top of page

মুচমুচে স্ন্যাকস | বর্ষায় ত্বক ও চুলের যত্ন | ফ্যাশনে ছাতা | ছোটদের নতুন ইনডোর গেমস | রবিবারের গল্প: কলঙ্কের দাগ


মুচমুচে স্ন্যাকস


বর্ষার টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ আর এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে মুচমুচে স্ন্যাকসের জুটি যেন বাঙালির চিরকালীন ভালোবাসা। আকাশ মেঘলা হলেই মন চায় একটু ভাজাভুজি, একটু ঝাল-মশলাদার মুখরোচক খাবার। ঘরে বসে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার আসর জমিয়ে তুলতে পকোড়া, চপ, কাটলেট কিংবা নানা রকম ক্রিস্পি স্ন্যাকসের জুড়ি মেলা ভার। তাই বর্ষার এই স্নিগ্ধ আবহে স্বাদ ও আনন্দকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে রইল কিছু সহজ, সুস্বাদু ও মুচমুচে স্ন্যাকসের রেসিপি।



চিকেন ললিপপ


যুথি চক্রবর্তী



কী কী লাগবে

কিমা করা চিকেন – ৩০০ গ্রাম, বড় আলু (সেদ্ধ ও মাখা) – ১টি, ডিম – ১টি, ব্রেডক্রাম্বস – ১০ গ্রাম, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো – আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো – আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো – আধ চা চামচ, বিট নুন গুঁড়ো – আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices জিরে গুঁড়ো – আধ চা চামচ, নুন – স্বাদমতো, আইসক্রিম স্টিক – ৫-৬টি, Shalimar's Sunflower তেল – ভাজার জন্য।



কীভাবে বানাবেন

চিকেন কিমা মিক্সিতে মসৃণ করে পেস্ট বানিয়ে নিন। এর সঙ্গে সেদ্ধ আলু, সব মশলা ও নুন মিশিয়ে ভালো করে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন। মিশ্রণ থেকে লম্বাটে আকারে ললিপপ তৈরি করে মাঝখানে আইসক্রিম স্টিক বসিয়ে দিন। ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে ব্রেডক্রাম্বসে গড়িয়ে কোট করুন। গরম তেলে মাঝারি আঁচে সোনালি করে ভেজে নিন। টমেটো সস বা চিলি গার্লিক সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।


ফিশ ক্রকেট


যুথি চক্রবর্তী



কী কী লাগবে

ভেটকি মাছ (ফিলে) – ৫০০ গ্রাম, আলু (সেদ্ধ ও চটকানো) – ২টি মাঝারি, পেঁয়াজ কুচি – ২টি বড়, আদা-রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ, কাঁচালঙ্কা কুচি – ৩-৪টি, ধনে পাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা গুঁড়ো – ১ চা চামচ, ভাজা জিরে গুঁড়ো – ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো – আধ চা চামচ, লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ, নুন – স্বাদমতো, Shalimar's সর্ষের তেল – ২ টেবিল চামচ।



কোটিং-এর জন্য: ময়দা – ৩ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার – ১ টেবিল চামচ, ডিম – ২টি, বিস্কুটের গুঁড়ো/ব্রেডক্রাম্বস – দেড় কাপ, নুন ও Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো – এক চিমটে, ভাজার জন্য Shalimar's Sunflower তেল – পরিমাণমতো।


কীভাবে বানাবেন

মাছে নুন, হলুদ ও সামান্য লেবুর রস মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে স্টিম বা সেদ্ধ করে ঝুরো করে নিন। কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে আদা-রসুন বাটা ও কাঁচা লঙ্কা কষিয়ে নিন। ঝুরো মাছ, নুন, জিরে গুঁড়ো, গরম মশলা ও গোলমরিচ দিয়ে কয়েক মিনিট ভেজে জল শুকিয়ে নিন। এরপর সেদ্ধ আলু, ধনে পাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে পুর তৈরি করে ঠান্ডা করুন। পুর থেকে চপের আকার দিন। ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার, নুন ও জল মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন। চপগুলো ব্যাটারে ডুবিয়ে ডিমে চুবিয়ে ব্রেডক্রাম্বসে গড়িয়ে কোট করুন। ১৫ মিনিট ফ্রিজে রেখে মাঝারি আঁচে সোনালি বাদামি করে ভেজে নিন। কাসুন্দি, স্যালাড ও গরম চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।


গলৌটি কাবাব


যুথি চক্রবর্তী



কী কী লাগবে

কিমা মাংস (খাসি/পাঁঠার রান) – ৫০০ গ্রাম, বেরেস্তা বাটা – ১ কাপ, আদা-রসুন বাটা – ২ চা চামচ, কাঁচা পেঁপে বাটা – ৩-৪ টুকরো, বেসন (হালকা ভাজা) – ২ চা চামচ, ডিম – ১টি, ঘি/ Shalimar's Sunflower তেল– ভাজার জন্য, নুন – স্বাদমতো।


গালৌটি মশলা:

জায়ফল গুঁড়ো – আধ চা চামচ, জয়িত্রী – ২-৩টি, দারচিনি – ১ ইঞ্চি, বড় এলাচ – ১টি, গোলমরিচ – ৮-১০টি, পোস্ত – ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি – ১ আঁটি।



