top of page

শ্রাবণ সোমবার | বর্ষায় জয়েন্ট পেইন | ফেসপ্যাক বানাতে ফিটকিরি | রবিবারের গল্প: বার্ষিক সাধারণ সভা


শ্রাবণ সোমবার: মহাদেবের আরাধনায় ভক্তি, ব্রত ও আধ্যাত্মিকতার মহোৎসব


ভারতীয় সনাতন ধর্মে শ্রাবণ মাস অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ বলে বিবেচিত। বর্ষার স্নিগ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে এই মাস যেন নিয়ে আসে ভক্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য আবহ। এই মাসের প্রতিটি সোমবার, অর্থাৎ শ্রাবণ সোমবার, ভগবান শিবের আরাধনার জন্য বিশেষভাবে উৎসর্গীকৃত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে নিষ্ঠাভরে শিবের পূজা, উপবাস ও মন্ত্রজপ করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয়, সংসারে সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে পালন করা হয়। বাংলাতেও বহু শিবমন্দিরে এদিন ভোর থেকেই ভক্তদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে।



শ্রাবণ মাসকে শিবের প্রিয় মাস হিসেবে মান্য করার পিছনে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি। সমুদ্র মন্থনের সময় দেবতা ও অসুরদের প্রচেষ্টায় সর্বপ্রথম উঠে আসে ভয়ংকর হালাহল বিষ। সেই বিষের তেজে সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংসের মুখে পড়লে দেবতা ও মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য ভগবান শিব সেই বিষ পান করেন। দেবী পার্বতী তাঁর কণ্ঠ চেপে ধরায় বিষটি শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি; শিবের কণ্ঠ নীলবর্ণ ধারণ করে এবং তিনি নীলকণ্ঠ নামে পরিচিত হন। বিষের উত্তাপ প্রশমিত করতে দেবতারা তাঁর মাথায় অবিরাম গঙ্গাজল ঢালতে থাকেন। এই ঘটনাটি শ্রাবণ মাসে সংঘটিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই থেকেই শ্রাবণ মাসে জলাভিষেক, দুধাভিষেক ও বিল্বপত্র নিবেদনের বিশেষ মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


শিব পুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, লিঙ্গ পুরাণ এবং পদ্ম পুরাণে শ্রাবণ মাসে শিবপূজার অসীম মাহাত্ম্যের উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই মাসে একাগ্রচিত্তে "ওঁ নমঃ শিবায়" মন্ত্র জপ এবং শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করলে বহু যজ্ঞ ও তপস্যার সমতুল্য পুণ্য লাভ হয়। মহাদেবকে বলা হয় ভোলানাথ—তিনি অতি সহজেই ভক্তের আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট হন। তাই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের চেয়ে ভক্তিভাবই তাঁর পূজার মূল ভিত্তি।



দেবী পার্বতীর সঙ্গে শ্রাবণ সোমবারের সম্পর্কও অত্যন্ত গভীর। পুরাণ অনুসারে, মহাদেবকে স্বামীরূপে লাভ করার জন্য পার্বতী দীর্ঘকাল কঠোর তপস্যা ও ব্রত পালন করেছিলেন। সেই তপস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শ্রাবণ মাসের সোমবার ব্রত। তাঁর একনিষ্ঠ ভক্তি ও সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে পত্নীরূপে গ্রহণ করেন। সেই থেকেই অবিবাহিত নারীরা যোগ্য জীবনসঙ্গী লাভের আশায় এবং বিবাহিত নারীরা স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধির কামনায় এই ব্রত পালন করে থাকেন।


ঐতিহাসিক দৃষ্টিতেও শ্রাবণ সোমবারের গুরুত্ব কম নয়। বৈদিক যুগে রুদ্ররূপে পূজিত শিব পরবর্তী কালে পুরাণ যুগে সর্বজনীন দেবতায় পরিণত হন। কৃষিনির্ভর সমাজে বর্ষাকাল ছিল নতুন জীবনের প্রতীক। বৃষ্টি, উর্বরতা ও প্রকৃতির ভারসাম্যের সঙ্গে শিবের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। নদী-নালা পূর্ণ হয়ে ওঠার এই সময়ে পবিত্র নদীর জল এনে শিবলিঙ্গে নিবেদন করার রীতি ধীরে ধীরে ধর্মীয় আচার ও সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়। আজও সেই প্রথা সমানভাবে জনপ্রিয়।



