাকে স্মরণ করিয়াই নির্মিত হইয়াছিল সেই তো তোমার গৌরব! মুক্তিপথের অগ্রদূত! পরাধীন দেশের হে রাজবিদ্রোহী! তোমাকে শতকোটি নমস্কার!" একে একে পুরো বাড়িটির সমস্ত ঘর গুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম যেখানে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে নেতাজির মূর্তি, ফটো, তাঁর ব্যাবহৃত জিনিসপত্র ।

এরপর দুপুর ১টার সময় এখান থেকে বেরিয়ে মেইন রাস্তায় এসে একটি দূর্গা মন্দিরের পাশে অপেক্ষা করতে থাকলাম সজলদার জন্য । সজলদা অর্থাৎ ‘সজল শেঠ’ একজন কটক নিবাসী সিনিয়র সোলো রাইডার, যার সাথে আমার ফেসবুকে পরিচয় । উঁনি একাধিকবার সোলো / একাকী লাদাখ রাইড করেছেন । উনি দারুন সুন্দর ট্রাভেল ব্লগ লেখেন । আমি ওনার ট্রাভেল ব্লগ পরে অনুপ্রাণিত হই । এরপর সজলদা এলেন দুজন দুজনকে দেখে জড়িয়ে ধরলাম, অনেক কথা হলো এবং বিকেল ৪টের সময় সজলদা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দেখা করতে বললেন , উনি আজকে আমাদের পুরো কটক শহরটি ঘুরিয়ে দেখাবেন। এবার আমরা হোটেলে চলে এলাম একটু বিশ্রামের জন্য।


বিকেল ৪টের সময় সজলদার বলা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে দেখি সজলদা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন । প্রথমে গেলাম ‘অহিংসা গান্ধী পার্ক’ যা কাঠজোডি নদীর তীরে অবস্থিত । সজলদা আমাদের কটকের বিখ্যাত দহিবড়া খাওয়ালেন । এরপর সজলদা আমাদের সাথে নিয়ে একে একে বরাবতী / বড়বাটি দুর্গ , বরাবতী স্টেডিয়াম , ডিয়ার পার্ক, বালিযাত্রা গ্রাউন্ড, গদগদিয়া টেম্পল, কটক চন্ডি টেম্পল, যোব্রা পার্ক ঘুরিয়ে নিয়ে এলেন কটক সুইটস স্টলে । কটক সুইটস থেকে কটকের কিছু প্রসিদ্ধ মিষ্টি কিনে সজলদাকে এতোখানি সময় দেয়ার জন্য অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়ে হোটেলে ফিরেএলাম রাত ৮ টায় । টক দই, রুটি, আর আপেল সহযোগে রাতের খাবার সেরে শুয়ে পড়লাম: আগামীকাল বাড়ি ফেরার পালা।


২৪শে জানুয়ারি ২০২৩, সোমবার , ৪র্থ দিন (কটক, ওড়িশা থেকে কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ) :


ভোর ৩টের সময় মোবাইলে অ্যালার্ম শুনে উঠে পড়লাম । স্নান সেরে নিয়ে বাইকে লাগেজ বেঁধে ভোর ৪:২৫ এ বাইক স্টার্ট করলাম । আজকের দূরত্ব ৪২৮ কিমি । মহানদির সেতু পেরিয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে ৬০ / এন.এইচ-৬০ (NH-60) ধরে ভদ্রক, বালাসোর, জলেস্বর হয়ে ওড়িশাকে টা টা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলাম । চলতে চলতে সকাল ৮টা নাগাদ আজকের প্রাতরাশ সেরে নিলাম । খড়্গপুর সিটি বাইপাস দিয়ে ডানদিকে টার্ন নিয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৬ / এন.এইচ-১৬ (NH-16) বা বোম্বে রোড ধরে মানবাজারে এসে বাইকের অভিমুখ আবার ডানদিকে করে নিলাম । চললাম ফুলের রাজ্য পাঁশকুড়ার খিরাইতে । ফুলের রাজ্যে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ফিরে এলাম ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৬ তে । রাস্তায় একটু চা পানের বিরতি নিলাম । কোলাঘাট, উলুবেড়িয়া, আলমপুর, বালি, ডানলপ হয়ে বেলঘরিয়ার বাড়িতে পৌছালাম দুপুর ২ টোর সময় । আমার ১২১০ কিমির ওড়িশা রাইড এর পরিসমাপ্তি হলো ।



স্বাস্থ্যকর ১০টি রান্না ...