কীভাবে বানাবেন

দারচিনি, বড় এলাচ, গোলমরিচ, জয়িত্রী ও পোস্ত শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এর সঙ্গে জায়ফল গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, বেরেস্তা বাটা, আদা-রসুন বাটা ও কাঁচা পেঁপে বাটা মিশিয়ে মশলার পেস্ট তৈরি করুন। কিমা মাংস আরও একবার মিহি করে বেটে নিন। এরপর কিমার সঙ্গে মশলার পেস্ট, ভাজা বেসন, ডিম, ধনেপাতা কুচি ও নুন মিশিয়ে ৪-৫ মিনিট ভালো করে মেখে ১-২ ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট গোল, চ্যাপ্টা টিকিয়ার আকারে কাবাব গড়ে নিন। তাওয়ায় ঘি গরম করে মাঝারি-কম আঁচে দুই পিঠ ২-৩ মিনিট করে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। পুদিনার চাটনি, পেঁয়াজের রিং ও রুমালি রুটির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।


কাকোরি কাবাব


যুথি চক্রবর্তী



কী কী লাগবে

খাসির কিমা (রানের মাংস) – ৫০০ গ্রাম, কাঁচা পেঁপে বাটা – দেড় টেবিল চামচ, বেরেস্তা বাটা – ৩ টেবিল চামচ, আদা-রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ, ভাজা বেসন – দেড় টেবিল চামচ, দেশি ঘি/ Shalimar's Sunflower তেল– ৩ টেবিল চামচ, নুন – স্বাদমতো, কাঠকয়লা – ১ ছোট টুকরো।


কাকোরি মশলা:

বড় এলাচের দানা – ১টির, ছোট এলাচ – ৩টি, লবঙ্গ – ৪টি, দারচিনি – ১ ইঞ্চি, জয়িত্রী – ২টি, জায়ফল – এক চিমটি, শাহী জিরা – আধ চা চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়ো – ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ, গোলাপ জল – আধ চা চামচ, কেওড়া জল – আধ চা চামচ, জাফরান – ৪-৫টি (১ টেবিল চামচ গরম দুধে ভেজানো)।



কীভাবে বানাবেন

বড় এলাচ, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, জয়িত্রী ও শাহী জিরা শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এর সঙ্গে জায়ফল, সাদা গোলমরিচ ও কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো মিশিয়ে কাকোরি মশলা তৈরি করুন। কিমা একদম মসৃণ পেস্টের মতো করে নিন। এরপর কিমার সঙ্গে কাঁচা পেঁপে বাটা, বেরেস্তা বাটা, আদা-রসুন বাটা, ভাজা বেসন, নুন, কাকোরি মশলা, গোলাপ জল, কেওড়া জল, জাফরান-দুধ ও ২ টেবিল চামচ ঘি মিশিয়ে ৮-১০ মিনিট ভালো করে মেখে নিন। ধোঁয়ার স্বাদের জন্য গরম কাঠকয়লার ওপর ১ চা চামচ ঘি ঢেলে ২ মিনিট ঢেকে রাখুন। তারপর মিশ্রণটি ৪-৬ ঘণ্টা বা সারারাত ফ্রিজে রেখে দিন। শিকের গায়ে পাতলা করে কিমা লাগিয়ে মাঝারি আঁচে ঘি ব্রাশ করতে করতে ৪-৫ মিনিট সেঁকে নিন। বাইরেটা হালকা চার্ড ও ভেতরটা নরম থাকলে নামিয়ে নিন। পুদিনার চাটনি, পেঁয়াজ ও উল্টা তাওয়া পরোটার সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।


চিকেন ৬৫


যুথি চক্রবর্তী



কী কী লাগবে

ম্যারিনেশনের জন্য:

হাড় ছাড়া মুরগির মাংস – ৫০০ গ্রাম, আদা-রসুন বাটা – দেড় টেবিল চামচ, Shalimar's Chef Spices কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো – ২ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices ধনে গুঁড়ো – ১ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices জিরে গুঁড়ো – আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো – আধ চা চামচ, Shalimar's Chef Spices গরম মশলা – আধ চা চামচ, টক দই – ২ টেবিল চামচ, ডিম – ১টি, কর্নফ্লাওয়ার – ২ টেবিল চামচ, ময়দা – ১ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়ো – ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ, কারি পাতা – ১০-১২টি, নুন – স্বাদমতো, লাল ফুড কালার – ১ চিমটি (ঐচ্ছিক)।



তড়কার জন্য:

Shalimar's Soyabean তেল – ২ টেবিল চামচ, রসুন কুচি – ১ টেবিল চামচ, শুকনো লঙ্কা – ৩-৪টি, কারি পাতা – ১৫-২০টি, কাঁচালঙ্কা – ৩-৪টি, ফেটানো দই – ১ টেবিল চামচ, লাল লঙ্কা সস – ১ চা চামচ, সোয়া সস – ১ চা চামচ।


কীভাবে বানাবেন

চিকেন ধুয়ে জল ঝরিয়ে ম্যারিনেশনের সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে মেখে অন্তত ৩০ মিনিট, পারলে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর গরম ডুবো তেলে মাঝারি-উচ্চ আঁচে সোনালি ও মুচমুচে করে ভেজে তুলে রাখুন। একটি প্যানে তেল গরম করে রসুন কুচি, শুকনো লঙ্কা, কারি পাতা ও কাঁচা লঙ্কা ভেজে নিন। আঁচ কমিয়ে ফেটানো দই, লাল লঙ্কা সস ও সোয়া সস মিশিয়ে ১ মিনিট নাড়ুন। এবার ভাজা চিকেন দিয়ে ১-২ মিনিট উঁচু আঁচে টস করুন, যাতে মশলা ও সস চিকেনের গায়ে ভালোভাবে মিশে যায়। গ্রেভি ছাড়া শুকনো অবস্থায় নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন পেঁয়াজের রিং, লেবুর টুকরো ও পুদিনার চাটনির সঙ্গে।



সুইট চিলি অরেঞ্জ


সঞ্চিতা দাস



কী কী লাগবে

চিকেন ম্যারিনেশনের জন্য:

বোনলেস চিকেন – ৫০০ গ্রাম, ডিম – ১টি, কর্নফ্লাওয়ার – ৩ টেবিল চামচ, ময়দা – ২ টেবিল চামচ, সয়া সস – ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা – ১ চা চামচ, লবণ ও Shalimar's Chef Spices গোলমরিচ গুঁড়ো – স্বাদমতো, Shalimar's Sunflower তেল – ভাজার জন্য।


সসের জন্য:

কমলার রস – ১ কাপ, কমলার খোসা কুচি (জেস্ট) – আধ চা চামচ, সুইট চিলি সস – ৩-৪ টেবিল চামচ, সয়া সস – ১ টেবিল চামচ, ভিনেগার – ১ টেবিল চামচ, আদা-রসুন কুচি – ১ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার – ১ চা চামচ, তিলের তেল/ Shalimar's Sunflower তেল– ১ চা চামচ।



কীভাবে বানাবেন

একটি পাত্রে চিকেনের সঙ্গে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, ময়দা, সয়া সস, রসুন বাটা, লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন। এরপর গরম তেলে চিকেনের টুকরোগুলো সোনালি ও মুচমুচে করে ভেজে তুলে রাখুন। একটি বাটিতে কমলার রস, কমলার খোসা কুচি, সুইট চিলি সস, সয়া সস ও ভিনেগার মিশিয়ে নিন। কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে আদা-রসুন কুচি হালকা ভেজে সসের মিশ্রণ ঢেলে দিন। ফুটে উঠলে কর্নফ্লাওয়ার গোলা জল মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। সস ঘন হয়ে এলে ভাজা চিকেন দিয়ে মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট টস করুন, যাতে সস ভালোভাবে চিকেনের গায়ে মিশে যায়। শেষে তিলের তেল ছড়িয়ে গরম গরম ফ্রাইড রাইসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

বর্ষায় ত্বক ও চুলের যত্ন!


-নিজস্ব প্রতিনিধি


গ্রীষ্মের দাবদাহের পর বর্ষার প্রথম বৃষ্টিধারা যেমন মনকে প্রশান্ত করে, তেমনি এই ঋতু নিয়ে আসে একগুচ্ছ স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য-সংক্রান্ত সমস্যা। আকাশজোড়া মেঘ, ভেজা বাতাস, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং অনিয়মিত আবহাওয়া আমাদের ত্বক ও চুলের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অনেকেই মনে করেন শীত বা গ্রীষ্মেই ত্বকের যত্ন বেশি প্রয়োজন, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বর্ষাকালও ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে সঠিক পরিচর্যার অভাবে ব্রণ, ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, চুল পড়া, খুশকি, স্ক্যাল্পে চুলকানি ইত্যাদি সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।



বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ফলে ত্বকের তেল নিঃসরণে পরিবর্তন ঘটে। যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সিবাম নিঃসরণ হয়ে মুখে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের সমস্যা দেখা দেয়। আবার শুষ্ক ত্বকের মানুষও স্বস্তিতে থাকেন না। কখনও অতিরিক্ত আর্দ্রতা, কখনও বৃষ্টির জল, আবার কখনও ঘরের ভেতরে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই এই সময়ে ত্বকের পরিচর্যায় কিছু বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বর্ষায় ত্বক পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। দিনের মধ্যে অন্তত দু’বার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই মুখ, হাত ও পা ধুয়ে নিতে হবে। বৃষ্টির জল মুখে বা শরীরে লাগলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা ভালো। কারণ বৃষ্টির জলে বিভিন্ন দূষিত উপাদান এবং জীবাণু থাকতে পারে, যা ত্বকে সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত মুখ ধোয়ার অভ্যাসও ভালো নয়, এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।



অনেকেই বর্ষাকালে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেন। এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা। বর্ষাতেও ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হালকা ও জলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক শুষ্ক বা মিশ্র প্রকৃতির, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য নন-কমেডোজেনিক বা তেলবিহীন ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো। বর্ষাকালে সূর্যের তেজ কম মনে হলেও অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব কিন্তু থেকেই যায়। মেঘলা আকাশ কখনওই ইউভি রশ্মিকে পুরোপুরি আটকে রাখতে পারে না। তাই বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। অন্তত SPF 30 বা তার বেশি সুরক্ষাযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।



এই সময়ে ত্বকে ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। শরীরের যেসব অংশে ঘাম বেশি হয়, যেমন বগল, ঘাড়ের ভাঁজ, কুঁচকি বা পায়ের আঙুলের ফাঁক, সেসব স্থান পরিষ্কার ও শুকনো রাখা উচিত। ভিজে জামাকাপড় দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা একেবারেই উচিত নয়। কারণ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির আদর্শ ক্ষেত্র। খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্ষাকালে পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি, যদিও এই সময়ে তৃষ্ণা কম পায়। শরীরে জলের ঘাটতি হলে তার প্রভাব ত্বকের উপরও পড়ে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল, ডাবের জল, লেবুর শরবত বা ফলের রস খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি ফল, শাকসবজি এবং ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার ত্বককে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত বা ভাজাভুজি খাবার কম খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলি ব্রণ এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা বাড়াতে পারে।



ত্বকের মতো চুলও বর্ষাকালে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে চুল রুক্ষ, নিষ্প্রাণ ও জট পাকানো হয়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চুল পড়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। বর্ষাকালে মাথার ত্বকে ঘাম ও ময়লা জমে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়, ফলে খুশকি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। চুলের যত্নে প্রথম শর্ত হল স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা। নিয়মিত শ্যাম্পু করা প্রয়োজন, তবে খুব বেশি নয়। সাধারণত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করাই যথেষ্ট। যদি বৃষ্টিতে ভিজে যান, তাহলে বাড়ি ফিরে যত দ্রুত সম্ভব চুল ধুয়ে নেওয়া উচিত। বৃষ্টির জলে থাকা দূষিত উপাদান চুলের গোড়া দুর্বল করে দিতে পারে।


