top of page

অন্ধকারে আলোর আবির্ভাব: শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ও যোগমায়া, হেয়ারস্টাইলে ব্যাংস, মাইগ্রেনের সমস্যায় জেরবার! কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?, বর্ষায় জুতোর যত্ন, নারকেল তেলে রান্না..

অন্ধকারে আলোর আবির্ভাব: শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ও যোগমায়া

রাত গভীর। মেঘে ঢাকা আকাশ, গোকুলের বাতাসে শিউরে ওঠা অনিশ্চয়তা। রাজপ্রাসাদের অন্তঃপুরে কারাগারের অন্ধকারে, মাতৃগর্ভে জন্ম নিচ্ছেন এক আলোর দূত শ্রীকৃষ্ণ। জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অন্ধকারের ভিতরে আলোর আগমনের প্রতীক, মানব সমাজে ন্যায়, প্রেম ও করুণার বার্তা বহনকারী এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন ‘যোগমায়া’ যিনি এই অলৌকিক জন্মকাহিনির এক অনন্য স্রষ্টা।

শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয় ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে। পুরাণ অনুসারে, মহাভারতের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন বিষ্ণুর অষ্টম অবতার, যিনি মথুরার রাজা কংসের অত্যাচার থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করতে অবতীর্ণ হন। দেবকী ও বসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্মের মুহূর্ত থেকেই তাঁর জীবন ছিল অলৌকিক ঘটনায় ভরা। কংসের ভবিষ্যদ্বাণী হয়েছিল তার মৃত্যুর কারণ হবে দেবকীর অষ্টম সন্তান। তাই সাতটি সন্তান জন্মের পরপরই কংস হত্যা করে। কিন্তু অষ্টম সন্তান জন্মের সময়, কারাগারের শিকল, দরজা ও প্রহরী সবই অলৌকিকভাবে নিস্তেজ হয়ে যায়। এই অলৌকিক ঘটনার পেছনেই ছিলেন যোগমায়া।

যোগমায়া, হিন্দু শাস্ত্রে এক রহস্যময় ও শক্তিশালী দেবীশক্তি। ‘যোগ’ অর্থ সংযোগ, আর ‘মায়া’ অর্থ ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী সৃষ্ট ভ্রম বা আচ্ছাদন। ভগবৎ পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে, ভগবান বিষ্ণু নিজেই জন্ম গ্রহণের আগে যোগমায়াকে আহ্বান করেছিলেন। তাঁর কাজ ছিল শ্রীকৃষ্ণের জন্মকে সুরক্ষিত রাখা, ঘটনার ধারা এমনভাবে সাজানো যাতে দুষ্ট শক্তি তা টের না পায়। যোগমায়াই নন্দ যশোদার কন্যাসন্তান রূপে জন্ম নেন, আর বসুদেব যখন নবজাতক কৃষ্ণকে যশোদার ঘরে রেখে আসেন, তখন তিনি দেবকীর কন্যা রূপে কংসের হাতে ধরা দেন। কংস যখন শিশুটিকে মারে, তখনই তিনি আসল রূপে প্রকাশিত হয়ে আকাশে গিয়ে ঘোষণা দেন:

“হে কংস! যে তোমার বিনাশ ঘটাবে, সে ইতিমধ্যেই জন্ম নিয়েছে।”

পুরাণে যোগমায়ার ভূমিকা:

যোগমায়া শুধু একটি চরিত্র নন, তিনি এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ঈশ্বর নিজের লীলা সম্পন্ন করেন। তাঁর কার্যাবলী,

1. শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময় অলৌকিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

2. দেবকীর কন্যা রূপে জন্ম নিয়ে কংসকে ভ্রান্ত করা।

3. কৃষ্ণ ও বলরামের বিভিন্ন লীলায় প্রয়োজনীয় মোহ সৃষ্টি করে ঘটনার প্রবাহ পরিচালনা।


ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে জন্মাষ্টমী নানা রূপে পালিত হয়:

উপবাস ও জাগরণ: ভক্তরা দিনভর উপবাস করেন ও মধ্যরাতে কৃষ্ণ জন্মের সময় ভজন-আরতি করেন।

ঝুলন ও দহি-হাণ্ডি: গোকুল ও মুম্বই অঞ্চলে কৃষ্ণের শৈশবলীলা স্মরণে দইভরা হাণ্ডি ফাটানো হয়।

পূজা ও কীর্তন: মন্দিরে বিশেষ সাজসজ্জা, শ্রীমূর্তি স্নান, ফুল-মালায় সজ্জা ও ভক্তিগান হয়।

বাংলায় জন্মাষ্টমীর দিন অনেক স্থানে যোগমায়া পূজাও হয়। বিশেষ করে নদীয়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর প্রভৃতি জেলায় দেবীকে কৃষ্ণের জন্মরক্ষাকারিণী রূপে আরাধনা করা হয়। শাস্ত্র মতে, যোগমায়াকে দুর্গার এক রূপ হিসেবে মানা হয়, তাই তাঁর পূজায় সিঁদুর, ফুল, ফল, দুধ, মিষ্টি অর্পণ করা হয়।


জন্মাষ্টমী ও যোগমায়া কেবল পৌরাণিক কাহিনি নয়, এর ভেতরে রয়েছে গভীর জীবনদর্শন! কৃষ্ণের জন্ম অন্ধকার কারাগারে হলেও তিনি পৃথিবীতে আনন্দ, প্রেম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। যোগমায়া সাময়িক ভ্রম তৈরি করে সত্যকে রক্ষা করেন যেমন জীবনে অনেক সময় বিভ্রান্তির পর সত্য প্রকাশ পায়। কৃষ্ণের জন্মগাথায় যোগমায়া প্রমাণ করেন যে, নারীর শক্তি শুধু রক্ষাকারী নয়, পরিবর্তনের প্রেরণাও।

আজকের দিনে জন্মাষ্টমী কেবল ধর্মীয় আচার নয়এটি এক সামাজিক মিলনোৎসব। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সকলেই অংশ নেন ভক্তিমূলক গান, নাটিকা ও আলোকসজ্জায়। যোগমায়ার কাহিনি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে কোনো পরিবর্তন বা নবজাগরণের জন্য প্রয়োজন বুদ্ধি, ধৈর্য ও কৌশল। শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী তাই কেবল একটি পবিত্র রাত নয়, এটি অন্ধকারের মধ্যে আলোর প্রতিশ্রুতি। আর যোগমায়া সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার গোপন শক্তি। কারাগারের সেই নিস্তব্ধ রাতে, যেখানে মৃত্যুভয় ঘিরে ছিল, সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল ন্যায় ও প্রেমের এক চিরন্তন যাত্রা যা আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে ভক্তি ও আশা জাগায়।

