তারকাদের খানাপিনা, স্টার্ট-আপ স্ট্রাটেজি, গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানা, রবিবারের গল্প: সেই নারী..
- রোজকার অনন্যা

- 2 days ago
- 16 min read
তারকাদের খানাপিনা

ক্রিকেট মাঠে তাঁদের ব্যাটের ঝলকানি, বলের গতি আর অসাধারণ ফিটনেস দেখে আমরা মুগ্ধ হই। কিন্তু মাঠের বাইরে এই তারকা ক্রিকেটারদের জীবনও ঠিক আমাদের মতোই, সেখানে রয়েছে প্রিয় খাবারের টান, বাড়ির রান্নার স্বাদ আর বিশেষ কিছু পদ, যেগুলো তাঁদের শক্তি ও আনন্দের বড় উৎস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই তাই ভক্তদের কৌতূহল ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা কী খেতে ভালোবাসেন? কেউ পছন্দ করেন মায়ের হাতে বানানো সাধারণ ঘরোয়া খাবার, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বাদের বিশেষ পদ। এই সংকলনে তুলে ধরা হল ভারতীয় দলের কয়েকজন জনপ্রিয় ক্রিকেটারের প্রিয় খাবার ও তাদের পছন্দের রেসিপির কথা যা জানলে হয়তো ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যরসিকদেরও আগ্রহ বাড়বে।
সূর্যকুমার যাদব
বড়া পাও
কী কী লাগবে
সেদ্ধ আলু ৩টি, বেসন ১ কাপ, কাঁচালঙ্কা কুচি ২টি, আদা বাটা ১ চা চামচ, সর্ষে আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো আধ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, Shalimar's Sunflower তেল ভাজার জন্য, পাও রুটি ৪টি, শুকনো রসুন চাটনি প্রয়োজনমতো।

কীভাবে বানাবেন
কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে সর্ষে ফোড়ন দিন। তাতে কাঁচালঙ্কা, আদা ও হলুদ দিয়ে নাড়ুন। এরপর সেদ্ধ আলু চটকে দিয়ে লবণ ও ধনে পাতা মিশিয়ে শুকনো পুর তৈরি করুন এবং ঠান্ডা হলে গোল বল বানান। অন্যদিকে বেসনে লবণ ও সামান্য জল দিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। আলুর বল ব্যাটারে ডুবিয়ে গরম তেলে সোনালি করে ভেজে নিন। পাও রুটি মাঝখান থেকে কেটে রসুন চাটনি মেখে তার মধ্যে গরম বড়া রেখে পরিবেশন করুন।
অভিষেক শর্মা
বাটার চিকেন
কী কী লাগবে
মুরগির মাংস ৫০০ গ্রাম, দই আধ কাপ, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, Shalimar's Chef Spices লাল লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো আধ চা চামচ, টমেটো পিউরি ১ কাপ, মাখন ২ টেবিল চামচ, কাজু বাটা ২ টেবিল চামচ, ক্রিম ১/৪ কাপ, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো আধ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো।

কীভাবে বানাবেন
মুরগির টুকরোগুলো দই, আদা-রসুন বাটা, লঙ্কা গুঁড়ো ও লবণ দিয়ে কমপক্ষে ৩০ মিনিট মেরিনেট করে রাখুন। কড়াইয়ে মাখন গরম করে টমেটো পিউরি দিয়ে কিছুক্ষণ কষান। এরপর কাজু বাটা দিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। মেরিনেট করা মুরগি দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না মাংস নরম হয়। শেষে ক্রিম ও গরম মশলা মিশিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। নান বা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

তিলক বর্মা
হায়দরাবাদি বিরিয়ানি
কী কী লাগবে
বাসমতি চাল ২ কাপ, মুরগি ৫০০ গ্রাম, দই ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২টি, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচালঙ্কা ৩টি, বিরিয়ানি মশলা / Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, পুদিনা পাতা ২ টেবিল চামচ, ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ, ঘি / Shalimar's Sunflower তেল ২ টেবিল চামচ, জাফরান ভেজানো দুধ ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

কীভাবে বানাবেন
মুরগির সঙ্গে দই, আদা-রসুন বাটা, বিরিয়ানি মশলা ও লবণ মিশিয়ে কিছুক্ষণ মেরিনেট করুন। চাল আধসেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে রাখুন। একটি ভারী পাত্রে প্রথমে মুরগি ছড়িয়ে দিন, তার ওপর ভাতের স্তর দিন। তার ওপর ভাজা পেঁয়াজ, পুদিনা, ধনে পাতা, ঘি ও জাফরান দুধ ছড়িয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ২০-২৫ মিনিট দমে রান্না করুন।

সঞ্জু স্যামসন
আপ্পাম ও চিকেন স্ট্যু
কী কী লাগবে
চালের গুঁড়ো ২ কাপ, নারকেল দুধ ১ কাপ, চিনি ১ চা চামচ, ইস্ট আধ চা চামচ, মুরগি ৪০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১টি, আদা কুচি ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো আধ চা চামচ, নারকেল দুধ ১ কাপ, কারি পাতা কয়েকটি, লবণ স্বাদমতো, Shalimar's Sunflower তেল ২ টেবিল চামচ

কীভাবে বানাবেন
চালের গুঁড়ো, নারকেল দুধ, চিনি ও ইস্ট মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করে কয়েক ঘণ্টা ঢেকে রাখুন যাতে ফারমেন্ট হয়। তারপর আপ্পাম প্যানে ব্যাটার ঢেলে পাতলা করে আপ্পাম বানান। অন্যদিকে প্যানে সামান্য তেল দিয়ে পেঁয়াজ, আদা ও কারি পাতা ভেজে মুরগি দিন। নাড়াচাড়া করে নারকেল দুধ ও গোলমরিচ দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। গরম আপ্পামের সঙ্গে স্ট্যু পরিবেশন করুন।
ঈশান কিষাণ
লিট্টি চোখা
কী কী লাগবে
আটা ২ কাপ, ছাতু ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১টি, কাঁচালঙ্কা কুচি ২টি, ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ, Shalimar's সর্ষের তেল ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, বেগুন ১টি, টমেটো ১টি।