বর্ষাকালে অনেকেই চুলে তেল দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। আসলে তেল চুলের পুষ্টির জন্য উপকারী হলেও তেল লাগিয়ে দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া উচিত নয়। তেল লাগানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শ্যাম্পু করে নেওয়াই ভালো। এতে চুল পুষ্টি পায়, আবার অতিরিক্ত ধুলো-ময়লাও জমে না। চুল শুকনোর বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। ভেজা চুল বেঁধে রাখা বা খোঁপা করা একেবারেই উচিত নয়। এতে স্ক্যাল্পে ছত্রাক সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে এবং চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। চুল ধোয়ার পর স্বাভাবিকভাবে শুকোতে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজনে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে জল মুছে নেওয়া যেতে পারে।



খুশকির সমস্যা বর্ষায় অনেকেরই বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাকের বৃদ্ধি। তাই অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী। পাশাপাশি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত চিরুনি ব্যবহার করাও জরুরি। চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বও অপরিসীম। প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন এবং ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, বীজজাতীয় খাবার, সবুজ শাকসবজি এবং মৌসুমি ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে চুল ভিতর থেকে শক্তিশালী হয়।


বর্ষাকালে অনেকেই ঘরোয়া পরিচর্যার উপর ভরসা করেন। অ্যালোভেরা, দই, মধু, শসা কিংবা গোলাপজল ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। আবার চুলের ক্ষেত্রে মেথি, আমলকি, কারিপাতা বা অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যায়। তবে কোনও নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। কারণ সবার ত্বক ও চুলের প্রকৃতি এক নয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ ত্বক ও চুলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা বজায় রাখে। একইভাবে মানসিক চাপ কম থাকলে চুল পড়ার সমস্যাও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।



সৌন্দর্যচর্চা শুধুমাত্র বাহ্যিক প্রসাধন ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সামগ্রিক জীবনযাপনের অংশ। বর্ষাকালে পরিচ্ছন্নতা, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত জলপান, নিয়মিত পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস—এই পাঁচটি বিষয় মেনে চললে ত্বক ও চুলকে সুস্থ ও সুন্দর রাখা সম্ভব। প্রকৃতির এই সজীব ঋতু উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের শরীরের প্রতিও সমান যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ সুস্থ ত্বক ও স্বাস্থ্যবান চুল কেবল সৌন্দর্যের পরিচায়ক নয়, বরং সামগ্রিক সুস্থতারও প্রতিফলন। তাই বর্ষার রোমান্টিক আবহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্বক ও চুলের সঠিক পরিচর্যাকে জীবনের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ করে তোলাই হোক এই ঋতুর অন্যতম অঙ্গীকার।


ফ্যাশনে ছাতা, বৃষ্টির সঙ্গী থেকে স্টাইল স্টেটমেন্ট!


-নিজস্ব প্রতিনিধি


একসময় ছাতার প্রধান কাজ ছিল রোদ ও বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সাধারণ উপকরণটি ফ্যাশন জগতেও নিজের একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করেছে। আজকের দিনে ছাতা শুধু প্রয়োজনীয় সামগ্রী নয়, বরং ব্যক্তিত্ব, রুচি এবং স্টাইলেরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। পোশাক, জুতো বা ব্যাগের মতোই ছাতাও এখন ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজের তালিকায় সমান গুরুত্ব পেয়েছে। বর্ষা এলেই শহরের রাস্তাঘাটে রঙিন ছাতার সমারোহ দেখা যায়। কালো বা গাঢ় রঙের একঘেয়ে ছাতার দিন অনেকটাই অতীত। বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় নানা রঙ, নকশা এবং ডিজাইনের ছাতা। ফুলের ছাপ, জ্যামিতিক নকশা, পোলকা ডট, স্ট্রাইপ, অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট কিংবা ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের মোটিফ—সবই স্থান পেয়েছে আধুনিক ছাতার গায়ে। ফলে বৃষ্টিভেজা দিনেও নিজের পোশাকের সঙ্গে মানানসই ছাতা বেছে নিয়ে ফ্যাশন সচেতন মানুষ নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরতে পারেন।



ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুন্দর ছাতা পুরো লুকের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন উজ্জ্বল রঙের পোশাকের সঙ্গে সাদা বা প্যাস্টেল রঙের ছাতা যেমন দৃষ্টিনন্দন লাগে, তেমনি একরঙা পোশাকের সঙ্গে কনট্রাস্ট রঙের ছাতা পুরো সাজে নতুন মাত্রা যোগ করে। অনেকেই এখন ছাতাকে পোশাকের সঙ্গে সমন্বয় করে কেনেন, যাতে বৃষ্টির দিনেও স্টাইলের কোনও ঘাটতি না থাকে। নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের ফ্যাশনেও ছাতার গুরুত্ব বেড়েছে। ক্লাসিক কালো ছাতার পাশাপাশি নেভি ব্লু, ওয়াইন, অলিভ গ্রিন কিংবা চেক প্রিন্টের ছাতা এখন জনপ্রিয়। অফিসগামীদের মধ্যে মিনিমাল ডিজাইনের ছাতা যেমন সমাদৃত, তেমনি তরুণ প্রজন্মের কাছে উজ্জ্বল রঙ ও আধুনিক গ্রাফিক্স-সমৃদ্ধ ছাতার চাহিদাও কম নয়।