জন্মাষ্টমীর পুজোর নিয়ম ও ভোগ

শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পুজো সাধারণত ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, মধ্যরাতের সময় পালন করা হয়। এই দিনে ভক্তরা ভোর থেকে উপবাস রাখেন এবং পুজোর আগে স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরেন। কৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি ফুল, তুলসী পাতা, বেলপাতা, চন্দন, ধূপ, প্রদীপ দিয়ে সাজিয়ে পুজো করা হয়। মধ্যরাতে জন্মমুহূর্তে ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি, কীর্তন ও আরতির মাধ্যমে ভগবানকে আহ্বান জানানো হয়।


বিশেষ আচার:

কৃষ্ণের জন্মলীলার স্মরণে ঝুলন সাজানো হয়।

মন্দিরে বা বাড়িতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও কীর্তন হয়।

মাটির হাঁড়ি বা কলসিতে দুধ-দই রেখে সাজানো হয়, যা কৃষ্ণের শৈশবের দধি-চুরির স্মারক।


ভোগের জন্য:

জন্মাষ্টমীতে ভোগে সাধারণত দুধ, দই, মাখন, মিষ্টি, মাখনা, তাজা ফল, পায়েস, লাড্ডু, চিঁড়া, মধু ও তুলসী পাতা দেওয়া হয়। বিশেষত মাখন ও দুধের পদ শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় হিসেবে ভক্তরা নিবেদন করেন। সব ভোগ নিরামিষ ও সাত্ত্বিক হওয়া আবশ্যক।

হেয়ারস্টাইলে ব্যাংস: চুলের কাটে নতুন রূপের ছোঁয়া

চুলের সাজে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আসছে নানা পরিবর্তন। কখনও লম্বা চুলের ঢেউ, কখনও ছোট বব কাট, আবার কখনও কাঁধ ছোঁয়া লেয়ার ফ্যাশনের এই ধারাবাহিকতায় একটি ধারা বারবার ফিরে আসে, তা হলো ব্যাংস। সামনে কপালের উপর নেমে আসা ছোট চুলের লক বা ফ্রিঞ্জ শুধু হেয়ারস্টাইল নয়, এক ধরনের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। ব্যাংস এমন এক কাট যা চেহারার গড়ন বদলে দিতে পারে মুহূর্তে।


ব্যাংস বা ফ্রিঞ্জ হলো কপালের সামনের অংশে কাটা ছোট চুলের স্তর, যা ভ্রুর ওপরে বা চোখের ঠিক উপর দিয়ে নেমে আসে। এটি কখনও সোজা কাটা হয়, কখনও তির্যকভাবে, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা লেয়ার দেওয়া হয়। ব্যাংস চুলে ভলিউম আনে, মুখের আকার ঢেকে দেয় এবং স্টাইলিশ লুক এনে দেয়।

ব্যাংসের ধরন:

ব্যাংসের নানান ধরন রয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু হলো:

1. ব্লান্ট ব্যাংস – সমানভাবে সোজা কাটা ব্যাংস যা কপাল পুরোপুরি ঢেকে দেয়।

2. সাইড-সুইপ্ট ব্যাংস – একপাশে হেলে থাকা ব্যাংস যা চেহারায় নরম ছোঁয়া আনে।

3. কার্টেন ব্যাংস – মাঝখানে ভাগ করা ব্যাংস, যা পাশের দিকে ঝুলে থাকে।

4. চপি ব্যাংস – এলোমেলো কাটে হালকা রাফ লুক।

5. মাইক্রো ব্যাংস – ভ্রুর অনেক উপরে ছোট করে কাটা ব্যাংস, যা সাহসী ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।


মুখের আকার অনুযায়ী ব্যাংস

ব্যাংস বেছে নেওয়ার আগে নিজের মুখের আকার জানা জরুরি।

গোল মুখে – সাইড-সুইপ্ট ব্যাংস মুখকে দীর্ঘ দেখায়।

ওভাল মুখে – যেকোনো ধরনের ব্যাংস মানানসই হয়।

চৌকো মুখে – সফট লেয়ার্ড বা কার্টেন ব্যাংস মুখের ধার শিথিল করে।

লম্বা মুখে – ব্লান্ট ব্যাংস মুখের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনে।

ব্যাংস সুন্দর রাখতে নিয়মিত ট্রিম করানো জরুরি, কারণ এগুলো দ্রুত বাড়ে। চুল তৈলাক্ত হলে ব্যাংস তাড়াতাড়ি নোংরা দেখায়, তাই হালকা ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্লো-ড্রাই বা স্ট্রেইটনার দিয়ে ব্যাংস ঠিকভাবে সেট করা দরকার। ফ্রিঞ্জে অতিরিক্ত স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে চুল ভারী হয়ে যায়, তাই হালকা রাখাই ভালো।

ফ্যাশন জগতে ব্যাংসের পুনরুত্থান হয় কয়েক বছর পর পরই। সিনেমা, মিউজিক ভিডিও, ফ্যাশন শো কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় একবার কোনো সেলিব্রিটি নতুন ব্যাংস কাট করলেই তা ট্রেন্ডে উঠে আসে। ব্যাংসের বিশেষত্ব হলো এটি চেহারার গঠন পাল্টে দেয় এবং বয়স কম দেখাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, যাদের কপালে ব্রণ বা দাগ রয়েছে, তাদের জন্য ব্যাংস এক ধরনের প্রাকৃতিক ঢাকনা।

