top of page

চড়ক, চৈত্র সংক্রান্তি এবং নীলষষ্ঠী ব্রত| কিডস লাঞ্চ বক্স| কলকাতার কাছাকাছি রাজবাড়ীর হদিশ| ভিন্নরূপে শাড়ি| রবিবারের গল্প: পদ্মা মেঘনা


চড়ক, চৈত্র সংক্রান্তি এবং নীলষষ্ঠী ব্রত


নীল বা নীলকণ্ঠ মহাদেব, অর্থাৎ শিবের অপর নাম। এই নীল শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিবাহকে কেন্দ্র করে বাংলার গ্রামীণ সমাজে এক সমৃদ্ধ লৌকিক আচার-অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে, যা নীলপূজা ও নীলষষ্ঠী ব্রত নামে পরিচিত। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, সতী দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন নীলাবতী রূপে। তিনি বিল্ববনে নীলধ্বজ রাজার কন্যা হিসেবে আবির্ভূত হন। রাজা তাঁকে কন্যারূপে লালন-পালন করে শিবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ দেন। বিবাহের পর বাসর ঘরে নীলাবতী শিবকে মোহিত করেন, কিন্তু পরক্ষণেই মক্ষিকারূপ ধারণ করে ফুলের সঙ্গে জলে নিক্ষিপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এই শোকে রাজা-রাণীও প্রাণত্যাগ করেন। এই কাহিনিকেই স্মরণ করে নীলপূজা মূলত শিব ও নীলাবতীর বিবাহের স্মারক হিসেবে পালিত হয়।



নীলষষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি লোককথাও। এক ব্রাহ্মণ দম্পতি বহু ব্রত পালন করেও সন্তানের দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারছিলেন না। একদিন কাশীর গঙ্গার ঘাটে তাঁদের দুঃখ দেখে এক বৃদ্ধা তাঁদের নীলষষ্ঠী ব্রত পালনের উপদেশ দেন। তিনি বলেন, চৈত্র মাসজুড়ে সংযম পালন করে শিবপূজা করতে হবে এবং সংক্রান্তির আগের দিন উপবাস রেখে সন্ধ্যায় নীলাবতীর পূজা শেষে নীলকণ্ঠ শিবের ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে ষষ্ঠী দেবীকে প্রণাম করে জলগ্রহণ করতে হবে। এই কথা বলেই বৃদ্ধা অদৃশ্য হয়ে যান—তিনি আসলে মা ষষ্ঠী ছিলেন। এরপর থেকেই সন্তানের দীর্ঘ জীবন কামনায় নীলষষ্ঠী ব্রতের প্রচলন হয়।

নীলপূজার আচারও অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। নিম বা বেল কাঠ দিয়ে নীলের মূর্তি তৈরি করা হয় এবং চৈত্রসংক্রান্তির আগেই মণ্ডপ থেকে তা নামানো হয়। পূজার আগের দিন ‘অধিবাস’ এবং গভীর রাতে ‘হাজরা পূজা’ হয়, যেখানে দেবতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং শিবের অনুচরদের উদ্দেশ্যে পোড়া শোল মাছ ভোগ দেওয়া হয়। পরদিন নীলমূর্তিকে গঙ্গাজলে স্নান করিয়ে নতুন লাল শালু পরানো হয় এবং অন্তত সাতটি বাড়িতে শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাওয়া হয়।



এই শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ নীলসন্ন্যাসীরা। তাঁরা লাল বস্ত্র, পাগড়ি, রুদ্রাক্ষমালা ও হাতে ত্রিশূল নিয়ে নীলকে সঙ্গে করে গ্রামপরিক্রমা করেন। তাঁদের দলপতিকে ‘বালা’ বলা হয়। ঢাক-ঢোল, বাঁশি এবং শিব-দুর্গার সঙে সজ্জিত শিল্পীদের উপস্থিতিতে এই মিছিল এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। গৃহস্থ বাড়িতে মহিলারা উঠোনে আলপনা এঁকে নীলকে আহ্বান করেন এবং বরাসনে বসিয়ে তেল-সিঁদুর দিয়ে পূজা করেন। এরপর শুরু হয় নীলের গান, যেখানে শিবের বিয়ে, নারদের ঘটকালি, কৈলাসের আচার এবং হর-পার্বতীর সংসারজীবনের নানা দিক ফুটে ওঠে। গানের শেষে সন্ন্যাসীদের চাল, ফল ও অর্থ ভিক্ষাস্বরূপ প্রদান করা হয়।



নীলষষ্ঠীর দিন সন্তানবতী হিন্দু নারীরা সারাদিন উপবাস রেখে সন্তানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সন্ধ্যায় শিবমন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে জলগ্রহণের মাধ্যমে ব্রত সম্পূর্ণ হয়। অনেক পুরুষও এই ব্রত পালন করেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে তারকেশ্বর মন্দির-এ ভক্তরা কাঁধে বাঁক নিয়ে শিবের মাথায় জল ঢালতে যান এবং বেলপাতা, দুধ, দই, মধু প্রভৃতি নিবেদন করে উপবাস ভঙ্গ করেন।

এইভাবে নীলষষ্ঠী ও নীলপূজা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাঙালির লোকবিশ্বাস, মাতৃত্বের প্রার্থনা, এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির এক গভীর ও প্রাণবন্ত প্রকাশ।


ওদিকে চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পূজা পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকোৎসব। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি, অর্থাৎ চৈত্র মাসের শেষ দিনে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈশাখের প্রথম দু-তিন দিন পর্যন্ত উৎসবের আমেজ বজায় থাকে। এটি মূলত শিব-এর গাজন উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যেখানে ভক্তরা নানা কঠোর তপস্যা ও আচার পালনের মাধ্যমে দেবতার প্রতি তাঁদের ভক্তি প্রকাশ করেন।