ফ্যাশনের ইতিহাসে ছাতার উপস্থিতি নতুন নয়। ইউরোপে একসময় অভিজাত সমাজে ছাতা ছিল মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতীক। ভিক্টোরিয়ান যুগে লেস, সূচিশিল্প এবং অলঙ্করণে সাজানো ছাতা নারীদের ফ্যাশনের অপরিহার্য অংশ ছিল। জাপান, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ঐতিহ্যবাহী কাগজের ছাতা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সৌন্দর্যেরও প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আজও বিভিন্ন ফ্যাশন শো এবং ফটোশুটে ঐতিহ্যবাহী ছাতার ব্যবহার দেখা যায়। আধুনিক প্রযুক্তিও ছাতার নকশায় নতুনত্ব এনেছে। স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ডোম আকৃতির ছাতা, উল্টো ভাঁজ হওয়া ছাতা, স্বয়ংক্রিয় ওপেন-অ্যান্ড-ক্লোজ মডেল কিংবা ইউভি-প্রটেকশনযুক্ত ছাতা এখন ফ্যাশন ও ব্যবহারিক সুবিধার সমন্বয় ঘটাচ্ছে। অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ছাতাকে তাদের লাইফস্টাইল পণ্যের অন্যতম অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে ছাতা এখন আর শুধুমাত্র বর্ষার সামগ্রী নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ ফ্যাশন পণ্য।



সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ছাতার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। বৃষ্টিভেজা রাস্তা, রঙিন ছাতা আর স্টাইলিশ পোশাক—এই সমন্বয় ফটোগ্রাফি ও ফ্যাশন কনটেন্টের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয়। ইনস্টাগ্রাম কিংবা ফেসবুকে বর্ষাকালের অসংখ্য ফটোশুটে ছাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে ছাতা কেবল প্রয়োজনীয় বস্তু নয়, বরং নান্দনিকতারও অংশ। বাংলার বর্ষা মানেই এক বিশেষ আবেগ। এই আবেগের সঙ্গে যদি যুক্ত হয় রঙিন ও রুচিশীল একটি ছাতা, তবে বৃষ্টির দিনও হয়ে উঠতে পারে আরও আকর্ষণীয়। তাই আজকের দিনে ছাতা শুধু মাথার উপর আশ্রয় নয়; এটি ব্যক্তিত্বের পরিচয়, রুচির প্রকাশ এবং ফ্যাশনের এক অনন্য অনুষঙ্গ। বর্ষার মেঘলা আকাশের নীচে একটি সুন্দর ছাতা কখনও কখনও একটি সম্পূর্ণ সাজের সবচেয়ে উজ্জ্বল আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

ছোটদের নতুন ইনডোর গেমস, ঘরেই হোক আনন্দ, শেখা আর সৃজনশীলতার মেলবন্ধন!


-নিজস্ব প্রতিনিধি


বর্ষাকাল, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ কিংবা দূষণের কারণে অনেক সময়ই শিশুদের বাইরে খেলাধুলা করা সম্ভব হয় না। অথচ খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের একটি অপরিহার্য অংশ। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের ইনডোর গেমস, যা শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক এবং সৃজনশীল দক্ষতারও বিকাশ ঘটায়। বর্তমানে মোবাইল বা টেলিভিশনের বাইরে এসে অনেক নতুন ধরনের ঘরোয়া খেলা শিশুদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।



আগে ইনডোর গেমস বলতে মূলত লুডো, ক্যারাম বা দাবাকেই বোঝানো হতো। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে নানা আধুনিক ও শিক্ষামূলক খেলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন খেলা বেছে নেওয়া উচিত যা শিশুর চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং কল্পনাশক্তিকে বিকশিত করে।


বর্তমানে শিশুদের মধ্যে ‘বিল্ডিং ব্লক চ্যালেঞ্জ’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। রঙিন ব্লক বা নির্মাণসামগ্রী দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি, সেতু, টাওয়ার কিংবা কল্পনার জগৎ তৈরি করার এই খেলায় শিশুদের সৃজনশীলতা যেমন বাড়ে, তেমনি তাদের হাত-চোখের সমন্বয়ও উন্নত হয়। একা কিংবা দলবদ্ধভাবে এই খেলা খেলা যায়, ফলে সহযোগিতামূলক মনোভাবও গড়ে ওঠে।


আরেকটি আকর্ষণীয় ইনডোর গেম হলো ‘ট্রেজার হান্ট অ্যাট হোম’। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় সূত্র লুকিয়ে রেখে শিশুদের সেই সূত্র অনুসরণ করে নির্দিষ্ট বস্তু খুঁজে বের করতে হয়। এতে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, যুক্তিবোধ এবং মনোযোগ বাড়ে। সামান্য পরিকল্পনা করলেই বাড়ির ভেতরেই রোমাঞ্চকর এক অভিযানের পরিবেশ তৈরি করা যায়।



শিশুদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ‘ওয়ার্ড বিল্ডিং গেম’ বা শব্দ তৈরির খেলাও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট একটি অক্ষর দিয়ে যত বেশি শব্দ তৈরি করা যায়, সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিশুরা দারুণ উৎসাহ পায়। এর ফলে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং ভাষার প্রতি আগ্রহও বাড়ে।


বর্তমান সময়ে ‘মেমরি কার্ড গেম’ শিশুদের মধ্যে বিশেষভাবে সমাদৃত। একই ধরনের দুটি কার্ড খুঁজে বের করার এই খেলায় স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। বিভিন্ন বয়সের শিশুদের জন্য বিভিন্ন স্তরের মেমরি গেম বাজারে পাওয়া যায়, আবার বাড়িতেও সহজে তৈরি করা সম্ভব।


‘স্টোরি বিল্ডিং গেম’ বা গল্প তৈরির খেলাও এখন বেশ জনপ্রিয়। পরিবারের একজন একটি বাক্য বলবে, পরেরজন সেই বাক্যের সঙ্গে নতুন একটি অংশ যোগ করবে। এভাবে গল্প এগিয়ে চলবে। এই খেলায় শিশুদের কল্পনাশক্তি, ভাষা ব্যবহার এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকশিত হয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সুন্দর যোগাযোগ তৈরি হয়।