বাংলা সিনেমা বা সাহিত্যে ব্যাংসের উল্লেখ একাধিকবার পাওয়া যায়। ষাট ও সত্তরের দশকে সুচিত্রা সেন, মাধবী মুখোপাধ্যায় কিংবা অড্রে হেপবার্নের মতো নায়িকারা ব্যাংস জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। বর্তমানে কোরিয়ান ড্রামা এবং জাপানি স্ট্রিট ফ্যাশন থেকেও ব্যাংসের নতুন ধারায় প্রভাব পড়ছে। ব্যাংস শুধু একটি হেয়ারস্টাইল নয়, এটি আত্মপ্রকাশের এক মাধ্যম। সঠিক কাট, যত্ন ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংস চেহারায় এনে দিতে পারে এক অনন্য পরিবর্তন। তাই চুলে একটু নতুনত্ব আনতে চাইলে, ব্যাংস হতে পারে আপনার পরবর্তী ফ্যাশন এক্সপেরিমেন্ট।

মাইগ্রেনের সমস্যায় জেরবার? কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন

মাইগ্রেন এক ধরনের স্নায়বিক সমস্যা, যার ফলে মাথায় তীব্র যন্ত্রণা, আলো বা শব্দে সংবেদনশীলতা, বমি ভাব এমনকি ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাইগ্রেনের কারণ নানা রকম স্ট্রেস, হরমোনাল পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, আবহাওয়ার পরিবর্তন তবে অনেক ক্ষেত্রেই কিছু নির্দিষ্ট খাবার এই ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত মাথাব্যথায় ভোগা মানুষদের খাবারের প্রতি বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।


১. ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়

কফি, কালো চা, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদিতে থাকা অতিরিক্ত ক্যাফেইন অনেক সময় মাইগ্রেন ট্রিগার করে। অনেকে মনে করেন কফি খেলে ব্যথা কমে, কিন্তু নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে।


২. চকলেট

চকলেটে ক্যাফেইন ও থিওব্রোমিন নামের উপাদান থাকে, যা মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়াতে পারে। বিশেষত ডার্ক চকলেট সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।


৩. প্রসেসড ও প্যাকেটজাত মাংস

হট ডগ, সসেজ, স্যালামি, বেকন ইত্যাদিতে প্রিজারভেটিভ (নাইট্রেট, নাইট্রাইট) থাকে, যা রক্তনালী প্রসারিত করে মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে।


৪. পুরনো ও পাকা চিজ

চেডার, ব্লু চিজ, পারমিজান এ ধরনের পুরনো চিজে টাইরামিন নামের রাসায়নিক থাকে, যা মাইগ্রেনের একটি পরিচিত কারণ।

৫. ফারমেন্টেড ও আচারজাত খাবার

পিকল, সয়াসস, কিমচি, ভিনেগারযুক্ত খাবারে টাইরামিন ও অন্যান্য বায়োজেনিক অ্যামাইন থাকে, যা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মাথাব্যথা বাড়াতে পারে।


৬. অতিরিক্ত নোনতা খাবার

বেশি লবণযুক্ত চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত স্যুপ বা ইনস্ট্যান্ট নুডলস রক্তচাপ বাড়িয়ে মাথাব্যথা তীব্র করতে পারে।


৭. কৃত্রিম মিষ্টি (Aspartame)

ডায়েট সোডা, সুগার-ফ্রি চুইংগাম বা কিছু লো-ক্যালোরি ডেজার্টে অ্যাসপারটেম থাকে, যা অনেক মাইগ্রেন রোগীর জন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।


৮. ঠান্ডা খাবার ও পানীয়

আইসক্রিম, ঠান্ডা স্মুদি বা বরফ-শীতল পানীয় দ্রুত খেলে হঠাৎ “ব্রেইন ফ্রিজ” হতে পারে এবং সংবেদনশীলদের মাথাব্যথা বাড়াতে পারে।


৯. অ্যালকোহল

বিশেষত রেড ওয়াইন, বীয়ার, শ্যাম্পেইন এগুলোতে টাইরামিন ও অ্যালকোহল মিলিতভাবে রক্তনালী প্রসারিত করে ব্যথা বাড়ায়।

১০. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG)

চাইনিজ খাবার, কিছু স্ন্যাকস বা প্যাকেটজাত স্যুপে ব্যবহৃত এমএসজি অনেকের মাথাব্যথা ট্রিগার করে।


মাইগ্রেনের ট্রিগার ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই একটি ফুড ডায়েরি রেখে কোন খাবারের পর ব্যথা বাড়ছে তা লিখে রাখলে নিজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবারগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণও মাইগ্রেন কমাতে সাহায্য করবে।

বর্ষায় জুতোর যত্ন: ভিজে মৌসুমেও রাখুন জুতো নতুনের মতো

বর্ষাকাল মানেই ভিজে রাস্তা, কাদা, জল জমে থাকা পথ আর তার সঙ্গে আসে জুতো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়। প্রিয় জুতো একবার ভিজে গেলে বা কাদায় মাখামাখি হলে শুধু চেহারাই নষ্ট হয় না, দুর্গন্ধ ও ফাঙ্গাসও তৈরি হতে পারে। তাই বর্ষায় জুতোর বিশেষ যত্ন নেওয়া খুব জরুরি।


১. সঠিক জুতো বেছে নিন

বর্ষায় চেষ্টা করুন ওয়াটারপ্রুফ জুতো ব্যবহার করতে। রাবার, পিভিসি, বা সিনথেটিক লেদারের জুতো ভিজে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং জল শোষণ করে না। ক্যানভাস বা সুয়েডের জুতো বর্ষায় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ভিজলে সহজে নষ্ট হয়।

২. রেইন বুট বা গামবুট

যদি প্রতিদিন বাইরে যেতে হয়, গামবুট বা লম্বা রেইন বুট ব্যবহার করলে কাদা ও জল থেকে পা ও জুতো দুটোই সুরক্ষিত থাকবে।


৩. ভিজে গেলে দ্রুত শুকান

ভিজে যাওয়া জুতো সরাসরি রোদে না শুকিয়ে হাওয়ায় শুকান, যাতে ফাটল না ধরে। জুতোর ভেতরে পত্রিকা বা টিস্যু পেপার ভরে রাখুন, এতে জল দ্রুত শোষিত হবে ও আকার ঠিক থাকবে। হেয়ার ড্রায়ারের কম তাপ ব্যবহার করে শুকানোও যেতে পারে।


৪. দুর্গন্ধ প্রতিরোধ

বর্ষায় ভিজে জুতোর মধ্যে আর্দ্রতা জমে দুর্গন্ধ হয়। মাঝে মাঝে জুতোর ভেতরে বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখুন, এটি দুর্গন্ধ শোষণ করবে। বাজারে পাওয়া ডিওডোরাইজার স্প্রে বা শু ফ্রেশনারও ব্যবহার করা যায়।