কীভাবে বানাবেন
ছাতুতে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, ধনে পাতা, সর্ষের তেল ও লবণ মিশিয়ে পুর তৈরি করুন। আটার ময়ান করে ছোট লেচি বানিয়ে তার মধ্যে পুর ভরে গোল বল তৈরি করুন। ওভেন বা তন্দুরে সেঁকে লিট্টি বানান। অন্যদিকে বেগুন ও টমেটো আগুনে পুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে চটকে নিন। তাতে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও সর্ষের তেল মিশিয়ে চোখা বানিয়ে লিট্টির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

শিবম দুবে
গ্রিলড চিকেন
কী কী লাগবে
চিকেন ব্রেস্ট ২টি, অলিভ অয়েল/ Shalimar's Soyabean তেল ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো আধ চা চামচ, পাপরিকা আধ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, মাখন ১ চা চামচ।

কীভাবে বানাবেন
প্রথমে চিকেন ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। একটি বাটিতে অলিভ অয়েল, লেবুর রস, রসুন বাটা, গোলমরিচ, পাপরিকা ও লবণ মিশিয়ে মেরিনেড তৈরি করুন। তাতে চিকেন মাখিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর গ্রিল প্যান বা ওভেন গরম করে চিকেন দুই দিক থেকে ধীরে ধীরে গ্রিল করুন। শেষে সামান্য মাখন ব্রাশ করে কয়েক মিনিট রেখে নামিয়ে নিন। সালাদ বা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।
হার্দিক পান্ডিয়া
গ্রিলড ফিশ
কী কী লাগবে
মাছের ফিলে ৩০০ গ্রাম, অলিভ অয়েল/ Shalimar's Soyabean তেল ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো আধ চা চামচ, শুকনো হার্বস আধ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো।

কীভাবে বানাবেন
মাছের ফিলে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। একটি বাটিতে অলিভ অয়েল, লেবুর রস, রসুন, গোলমরিচ ও লবণ মিশিয়ে মেরিনেড তৈরি করুন। মাছের ওপর ভালোভাবে মাখিয়ে ২০–২৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর গরম গ্রিল প্যানে বা ওভেনে মাছ দু’দিক থেকে ধীরে ধীরে গ্রিল করুন। মাছ নরম হয়ে গেলে ওপরে সামান্য হার্বস ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
আর্শদীপ সিং
পাঞ্জাবি চিকেন কারি
কী কী লাগবে
মুরগির মাংস ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ২টি, টমেটো কুচি ১টি, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা আধ চা চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, ধনে পাতা সাজানোর জন্য।

কীভাবে বানাবেন
কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। এরপর আদা-রসুন বাটা দিয়ে নাড়ুন। টমেটো কুচি দিয়ে মশলা কষিয়ে নিন যতক্ষণ না তেল ছাড়তে শুরু করে। এবার মুরগির টুকরো দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালো করে কষান। প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ঢেকে দিন এবং মাংস নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। শেষে গরম মশলা ও ধনে পাতা ছড়িয়ে নামান।

যশপ্রীত বুমরাহ
ডাল ফ্রাই
কী কী লাগবে
মুসুর ডাল ১ কাপ, চাল ২ কাপ, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো আধ চা চামচ, রসুন কুচি ৩ কোয়া, জিরে আধ চা চামচ, শুকনো লঙ্কা ১টি, Shalimar's সর্ষের তেল বা ঘি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

কীভাবে বানাবেন
ডাল ধুয়ে হলুদ ও লবণ দিয়ে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করুন। অন্যদিকে চাল ধুয়ে ভাত রান্না করে নিন। একটি ছোট কড়াইয়ে তেল বা ঘি গরম করে জিরে, রসুন ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। এই ফোড়ন সেদ্ধ ডালের ওপর ঢেলে দিন এবং কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
বরুন চক্রবর্তী
মসলা দোসা
কী কী লাগবে
চাল ২ কাপ, কলাই ডাল ১ কাপ, সেদ্ধ আলু ৩টি, সর্ষে আধ চা চামচ, কাঁচালঙ্কা কুচি ২টি, Shalimar's Chef Spices হলুদ গুঁড়ো আধ চা চামচ, কারি পাতা কয়েকটি, Shalimar's Sunflower তেল ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

কীভাবে বানাবেন
চাল ও ডাল আলাদা করে ভিজিয়ে বেটে ব্যাটার তৈরি করুন এবং কয়েক ঘণ্টা ফারমেন্ট হতে দিন। তাওয়ায় সামান্য তেল দিয়ে পাতলা করে ব্যাটার ছড়িয়ে দোসা বানান। অন্যদিকে কড়াইয়ে সর্ষে, কাঁচালঙ্কা ও কারি পাতা ফোড়ন দিয়ে সেদ্ধ আলু, হলুদ ও লবণ মিশিয়ে পুর তৈরি করুন। দোসার মাঝখানে পুর দিয়ে ভাঁজ করে পরিবেশন করুন।
রিঙ্কু সিং
আলু পরোটা
কী কী লাগবে
আটা ২ কাপ, সেদ্ধ আলু ৩টি, কাঁচালঙ্কা কুচি ২টি, ধনে পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, ঘি/ Shalimar's Sunflower তেল ১ টেবিল চামচ।