বিজ্ঞানমনস্ক শিশুদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের ‘এসটিইএম গেমস’ বা বিজ্ঞানভিত্তিক খেলা। ছোট ছোট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, ম্যাগনেটিক কনস্ট্রাকশন সেট, রোবোটিক্স কিট কিংবা লজিক পাজল শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ায়। খেলার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই সুযোগ ভবিষ্যতের শিক্ষার ভিত্তিও মজবুত করে।


শরীরচর্চার অভাব দূর করতে ঘরের মধ্যে খেলা যায় ‘ইনডোর অবস্ট্যাকল রেস’। বালিশ, চেয়ার, দড়ি বা নরম খেলনা ব্যবহার করে ছোট্ট একটি বাধা-পথ তৈরি করা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে সেই পথ অতিক্রম করার খেলায় শিশুদের শারীরিক সক্রিয়তা বজায় থাকে এবং ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতাও বাড়ে।


বর্তমান সময়ে ‘ডিআইওয়াই ক্রাফট চ্যালেঞ্জ’ও শিশুদের অন্যতম প্রিয় ইনডোর কার্যকলাপ। রঙিন কাগজ, পুরনো কার্টন, বোতল বা অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার এই খেলায় সৃজনশীলতা যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবেশ সচেতনতার বোধও গড়ে ওঠে। খেলার ছলে শেখার এ এক অনন্য মাধ্যম।



তবে ইনডোর গেমস নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। খেলা যেন শুধুমাত্র স্ক্রিননির্ভর না হয়, বরং শিশুর চিন্তা, কল্পনা ও শারীরিক সক্রিয়তাকে উৎসাহিত করে—সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুর বয়স, আগ্রহ এবং মানসিক বিকাশের স্তর অনুযায়ী খেলা নির্বাচন করা উচিত।


আজকের ব্যস্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ইনডোর গেমস শিশুদের জন্য শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়; এটি শেখার, ভাবার, সৃষ্টির এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি কার্যকর উপায়। তাই বৃষ্টিভেজা বিকেল হোক কিংবা ছুটির দিন, ঘরের মধ্যেই নতুন নতুন খেলায় মেতে উঠতে পারে ছোটরা। আনন্দ, শিক্ষা এবং সৃজনশীলতার এই মেলবন্ধনই ইনডোর গেমসকে শিশুদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।



কলঙ্কের দাগ


জয়তী মুখার্জি


কেরোসিন তেলের গাড়িটা গলির মুখে ঢুকতেই রঘুনাথদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল এক কাঁড়ি ছেলেপুলে। কারও হাতে ডেও ঢাকনা , কারও হাতে টিনের কৌটো, কারও হাতে পুরনো অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি। মুহূর্তের জন্য মনে হয়, সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য ই নয় শুধু এই আজকের দিনের জন্য । তারপরই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, তর্ক, চিৎকার।

বলাইকৃষ্ণর বৌ খ্যারখ্যারে গলায় বলে উঠল,

—লাইন ভাঙবি না বলছি! সবাই তেল পাবি!

নয় নম্বর লেনের মানুষ এই দৃশ্যে অভ্যস্ত। এখানে কেরোসিনের লাইন যেমন নিয়মিত, তেমনি নিয়মিত পাড়ার উৎসব, জলসা, ঝগড়া আর মিলমিশ।

আজ অবশ্য উত্তেজনার আরেকটা কারণ আছে।

সন্ধ্যায় রবীন্দ্র-নজরুল অনুষ্ঠান।

সকাল থেকেই মাঠে মঞ্চ বাঁধার কাজ চলছে। তালঢ্যাঙা রবি আর তার দল চৌকি টানছে, রঙিন কাপড় বাঁধছে, মাইক বসাচ্ছে।

দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে সব দেখছিল বীথি।

আজ উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইবে সে।

মা মারা গিয়েছেন দশ বছর আগে। তখন বীথির বয়স মাত্র চৌদ্দ। সেই থেকে বাবা দিব্য চক্রবর্তীই তার সব।

ব্যাংকের চাকরি সামলে মেয়েকে মানুষ করেছেন দিব্য। রান্না শিখিয়েছেন, পড়াশোনা দেখেছেন, গানের ক্লাসে পৌঁছে দিয়েছেন। পাড়ায় সবাই বলত, "এমন বাবা খুব কম দেখা যায়।"

ভিতর থেকে ডাক এল।

—মা, রেওয়াজটা আর একবার করবি?

বীথি হেসে বলল,

—তুমি না থাকলে আমার গানই হত না বাবা।

দিব্য মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন।

—আজ কিন্তু ভয় পেলে চলবে না।

—তুমি সামনে থাকবে তো?

—প্রথম সারিতে।

বীথি নিশ্চিন্ত হল।

সামনের সারিতে বাবা থাকলে পৃথিবীর কোনও মঞ্চকেই তার আর ভয় লাগে না।



রঘুনাথ মুখার্জি এই পাড়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী মানুষ।

প্রচুর সম্পত্তি। জমি, বাড়ি, ব্যবসা। পাড়ার অর্ধেক মানুষ কোনও না কোনওভাবে তার অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল।

তার ছোট ছেলে রঙ্গন।

রঙ্গনের চোখে বহুদিন ধরেই বীথি।

গানের অনুষ্ঠান, পাড়ার পুজো, বইমেলা—যেখানেই বীথিকে দেখেছে, মুগ্ধ হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত বাড়িতে বিয়ের কথাও তুলেছিল।

রঙ্গনকে বীথির খারাপ লাগত না। কিন্তু সে তখন নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে চায়। গান নিয়ে আরও এগোতে চায়।