৫. ফাঙ্গাস ও দাগ দূর করা

সিনথেটিক বা রাবারের জুতোর দাগ ভিনেগার মিশ্রণে কাপড় ভিজিয়ে মুছে ফেলুন। লেদারের জুতোয় বিশেষ লেদার ক্লিনার ব্যবহার করুন। সুয়েড জুতোর জন্য সুয়েড ব্রাশ ও ড্রাই ক্লিনিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।


৬. অতিরিক্ত সুরক্ষা

বর্ষার আগে জুতোর উপর ওয়াটার রিপেলেন্ট স্প্রে ব্যবহার করলে জল কম শোষিত হয়।

অফিসে বা গন্তব্যে একটি শুকনো জুতো রাখুন, বাইরে ভিজে যাওয়া জুতো খুলে বদলে নিতে সুবিধা হবে।

৭. সংরক্ষণে যত্ন

ভিজে মৌসুমে জুতো আলমারিতে আর্দ্রতা জমে যেতে পারে। জুতোর বাক্সে বা আলমারিতে সিলিকা জেল প্যাকেট রাখুন।

ব্যবহার না করলে জুতোর মধ্যে শু ট্রি বা কাগজ ভরে রাখুন, যাতে আকৃতি ঠিক থাকে।


বর্ষায় জুতোর যত্ন মানে শুধু সৌন্দর্য বজায় রাখা নয়, বরং স্বাস্থ্য ও আরামও নিশ্চিত করা। সঠিক উপকরণ, নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকিয়ে রাখা এই কয়েকটি অভ্যাসই আপনার প্রিয় জুতোকে রাখবে দীর্ঘস্থায়ী ও সতেজ।

নারকেল তেলে রান্না: স্বাদ, সুগন্ধ আর স্বাস্থ্যের অনন্য মেলবন্ধন

বাংলার রান্নাঘরে সরষের তেল যতটা জনপ্রিয়, দক্ষিণ ভারতে নারকেল তেলের মর্যাদা ঠিক ততটাই। তবে আজকাল স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে সারা দেশেই নারকেল তেলের ব্যবহার বাড়ছে। হালকা সুবাস, অনন্য স্বাদ আর অসংখ্য পুষ্টিগুণের জন্য এই তেল রান্নায় এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো, শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে এবং খাবারে এনে দেয় ভিন্ন ধরণের ফ্লেভার।

আজ থাকছে নারকেল তেলে তৈরি ৬টি ভিন্ন স্বাদের রেসিপি যা শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যকরও।

নারকেল তেলে চিংড়ি মালাইকারি


কী কী লাগবে

৮ পিস গলদা চিংড়ি মাছ, ৪ টেবিল চামচ নারকেল বাটা, ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বাটা, ১ টেবিল চামচ Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরী লংকা গুঁড়ো, ২ কাপ নারকেলের দুধ, নুন, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো, চিনি স্বাদ অনুযায়ী, মাছ গুলো ভাজার জন্য পরিমানমতো Shalimar's নারকেল তেল।

কীভাবে বানাবেন

প্রথমে চিংড়ি মাছ গুলো কেটে ধুয়ে নুন হলুদ মেখে রাখতে হবে। এবার কড়াতে নারকেল তেল দিয়ে তাতে চিংড়ি মাছ গুলো হালকা ভেজে তুলে নিতে হবে। ঐ তেলে পেঁয়াজ বাটা, কাশ্মীরী লংকা গুঁড়ো, নুন, হলুদ, নারকেল বাটা, নারকেলের দুধ, চিনি দিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে রান্না হতে দিন। মশলা কষে ঘন হয়ে এলে এতে চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে আবার একটু ফুটতে দিতে হবে। একদম কষে মাখামাখা হয়ে গেলে নামিয়ে নিলেই তৈরি সুস্বাদু গলদা চিংড়ির মালাইকারি।

পমফ্রেট কারী


কী কী লাগবে

পমফ্রেট মাছ, নুন, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো, Shalimar's নারকেল তেল, কালোজিরে, চেরা কাঁচালঙ্কা, আদা বাটা, পেঁয়াজ কুচি, লম্বা করে কাটা টমেটো, লম্বা করে কাটা আলু, লম্বা করে কাটা গাজর, বিন্স, লম্বা করে কাটা ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ কলি

কীভাবে বানাবেন

প্রথমে একটি প্লেটে পমফ্রেট মাছ নিয়ে সাথে নুন, হলুদ, সর্ষের তেল দিয়ে মাখিয়ে নিন। নারকেল তেল গরম করে মাছগুলো ভেজে তুলে নিন। অন্য একটি কড়াইতে নারকেল তেল গরম করে কালোজিরে, চেরা কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিয়ে আদা বাটা, পেঁয়াজ কুচি, টমেটো, নুন, হলুদ গুঁড়ো, আলু, গাজর, বিন্স দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এবার ক্যাপসিকাম আর পেঁয়াজকলি দিয়ে নেড়েচেড়ে জল দিন। ফুটে উঠলে ভাজা মাছ আর নুন দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন পমফ্রেট কারী।

মালাবার ফিস


কী কী লাগবে

মাছ ৫০০ গ্রাম, নারকেলের দুধ ১ কাপ, পেঁয়াজ ২টি, টমেটো ২টি, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা লঙ্কা ৩–৪টি, কারি পাতা ৮–১০টি, শুকনো লঙ্কা ২টি, Sh alimar's Chef Spicesকাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ ১ চা চামচ, কোকুম/তেঁতুল, Shalimar's নারকেল তেল, লবণ।

কীভাবে বানাবেন

১. মাছ লবণ-হলুদ মেখে রাখুন।

২. নারকেল তেলে শুকনো লঙ্কা, কারি পাতা, পেঁয়াজ ভেজে আদা-রসুন, কাঁচা লঙ্কা ও গুঁড়ো মশলা কষান।

৩. টমেটো দিয়ে নরম করুন, নারকেলের দুধ ও কোকুম মিশিয়ে ফুটান।

৪. মাছ দিয়ে ৮–১০ মিনিট রান্না করুন, গোলমরিচ ও কারি পাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।