গাজন উৎসবে বিভিন্ন ধরনের কৃচ্ছসাধন দেখা যায়—যেমন গরম কয়লার ওপর হাঁটা, শরীরে শলাকা বিদ্ধ করা ইত্যাদি। ‘চড়ক’ শব্দটি বিশেষভাবে সেই আচারকে বোঝায়, যেখানে ভক্তদের হুক বা বড়শির সাহায্যে ঝুলিয়ে ঘোরানো হয়। এই চড়ক প্রথাকেই গাজনের শেষ এবং সবচেয়ে কঠোর প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ধরা হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে চড়ক সংক্রান্তির মেলাও বসে, যা গ্রামীণ সমাজে বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।


প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ যেমন লিঙ্গপুরাণ, বৃহদ্ধর্মপুরাণ বা ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ-এ চৈত্র মাসে শিবারাধনা ও নৃত্যগীতের উল্লেখ থাকলেও চড়ক পূজার সরাসরি উল্লেখ পাওয়া যায় না। মধ্যযুগীয় গ্রন্থ যেমন গোবিন্দানন্দের বর্ষক্রিয়াকৌমুদী বা রঘুনন্দনের তিথিতত্ত্ব-এও এর উল্লেখ অনুপস্থিত। তবে ধারণা করা হয়, পাশুপত সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের আচার প্রচলিত ছিল। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৪৮৫ খ্রিষ্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা এই পূজার সূচনা করেন।


লোককথায় বলা হয়, শিবভক্ত বাণরাজা দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সঙ্গে যুদ্ধে আহত হয়ে ভক্তিসূচক নৃত্যগীত এবং নিজের রক্ত উৎসর্গ করে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করেন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই শৈব সম্প্রদায়ের মধ্যে এই উৎসবের প্রচলন ঘটে। গম্ভীরা পূজা বা শিবের গাজনও চড়ক পূজারই এক রূপভেদ হিসেবে বিবেচিত হয়।


চড়ক পূজার একটি বিশেষ অঙ্গ হল নীলপূজা। পূজার আগের দিন চড়কগাছ পরিষ্কার করে প্রস্তুত করা হয় এবং একটি পাত্রে শিবলিঙ্গ বা ‘বুড়োশিব’ স্থাপন করা হয়। পূজার প্রধান পুরোহিত সাধারণত পতিত ব্রাহ্মণ হন। পূজার নানা আচার যেমন কুমিরপূজা, অগ্নির ওপর হাঁটা, কাঁটার ওপর লাফ, বাণফোঁড়া, শিবের প্রতীকী বিবাহ, অগ্নিনৃত্য এবং হাজরা পূজাসব মিলিয়ে এই উৎসব অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।



এই আচারগুলির মূলে রয়েছে ভূতপ্রেত, পুনর্জন্ম এবং প্রাচীন কৌমসমাজের বিশ্বাস। অনেক ক্ষেত্রে এগুলি প্রাচীন নরবলির প্রতীকী রূপ বলেও মনে করা হয়। ভক্তরা ধর্মীয় নিষ্ঠার অংশ হিসেবে নানা দেহযন্ত্রণা সহ্য করেন। একসময় চড়কগাছে সন্ন্যাসীদের পিঠে হুক গেঁথে ঘোরানো হত; ১৮৬৩ সালে ব্রিটিশ সরকার আইন করে এই প্রথা বন্ধ করলেও কিছু গ্রামীণ অঞ্চলে এর চিহ্ন এখনও দেখা যায়।


চড়ক পূজার আগে ভক্তরা কঠোর ব্রত পালন করেন। উৎসবের অংশ হিসেবে ‘গিরি সন্ন্যাস’-এ হনুমানের বেশ ধারণ করে রামায়ণের দৃশ্য অভিনয় করা হয় এবং ‘বাবর সন্ন্যাস’-এ আমগাছের শাখা সংগ্রহ করা হয়। পূজার আগের দিন নীলচণ্ডিকার আরাধনা হয় এবং ‘নীল পাগলের দল’ গ্রামে গ্রামে ঘুরে গাজনের গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। রাতে হাজরা পূজা হয় এবং শিবকে খিচুড়ি ও শোল মাছ নিবেদন করা হয়। কখনো কখনো ভক্তরা তন্ময় অবস্থায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন, যা দেবতার ‘ভর’ বলে বিশ্বাস করা হয়।

চড়কের দিনে সন্ন্যাসীরা ফল ও ফুল নিয়ে বাদ্যসহকারে শিবপ্রণাম করেন এবং বিভিন্ন কষ্টসাধ্য আচার সম্পন্ন করেন—যেমন বঁটি-ঝাঁপ, কাঁটা-ঝাঁপ, ঝুল-ঝাঁপ ইত্যাদি। ‘বাণ-সন্ন্যাস’-এ জিভে লৌহশলাকা বিদ্ধ করে রাখা হয় এবং ‘বেত্র-সন্ন্যাস’-এ শরীরে বেত প্রবেশ করানো হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ‘বড়শি সন্ন্যাস’-এ চড়কগাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে সন্ন্যাসীকে ঘোরানো হয়, যা এই উৎসবের চূড়ান্ত আকর্ষণ। এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাঙালির লোকবিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা, শারীরিক সহিষ্ণুতা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।



তথ্যসূত্র ও ঋণস্বীকার:

"কমলগঞ্জের ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত"। বিএনবি নিউজ। ২ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৩।

The Human Charak"। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৪।

বাংলার লোকসংস্কৃতির বিশ্বকোষ, দুলাল চৌধুরী, আকাদেমি অব ফোকলোর, কলকাতা: ৭০০০৯৪, প্রথম প্রকাশ:২০০৪, পৃষ্ঠা: ২৯৬