কীভাবে বানাবেন
আটার ময়ান তৈরি করে কিছুক্ষণ রেখে দিন। আলু চটকে কাঁচালঙ্কা, ধনে পাতা ও লবণ মিশিয়ে পুর তৈরি করুন। আটার ছোট লেচির মধ্যে পুর ভরে বেলে নিন। গরম তাওয়ায় ঘি দিয়ে দুই দিক সেঁকে নিন যতক্ষণ না সুন্দর সোনালি রং হয়। দই বা আচার দিয়ে পরিবেশন করুন।
ক্রিকেটারদের জীবন যতই নিয়মে বাঁধা হোক না কেন, খাবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সব সময়ই বিশেষ। কঠোর অনুশীলন, ফিটনেস ও ম্যাচের চাপের মাঝেও প্রিয় খাবারের স্বাদ তাদের মনে করিয়ে দেয় নিজের শিকড়, নিজের শহর আর বাড়ির রান্নাঘরের উষ্ণতা। কারও পাতে উত্তর ভারতের পরোটা, কারও পছন্দ দক্ষিণ ভারতের ইডলি বা দোসা, আবার কেউ ভালোবাসেন হায়দরাবাদের সুগন্ধি বিরিয়ানি এই বৈচিত্র্যই যেন ভারতের বহুমুখী খাদ্যসংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।
মাঠে তাঁরা সবাই এক দলের সদস্য, দেশের জার্সি গায়ে নিয়ে লড়াই করেন জয়ের জন্য। কিন্তু খাবারের টেবিলে তাদের পছন্দ-অপছন্দ আমাদের মনে করিয়ে দেয় তাঁরাও আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ, যাদের জীবনের আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকে প্রিয় খাবারের স্বাদ। তাই ক্রিকেটের উত্তেজনার পাশাপাশি এইসব প্রিয় পদও যেন হয়ে ওঠে তাদের শক্তির উৎস, স্মৃতির সঙ্গী এবং জীবনের ছোট্ট আনন্দের অংশ।
স্টার্ট-আপ স্ট্র্যাটেজি

বর্তমান সময়ে ‘স্টার্ট-আপ’ শব্দটি শুধু একটি ব্যবসায়িক পরিভাষা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, উদ্ভাবন এবং আত্মনির্ভরতার প্রতীক। প্রযুক্তির বিস্তার, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং নতুন বাজারের সুযোগ সব মিলিয়ে আজকের তরুণ-তরুণীরা ক্রমশ নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হচ্ছেন। একসময় চাকরি পাওয়াই ছিল জীবনের প্রধান লক্ষ্য, কিন্তু এখন অনেকেই চাকরির পাশাপাশি কিংবা চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাইছেন। তবে একটি স্টার্ট-আপ শুরু করা যতটা সহজ মনে হয়, তাকে সফল করে তোলা ততটাই পরিকল্পনা, কৌশল এবং ধৈর্যের বিষয়। তাই স্টার্ট-আপের ক্ষেত্রে সঠিক স্ট্র্যাটেজি বা কৌশলগত পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্টার্ট-আপ বলতে সাধারণত এমন একটি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগকে বোঝায়, যা কোনো নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি অথবা বিশেষ কোনো সমস্যার সমাধান নিয়ে বাজারে আসে। বড় কোম্পানির মতো বিশাল পুঁজি বা পরিকাঠামো না থাকলেও স্টার্ট-আপের শক্তি থাকে তার নতুন ভাবনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতায়। একটি সফল স্টার্ট-আপের মূল লক্ষ্য হল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান দেওয়া। তাই যে ব্যবসা মানুষের বাস্তব সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারে এবং তার সহজ সমাধান দিতে পারে, তার সফল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। অনেকেই মনে করেন, একটি ভালো আইডিয়া থাকলেই ব্যবসা সফল হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ভালো ধারণা থাকা সত্ত্বেও অনেক উদ্যোগ সফল হতে পারে না। এর অন্যতম কারণ হল পরিকল্পনার অভাব। স্টার্ট-আপ স্ট্র্যাটেজি মূলত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, যা ব্যবসাকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা বুঝতে পারেন তাঁর লক্ষ্য বাজার কোনটি, গ্রাহকের চাহিদা কী, প্রতিযোগিতা কতটা এবং উপলব্ধ সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ, স্ট্র্যাটেজি ব্যবসাকে অনিশ্চয়তার মধ্যেও একটি নির্দিষ্ট দিক নির্দেশ করে।