দিব্য খুব ভদ্রভাবে বলেছিলেন,

—এখন বিয়ের কথা ভাবছে না বীথি।

কথাটা রঙ্গন মেনে নিয়েছিল।

রঘুনাথ পারেননি।

প্রথমবার কেউ তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।

সেদিন থেকেই আহত অহংকার তার ভিতরে বিষের মতো জমতে শুরু করেছিল।

কিছুদিন পরে ব্যাংকের একটা কাজের অজুহাতে দিব্যর বাড়িতে এল রঘুনাথ।

বীথি তখন বাইরে।

দিব্য রান্নাঘরে চা করতে গেছেন।

সেই সামান্য সময়টুকুই যথেষ্ট ছিল।

ব্যাগ থেকে মোটা টাকার বান্ডিল বের করে দিব্যর খাটের নীচে ঠেলে দিল রঘুনাথ।

মুখে তখনও ভদ্র হাসি।

চা খেয়ে চলে গেল।

দুদিন পরে থানায় বেনামি অভিযোগ পৌঁছল।

অভিযোগ—ব্যাংকের কর্মী দিব্য চক্রবর্তী অবৈধ টাকা লুকিয়ে রেখেছেন।

সন্ধ্যা ছটা।

মাঠ ভরে গেছে।

মাইক থেকে ভেসে আসছে,

—আপনারা সকলে আসন গ্রহণ করুন।

বীথির বুক ধড়ফড় করছে।

মঞ্চে উঠে হারমোনিয়ামের সামনে বসল সে।

প্রথম সারিতে দিব্য।

চোখে গর্ব।

ঘোষক বললেন,

—এবার উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বীথি চক্রবর্তী।

হাততালি।

বীথি বেলো টানল।

ঠিক তখনই সাইরেন।

দূরের শব্দ দ্রুত কাছে এল।

একটা পুলিশের গাড়ি এসে থামল মঞ্চের সামনে।

সব শব্দ থেমে গেল।

পাঁচজন পুলিশ নেমে এল।

সোজা দিব্যর সামনে।

—আপনি দিব্য চক্রবর্তী?

—হ্যাঁ ,

—আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।

—কিন্তু কেনো?

—আপনার বাড়ি থেকে অবৈধ অর্থ উদ্ধার হয়েছে।

দিব্য যেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।

—কী বলছেন?

একজন পুলিশ হাতকড়া বের করল।

মঞ্চে বসে থাকা বীথি দেখল, তার বাবার হাতে হাতকড়া পড়ছে।

দিব্য একবার মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—ভয় পাস না মা। আমি নির্দোষ।

পুলিশের গাড়ি চলে গেল।

হারমোনিয়ামের ওপর বীথির হাত স্থির রইল।

সেদিন আর গান শুরু হয়নি।


তারপর পৃথিবী বদলে গেল।

যারা দিব্যকে সম্মান করত, তারা মুখ ফিরিয়ে নিল।

চায়ের দোকানে ফিসফাস।

বারান্দায় আলোচনা।

রাস্তা দিয়ে হাঁটলে চাপা হাসি।

বীথি প্রথম প্রথম প্রতিবাদ করত।

পরে আর করত না।

কারণ সে বুঝেছিল, সমাজ প্রমাণের আগে বিচার করে।

থানায় গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করত।

দিব্যর চোখের নীচে কালি জমছিল ক্রমে ।


তবু তিনি বলতেন,

—আমি কিছু করিনি মা।

বীথি বলত,

—আমি জানি।

কিন্তু সত্যি জানলেও সত্যি প্রমাণ করা সবসময় সম্ভব হয় না।

মাস কেটে গেল।

মামলা চলল।

একদিন খবর এল, থানায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দিব্য।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যুর কাঁধে ঢলে পড়লো দিব্যর মাথা । আজও বিথি স্থির । কান্না তার গলার শ্বাসনালী কে কুণ্ডলীকৃত হয়ে জানান দিলো বার বার । চিতার আগুনের ধোঁয়া নেভার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলল — আমি নির্দোষ ।

কিন্তু সরকারি কাগজে লেখা হল—হার্ট অ্যাটাক।

পাড়ার মানুষ কয়েকদিন আলোচনা করল।

তারপর ভুলে গেল কালের নিয়মে ।

শুধু বীথি ভুলল না।

তার পৃথিবী সেদিন দ্বিতীয়বার ভেঙেছিল।

প্রথমবার মায়ের মৃত্যুর দিন।

দ্বিতীয়বার বাবার। রঙ্গন ধীরে ধীরে সব জানতে পারল।

বাবার আলমারি থেকে কিছু কাগজ।

এক পুরনো কর্মচারীর মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথা।

আর নিজের সন্দেহ।

সত্যিটা সামনে আসতে সময় লাগেনি।

দিব্য নির্দোষ ছিলেন।

সবটাই রঘুনাথের সাজানো।

রঙ্গনের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

সে বীথির কাছে গেল।

সব বলল।

একটাও কথা লুকোল না।

বীথি চুপ করে শুনল।

তারপর বলল,

—আজ বলছ কেন?

—ক্ষমা চাইতে আসিনি। শুধু সত্যিটা জানাতে এসেছি।

বীথি জানলার বাইরে তাকাল।

—সত্যি জানলে বাবা ফিরে আসবে?

রঙ্গনের উত্তর ছিল না।

তারপরও রঙ্গন আসত।

চুপচাপ।

কখনও ওষুধ নিয়ে।

কখনও বই।

কখনও শুধু খবর নিতে।

বছরখানেক কেটে গেল।

বীথির ভিতরের আগুন বাইরে থেকে বোঝা যেত না।

সে হাসত।

কথা বলত।

অনুষ্ঠানেও যেত।

কিন্তু প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে বাবার হাতকড়া পরা মুখটা মনে পড়ত।

একদিন রঙ্গন আবার বিয়ের কথা তুলল।

—আমি এখনও অপেক্ষা করছি।

বীথি অনেকক্ষণ চুপ ছিল।

তারপর বলল,

—আমাকে বিয়ে করলে তোমার বাবা মেনে নেবেন?