বাংলার লৌকিক ধর্মসংগীত, তৃপ্তি ব্রহ্ম, পৃষ্ঠা: ২৪১-২৪৩

কিডস লাঞ্চ বক্স


সঞ্চিতা দাস

প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও মা-বাবার সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে, কীভাবে বাচ্চার জন্য এমন কিছু তৈরি করা যায় যা একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতেও মজাদার। কারণ শিশুরা খাবারের স্বাদের পাশাপাশি রঙ, গন্ধ ও উপস্থাপনাতেও সমান গুরুত্ব দেয়। এই সংকলনে আমরা নিয়ে এসেছি এমন কিছু কিডস লাঞ্চ বক্স রেসিপি, যা সহজে তৈরি করা যায়, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং বাচ্চাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে সাজানো। প্রতিটি পদে রয়েছে সুষম খাদ্যের ভারসাম্য, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের সমন্বয়, যাতে বাচ্চারা সারাদিন শক্তি পায় এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।


পনির টিক্কা



কী কী লাগবে

পনির ২০০ গ্রাম, ২ চা চামচ Shalimar's Sunflower তেল, নুন স্বাদ মতো, ১/২ চা চামচ Shalimar's Chef Spices লঙ্কা গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ Shalimar's Chef Spices আমচূড় পাউডার, চিনি স্বাদমতো, ১/২ চা চামচ Shalimar's Chef Spices গরমমশলা গুঁড়ো, ১ চা চামচ আদা রসুন বাটা, ১/২ চা চামচ Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ জল ঝরানো টকদই, পেঁয়াজ, টোম্যাটো, ক্যাপসিকাম, ২ চা চামচ মাখন



কীভাবে বানাবেন

পনির কিউব করে কেটে নিন। একটি পাত্রে সাদা তেল, নুন, হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, চিনি, গরমমশলা গুঁড়ো, আমচূড় পাউডার, আদা রসুন বাটা, টকদই একসাথে ফেটিয়ে নিন। পনিরের কিউব গুলো এতে মাখিয়ে রাখুন একঘন্টা। কিউব করে কাটা পেঁয়াজ, টোম্যাটো, ক্যাপসিকাম এতে মাখিয়ে নিন। একে একে কাঠিতে ক্যাপসিকাম, পনির, পেঁয়াজ, টমেটো গেঁথে নিন। প্যানে মাখন ব্রাশ করে অল্প আঁচে সেঁকে নিন। স্যালাড সহ ইচ্ছে মতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।


তন্দুরি চিকেন



কী কী লাগবে

মুরগির মাংস ৫০০ গ্রাম, টকদই ১ কাপ, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, তন্দুরি মশলা ১ টেবিল চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, নুন স্বাদমতো, Shalimar's Sunflower তেল বা মাখন প্রয়োজনমতো (ব্রাশ করার জন্য)


কীভাবে বানাবেন

একটি বড় পাত্রে টক দই, আদা-রসুন বাটা, লেবুর রস, সব মশলা ও নুন ভালো করে মিশিয়ে ম্যারিনেড তৈরি করুন। ধোয়া মুরগির লেগ পিসে গভীর চিরে ম্যারিনেড ভালোভাবে মাখিয়ে ঢেকে ৩-৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। গ্যাসে বানাতে চাইলে গ্রিল প্যানে সামান্য তেল দিয়ে মাঝারি আঁচে ১৫-২০ মিনিট মুরগি ভাজুন, মাঝে মাঝে উল্টে মাখন/তেল ব্রাশ করুন। ওভেনে বানাতে চাইলে ২০০° সেলসিয়াসে প্রি-হিট করে বেকিং ট্রেতে মুরগি সাজিয়ে তেল ব্রাশ করে ৩০ মিনিট বেক করুন, মাঝপথে উল্টে আবার তেল ব্রাশ করুন।


সয়াবিনের টিকিয়া



কী কী লাগবে

সয়াবিন (সোয়া নাগেটস) ১ কাপ, সেদ্ধ আলু ২টি, পেঁয়াজ কুচি ১টি, আদা-রসুন বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা লঙ্কা কুচি ১টি (ঐচ্ছিক), ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, Shalimar's Chef Spices লাল লঙ্কার গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গরম মসলা ১/২ চা চামচ, ব্রেডক্রাম্বস ২-৩ টেবিল চামচ, Shalimar's Sunflower

তেল ভাজার জন্য



কীভাবে বানাবেন

সয়াবিন গরম জলে ভিজিয়ে নরম করে জল ঝরিয়ে গ্রাইন্ড করুন, সেদ্ধ আলু চটকে সব উপকরণ মিশিয়ে নিন, নরম হলে ব্রেডক্রাম্বস দিয়ে বেঁধে নিন, ছোট টিকিয়ার আকার দিন, গরম তেলে দু'পাশ সোনালি করে ভেজে নিন।


ডিমের স্যান্ডুইচ



কী কী লাগবে

পাউরুটি ৪ স্লাইস, সেদ্ধ ডিম ২টি, মেয়োনিজ ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১টি, শসা কুচি ২ টেবিল চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, বাটার সামান্য



কীভাবে বানাবেন

সেদ্ধ ডিম চটকে মেয়োনিজ, পেঁয়াজ, শসা, লবণ ও গোলমরিচ মিশিয়ে নিন। পাউরুটিতে বাটার লাগিয়ে ডিমের মিশ্রণ ছড়িয়ে দিন। আরেকটি পাউরুটি দিয়ে ঢেকে হালকা চাপ দিন। টোস্ট করে বা সোজা কেটে পরিবেশন করুন।


গ্রিলড ফিশ



কী কী লাগবে

ভেটকি মাছের ফিলে ২টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ১ টেবিল চামচ, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ



কীভাবে বানাবেন

মাছ ভালো করে ধুয়ে লেবুর রস, রসুন বাটা, লবণ, গোলমরিচ ও অলিভ অয়েল দিয়ে মাখিয়ে ১৫-২০ মিনিট মেরিনেট করুন, তারপর গ্রিল প্যানে বা ওভেনে মাঝারি আঁচে দু’পাশ সোনালি হওয়া পর্যন্ত গ্রিল করুন, শেষে হার্বস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।