শ্রাবণ সোমবারের পূজা সাধারণত ভোরে স্নান করে শুচিবস্ত্র পরিধানের মাধ্যমে শুরু হয়। পূজার আসনে শিবলিঙ্গ বা মহাদেবের প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে প্রথমে গঙ্গাজল নিবেদন করা হয়। এরপর দুধ, দই, মধু, ঘি ও চিনি দিয়ে পঞ্চামৃত অভিষেক করা হয়। তারপর বিল্বপত্র, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, সাদা চন্দন, ভস্ম, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। পূজার সময় "ওঁ নমঃ শিবায়" মন্ত্র, মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, রুদ্রাষ্টকম বা শিব চালিশা পাঠ অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। শেষে আরতি করে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।


শিবপূজায় বিল্বপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয়, বিল্বপত্রের তিনটি পত্র ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীক। আবার অনেকের মতে, এটি শিবের ত্রিনয়ন কিংবা সত্ত্ব, রজ ও তম—এই তিন গুণের প্রতীক। শাস্ত্র অনুযায়ী, ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত নয়, এমন পরিষ্কার বিল্বপত্র নিবেদন করাই বিধিসম্মত। বিল্বপত্রের সঙ্গে একমুঠো ভক্তি নিবেদন করাই শিবের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য বলে বিবেচিত।


এই দিনে বহু ভক্ত উপবাস পালন করেন। কেউ নির্জলা উপবাস করেন, আবার কেউ ফল, দুধ বা নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন। তবে শাস্ত্র মতে, উপবাসের প্রকৃত অর্থ শুধু খাদ্য ত্যাগ নয়; ইন্দ্রিয়সংযম, সত্যভাষণ, সৎচিন্তা, ক্রোধ পরিহার এবং ঈশ্বরস্মরণই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য। তাই এই দিনটিকে আত্মশুদ্ধি ও মানসিক সংযমের দিন হিসেবেও দেখা হয়।



উত্তর ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় আয়োজন হল কাঁওয়ার যাত্রা। লক্ষ লক্ষ শিবভক্ত গঙ্গা, যমুনা বা অন্যান্য পবিত্র নদী থেকে জল সংগ্রহ করে কাঁধে কাঁওয়ার বহন করে বহু কিলোমিটার পথ হেঁটে শিবমন্দিরে পৌঁছে সেই জল নিবেদন করেন। এই যাত্রা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং ধৈর্য, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও সমষ্টিগত ভক্তির এক অনন্য নিদর্শন।


শ্রাবণ সোমবারে দান-পুণ্যেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দরিদ্র মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান, বৃক্ষরোপণ, গরুকে খাদ্যদান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত শুভ কাজ বলে বিবেচিত হয়। মহাদেবের শিক্ষা কেবল পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানবসেবার মধ্য দিয়েও তাঁর আরাধনা সম্পূর্ণ হয়।


এই দিনে কিছু বিষয় এড়িয়ে চলার কথাও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। আমিষ আহার, মদ্যপান, অসত্য ভাষণ, অহংকার, অন্যের নিন্দা, হিংসা ও অকারণ ক্রোধ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ মহাদেবের আরাধনার মূল ভিত্তি হল সরলতা, সংযম এবং অন্তরের পবিত্রতা।


শ্রাবণ সোমবারের প্রকৃত তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষকে আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা, ত্যাগ ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। ভগবান শিবের জীবন আমাদের শেখায়—সত্য, ধৈর্য, করুণা এবং আত্মসংযমই জীবনের প্রকৃত শক্তি। তাই আজকের ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে শ্রাবণ সোমবার আমাদের অন্তরের শান্তি খুঁজে নেওয়ার, প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এবং মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে চলার এক অনন্য প্রেরণা হয়ে ওঠে।



শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শ্রাবণ সোমবার ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুরাণ, ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক দর্শনের এক অপূর্ব সমন্বয় এই পবিত্র ব্রতকে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। তাই প্রতি শ্রাবণ সোমবারে ভক্তের কণ্ঠে যখন ধ্বনিত হয় "ওঁ নমঃ শিবায়", তখন তা শুধু একটি মন্ত্র নয়; বরং মানবমনের শান্তি, বিশ্বাস, ভক্তি ও চিরন্তন আশ্রয়ের এক অমর আহ্বান।

বর্ষায় জয়েন্ট পেইন: কেন বাড়ে ব্যথা, কীভাবে মিলবে স্বস্তি?