—না।

—তবু করবে?

—করব।

বীথি প্রথমবার হাসল।

একটা অদ্ভুত হাসি।

রঙ্গন তার অর্থ বুঝতে পারেনি।


বিয়ে হলো । বেশ অবাক হলো পাড়ার লোক।


অনেকে সমালোচনা করল।

অনেকে বলল, "মেয়েটা বড় মনের।"

কেউ জানল না, বীথির মনের গভীরে কী জমে আছে।

রঘুনাথও মেনে নিলেন।

বয়স বাড়ছিল।

রঙ্গনকে হারানোর ভয় ছিল।

তাছাড়া বীথির সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব—সবই তার চোখ এড়ায়নি।

তবে সে আকর্ষণকে তিনি প্রকাশ করেননি।

সমাজে তার মুখোশ এখনও অটুট।

বিয়ের দুই বছর পরে বীথি অন্তঃসত্ত্বা হল।

তিন মাস।

বাড়িতে উৎসবের পরিবেশ।

মুখার্জি বাড়ির উত্তরাধিকার আসছে।

রঘুনাথ খুশিতে আত্মহারা।

বীথির মুখে অবশ্য সেই আনন্দ নেই।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের পেটের দিকে তাকায়।

তার মনে হয়, এই শরীরের ভিতরে যে প্রাণ বেড়ে উঠছে, তার শিরায় বইছে সেই মানুষের রক্ত, যে তার বাবাকে মেরেছে।

তারপরই আবার নিজেকে ঘৃণা করে।

শিশুর তো কোনও দোষ নেই।

বাড়ির নিয়ম ছিল।

তিন মাস পূর্ণ হলে শুভদিন দেখে ঠাকুরের প্রসাদ খাওয়ানো হয় হবু মাকে।

সেদিন বড় আয়োজন হল।

আত্মীয়স্বজন এল।

প্রসাদের থালা সাজানো হল।

এক এক করে সবাই বীথিকে মিষ্টি খাওয়াল।

শেষে বীথি বলল,

—বাবা, আপনার হাত থেকে খাব।

রঘুনাথ অবাক।

—আমার হাত থেকে?

—হ্যাঁ। আজ আমার আবদার।

চারপাশে প্রশংসার গুঞ্জন উঠল।

—দেখেছ! মেয়েটা কী ভক্তি করে শ্বশুরকে!

রঘুনাথের বুক গর্বে ভরে গেল।

নিজের হাতে একটা মিষ্টি তুলে দিলেন বীথির মুখে।

বীথি শান্তভাবে খেয়ে নিল।

রাত বারোটা।

হঠাৎ পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হল।

ছটফট করতে লাগল বীথি।

রক্তপাত।

চিৎকার।

তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল।

ডাক্তারদের মুখ গম্ভীর।

ভোরের দিকে জানা গেল—গর্ভের সন্তান আর নেই।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়।

পরীক্ষায় ধরা পড়ল ভয়ংকর বিষক্রিয়া।

তদন্ত শুরু হল।

মিষ্টি কোথা থেকে এসেছিল?

কার হাতে ছিল?

কে খাইয়েছিল?

একটার পর একটা প্রশ্ন।

তারপর একদিন আবার সেই সাইরেন।

আবার পুলিশ।

আবার হাতকড়া।

এইবার রঘুনাথের হাতে।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে খবরটা শুনল বীথি।

রঙ্গন তার পাশে বসেছিল।

চোখ ভেজা।

—তুমি কিছু জানো?

বীথি তাকিয়ে রইল।

অনেকক্ষণ।

তারপর ধীরে বলল,

—সব প্রশ্নের উত্তর কি জানা দরকার?

রঙ্গন চুপ করে গেল।

সেই রাতে বীথি একা ছিল।

জানলার বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল।

তার হাত নিজের পেটের ওপর।

সেখানে এখন শূন্যতা।

ভীষণ শূন্যতা।

তবু আজ তার বুকের ভিতর অদ্ভুত শান্তি।

যেন বহুদিনের জমে থাকা একটা বোঝা নেমে গেছে।

বাবার মুখটা ভেসে উঠল।

হাতকড়া পরা।

অপমানিত।

নিঃসঙ্গ।

তারপর ধীরে ধীরে সেই মুখটা মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।

বীথির চোখ ভিজে উঠল।

তবু ঠোঁটের কোণে একটা নিঃশব্দ হাসি।

একটা ছোট প্রাণ এসেছিল।

অল্প সময়ের জন্য।

দাবার বোড়ের মতো।

তারপর চলে গেছে।

কিন্তু যাওয়ার আগে বহু বছরের হিসেব মিটিয়ে দিয়ে গেছে।

দূরে আবার সাইরেন বেজে উঠল।

বীথি চোখ বন্ধ করল।

কিছু ক্ষত শুকিয়ে যায়।

কিছু অন্যায়ের বিচার হয়।

আর কিছু দাগ মানুষের জীবন পেরিয়ে প্রজন্মে প্রজন্মে বেঁচে থাকে।

কলঙ্ক মুছে যায়।

কলঙ্কের দাগ যায় না ।।


Comments


ssss.jpg
sssss.png

QUICK LINKS

ABOUT US

WHY US

INSIGHTS

OUR TEAM

ARCHIVES

BRANDS

CONTACT

© Copyright 2025 to Debi Pranam. All Rights Reserved. Developed by SIMPACT Digital

Follow us on

Rojkar Ananya New Logo.png
fb png.png

 Key stats for the last 30 days

bottom of page