চিকেন চিজ বল



কী কী লাগবে

সেদ্ধ চিকেন কিমা ১ কাপ, গ্রেট করা চিজ ১/২ কাপ, সেদ্ধ আলু ১টি, পেঁয়াজ কুচি ১টি, আদা-রসুন বাটা ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, ব্রেডক্রাম্বস ১/২ কাপ, ডিম ১টি (ফেটানো), Shalimar's Sunflower তেল ভাজার জন্য



কীভাবে বানাবেন

চিকেন কিমা, আলু, পেঁয়াজ, আদা-রসুন, লবণ ও গোলমরিচ মিশিয়ে নিন, ছোট বলের আকারে গড়ে ভেতরে চিজ ভরে দিন, ব্রেডক্রাম্বসে গড়িয়ে ডিমে ডুবিয়ে আবার ব্রেডক্রাম্বসে কোট করুন, গরম তেলে সোনালি করে ভেজে নিন।

কলকাতার কাছাকাছি রাজবাড়ীর হদিশ!


সুদেষ্ণা ঘোষ


গোটা বাংলা জুড়ে এমনকি খোদ কলকাতাতেও বহু রাজবাড়ী আছে , যেগুলি এক সময় জমিদার বা রাজার বাসভবন হলেও আজ বেশিরভাগই হেরিটেজ হোটেল বা রিসর্টে পরিণত হয়েছে। সপ্তাহান্তে একটু ঘুরে আসার জন্য-ট্রিপ হিসেবে এগুলো খুবই উপযোগী, কারণ কলকাতা থেকে এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব। এই ধরনের ট্রিপে শুধু থাকার বা খাবারের জন্যই নয়, স্থাপত্য, জমিদারী ইতিহাস, বাংলার ঐতিহ্য, বাগান-প্রাঙ্গণ, পুরনো কালের মেজবানী বা অতিথি আপ্যায়নের ধাঁচ আপনাকে দেবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। চলুন জেনে নিই একদিনের ছুটিতে কোন কোন রাজবাড়ী হতে পারে আপনার হলিডে ডেস্টিনেশন।


রাজবাড়ী বাওয়ালী:

বাওয়ালি রাজবংশের ইতিহাস প্রায় চারশ বছরের। সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি সওয়াই মান সিং এখানে কৃষক ও জলদস্যু বিদ্রোহ দমনের বিনিময়ে কয়েক লক্ষ একর জমি দান করেন। সময়ের সাথে সাথে রাজত্ব চলে যাওয়ার পর এই রাজবাড়ী আবার পুনরোদ্ধার করা করে বর্তমানে এটি একটি হেরিটেজ হোটেল। কলকাতা থেকে দুরত্ব মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। গাড়িতে গেলে ডায়মন্ড হারবার রোডে জোকা থেকে ডান দিকের রাস্তা, বিবিরহাট হয়ে। অন্যথায় বাসে জোকা গিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় কোন গাড়িতে ১৭ কিমি। সব সময় খোলা থাকে, তবে যাওয়ার আগে তাদের ওয়েবসাইটে অবশ্যই চেক করে নেবেন।


কাশিমবাজার রাজবাড়ী:

কাশিমবাজার রাজবাড়ী পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ শহরে অবস্থিত ১৮ শতকের একটি বিশাল প্রাসাদ যেটি নির্মান করেন রাজা কৃষ্ণকান্ত নন্দী। মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজার রাজবাড়ী বর্তমানে ছোট রাজবাড়ী নামে পরিচিত। দূরত্ব কলকাতা থেকে প্রায় ২০৩ কিলোমিটার। আপনি হাওড়া স্টেশন থেকে মুর্শিদাবাদের ট্রেনে যেতে পারেন। অথবা গাড়িতে NH12 ধরে সোজা কাশিমবাজার।


কোচবিহার রাজবাড়ী:

কোচবিহার রাজবাড়ী, অপর নাম ভিক্টর জুবিলি প্যালেস, হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার শহরের একটি দর্শনীয় স্থান। ১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের রাজত্বকালে লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদের আদলে এই রাজবাড়ীটি তৈরি হয়েছিল। দূরত্ব কলকাতা থেকে প্রায় ৬০০ কিমি। কোচবিহার প্রাসাদ পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার শহরে অবস্থিত। নিকটতম বিমানবন্দর হল বাগডোগরা বিমানবন্দর, যা প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল কোচবিহার রেলওয়ে স্টেশন, যা প্রায় ৩ কিমি দূরে। কোচবিহার প্রাসাদটি জনসাধারণের জন্য সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ১০ টাকা।



বলাখানা রাজবাড়ী:

নদীয়ার জেলার কৃষ্ণনগর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নবদ্বীপ ঘাট রোডের ওপর অবস্থিত বলাখানা রাজবাড়ী। ১৭ শতকের শেষ দিকে এখানে জলঙ্গী নদীর ধারে সেই সময় ফরাসি নীলকর সাহেবরা এই অঞ্চলে নীল চাষের দেখাশোনা করার জন্য এই প্যালেস তৈরি করেন। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ১২১ কিলোমিটার। গাড়িতে কলকাতা থেকে প্রায় ৩ ঘন্টার মত লাগবে।

ট্রেনে আসলে শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে কৃষ্ণনগর, তারপর ষ্টেশন থেকে টোটো ধরে সোজা বলাখানা রাজবাড়ী।


ইটাচুনা রাজবাড়ী:

কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ কিমি। ট্রেনে হাওড়া থেকে বর্ধমান মেন লাইনে খন্ন্যান লোকাল ট্রেনে দেড় ঘণ্টার পথ। স্টেশন থেকে টোটো, অটো আর ম্যাজিকে ৭ থেকে ১০ মিনিটের পথ ইটাচুনা রাজবাড়ি। গাড়িতে কলকাতা থেকে গাড়িতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে আসুন বসিপুর। এখান থেকে সোজা হালুসাই, ১৯ কিমি। খন্ন্যান রেলস্টেশনের দিকে বাঁ দিক ঘুরুন। হালুসাই থেকে ১০ মিনিটের ড্রাইভে পৌঁছে যান ইটাচুনা রাজবাড়ি। রাস্তার বাঁ দিকে। ইটাচুনা রাজবাড়ী সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঘুরে দেখার জন্য খোলা থেকে। টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০০টাকা ও ছোটদের জন্য ৫০টাকা। বাকী তথ্যের জন্য ইটাচুনা রাজবাড়ীর ওয়েবসাইটে চেক করতে পারেন।


ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী:

কলকাতা থেকে দুরত্ব প্রায় ১৭২ কিলোমিটার। গাড়িতে কলকাতা থেকে মোটামুটি ৪ ঘন্টার মত লাগবে। রাস্তা বেশ ভাল। হাওড়া থেকে ট্রেনে সোজা ঝাড়গ্রাম নামুন। ষ্টেশন থেকে রাজবাড়ী মাত্র ২ কিমি। রাজবাড়ীর ভিতরের একটা ভাগে রাজবংশের লোকজন বাস করেন তাই সেখানে সাধারনের প্রবেশ নিষেধ। বাকি অংশে প্রবেশ অনুমতি সাপেক্ষ। তবে বাইরের অংশে দিনের বেলা প্রবেশ করা যায়। কোন প্রবেশ মূল্য নেই।



ওয়াসিফ মঞ্জিল, মুর্শিদাবাদ:

মুর্শিদাবাদের নবাব ওয়াসিফ আলী মির্জ্জা এই প্রাসাদটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। এটি নতুন প্রাসাদ নামেও পরিচিত। প্রাসাদ বলতে আসলে প্রাসাদ সদৃশ তিনতলা একটি ভবন, আর চারপাশে কিছু নবাবি সৌন্দর্য শোভা। এর দক্ষিণ দরজা থেকে হাজার দুয়ারি প্যালেসে যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে দুরত্ব প্রায় ২১০ কিলোমিটার। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল মুর্শিদাবাদ রেলওয়ে স্টেশন, এখান থেকে প্রায় ২ কিমি দূরে।


আমাদপুর রাজবাড়ী:

প্রায় ৪০০ বছর আগে শিলাদিত্য চৌধুরী এই রাজবাড়ী তৈরি করেন। আমাদপুর রাজবাড়ীর মোট চারটি ঘরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা রয়েছে। হেরিটেজ হোমস্টে হিসেবে এর নাম বৈঠকখানা আমাদপুর। ভ্রমনে আগ্রহী হলে যাবার আগে তাদের ওয়েব সাইটে দেখে নিতে পারেন। কলকাতা থেকে দুরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। গাড়িতে গেলে কলকাতা থেকে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা লাগবে। আর ট্রেনে ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট লাগে, নিকটবর্তী ষ্টেশন মেমারি।


শোভাবাজার রাজবাড়ী:

উত্তর কলকাতার একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। শোভাবাজার রাজবাড়ী যাওয়ার সবথেকে ভাল উপায় হল কলকাতা মেট্রো রেলে উঠে পড়া আর শোভাবাজার সুতানুটি স্টেশনে নেমে পড়া। মেট্রো ষ্টেশন থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথ। প্রবেশের জন্য কোন টিকিট লাগে না। দূর্গাপূজার দিনগুলি ছাড়া অন্যান্য দিন শোভাবাজার রাজবাড়ী যাওয়ার জন্য অনুমতি প্রয়োজন।



রাজবাড়ীগুলো শুধু ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, এরা বাংলার ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। প্রতিটি রাজবাড়ীই বলে আলাদা গল্প শক্তির, ঐতিহ্যের, এবং সাংস্কৃতিক গৌরবের। এই রাজবাড়ীগুলির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আজকের প্রজন্মকে অতীতের সঙ্গে যুক্ত রাখছে, যেন ইতিহাসের প্রতিটি ইট আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গৌরবের সেই দিনগুলি এখনও হারিয়ে যায়নি।

ভিন্নরূপে শাড়ি


আগেকার দিনে বিধবা মহিলারা যেমন ধুতি পরতেন শাড়ির মতো করে, তেমনই আজকের যুগে শাড়ি কেবলমাত্র নারীর অঙ্গেরই শোভা নয়, শাড়ি সাজিয়ে তুলছে পুরুষদেরও। লিখছেন এলিজা


একটি শাড়ি বারো হাতের কাপড়। খুব ছোটবেলা থেকে এই কাপড়টির সঙ্গে আমরা সকলেই ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত। মা, কাকিমা, ঠাকুমা, পিসিমা সকলকেই আমরা আমাদের ছোটবেলায় শাড়ি পরতেই বেশিরভাগ সময় দেখেছি, আর দেখেছি পুরনো শাড়ি দিয়ে তৈরি কাঁথা অথবা কুইল্ট যা কেবলমাত্র গৃহসজ্জার কাজেই নয়, ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়। যার ওপর করা রংবেরঙের এমব্রয়ডারিই কাঁথা কাজ নামে বিশ্ববিখ্যাত। এই কাঁথা অথবা কুইল্ট দিয়ে আজকাল হরেকরকম জ্যাকেট তৈরি করা হয়। এমনকী হাল ফ্যাশনের বোথসাইড ইউসেবল কুইল্টেড জ্যাকেটও এই কনসেপ্ট থেকে তৈরি। শাড়ি থেকে রিকনস্ট্র্যাক্ট করা হয় আরও অনেক ধরনের পোশাক। আজকের যুগে সাসটেইনেবল কথাটির সঙ্গে আমরা সকলেই কমবেশি পরিচিত। সাসটেইনেবল ফ্যাব্রিক, সাসটেইনেবল পেপার, সাসটেইনেবল ক্রকারি, সাসটেইনেবল কাটলারি, সাসটেইনেবল হোম ডেকর, সাসটেইনেবল লাইফ স্টাইল ইত্যাদি সকলেই শুনেছি অল্পবিস্তর। সাসটেইনেবল কথাটির অর্থ অনেকেই জানেন, তবুও আলোচনার সুবিধের জন্য বলে রাখা ভালো, প্রাকৃতিক উপাদান এবং প্রাকৃতিক শক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করা বা আমাদের ব্যবহারিক জীবনে নিয়োগ করা, যা কিনা প্রকৃতির পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। আজকাল এই সাসটেইনেবল ফ্যাশন বা সাসটেইনেবল লাইফ স্টাইল-এর দিকে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ হল বিভিন্ন ধরনের দূষণ-- জল দূষণ, বায়ুদূষণ ইত্যাদি যার মধ্যে প্লাস্টিক বা প্রকৃতিতে মিশে যায় না এমন পদার্থের অবদান রয়েছে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্নরকম গ্যাস বা তেল জাতীয় জিনিস যেগুলি হাওয়ায় বা জলে মিশে সেগুলোকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তুলছে। অর্থাৎ কিনা আমাদের পরবর্তী এবং তৎপরবর্তী প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবী বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যেতে পারে।