সমিতা হালদার


গ্রিলড চিকেন সাথে কর্ন রাইস

কী কী লাগবে

বাসমতি চালের ভাত, মাখন, রসুন কুচি, কুচোনো সবজি, সুইট কর্ন, চিকেন ব্রেস্ট, নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো, লেবুর রস, দই, জিরে গুঁড়ো


কীভাবে বানাবেন

চাল ধুয়ে রাখুন। চিকেনে দই, গোলমরিচ, একটু জিরা গুড়োঁ চাইলে গরম মসলা দিয়ে মাখিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। ভাত বানিয়ে, অল্প বাটারে রসুন আর অনান্য সবজি দিয়ে সাঁতলে ভাতে ঢেলে দিন। চিকেন এ লেবুর রস, নুন, গোলমরিচ মাখিয়ে নিন ফ্রাইপ্যানে ৫-৭ মিনিট সেঁকে ভাতের সাথে খাবেন।

চিকেন পোলাও

কী কী লাগবে

মুরগির মাংস, ঘি, পেঁয়াজ কুচি, আদা রসুন বাটা, বাসমতি চাল, নুন, হলুদ গুঁড়ো, কাঁচা লঙ্কা, বিরিয়ানি মশলা


কীভাবে বানাবেন

কুকারে এক চামচ ঘি দিয়ে চিকেন ছাড়ুন। একটু পেঁয়াজ এ সাঁতলে নিয়ে অল্প আদা রসুন বাটা, বাসমতি চাল দিয়ে, নুন, হলুদ দিয়ে কাঁচা লংকা দিয়ে একটু নেড়ে গরম জল দেবেন। ঢেকে ধিমে আঁচে রান্না করুন। চাল এক কাপ নিলে জল দেড় কাপ, এতে এক চামচ বিরিয়ানি মসলা দিতে পারেন। আরো একটু ঘি মিশিয়ে পরিবেশন করুন।



সিজনাল সালাদ


কী কী লাগবে

পছন্দ মতো ফল, লেবুর রস, বিট নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো, চাট মশলা, পুদিনা পাতা


কীভাবে বানাবেন

ফল কেটে রাখুন। লেবুর রস, গোল মরিচ দিয়ে মিক্স করে নিন। অল্প বিট নুন দিতে পারেন আর চাট মসলা। শেষে ফলে সব মিক্স করে একটু পুদিনা পাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

হেলদি স্যুপ


কী কী লাগবে

বিট, গাজর, রসুন, আদা, জিরা গুঁড়ো, ফ্রেশ ক্রিম, মাখন

কীভাবে বানাবেন

বিট, গাজর কুকারে দিয়ে নুন দিয়ে বয়েল করে নিন, মিক্সারে মিহি করে বেটে নিন।

পাত্রে বাটার গরম করে তাতে রসুন কুচি, আদা কুচি দিয়ে নেড়ে নিয়ে পেস্টটা আর পরিমান মতো জল দিন। এবার ফুটে গেলে এতে নুন, গোলমরিচ, জিরা গুঁড়ো দিতে হবে। সব শেষে ফ্রেশ ক্রিম মেশাতে হবে।


সিকিমের থুকপা


কী কী লাগবে

২০০ গ্রাম নুডলস

২০০ গ্রাম বোনলেস চিকেন

গাজর

ক্যাপ্সিকাম

ধনেপাতা

রসুন কুচি

আদা কুচি

স্প্রিং অনিওয়ন

জিরা গুড়ো

লেবুর রস

পেঁয়াজ কুচি

হলুদ

হিং

সাদা তেল

চিকেন স্টক

গোলমরিচ


কীভাবে বানাবেন

পেঁয়াজ, রসুন আদা, জিরা, হিং, গোলমরিচ সব মিক্সারে পেস্ট করে, একটা বড় পাত্রে তেল গরম করে এই পেস্ট দিয়ে ভাজতে হবে ৫-৬ মিনিট।

এরপর এতে চিকেন স্টক দিয়ে বয়েল করতে হবে। এতে ১০ মিনিট পর দিতে হবে বোনলেস চিকেন পিসেস।ফুটতে দিতে হবে।

একটা আলাদা পাত্রে জল গরম করে নুডলস সেদ্ধ করে রাখতে হবে।

চিকেন সেদ্ধ হয়ে গেলে সব সবজি দিয়ে ২-৩ মিনিট ফোটাতে হবে। লেবুর রস মেশাতে হবে, এবার বাউলে সেদ্ধ চাউমিন দিয়ে তার ওপর স্টক ঢেলে স্প্রিং অনিয়ন, ধনেপাতা, সাজিয়ে রেডি।

সঞ্চিতা দাস

ছোলা চাট


কী কী লাগবে

দেড় কাপ সেদ্ধ ছোলা

১/৪ কাপ পেঁয়াজ কুচি

১ টি টমেটো কুচি

১/২ টি শসা কুচি

১/৪ কাপ ধনে পাতা কুচি

১ টি সেদ্ধ আলু টুকরো করে কাটা

২ টি কাঁচা মরিচ কুচি (ঐচ্ছিক)