গরম ভাত বা আপ্পমের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

সুজি উপমা


কী কী লাগবে

মোটা সুজি ২ কাপ, গাজর কুচি+ কড়াইশুঁটি+ পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, নুন চিনি স্বাদমতো, ফোড়নের জন্য সরষে কারিপাতা, কাজুবাদাম কিশমিশ, Shalimar's নারকেল তেল

কীভাবে বানাবেন

সুজি ড্রাই রোস্ট করে নিন। তেলে সরষে কারিপাতা ফোড়ন দিয়ে একে একে পেঁয়াজ কুচি, গাজর কুচি, কড়াইশুঁটি, নুন, চিনি দিয়ে ভাজুন। সুজি আর অল্প জল দিয়ে নেড়ে ঢেকে অল্প আঁচে রান্না করুন। ঝরঝরে হলে নামিয়ে নিন।

কেরালা স্টাইল সিমুইয়ের উপমা


কী কী লাগবে

রোস্ট করা সিমুই ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি, গাজর, বিনস, ফুলকপি, মটরশুঁটি, চেরা কাঁচালঙ্কা, কাজুবাদাম, নুন চিনি স্বাদমতো, Shalimar's নারকেল তেল, ফোড়নের জন্য শুকনো লঙ্কা, কালো সরষে, কারিপাতা।

কীভাবে বানাবেন

তেল গরম করে ফোড়নের সব উপকরণ দিয়ে নেড়েচেড়ে একে একে বাকি উপকরণ দিয়ে নেড়েচেড়ে অল্প গরম জলের ছিটে দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করুন। ঝরঝরে হলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ইনস্ট্যান্ট রাভা ইডলি


কী কী লাগবে

সুজি ১ কাপ, টকদই ১/২ কাপ, বেকিং সোডা ১/৪ চা চামচ, নুন চিনি স্বাদমতো, কুচোনো সবজি (গাজর, বিনস, টমেটো), Shalimar's নারকেল তেল, সরষে কারিপাতা ফোড়নের জন্য

কীভাবে বানাবেন

একটি পাত্রে সুজি, টকদই, নুন, চিনি, বেকিং সোডা অল্প গরম জল দিয়ে ফেটিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে ফোড়ন দিয়ে মিশ্রনে ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ইডলি মোল্ডে তেল ব্রাশ করে এই মিশ্রন দিয়ে স্টিম করুন। নারকেল চাটনির সাথে পরিবেশন করুন।করে।


নারকেল তেলে রান্না শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও উপকারী। নিয়মিত ব্যবহারে হজমশক্তি ভালো থাকে, ত্বক ও চুলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং খাবার হয় কম তেলযুক্ত হলেও মজাদার। তাই এই বর্ষায় বা যে কোনো মৌসুমে রান্নায় নারকেল তেলের ছোঁয়া দিয়ে নিজের রান্নাঘরে নিয়ে আসতে পারেন দক্ষিণের স্বাদ, যা আপনার টেবিলে এনে দেবে নতুন বৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।

সন্ন্যাসী ভূত

বনানী শিকদার

এর আগে কয়েকবার অলোকা চোরের মতো মুখ চুন করে এবাড়িতে ঢুকেছে। কখনো বলেছে, 'জানেন কাকু, গতকাল রাতে একদম ঘুম হল না। আমার বাড়ির পাশের নয়নচূড় বেলগাছ থেকে সমানে কারও কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।' কখনো বলেছে, 'পাশের গ্রাম থেকে আমার বোন এসেছিল, সন্ধ্যার পরে ওকে এগিয়ে দিচ্ছিলাম, দেখলাম শান্তিচূড় বেলগাছটা অশান্ত হয়ে উঠেছে, জোরে জোরে দুলছে, অথচ কোন ঝড় নেই, বাতাস নেই।' কখনো বলেছে, 'রাতে শিবরামের বাড়িতে রান্না করে ফেরার পথে কমলচূড় বেলগাছের নীচে প্রদীপের আলো জ্বলছিল। কিন্তু সেখানে কাউকে দেখলাম না। কোন মানুষের দায় পড়েছে বলেন তো যে বেলগাছের পুজো করবে?'

কোন লাভ হয়নি। অলোকার ভূতদর্শন নিয়ে কাকু মোটেও বিচলিত হননি। শুনেছেন আর বলেছেন, 'যত্তসব গপ্প।'

একবার অলোকা বলেছিল, 'আজ সন্ন্যাসীটাকে দেখলাম। ধোপার দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি যেন করছিল। আমাকে দেখেই পাশের শঙ্খচূড় বেলগাছটার দিকে হাঁটা দিল। দু'পা যেতেই ফিকে হয়ে গেল তার চেহারা। চার পা যেতেই একেবারে অদৃশ্য।'

তাতেও কাকু নির্বিকার।

অলোকার কাকু হলেন ডাক্তার রতন বিশ্বাস।

আজ সে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকল রতন বিশ্বাসের বাড়িতে। বলল, 'আপনে তো ডাক্তার। বলেন তো একটা এইসা মোটা মানুষের ওজন কমে তিরিশ কেজি হতে কেমন সময় লাগে?'

রতন বিশ্বাস বললেন, 'অনেকদিনও লাগতে পারে, আবার অল্পদিনও।'

'একদিনে হয়?'

'না।'

'এক ঘণ্টায়?'

'না রে বাবা।'

'এক মিনিটে?'

'মাথাটা কি খারাপ হয়েছে তোর?'