খুব সাধারণভাবে দেখলে প্রতিটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার আমাদের ক্রমশ দূষণের পথে ঠেলে দিয়েছে এত বছর ধরে। এখন তার থেকে বিরত থাকতেই মানুষ সাসটেইনেবল লাইফ স্টাইলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রিসাইক্লিং, রিকনস্ট্র্যাকশন, আপসাইক্লিং বা রি-ইউজ কথাগুলি সরাসরি সাসটেইনেবল লাইফ-এর সঙ্গে জড়িত। আজকালকার দিনে আমরা ফেলে দেওয়ার জিনিসকে পুনর্ব্যবহার করে পৃথিবীকে দূষণমুক্ত এবং ভবিষ্যতের পক্ষে আরও বেশি বসবাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছি। তারই মধ্যে অন্যতম হল সাসটেইনেবল ফ্যাশন। এই ধরনের স্টেটমেন্টের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় সবসময়ই সেলিব্রিটি বা তারকাদের দেখা যায়। যদিও আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়া আর ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সকল সাধারণ মানুষের তাঁদের পছন্দের তারকাদের ওপর নজর রাখেন সহজে। সেক্ষেত্রে তারকাদের একই পোশাকে বারবার দেখা গেলে তাঁদের জীবনশৈলীর ছবিটা আর পাঁচজনের মতো সাধারণ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। বিশেষত যেখানে সাধারণ মানুষও একাধিক অনুষ্ঠানে আজকাল কখনওই একই পোশাক পরছেন না। কারণ, যত সাধারণ অনুষ্ঠানই হোক না কেন, যে-কোনও ধরনের উৎসব অনুষ্ঠানের ছবি আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়। তাই সাধারণ মানুষও রিপিট করা থেকে বিরত থাকছেন। সেখানে সেলিব্রিটিরা একই পোশাক বারবার পরবেন কীভাবে? কিন্তু একটি পোশাক যদি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পরা যায় অর্থাৎ কিনা একই শাড়িকে ভিন্ন ভিন্ন ব্লাউজ, কিংবা ভিন্ন ভিন্ন ড্রেপিং এবং অ্যাক্সেসরি দিয়ে যদি সাজানো যায়, অথবা যদি অন্য ধরনের কোনও পোশাক পুরনো শাড়ি থেকে রিকনস্ট্রাকশন করা যায় তাহলে অহেতুক নতুন নতুন পোশাক কিনে কাপড় তৈরির কারণে যে-দূষণ অথবা জলের অপচয় হয় তার পরিমাণ কমানো সম্ভব। তেমনই এই উপায় অনেক বেশি ইকনমিকালও। বিশেষ করে কোভিডের পরবর্তী সময়ে অনেক মানুষেরই রোজগার অনেকটা কমে যাওয়ার কারণে যে-আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, এভাবে সেই সমস্যারও অনেকখানি সমাধান করা সম্ভব। তবে সাসটেইনেবল ফ্যাশনের পথে যে শুধু সেলিব্রিটিরাই হাঁটছেন তেমনটা নয়, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং কিছু সাধারণ মানুষও এই পথে হাঁটছেন। আজকের দিনে যদিও এটি খুব পপুলার একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, তবুও ৮০-৯০-এর দশকে মধ্যবিত্ত বাড়িতে বেড়ে ওঠা আমার মতো আরও অনেক মানুষই হয়তো বিভিন্ন রূপে একই পোশাকের ব্যবহার দেখে বড় হয়েছেন। সেকালের গৃহবিজ্ঞানে একটি বিখ্যাত লাইন ছিল 'ফুলপ্যান্ট কাটিয়া হাফপ্যান্ট করিতে হয়', এ প্রসঙ্গ হয়তো অনেকেরই অজানা নয়। মনে আছে আশির দশকে যখন আমি খুবই ছোট, আমার বাবার ওল্ড ফ্যাশনের প্রায় নতুন প্যান্ট দিয়ে আমাদের জন্য কি চমৎকার গেলিজ দেওয়া সমকালীন ফ্যাশনের ফুলপ্যান্ট বানিয়ে দিয়েছিলেন।