স্টার্ট-আপ শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল আইডিয়াটিকে যাচাই করা। অনেক সময় উদ্যোক্তার কাছে কোনো ধারণা খুব আকর্ষণীয় মনে হলেও বাজারে তার প্রকৃত চাহিদা নাও থাকতে পারে। তাই ব্যবসা শুরু করার আগে বাজার সমীক্ষা করা জরুরি। সম্ভাব্য গ্রাহকদের মতামত নেওয়া, ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে পরিষেবা চালু করা বা পণ্যের নমুনা বাজারে ছাড়া এই সব পদ্ধতির মাধ্যমে বোঝা যায় সেই আইডিয়ার বাস্তব সম্ভাবনা কতটা। একটি সফল স্টার্ট-আপের জন্য লক্ষ্য বাজার নির্ধারণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব পণ্য বা পরিষেবা সবার জন্য নয়। তাই শুরুতেই নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে হয়। যেমন যদি কোনো অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়, তবে সেটি স্কুল পড়ুয়া, কলেজ পড়ুয়া না কর্মজীবী মানুষ কার জন্য তৈরি করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। লক্ষ্য গ্রাহককে যত ভালোভাবে বোঝা যাবে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা তৈরি করাও তত সহজ হবে।
ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করাও স্টার্ট-আপ স্ট্র্যাটেজির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থাৎ ব্যবসাটি কীভাবে আয় করবে, তার স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। অনেক স্টার্ট-আপ প্রথমে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর দিকে জোর দেয়, পরে আয়ের কাঠামো তৈরি করে। আবার কেউ কেউ শুরু থেকেই নির্দিষ্ট আয়ের মডেল নিয়ে কাজ শুরু করে। সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক পরিষেবা, সরাসরি পণ্য বিক্রি, প্ল্যাটফর্ম কমিশন বা বিজ্ঞাপন—এই ধরনের বিভিন্ন মডেল স্টার্ট-আপে দেখা যায়। সঠিক ব্যবসায়িক মডেল বেছে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টার্ট-আপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল একটি দক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য টিম গঠন করা। একজন উদ্যোক্তার পক্ষে একা সব কাজ করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তি, বিপণন, আর্থিক পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনা এই সব ক্ষেত্রের জন্য আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন হয়। তাই একই লক্ষ্য এবং মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে পারে এমন একটি টিম থাকলে স্টার্ট-আপের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায় এবং দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। পুঁজি বা অর্থায়নও স্টার্ট-আপের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক উদ্যোক্তাই নিজের সঞ্চয় বা বন্ধু-পরিজনের সহায়তায় ব্যবসা শুরু করেন। পরে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়। যেমন অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ব্যাংক ঋণ বা সরকারি প্রকল্পের সাহায্য। বর্তমানে ভারতে স্টার্ট-আপ উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিও চালু হয়েছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক।

ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং স্টার্ট-আপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি নতুন ব্যবসাকে প্রথমেই মানুষের নজরে আনতে হয়। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং স্টার্ট-আপদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যম, অনলাইন বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট মার্কেটিং এবং ই-মেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব। পাশাপাশি একটি স্পষ্ট ব্র্যান্ড পরিচয় তৈরি করাও জরুরি, যাতে গ্রাহকের মনে ব্যবসাটির প্রতি বিশ্বাস তৈরি হয়। তবে স্টার্ট-আপের পথ সবসময় সহজ নয়। নতুন ব্যবসাকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকা, বাজারের চাহিদা ভুলভাবে বোঝা, ব্যবস্থাপনায় ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রতিযোগিতার চাপ এই সব কারণে অনেক স্টার্ট-আপ প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা নেওয়া স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক সফল উদ্যোক্তার জীবনে প্রথম দিকে একাধিক ব্যর্থতার গল্প রয়েছে।

প্রযুক্তির উন্নতি আজ স্টার্ট-আপ জগতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ই-কমার্স, মোবাইল অ্যাপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এই সব প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন ব্যবসা দ্রুত বাজারে পৌঁছতে পারছে। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং ক্লাউড প্রযুক্তির ফলে ছোট উদ্যোগও এখন খুব সহজে বড় বাজারে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বাড়িতে তৈরি খাবার, হস্তশিল্প, পোশাক, শিক্ষা পরিষেবা বা ডিজিটাল কনটেন্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা সফল স্টার্ট-আপ গড়ে তুলছেন। সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে ঘরে বসেই ব্যবসা পরিচালনা করা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। এর ফলে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। স্টার্ট-আপ মানে শুধু একটি নতুন ব্যবসা শুরু করা নয়, এটি একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহসী উদ্যোগ। কিন্তু সেই স্বপ্নকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সুসংগঠিত পরিকল্পনা, সঠিক কৌশল এবং ধৈর্য। আইডিয়া যাচাই থেকে শুরু করে বাজার বিশ্লেষণ, টিম গঠন, অর্থায়ন এবং বিপণন সব ক্ষেত্রেই সচেতন পরিকল্পনা দরকার। সঠিক স্ট্র্যাটেজি থাকলে ছোট একটি উদ্যোগও একদিন বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। আর সেই সম্ভাবনাই আজকের তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে উদ্যোগী হতে অনুপ্রাণিত করছে।
গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানা

বাড়ি শুধু চারটি দেওয়াল আর একটি ছাদ নয় বাড়ি মানে অনুভূতি, স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের এক অনন্য প্রকাশ। আর সেই বাড়িকে নিজের মতো করে সাজিয়ে তোলার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মানুষের রুচি, মনন এবং সংস্কৃতির ছাপ। বাঙালি সমাজে গৃহসজ্জা শুধুমাত্র সৌন্দর্য বাড়ানোর বিষয় নয়, বরং এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে। তাই বাঙালি বাড়ির অন্দরসজ্জায় প্রায়ই দেখা যায় ঐতিহ্য, শিল্পচেতনা এবং স্মৃতিমেদুরতার এক অপূর্ব মিশ্রণ। আজকের আধুনিক ফ্ল্যাট সংস্কৃতির মধ্যেও অনেকেই বাড়ির সাজে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া রাখতে চান। পুরোনো দিনের কাঠের আসবাব, টেরাকোটার শিল্প, নকশিকাঁথা, পটচিত্র কিংবা শোলার কাজ—এই সব উপাদান বাঙালি গৃহসজ্জাকে একটি স্বতন্ত্র চরিত্র দেয়। এগুলি শুধু ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং বাংলার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
বাঙালি বাড়ির গৃহসজ্জার ইতিহাস অনেক পুরোনো। গ্রামবাংলার কাঁচা বাড়ি কিংবা মাটির দেওয়ালেও একসময় আলপনা, শোলা, বাঁশ কিংবা পাটের তৈরি নানা জিনিস দিয়ে ঘর সাজানোর রীতি ছিল। উৎসব-অনুষ্ঠানের সময় ঘরের মেঝেতে আলপনা আঁকা, দেওয়ালে শোলার সাজ বা ফুলের মালা—এই সবই ছিল গৃহসজ্জার অংশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ধরন বদলেছে, কিন্তু সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই আজও টিকে রয়েছে। গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানার অন্যতম বড় উপাদান হল আলপনা। সাধারণত চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি এই সাদা নকশা বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা কিংবা বিবাহের মতো শুভ অনুষ্ঠানে মেঝেতে আলপনা আঁকার রীতি বহুদিনের। এখন অনেকেই আলপনার নকশাকে দেয়ালের সাজ বা টেবিল ডেকরের মধ্যেও ব্যবহার করছেন। ফলে ঐতিহ্যটি নতুন রূপে ফিরে আসছে।