'আমার মাথা ঠিক আছে। কিন্ত আজ আমি যা দেখেছি তা দেখলে আপনের মাথা নির্ঘাত খারাপ হত। সেদিনের একশ কেজি ওজনের সন্ন্যাসীটা আমার চোখের সামনে এক মিনিটে তিরিশ কেজির হয়ে গেল। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন? তার গেরুয়া লুঙ্গিটা একটুও ঢিলে হল না। সে একটা বড় তামাক পাতা চিবোচ্ছিল আর আমার দিকে চেয়ে চেয়ে হাসছিল।' সন্ন্যাসীর দর্শনকে সত্যি প্রমাণ করতে অলোকা তার গলায় জোর ঢালল, 'আমি দেখেছি, দেখেছি, দেখেছি।' সে বলল, 'কাকিমা মারা গেলে আপনে একা বাড়িতে কী করে থাকবেন কাকু? ওই ব্যাটা সন্ন্যাসী তো কাকিমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে।'

রতন বিশ্বাস অনেকদিন থেকে বীরভূমের বাহাদূরপুর গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত জীবন যাপন করছেন। বয়স বিরাশিকে অতিক্রম করে গেছে। ছেলেমেয়ে নেই। শরীরের নানাধরনের অবক্ষয় হতে হতে স্ত্রী এখন শয্যাশায়ী। লোক চেনার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন। রান্নাবান্নার জন্যই অলোকার প্রতিদিন এবাড়িতে আসা। তার মতো আরেকজন আছে―সাধনা। সাধনা রতন বিশ্বাসের স্ত্রীর দেখাশোনা করে। অলোকার ছুটি হয় বিকেলে; সাধনার রাতে, রোগীকে খাওয়ানোর পর। ন'টার সময় রতন বিশ্বাসের এক খুড়তুতো ভাইয়ের ছেলে, রত্নদীপ আসে। চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বছর দেড়েক হল সে কলকাতার প্রাইভেট হসপিটালের চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসেছে। ইচ্ছে এখানে একটা নার্সিং হোম খোলার।

*

এই সন্ন্যাসীটি সাধারণ সন্ন্যাসী নয়। ভূত। বেলগাছে থাকে। কেউ ভূত-সন্ন্যাসীর দর্শন পেয়েছে, কেউ শ্রবণ করেছে তার কথা। দর্শনের ব্যাপারটা কার কোন বেলগাছে হয়েছে তা বোঝানো রীতিমত দুষ্কর হয়ে যাচ্ছিল। গ্রামে বেলগাছের সংখ্যা একশর উপর। তাই অন্ততপক্ষে কয়েকটি গাছের নামকরণ হয়েছে নয়নচূড়, শান্তিচূড়, মণিচুড়, কমলচূড়, লতিকাচূড় বলে। যাদের ভূত-সন্ন্যাসীর দর্শনের দুর্ভাগ্য হয়নি সাধনা তাদের দলে। তবে আলো, কম্পন দেখার এবং কান্না বা ভৌতিক শব্দ শোনার অভিজ্ঞতা সেও প্রাপ্ত করেছে।

রতন বিশ্বাস নিজেকে ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করেন না। তিনি কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেছেন। ইন্টার্নশিপের পর কলকাতাতেই এমএস ইন সার্জারি এবং এমসিএইচ। ডাক্তারি চর্চার সময়টাতে অনেক মানুষের জীবনকালকে দীর্ঘ করেছেন। অনেক মানুষের মৃত্যুর সাক্ষীও হয়েছেন। পেশায় নিষ্ঠা রেখে অনেক কাটাছেঁড়া করেছেন, অনেক মৃত মুখ এবং শরীর দেখেছেন। কখনো মনে হয়নি রাতের অন্ধকারে মনের আয়নাতে পর্যন্ত সেসব মুখ এবং শরীর জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে। ভূত-সন্ন্যাসী-কথনের পরম্পরা গ্রামে চলছে বেশ কয়েক দশক ধরে। কিন্তু আজ অলোকার কথা রতন বিশ্বাসের শরীরে ভয়ের শিহরণ তুলল। এইজন্যই বুঝি বার্ধক্যকে শৈশবের পরিবর্তিত রূপ বলা হয়। তিনি অলোকাকে বললেন, 'এত সাহস!'

অলোকা চলে গেলে রতন বিশ্বাস পাশের ঘরে বিছানায় শায়িত স্ত্রীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। পঞ্চান্ন বছর একসঙ্গে রইলেন কিন্তু সুখ কখনই তাঁদের সঙ্গ দিল না। অনেক টাকা এল ঘরে, সন্তান এল না। অনেক চিকিৎসা হল, দু'জনার মধ্যে অনেক ভুলবোঝাবুঝি হল, অনেকবার অনেকদিনের জন্য মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হল কিন্তু কোনকিছুই সমস্যার অবসান ঘটাতে পারল না। শেষে যখন বয়স এগিয়ে এসে সমস্যা নিজের পায়ের নীচে চেপে দিল, সুখের জন্য উন্মুক্ত করে দিল দরজা তখন সুখের বদলে অসুখ ঢুকে পড়ল ঘরে। দৃষ্টিশক্তি প্রখর হলেও হাজার চেষ্টা করে স্ত্রী তাঁকে চিনতে পারছেন না। তিনিও স্ত্রীর মুখখানা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন না। তাঁর দৃষ্টিশক্তি একেবারেই কমে গেছে। আজ স্ত্রীকে দেখতে এসে তিনি যেন মুহূর্তের জন্য তাঁর বিছানার পাশে পাঁচ-সাড়ে ফুট উচ্চতার কিছু একটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। বুঝতে পারলেন না কি। নাকি কে। কি সে? বা কে সে? বোঝার আগেই অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি সাধনাকে দেখলেন। স্ত্রীকে রাতের খাবার খাইয়ে দিতে এসেছে। দুর্বল পা নিয়ে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি রতন বিশ্বাস নিজের ঘরে ফিরে এলেন। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলেন সে কি সাধনাই ছিল? আগেই ঢুকেছিল ঘরে? তিনি পরে দেখেছেন? নাহ্‌, তাঁর ডাক্তারের সাহসী সত্তাটা আর সাহসী থাকছে না।

কয়েকদিন ধরে পরিচিত ঘরগুলোতে অপরিচিতির রঙ লাগছে। কখনো তিনি চোখের সামনে দিয়ে পাখিকে উড়ে যেতে দেখছেন, কখনো কালো জানোয়ারকে সামনে দেখা দিয়েই অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখছেন। তিনি নিজেকে বলছেন, 'আমি জানি কেন এমন হয়।' নিজেকে প্রশ্ন করছেন, 'কেন?' নিজেই পরে উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন, 'আমি জানতাম কেন এমন হয়।' আবার নিজেকে প্রশ্ন করছেন, 'জানতাম বলছ কেন? এখন কী হল সে জানার?' নিজেকেই উত্তর দিচ্ছেন, 'ভুলে গেছি। আমার এখন অন্য কথা মনে পড়ছে।'