আজও মনে আছে ৯০-এর দশকে তখনও রঙিন ধুতির এত বাড়বাড়ন্ত ছিল না, দুর্গাপুজোর অষ্টমীর সকালে আমার বাবা একটি পুরাতন শাড়িকে ধুতির মতন করে পরে তার সঙ্গে অপূর্ব এক রঙের একটি পাঞ্জাবী পরে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আজকাল অবশ্য এই পদ্ধতিতে অনেক পুরুষই শাড়ি দিয়ে ধুতি পরে থাকে। অবশ্য তার পেছনে ইনফ্লুয়েন্সারদের ইনফ্লুয়েন্স কম নয়। তবে রঙিন ধুতি আলোচনা করতে গেলে ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্তের প্রসঙ্গ এসেই পড়ে। ৯০-এর দশকে পুরুষের পোশাকে নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করেছেন তিনি এবং তাঁর সৃষ্টি কে না ব্যবহার করেছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে টোটা রায়চৌধুরী, যিশু সেনগুপ্ত কিংবা আবির চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক বচ্চন, অমিতাভ বচ্চন, কপিল দেব, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, দেব, জিৎ প্রমুখ এবং আরও তারকা এবং মডেলরা শর্বরী দত্তের ডিজাইন করা পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছেন। রঙিন ধুতির ওপর কাঁথার কাজ কিংবা অন্যান্য কাজের পাঞ্জাবি এমনকী ভিন্ন স্বাদের গয়নাও ডিজাইন করেছেন এই নামকরা বাঙালি ডিজাইনার। অনেকে মনে করেন যে, ওঁর দেখানো পথেই এখনও হেঁটে চলেছেন আধুনিক পুরুষ, সে বিয়েবাড়ি হোক, পুজো হোক কিংবা অন্য উৎসব অনুষ্ঠান। তাই ভিন্ন ভিন্ন মেটেরিয়াল এবং রঙের শাড়িকে ধুতির মতো পরে তার সঙ্গে খুব স্মার্ট ডিজাইনের কুর্তা দিয়ে সাজছেন অনেকেই। তবে শাড়ি দিয়ে যে কেবল ধুতি পরা হচ্ছে তেমনটা কিন্তু নয়, ফ্রক থেকে গাউন, স্কার্ট কিংবা ঘাগরা, ড্রেস, কুর্তি সবেতেই শাড়ির ব্যবহার চলছে পুরোদমে। আসলে শাড়ির মতন সরল সোজা পোশাক আর হয় না। একটি পোশাক থেকে অন্য একটি পোশাক রিকনস্ট্রাকশন করা যতটা কঠিন, শাড়ির থেকে অন্য পোশাক রিকনস্ট্রাকশন করা তার চেয়ে অনেক সহজ। যেহেতু শাড়ি আসলে ড্রেস মেটেরিয়ালের মতো করে ব্যবহার করা যায়, কারণ এতে কোনও ধরনের কাটিং বা স্টিচিং থাকে না। আজকাল তো এমনকী একাধিক পুরনো ড্যামেজ শাড়ির ড্যামেজ না-হওয়া অংশ জুড়ে আরেকটি শাড়ি রিকনস্ট্রাকশনও করা হচ্ছে। এছাড়া শার্ট, টপ, ব্লাউজ, দুপাট্টা, ট্রাউজার সব ধরনের পোশাকই খুব সহজে বানিয়ে নেওয়া হচ্ছে শাড়ি থেকে।

এবার আসি অ্যাক্সেসরিজের কথায়। পুরনো ট্র্যাডিশনাল সিল্কের শাড়ির চওড়া পাড় দিয়ে ক্লাচ ব্যাগ বা বটুয়া ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে অথবা আঁচল দিয়ে ল্যাপটপ ব্যাগ, টোট ব্যাগ, ডিজাইনার ক্লাচ ব্যাগ এমনকী জুতোর ওপর প্যাচ বসানো হচ্ছে পুরনো শাড়ির টুকরো দিয়ে। তবে শুধুমাত্র ব্যাগ এবং জুতোতেই নয়, চুড়ি, কানের দুল, গলার হার এমনকী আংটিতেও পুরনো শাড়ির কিছু অংশের পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। প্লাস্টিকের চুড়ির ওপর সিল্ক, সুতি, লিনেন, জর্জেট, ক্রেপ এবং শিফনের শাড়ি থেকে লম্বা লম্বা টুকরো বার করে র‍্যাপ করা হচ্ছে। কানের দুল গলার হার এবং আংটির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে জরির বুটি দেওয়া শাড়ির অংশ। জুতির ক্ষেত্রে শাড়ির জরিপাড় জড়ির আঁচল কিংবা কাঁচ বসানো বা এমব্রয়ডারি করা অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেলিব্রিটিরাও এ ধরনের রিকনস্ট্রাকটেড আউটফিট পরা থেকে পিছিয়ে নেই। এই তো কিছুদিন আগের কথা, ১৯৭০-৮০ র দর্শকের বিখ্যাত অভিনেত্রী স্মিতা পাটিল অভিনীত 'মন্থন' সিনেমাটির স্পেশাল স্ক্রিনিং উপলক্ষে তার ছেলে প্রতীক বব্বর তার মায়ের সিল্কের শাড়ি থেকে রিকনস্ট্রাকশন করা ডিজাইনার স্যুট পরে উপস্থিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে।