দেয়ালসজ্জায় বাঙালি বাড়িতে বিশেষ গুরুত্ব পায় পটচিত্র। বাংলার গ্রামাঞ্চলে পটুয়ারা যে পটচিত্র আঁকেন, তাতে ধর্মীয় কাহিনি, লোককথা বা সামাজিক বার্তা ফুটে ওঠে। এই পটচিত্র আজ অনেক আধুনিক বাড়ির দেওয়ালে জায়গা করে নিয়েছে। রঙিন এবং প্রাণবন্ত এই শিল্পকর্ম ঘরের পরিবেশকে উজ্জ্বল করে তোলে এবং বাংলার লোকশিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরে। টেরাকোটার শিল্পও বাঙালি গৃহসজ্জায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বিশেষ করে বিষ্ণুপুর অঞ্চলের টেরাকোটার কাজ আজ আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। টেরাকোটার ঘোড়া, হাতি, দেওয়াল ঝোলানো শিল্প বা ফুলদানি—এই সব জিনিস ঘরের সাজে ব্যবহার করলে একদিকে যেমন ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকে, তেমনি ঘরেও একটি উষ্ণ, মাটির গন্ধমাখা পরিবেশ তৈরি হয়। গৃহসজ্জায় কাপড়ের ব্যবহারের মধ্যেও বাঙালিয়ানা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। নকশিকাঁথা তার একটি বড় উদাহরণ। পুরোনো শাড়ি বা কাপড় দিয়ে তৈরি এই কাঁথায় সূচিকর্মের মাধ্যমে নানা নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। একসময় এটি ছিল গ্রামবাংলার নারীদের হাতের শিল্প। এখন সেই নকশিকাঁথা বেডকভার, কুশন কভার কিংবা ওয়াল হ্যাঙ্গিং হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ঘরে এক ধরনের আন্তরিকতা ও উষ্ণতা এনে দেয়।

বাঙালি বাড়ির অন্দরসজ্জায় কাঠের আসবাবও বিশেষ ভূমিকা রাখে। পুরোনো দিনের পালিশ করা কাঠের আলমারি, দোলনা চেয়ার, খাট বা সেন্টার টেবিল—এই সব জিনিস ঘরের মধ্যে এক ধরনের আভিজাত্য সৃষ্টি করে। অনেক পরিবারে এখনও পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত পুরোনো আসবাব সংরক্ষণ করে রাখা হয়, যা শুধু ব্যবহারিক নয়, আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। গৃহসজ্জায় গাছপালার ব্যবহারও বাঙালিয়ানার একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। বারান্দা বা জানালার পাশে টবে লাগানো মানিপ্ল্যান্ট, তুলসী গাছ, শিউলি বা নানা ধরনের ফুলগাছ ঘরের পরিবেশকে সতেজ করে তোলে। গ্রামবাংলায় উঠোনে গাছ লাগানোর যে সংস্কৃতি ছিল, শহরের ফ্ল্যাট সংস্কৃতিতেও অনেকেই তা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। বাঙালি বাড়িতে বইয়ের উপস্থিতিও এক ধরনের গৃহসজ্জা হিসেবে ধরা যায়। বুকশেলফে সাজানো বই, দেওয়ালে টাঙানো সাহিত্যিকদের ছবি বা ছোট একটি পড়ার কোণ—এই সবই ঘরের সাংস্কৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে। অনেক সময় একটি ছোট বইয়ের তাকও ঘরের সাজে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
গৃহসজ্জায় আলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাঙালিয়ানা ফুটে ওঠে। মাটির প্রদীপ, শোলার তৈরি ল্যাম্পশেড বা কাপড়ের ল্যাম্পশেড—এই সব জিনিস ঘরের আলোকে কোমল ও আরামদায়ক করে তোলে। বিশেষ করে উৎসবের সময় প্রদীপের আলো ঘরের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তোলে। এছাড়া অনেক বাঙালি বাড়িতে দেখা যায় পারিবারিক স্মৃতির নানা চিহ্ন—পুরোনো সাদা-কালো ছবি, হাতে আঁকা ছবি, পুরস্কার বা স্মারক। এগুলিও গৃহসজ্জার একটি অংশ হয়ে ওঠে এবং বাড়ির ইতিহাসের কথাও মনে করিয়ে দেয়। আজকের সময়ে ইন্টিরিয়র ডিজাইনের নানা আধুনিক ধারণা এলেও অনেকেই বাড়ির সাজে বাঙালিয়ানার স্বাদ বজায় রাখতে চান। আধুনিক সোফা বা আলো ব্যবস্থার সঙ্গে পটচিত্র, নকশিকাঁথা বা টেরাকোটার কাজ মিলিয়ে একটি নতুন ধরনের নান্দনিকতা তৈরি হচ্ছে। ফলে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার একটি সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে।

গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানা শুধু নান্দনিকতার বিষয় নয়, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক সংরক্ষণও বটে। লোকশিল্প, হস্তশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী উপকরণের ব্যবহার শিল্পীদের কাজকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানা মানে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করা নয়। এটি এক ধরনের অনুভূতি, যা বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আধুনিকতার ঢেউয়ের মধ্যেও যদি আমরা এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারি, তবে আমাদের ঘর শুধু সুন্দরই হবে না, বরং হয়ে উঠবে আমাদের সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
সেই নারী
শুভমানস ঘোষ

তখন ভোররাত।
জানলার পাশে রেললাইনে দলছুট ডিজেল ইঞ্জিনের কান-ফাটানো হুইশেলের শব্দে ঘুমটা ভাঙতেই মুহূর্তে টান-টান শ্বেতা। কী কাণ্ড, নয়ন যে জেগেই আছে! উত্তেজনায় ছটফট করছে। বুকটা উঠছে-পড়ছে। তার প্রথম যৌবনের প্রথম পুরুষের মতো এতদিনে জেগেছে সে।
হুঁ, গুঞ্জন! গুঞ্জন! তার প্রথম পুরুষ! তার প্রথম ইচ্ছা! ইচ্ছার বারুদঘরে আগুন লাগিয়ে শয়তানের মতো হাসতে-হাসতে একদিন সে তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। জীবনটাই তছনছ হয়ে গিয়েছিল শ্বেতার। সব আনন্দ আর ইচ্ছা হারিয়ে একেবারে শুকনো নদী হয়ে গিয়েছিল। ঠিক তখনই রেললাইনের ধারে কেন যে বেজে উঠেছিল বিয়েবাড়ির সানাই!
সানাইয়ের মতো সর্বনাশা সুর আর নেই। সঙ্গে-সঙ্গে পুরুষের মধুর পাপ ধারণ করার শিহরিত স্মৃতিতে কেঁপে উঠেছিল সে। আনন্দটা ফিরে পাওয়ার জন্য ছটফটিয়ে উঠেছিল।
এতদিনে কি সেই আশা পূর্ণ হতে চলেছে তার? অবশেষে ঘুম ভেঙেছে নয়নের? হুঁ, ঠিক সেই ভাব! সেই অদম্য পুরুষালি বাধ্যবাধকতা! শুয়ে-শুয়ে নয়নের অস্থিরতা দেখতে-দেখতে আচমকা বহুকাল আগে-দেখা এক বিদেশি ফিল্মের কথা মনে পড়ল শ্বেতার।

কলেজে গুঞ্জনের সঙ্গে তখন তার সম্পর্ক হোটেলের নির্জন ঘরে পৌঁছেছে। কলেজ কামাই করে মাঝে-মাঝেই তাকে নিয়ে গুঞ্জন চলে যেত তার বন্ধুর হোটেলে। সারাদিন ধরে তাকে ইচ্ছেমতো আবিষ্কার করে সন্ধের আগে বেরিয়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তবে যেত।
সেসময়ই কোনও একদিন দু’জনে মিলে সিনেমায় গিয়ে ছবিটা দেখেছিল। এ শয়তানকে চট করে চেনা যায় না। মানুষের ছদ্মবেশেই থাকে। বিয়েও করে। রাতে স্ত্রীকে পূর্ণ তৃপ্ত করে ঘুম পাড়িয়ে নিঃশব্দে তার গলায় দাঁত বিঁধিয়ে চকচক করে খেতে থাকে রক্ত।
দিনে-দিনে অসুস্থ হতে-হতে এক সময় স্ত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তারপর আবার একটা বিয়ে করে। প্রতিরাতে নতুন করে শুরু হয় তার রক্তশিকার।
ছবিটা দেখে হল ছেড়ে বেরোনোর সময় আধো-অন্ধকারে সে আড়চোখে ঘন-ঘন দেখছিল গুঞ্জনকে। শয়তানের মতো গুঞ্জনেরও ঠোঁটের দু’পাশ দিয়ে ধারালো শ্বদন্ত বেরিয়ে নেই তো? হোটেল ঘরে তার রতিক্লান্ত দেহের গলায় দাঁত বিঁধিয়ে অজান্তে সে একটু-একটু করে তার রক্তপান করছে না তো?
বাড়ি ফিরে সেদিন রাতেই বমি। শরীরটা গুলিয়ে-গুলিয়ে উঠছিল তার। ভেবেছিল ধকলে আর ভয়ে এমন হচ্ছে। কিন্তু ডাক্তার আসতেই ধরা পড়ে গেল। জানল, শয়তান তার কাজ করে ফেলেছে। চরম বিপদে ফেলে দিয়েছে তাকে। সে প্রেগনেন্ট। খবরটা পেয়ে আর অপেক্ষা নেই, তার জীবন থেকে সুইচ অফ-করা টিভির আলোর মতো বিন্দু হয়ে মিলিয়ে গিয়েছিল শয়তান। আর সম্পর্কই রাখেনি তার সঙ্গে।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল শ্বেতার। গুঞ্জনকে ফিরে পেতে কলেজের বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ধরার চেষ্টা করেছিল তাকে। কিন্তু এলাকায় তাদের সাংঘাতিক প্রতিপত্তি। ক্ষমতার হাত বেজায় লম্বা। টিকিটিও ছুঁতে পারেনি তার।
বন্ধুরা তাকে পরামর্শ দিয়েছিল থানায় গিয়ে ধর্ষণের মামলা ঠুকতে। রাজি হয়নি সে। যতই আইন মেয়েদের পক্ষে থাক, বিপদ তো একা ঘটায়নি। তারও দায় ছিল। কাঁদতে-কাঁদতে ফিরে এসেছিল। বুঝেছিল, যতই সুইচ জ্বালানোর চেষ্টা করুক, কেঁদে বিছানা ভাসাক, স্ক্রিনে আর আলো আসবে না। ছবিও ফুটবে না। অকালে পোকায়-কাটা ফলের মতো আস্ত একটা জীবন মাড়িয়ে-থেঁতলে যাবে তাকে। কিচ্ছু করতে পারবে না। ভয়ে-আতঙ্কে শিউরে উঠেছিল। বুঝেছিল পুরুষই তার কাল। পুরুষকেই তাকে পেতে হবে। তবেই সে বাঁচবে।
হুঁ, বেঁচেছিল। গুঞ্জনকে ভুলতে নয়নকে বিয়ে করে ফুলশয্যায় এক বিছানায় শুতেই নাকে ভেসে এসেছিল গুঞ্জনের গন্ধ। সঙ্গে-সঙ্গে আবার আপনিই জ্বলে উঠেছিল টিভি। আনন্দে লোম খাড়া হয়ে উঠেছিল তার। আবার ভয়-ভয়ও করছিল। ভাবছিল, এই বুঝি নয়ন তাকে রূঢ়ভাবে ঠেলে উঠে পড়বে। কঠোর গলায় বলবে, ‘তুমি আমার চোখে ধুলো দিতে পারবে না। তুমি আগেও পুরুষের সঙ্গ করেছ। আমায় ঠকাচ্ছ!’
কিন্তু না। কোনও প্রশ্নের বা সন্দেহের ধার দিয়েই গেল না নয়ন। শ্বেতার শরীরে স্রোতের কচুরিপানার মতো ভেসে গেল। গভীর দুঃখে ও হতাশায় ভেঙে পড়ে ভাবছিল সে, নয়ন যেন রিহার্সালে ফাঁকি-দেওয়া অক্ষম অভিনেতা অথবা একটা নিরীহ কীট। তার শরীরে চলেফিরে বেড়াচ্ছে। পাছে শ্বেতা কাচের গেলাসের মতো ফেটে চৌচির হয়, তার জন্যই থেকে-থেকেই বলছে, ‘তোমার লাগছে না তো?’