রতন বিশ্বাসের মনে পড়ছে বাইপাস সার্জারি করছিলেন...পেশেন্টটাকে বাঁচাতে পারেননি। একটা ছেলের হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র ছিল, তাকেও তিনি...। একজন মহিলার স্টেন্টিং-এর সময় কি হল কে জানে, সে দম ছেড়ে দিল...। আরও অনেক ঘটনা। কখনো স্পষ্ট, কখনো ঝাপসা। বাড়ি অপরিচিত হয়ে যেতে থাকলেও তিনি সেই বাড়িকেই বেশি করে আঁকরে ধরে থাকতে চাইছেন। হয়ে যাচ্ছেন এক ভীষণ ভীতসন্তস্ত্র ঘরকুনো। এতটাই ঘরকুনো যে বাইরে বেরনো একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন। কমিয়ে দিয়েছেন স্ত্রীর কাছে যাওয়া।

রতন বিশ্বাস মনের শক্ত আবরণের মধ্যের শিলা যে গলতে শুরু করেছে তা কাউকে বুঝতে দিতে চাইছেন না। তবু বুঝি গলিত শিলার আঁচ বাইরে বেরিয়েই পড়েছে। অলোকা এটুকু অন্তত বুঝেছে তিনি একা থাকতে চাইছেন। সে আসে, কাজ করে, চলে যায়, কাকুকে আর বিরক্ত না করে। সাধনা একইরকম। চুপচাপ। না অন্যকে বিরক্ত করার অভ্যেস তার কখনো ছিল, না এখন তৈরি হয়েছে। এক রাতে টয়লেটে যাবেন বলে রতন বিশ্বাস বিছানা থেকে মেঝেতে পা রাখতে গিয়ে একটি সাদা কাপড়ে আবৃত শরীরের অনাবৃত মুখ দেখলেন। মুখটি পরিচিত। তিনি ভয়ে তাড়াতাড়ি পা-টাকে উঠিয়ে নিলেন। মুখটাও শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁর মুখের সামনে হাওয়ায় ভাসতে লাগল। তিনি চোখ বন্ধ করলেন। কয়েক সেকেন্ড বাদে যখন চোখ খুললেন দেখলেন মুখটা পালটে গেছে। কিন্তু পালটে যাওয়া মুখটিও পরিচিত। আবার চোখ বন্ধ করলেন, আবার খুললেন। কয়েকবার চোখ বন্ধ হওয়া এবং খোলার মাঝে কয়েকটি ভিন্ন পরিচিত মুখ সামনে এল। সবশেষের মুখটি থেকে হঠাৎ মাংস-চামড়া সরে গেল। বেরিয়ে পড়ল তার কঙ্কাল। রতন বিশ্বাস চিৎকার করে উঠলেন, 'কে তুমি? কে? চলে যাও এখান থেকে।'

রত্নদীপ শুরু শুরুতে এসেই জ্যাঠার ঘরে ঢুকত। তাঁর সঙ্গে দু-চারটে কথা বলত। তাদের কথাবার্তা ডাক্তারি বিষয়েই হত। তার নার্সিং হোম নিয়ে হত। ইভেস্টমেন্ট নিয়ে হত। কিন্তু পরে সে জেঠার সঙ্গে কথা কমিয়ে দিল। আসে, রাতে থাকে, সকালে চলে যায়। আজ চিৎকার শুনে রত্নদীপ জেঠার ঘরে ছুটে এল। জিজ্ঞেস করল, 'কাকে চলে যেতে বলছ?'

'ওকে। ওকে। ওকে চলে যেতে বলছি আমি।'

'কে?'

'দেখতে পাচ্ছ না?'

'না তো!' রত্নদীপ চারিদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই। সে জেঠার চোখের দিকে চোখ রাখল। জেঠাও তার দিকে সন্ধিগ্ধ চোখে তাকালেন। মুহূর্তে তিনি নিজেকে সামনে নিলেন। লজ্জা প্রকাশ পেল তাঁর মুখে। 'একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছিলাম। তুমি যাও।'

রত্নদীপ তবু গেল না। ঘরের লাইটটা জ্বালিয়ে দিল। 'তুমি কি ভূত দেখেছিলে?'

'ধ্যুস!'

হাসল রত্নদীপ, 'নার্সিং হোমটা হয়ে গেলে সবার আগে তোমার চোখের সার্জারি করব।'

রতন বিশ্বাস বললেন, 'সেই আশাতেই বসে আছি।' উত্তর দেবার ইচ্ছে তাঁর ছিল না, কিন্তু দিতে হল। কারণ তিনি রত্নদীপকে বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি মূল স্রোতেই আছেন।

'সন্ন্যাসীটা বড়ই উপদ্রব শুরু করেছে আজকাল। তোমার বাগানের বেল গাছটাতে আবার বাসা বাঁধেনি তো? যদিও প্রাচীর আছে...ভূত একবার মনস্থির করলে টপকাতে কতক্ষণ লাগে!'

বাড়িটি বিশাল। পৌনে দু'বিঘে জমির উপর। জমির এক চতুর্থাংশ নিয়েছে কয়েকটি পাকা ঘর। পাকা ঘরকে বেষ্টিত করে রেখেছে ন'ফুট উঁচু প্রাচীর। পাকা ঘরগুলোর পেছনের প্রাচীরের পরে বাগান। বাগানের পরে আবার প্রাচীর।

'ভূতের আবার মন! ভূত কোন গরু, ঘোড়া নয় যে প্রাচীর টপকাবে!"

'কি বলেন জ্যাঠা, ভূতের মন নেই! ভূতের মনও আছে, প্রাণও আছে।'

জীবন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে রতন বিশ্বাস এক জায়গায় পড়েছিলেন, জীবন হল জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এমন এক অবস্থা যা শুধুমাত্র জীবন্ত কোষের মধ্যে দেখা যায়। হেসেছিলেন তিনি। জীবনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ঘুরে ফিরে জীবন শব্দটাকেই ব্যবহার করতে হচ্ছে। জীবন এবং জীবন্ত একই শব্দের দুটো রূপ―জীবন হল বিশেষ্য এবং জীবন্ত বিশেষণ। রতন বিশ্বাস রত্নদীপকেই বলেছিলেন, 'জীবন্ত কোষ' না বলে 'প্রাণযুক্ত জিনিস' বলা উচিত।

রত্নদীপ বলল, 'কলেজে একদিন আমরাও ভূত নিয়ে অনেক গবেষণা করছিলাম...'