পদ্মা মেঘনা


অরুণিমা চ্যাটার্জী


এ কাহিনী প্রাক স্বাধীনতা যুগের পটভূমিকায়। গ্রামের নাম মালা। এটা সেই সময়ের কথা, যখন জমিদারদের ছিল দুর্দান্ত প্রতাপ। ইংরেজদের খুশি রেখে, তারা ইচ্ছেমতো গরীব প্রজাদের ওপর নির্যাতন করত। মালা গ্রামেও এমন একজন অত্যাচারী জমিদার ছিল। গাঁয়ে কয়েক ঘর বামুন কায়েত ছাড়া বাকিরা সবাই ছিল তথাকথিত নিম্ন বর্ণের। নিরক্ষর, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন। জমিদার প্রতাপ নারায়ণের নামে বাঘে গরুতে জল খেত একসাথে। দুলে, হাড়ি, বাগদী প্রজারা কিন্তু দায় বিপদে ছুটে আসত এই প্রতাপ নারায়ণের কাছেই। অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, এসবের সাথে ছিল ওদের নিত্য সহবাস। তাই বেশিরভাগ চাষীরাই ছিল ভাগ চাষী। নিজেদের জমি, এমনকি মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও বন্ধক রেখে ওরা ভাতের হাঁড়ি চাপাতো ওই প্রতাপ নারায়ণের কৃপায়। তাই দেবালয়ের ঈশ্বরের থেকেও ওরা অনেক বেশি ভয় করত, হয়তো শ্রদ্ধাও করত ওই প্রতাপ নারায়ণকে। প্রতাপ নারায়ণ বিপত্নীক । একটি মাত্র পুত্র সন্তানকে জন্ম দিয়ে, তার মা ইহলোকের মায়া কাটিয়ে চলে গেছিল পরপারে। প্রতাপ নারায়ণ অত্যাচারী, লোভী, নিষ্ঠুর। কিন্তু তার একমাত্র দুর্বলতা ছিল তার সন্তান। আদর করে নাম রেখেছিলেন সূর্যশেখর। সূর্যের মতোই প্রখর দীপ্তমান সে। অপরূপ অনিন্দ্য সৌন্দর্যে ছিল কিছুটা মেয়েদের পেলবতা। মনটাও ছিল তার বড় কোমল। ঘোর বৈষিক বাবার প্রজা নির্যাতন সে মন থেকে মেনে নিতে পারত না। তাই হাতে তুলে নিয়েছিল বাঁশি। বাঁশি বাজাতো সে। তার সুরের মূর্ছনায় প্রকৃতিও যেন স্তব্ধ হয়ে যেত। জ্যোৎস্না রাতে তার উদাস বাঁশির সুর মালা গ্রামের আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াতো। সূর্যের একনিষ্ঠ পরম ভক্ত ছিল নিতাই দুলের মেয়ে পদ্মা। গরীবের ঘরে এত রূপ ! বাবা মা'র গৌরবের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বাড়াতে থাকলো। এই দুটি ছেলে মেয়ে আশ্চর্য রকম ভাবে বন্ধুহীন ছিল। ছেলেবেলা থেকেই ওরা একে অপরকে চেনে। খেলনা বাটি খেলার দিনে সূর্য হত বর, আর পদ্মা তার বউ। প্রতাপ নারায়ণ এর বিন্দু বিসর্গও জানত না। একমাত্র ছেলেকে উনি ওনার প্রকৃতির বাইরে গিয়েও বেশ কিছুটা প্রশ্রয় দিতেন। তাই পদ্মার জমিদার বাড়িতে যাতায়াত ছিল অবাধ, কিন্তু এই দুই নাবালক নাবালিকা যে হৃদয় বিনিময় ঘটিয়ে ফেলেছে ,তা তাঁর স্বপ্নেরও অগোচর ছিল। দিন যায়, মাস যায়, ওরা এখন যুবক যুবতী। পদ্মার মা-বাবার অনেক বারণ সত্ত্বেও পদ্মা কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে ঠিক চলে যেত সেই মেঘনা নদীর তীরে, যেখানে তার প্রেমাস্পদ বাঁশির সুরে তাকেই ডাকে। ছোট গ্রাম, ঘটনা রটনা হতে বেশি বিলম্ব হল না। ক্রমে ক্রমে কানে গেল প্রতাপ নারায়ণের। শীতের রাতে, প্রদীপের টিমটিমে শিখার নিচে কাঁপতে থাকে দুটি ভীত প্রাণ— পদ্মার বাবা মা। এই বুঝি লাঠিয়ালের লাঠি এসে পড়ল ওদের মাথায়, কিন্তু আশ্চর্যরকম ভাবে প্রতাপ নারায়ণ নিশ্চুপ, যেন কিছুই হয়নি। সস্নেহে ছেলেকে অভয় দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ঘটনার সত্যতা। ছেলে এই প্রথম বার বাবাকে বন্ধু ভেবে মনের কথাটি বলে দিল। প্রতাপ নারায়ণ ছেলেকে ভরসা দিলেন। বললেন, "তোমার ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা। আমি আর কদিন? পদ্মা মাকে গৃহ লক্ষী করে ঘরে এনে আমি তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়াব। বিলম্ব করার দরকার কি? সামনের মাঘেই একটা ভালো তিথি দেখে তোমাদের চার হাত এক করে দিই।" আনন্দে, উত্তেজনায় এই প্রথম সূর্য নারায়ণ তার বাবাকে জড়িয়ে ধরল বড় ভালোবেসে, আবেগে। সেদিন কাটলো তার নির্ঘুম রাত। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা ভোরের আলো ফোটার। কখন গিয়ে সে বলবে তার প্রিয়াকে এই আনন্দ সংবাদ! শেষ রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিল সূর্য নারায়ণ। ভোরের আলো ফুটল। পাখিরা বাসা ছেড়ে উড়ে গেল নীল আকাশে সূর্যকে আলিঙ্গন করতে। সূর্যের ঘুম ভাঙল। তড়িঘড়ি সে ছুটে চলল সেই মেঘনার তীরে। পদ্মা তো ওখানেই তার অপেক্ষায়। মেঘনা যেন আজ বড় অশান্ত। বড় বড় ঢেউয়ে কিসের যেন অশনি সংকেত! নদী তটে অত লোক কেন? এসময় তো ফাঁকাই থাকে নদীর তীর। ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেল সূর্য। নদীতে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে তার পদ্মা। ফোটা পদ্মের মতোই সরল নিষ্পাপ তার মুখ। চোখের পাতায় কয়েক ফোঁটা শিশির বিন্দু। পদ্মা মেঘনায় গিয়ে মিশল।


Comments


ssss.jpg
sssss.png

QUICK LINKS

ABOUT US

WHY US

INSIGHTS

OUR TEAM

ARCHIVES

BRANDS

CONTACT

© Copyright 2025 to Debi Pranam. All Rights Reserved. Developed by SIMPACT Digital

Follow us on

Rojkar Ananya New Logo.png
fb png.png

 Key stats for the last 30 days

bottom of page