শ্বেতার মনে হচ্ছিল চিৎকার করে বলে, ‘লাগছে! লাগছে! কুৎসিত লাগছে তোমাকে! চোখ নেই তোমার? নারীর দ্বিতীয় পুরুষ হয়েও নারীকে তার শাস্তিও দিতে জানো না? তুমি নির্বোধ? না, শয়তান?’
শয়তান! শয়তান! ডিজেল ইঞ্জিনের শব্দ মিলিয়ে গিয়েছে। চারপাশে থমথম করছে ভোররাতের অলৌকিক স্তব্ধতা। আনন্দে শ্বাস বন্ধ হয়ে এল শ্বেতার।
হুঁ, এতদিনে খোলস খসেছে নয়নের। নিজমূর্তি ধারণ করেছে। এখনই ভীষণ কামনার বিধ্বংসী শক্তিতে সে আছড়ে পড়বে তার ওপর। শরীরের বাকল ছিঁড়ে, ডালপালা ভেঙে তছনছ করবে তার। শিহরিত শীৎকারে সমস্ত বিছানা জুড়ে উথাল-পাথাল করে চিৎকার করবে শ্বেতা, ‘থামবে না! থামবে না!’
উত্তেজনায় শ্বাস বন্ধ হয়ে এল তার। চোখ বুজে ঘুমের ভান করে শুয়ে রইল। স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দেওয়ালের ঘড়ির সময় গোনার শব্দ, ‘কটকট! কটকট!’
কয়েক সেকেন্ড। ঘড়ির শব্দ থামিয়ে বিছানায় সশব্দে পাশ ফিরল নয়ন। তার মুখ এখন তার মুখের কাছে। তার বুকে বুকটি ছোঁয়ার অপেক্ষা, ভুলে-যাওয়া পার্ট সব মনে পড়ে যাবে নয়নের। মুহূর্তে গুঞ্জন হয়ে নির্মমভাবে সে তার প্রিয় লুণ্ঠন-খেলা শুরু করবে। নিজের বলে কিচ্ছু রাখতে দেবে না শ্বেতাকে।
থরথর করে কেঁপে উঠল সে। ধকধক করছে স্পর্শ-উন্মুখ বুক। কিন্তু না। কোথায় শয়তান? নয়ন নয়নই। তার মুখে উত্তপ্ত নিশ্বাস ফেলে ভয়ে-ভয়ে ডাকল, ‘অ্যাই, ঘুমোচ্ছ?’

কঠিন মাটিতে আছড়ে পড়ল শ্বেতা। তীব্র হতাশায় ছেয়ে গেল মন।
‘ওঠো না!’ নয়ন ঠেলল তাকে। ফিসফিস করল, ‘আমার ইচ্ছে করছে!’
ইচ্ছে? পুরুষের আবার ইচ্ছা কিসের? সব ইচ্ছেই তো অধিকার হয়ে অপেক্ষা করে দাঁড়িয়েই থাকে। ছিনিয়ে নিলেই হল। সেটাও জানে না সে? তা হলে এত কাঠখড় পুড়িয়ে এখানে আসা কেন? শ্বেতার মনে হল কাঁদে। অনেক কষ্টে সামলে বিরক্তভাবে সাড়া দিল, ‘না!’
নয়ন ব্যস্ত হল, ‘ইচ্ছে করছে না? ঠিক আছে। ঠিক আছে।’
এত তাড়াতাড়ি তো শয়তানের কিছুই ঠিক হয় না। কাকে কী ভাবছে? ভীরু! কাপুরুষ! শ্বেতা আহত সর্পিণীর মতো উঠে বসল বিছানায়।
‘এ কী! এ কী!’ নয়ন চমকাল, ‘উঠলে কেন?’
‘কেমন পুরুষ তুমি? জানো না আমাদের ইচ্ছে হতে নেই? তোমাদের ইচ্ছের টানে-টানেই আমরা ভেসে বেড়াই রাস্তায়-রাস্তায়। নির্জন হোটেলে। ভোরের রেললাইনে।’ বলতে-বলতে থেমে গেল শ্বেতা। কান পেতে গলা চাপল, ‘শুনছ? শুনতে পাচ্ছ? সানাই বাজছে?’