১/৪ চা চামচ ভাজা জিরা গুঁড়া

দেড় চা চামচ চিলি ফ্লেকস

১/২ চা চামচ চাট মাসালা

১/৪ চা চামচ আমচুর পাউডার

২ টি সেদ্ধ ডিম ( টুকরো করে কাটা )

১/৪ কাপ তেঁতুল চাটনি

স্বাদ মত বিট লবন

স্বাদ মত লবন

কীভাবে বানাবেন

একটি বড় বাটিতে সেদ্ধ ছোলা এবং আলু নিন।

এবার এতে টমেটো, পেঁয়াজ, শসা, ধনিয়া পাতা ও সবুজ কাঁচা মরিচ যোগ করুন. সব শুকনো মশলা গুঁড়ো ,স্বাদ মত বিট লবন এবং লবণ যোগ করুন। আবার সবকিছু ভালমত মিশিয়ে নিন।

এখন স্বাদ মত তেঁতুল চাটনি দিয়ে মিশিয়ে নিন। কাটা ডিম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

দালিয়া আর ছোলার ডালের খিচুড়ী


কী কী লাগবে

দালিয়া ২ কাপ

ছোলার ডাল ১ কাপ

সবজি( গাজর, বিনস, কড়াইশুঁটি, টমেটো)

নুন চিনি স্বাদমতো

হলুদ গুঁড়ো ১ চামচ

জিরে গুঁড়ো ১ চামচ

চেরা কাঁচা লঙ্কা ৪ টি

সাদা জিরে ১ চামচ

তেজপাতা ১ টা

শুকনো লঙ্কা ১ টা

সর্ষের তেল ২ চামচ

ঘী ১ চামচ

গরম মশলা গুঁড়ো ১ চামচ


কীভাবে বানাবেন

মাপ মতো জল দিয়ে ছোলার ডাল সেদ্ধ করে রাখুন। তার মধ্যে আরো কিছুটা জল, সবজি, দালিয়া, নুন, হলুদ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন।

তেল গরম করে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, সাদা জিরে ফোড়ন দিয়ে তার মধ্যে খিচুড়ী ঢেলে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন। ওপর থেকে ঘী গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

ওটসের স্মুদি


কী কী লাগবে

১টি আপেল, ২০ গ্রাম ওটস, ৪টে আমন্ড, ১টি খেঁজুর, ১ চা চামচ দারচিনি গুঁড়ো, দেড় কাপ দুধ, দেড় গ্লাস জল, ৩টে বরফ, পাম্পকিন সিড, ফ্লেক সিড


কীভাবে বানাবেন

রাতে চারটে আমন্ড ভিজিয়ে রাখুন। সকালে উঠে খোসা ছাড়িয়ে নিন। অন্য দিকে, আপেল কেটে টুকরো করে নিন। তাতে ওটস, খেঁজুর, দারুচিনি গুঁড়ো দিয়ে মিক্সিতে ব্লেন্ড করে নিন। ব্লেন্ড করার সময় দুধ, জল দিয়ে দিন। ব্রেন্ড হয়ে গেলে একটি গ্লাসে ঢেলে নিন। এবার তাতে দিন বরফের টুকরো। নুন ছড়িয়ে নিলে তৈরি আপেল ও ওটসের স্মুদি। সিডস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

আটা আর মেথির পরোটা


কী কী লাগবে


কুচোনো মেথি শাক ১কাপ, আটা ২০০ গ্রাম, নুন চিনি স্বাদমতো, লঙ্কা গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, গোটা জোয়ান ১ চা চামচ, ঘি ২ চা চামচ, ভাজার জন্য সাদা তেল পরিমাণ মতো।


কীভাবে বানাবেন


মেথি শাক সেদ্ধ করে নিন। আটা, নুন চিনি, লঙ্কা গুঁড়ো, গোটা জোয়ান, ঘি একসাথে মিশিয়ে পরিমাণ মতো গরমজল দিয়ে ঠেসে ঠেসে মেখে নিন। লেচি কেটে বেলে তাওয়াতে তেল ব্রাশ করে ভেজে তুলে নিলেই তৈরী মেথির পরোটা।

ফ্রুট সালাদ


কী কী লাগবে

পছন্দ মতো ফল, লেবুর রস, বিট নুন, চাটমশলা, গোলমরিচ গুঁড়ো


কীভাবে বানাবেন

ফল টুকরো করে কেটে সব একসাথে টস করে নিলেই তৈরি। ফ্রিজে রেখে পরিবেশন করুন।

bottom of page