'যেমন?'


'ওই, ভূতের প্রাণ আছি কিনা। যেমন, বলছিলাম শরীরে হাড় তো থাকেই, যখন মানুষের রূপে আসে তখন মাংসও থাকে সুতরাং নিশ্চয় কোষ আছে। ভূত স্বাধীনভাবে নিজের ক্রিয়াকলাপ চালাতে পারে, অন্যের শরীরে প্রবেশ করলে পরজীবীর মতো আচরণ করে। ভূত খাদ্য গ্রহণ করে; অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাঁচা খাবার খায়, কাঁচা মাংসও। শ্বসন করে; খাবার হজম তো শ্বসন ছাড়া হবে না, তাছাড়া তার চোখের গর্তের নীচে ওই গর্তটা তো নাকই। শ্বাস নেবে না তো নাক আছে কেন! চলন-গমন তো করেই, মানুষের চেয়েও দ্রুত করে, এই আছে তো এই নেই। এত গতীতে স্থান পরিবর্তন করে যে দেখাই যায় না। প্রজনন করে; একটা মানুষ থেকে যদি একটাই ভূত তৈরি হত তাহলে এত ভূত থাকত না। তাছাড়া খচ্চরও তো প্রজনন করে না। তাই বলে কি বলব যে খচ্চের অস্তিত্ব নেই! ভূতের চেহারাগত বৃদ্ধি আছে, এক সেকেন্ডে হাতকে এক কিলোমিটার লম্বা করে ফেলে। মিউটেশন আছে; মিউটেশন হয়ে হয়েই তো এত ধরনের ভূতের সৃষ্টি হল। ব্রহ্মদৈত্য, মামদো ভূত, গেছো ভূত, মেছো ভূত, শাঁকচুন্নি। এখন বেরিয়েছে নিউ ভেরিয়েশন―সন্ন্যাসী ভূত। ভূত উদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষের রোগ সৃষ্টি করে; গেছো ভূত যে গাছে থাকে সে গাছই রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মানুষকে তো ভূতের রোগে পায়ই পায়, অন্যান্য প্রাণীদেরও পায়। তারা অকারণ লাফালাফি এবং ছোটাছুটি করে।' একসঙ্গে অনেকগুলো কথা বলে ফেলে রত্নদীপ লক্ষ করে রতন বিশ্বাস সামনের দেওয়ালের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। সে জিজ্ঞেস করে, 'কি ভাবছ?'

হুঁশ ফিরে পান রতন বিশ্বাস। 'কিছু না। তুমি আজ আমার পাশে শোও। শরীরটা ঠিক লাগছে না।' রাতে এক স্বপ্ন এল। তাঁর বাগানের বেলগাছটার নীচে সন্ন্যাসী ভূত দাঁড়িয়ে। তাঁকে বলছে, তামাক আমার বড় প্রিয়। আগামীকাল রাত সাড়ে সাতটায় পর ঠিক এইখানটায় তিনটে তামাকের পাতা রেখে দেবে। নইলে আগামীকালের রাতই তোমার শেষ রাত হবে।' ভয়ে ভয়ে সন্ন্যাসীকে জিজ্ঞেস করলেন রতন বিশ্বাস, 'আর যদি রেখে দিই?'

'ভালো হবে।'

'তুমি কখন আসবে?'

'পৌনে আটটায়।'

ঘুম ভাঙতেই দেখলেন পাশে রত্নদীপ শুয়ে আছে। শোনা কথা, সন্ন্যাসী ভূতের এমন নির্দেশ গ্রামের অনেককেই দিয়েছে। এটাও শোনা কথা, তাঁর নির্দেশ মেনেই নাকি তারা ভূতের ভয় থেকে মুক্তি পেয়েছে। একটু জোর মনে। সকাল হল। আরেকটু তাজা হল মন। ভাবলেন, 'কিছুই না গ্রামের অশুভ প্রভাব পড়েছে মনের ওপর। বয়স হয়েছে, কষ্টকর হবে, তবু যেভাবেই হোক এই বাড়ি বিক্রি করে স্ত্রীকে নিয়েই কলকাতায় চলে যাব। বেলগাছ নেই তো সন্ন্যাসী ভূতের ভুতুড়ে কারবারও নেই। এই বয়সে কাঁপা হাতে সার্জারি করতে গিয়ে একশটা রোগী মরলেও তাদের আত্মা আমাকে তাড়া করবে না। কলকাতা কখনো ডাক্তারদের ওপর ভূতের অত্যাচার সহ্য করেনি, করবেও না সহ্য। ওই শহরটাই আমার জন্য এক বিশাল সহায়।' তবু এখনকার মতো সুরক্ষা কবচটি পাওয়া যায় কিনা তা তাঁকে যাচাই করে নিতেই হবে। তাছাড়া বিদ্রোহী হওয়ারই বা কী প্রয়োজন! রতন বিশ্বাস রত্নদীপের প্রায় পেছন পেছন বাড়ি থেকে বেরোলেন। বাজারে গিয়ে তিনটে দোকান থেকে কিনলেন তিনটে তামাকের পাতা। তারপর সারাদিন ঘড়ি দেখে দেখে সময়ের প্রতীক্ষা করলেন।

ঠিক আটটাতেই টর্চ হাতে তিনি বেলগাছের নীচে পৌঁছে গেলেন। সযত্নে একটা কলাপাতার উপর তামাকের পাতা তিনটে রেখে বাড়ির এবং বাগানের মাঝের প্রাচীরের টিনের গেটটার কাছে প্রায় শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় বসে রইলেন। পৌনে আটটা বাজল। টর্চ জ্বালাতে সাহস হল না। চোখের তারাতে জোর লাগিয়েও মাংস অথবা হাড়ের কোন চেহারা দেখা গেল না। কিন্তু আটটা বাজতে না বাজতেই তামাক পোড়ার ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে।


Comments


ssss.jpg
sssss.png

QUICK LINKS

ABOUT US

WHY US

INSIGHTS

OUR TEAM

ARCHIVES

BRANDS

CONTACT

© Copyright 2025 to Debi Pranam. All Rights Reserved. Developed by SIMPACT Digital

Follow us on

Rojkar Ananya New Logo.png
fb png.png

 Key stats for the last 30 days

bottom of page