নয়নও উঠে বসল। অবাক ও বিব্রত, ‘ও ট্রেনের শব্দ। ট্রেন আসছে, বলছ সানাই? মাথাখারাপ হয়ে গেল না কি তোমার?’
‘শুধু মাথাখারাপই দেখলে? আর কিছু দেখতে পেলে না? ভাল করে দ্যাখো আমার মুখের দিকে! তাকাও!’
নয়ন দেখল। দেখেই চঞ্চল হল, ‘মুখের দু’পাশে দুটো বড়-বড় গজদাঁত! কে? কে তুমি?’
খিলখিল করে হেসে উঠল শ্বেতা। বলল, ‘গজদাঁত নয়, ইংজেকশনের সিরিঞ্জ! তোমার গলায় বিঁধিয়ে চেটেপুটে রক্ত খাব তোমার! তুমি যখন শয়তান হবেই না, আমাকেই তা হলে হতে হয়। এখনও চিনতে পারলে না আমায়?’
হুড়মুড়িয়ে এসে গেল ট্রেন। কামরার আলো ঘরকে কাটাকুটি করে ছিটকে-ছিটকে যাচ্ছে। আস্তে-আস্তে স্পষ্ট হচ্ছে শ্বেতার মুখখানা। ট্রেন চলে যেতেই বিদ্যুৎচমকের মতো মনে পড়ল নয়নের।
‘মনে পড়েছে! মনে পড়েছে!’ উত্তেজনায় ফেটে পড়ল নয়ন, ‘আমার ফুলশয্যার দিনে ভোরের ফার্স্ট লোকালে তুমি ট্রেনে সুইসাইড করেছিলে।’
‘ঠিক! ঠিক!’ মাথা ওপর-নীচে করল শ্বেতা, ‘এই যে গাড়িটা গেল, তার তলাতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আলো ফুটলে জানলায় আমার ডেডবডি দেখে তোমার বাড়ির লোকেরা আমাকে কষে গালাগালি দিচ্ছিল। আজ তোমার বউভাত— আজই কিনা বাড়ির সামনে এতবড় অলক্ষুনে কাণ্ড। হা-হা-হা!’
নয়ন স্থির হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড। ভয় ঝেড়ে কঠিন গলায় বলল, ‘হাসবে না! অসভ্যের মতো একদম হাসবে না! মরেও যদি শান্তি নেই, তা হলে মরতে যাও কেন?’
শ্বেতা হকচকিয়ে গেল। তার পরেই ফুঁসে উঠল, ‘তোমাদের জন্যই তো মরেছিলাম। সব কেড়েকুড়ে সে যে একদিন আমায় রাস্তায় ফেলে চলে দিয়েছিল! বিশ্বাসঘাতক পুরুষ!’

গলা চড়ল নয়নেরও, ‘তারই প্রতিশোধ নিতে এসেছ? এত প্রতিহিংসাপরায়ণ তোমরা?’
শ্বেতা অবাক হয়ে গেল। কাকে সে ভীরু ভাবছে? কাকে কাপুরুষ ভাবছিল? এ যে শয়তানের চেয়েও সাহসী। নেই-নারীর চোখে চোখ রেখেও কথা বলার বুকের পাটা রাখে! শ্বেতাই উলটে ঘাবড়াল, ‘না! না!’
‘তবে? বলো কী করতে এসেছ এখানে?’
শ্বেতার গলা ধরে এল, ‘কী করতে এসেছি? ওই যে সানাই! মরে যাওয়ার পর আমার লাশ চলে গেলেও আমি যেতে পারলাম না। তোমাদের বাড়িতে যে বিয়ের সানাই বাজছে। ওটার ওপর বড্ড লোভ আমাদের মেয়েদের, জানো? মনে হল, কেন মরতে গেলাম? এত কষ্ট হচ্ছিল, আর থাকতে পারলাম না। তোমরা জানতেও পারলে না, তোমাদের বাড়িতে তোমার নতুন বউয়ের মধ্যেই গিয়ে ঢুকলাম। এখন ভাবছি কেন করলাম! ভুল করেছি! তোমায় যে চিনতে পারিনি। সকলেই যে শয়তান হয়ে জন্মায় না।’

নয়ন চেয়ে আছে। শ্বেতা হাহাকার করল, ‘আমায় ক্ষমা করো! অধিকার নয়, জোর নয়, একটু শুধু ভালবেসে আমাকে নিজের করে নাও। তবেই আমার মুক্তি হবে। তোমার বউয়ের মুক্তি হবে। তুমি যে দেবদূত! তোমরা যে সব পারো! ভালবাসা কী, তোমার কাছে না-এলে জানতেও পারতাম না!’
বলতে-বলতে শ্বেতাই জড়িয়ে ধরল নয়নকে। শ্বেতা? না, জমাট বরফের তাল? শরীর অসাড় হয়ে গেল নয়নের। কিন্তু অসহায় দুখিনী আত্মা। সরেও গেল না, ছেড়েও পালাল না। কাচের গেলাসের মতো ফেটে চৌচির হয়ে আস্তে-আস্তে গলে জল হয়ে যাচ্ছে সে। বিছানা ভিজিয়ে টপ-টপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে নীচে।
একটা নেই-নারীর শরীরেও এত চোখের জল থাকে! নয়নেরও চোখ ভরে যাচ্ছিল জলে।





Comments