নিজস্ব প্রতিনিধি


বর্ষা মানেই প্রকৃতির নতুন রূপ, চারপাশে সবুজের সমারোহ আর বৃষ্টিভেজা আবহ। কিন্তু এই ঋতু অনেকের কাছেই নিয়ে আসে এক অস্বস্তিকর সমস্যা—জয়েন্ট পেইন বা অস্থিসন্ধির ব্যথা। হাঁটু, কোমর, গোড়ালি, কবজি কিংবা কাঁধের ব্যথা বর্ষাকালে অনেকেরই বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাঁরা অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা পুরনো আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। তবে শুধু প্রবীণদের নয়, বর্তমানে কম বয়সিদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে।


অনেকেই মনে করেন, বৃষ্টি হলেই বাতের ব্যথা বেড়ে যায়। যদিও আবহাওয়া ও জয়েন্ট পেইনের সম্পর্ক নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে, তবুও চিকিৎসকদের মতে বায়ুমণ্ডলের চাপের পরিবর্তন, বাতাসে আর্দ্রতার বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনের কারণে বর্ষায় জয়েন্টের ব্যথা বাড়তে পারে। বৃষ্টির সময় বায়ুচাপ কমে গেলে জয়েন্টের আশপাশের টিস্যুতে সামান্য পরিবর্তন ঘটে, যা সংবেদনশীল স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে ব্যথা বাড়াতে পারে।



বর্ষাকালে আর্দ্রতার পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা অনেকের পেশি ও অস্থিসন্ধিকে শক্ত করে দেয়, ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরে হাঁটাচলা করতে অস্বস্তি হয়। অনেকেই অনুভব করেন যে জয়েন্ট যেন আগের তুলনায় কম নমনীয় হয়ে পড়েছে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। টানা বৃষ্টির কারণে বাইরে হাঁটাহাঁটি বা নিয়মিত শরীরচর্চা কমে যায়। দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে জয়েন্টের নড়াচড়া কম হয়, ফলে ব্যথা ও শক্তভাব আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই বর্ষাতেও শরীরকে সক্রিয় রাখা অত্যন্ত জরুরি।


বর্ষায় সূর্যের আলো কম পাওয়ায় শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির পরিমাণও কমে যেতে পারে। ভিটামিন ডি হাড় ও পেশির সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এর ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং জয়েন্টের অস্বস্তিও বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি পরীক্ষা বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।


যাঁদের বয়স ৫০ বছরের বেশি, যাঁরা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, যাঁদের আগে থেকে আর্থ্রাইটিস রয়েছে বা যাঁদের হাঁটু বা কোমরে পুরনো চোট রয়েছে, তাঁদের বর্ষাকালে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন বা খুব কম নড়াচড়া করেন, এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও এই সময়ে জয়েন্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।



জয়েন্ট পেনের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হাঁটু বা কোমরে ব্যথা, সকালে উঠে জয়েন্ট শক্ত লাগা, সিঁড়ি ওঠানামায় কষ্ট হওয়া, হাঁটার সময় অস্বস্তি, জয়েন্টে ফোলা বা উষ্ণতা অনুভব করা এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরে ব্যথা বেড়ে যাওয়া। এই লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


বর্ষায় জয়েন্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন কিছুক্ষণ হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করলে জয়েন্ট সচল থাকে এবং ব্যথা কমতে সাহায্য করে। অনেকেই ব্যথার ভয়ে একেবারে বিশ্রামে থাকেন, কিন্তু অতিরিক্ত বিশ্রাম জয়েন্টকে আরও শক্ত করে দিতে পারে।


খাদ্যাভ্যাসও জয়েন্টের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। দুধ, দই, ডিম, ছোট মাছ, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, রঙিন ফল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ হাড় ও জয়েন্টের জন্য উপকারী। অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও সফট ড্রিংক যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।



অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করা উচিত। কারণ শরীরের বাড়তি ওজনের সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে হাঁটুর উপর। মাত্র কয়েক কেজি ওজন কমালেও অনেকের হাঁটুর ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি। বর্ষায় তৃষ্ণা কম পেলেও শরীরকে আর্দ্র রাখা জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।


অনেক সময় হালকা গরম সেঁক পেশির টান কমাতে এবং জয়েন্টের শক্তভাব দূর করতে সাহায্য করে। তবে যদি জয়েন্টে তীব্র ফোলা, লালভাব বা প্রদাহ থাকে, তাহলে নিজে থেকে সেঁক না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


জয়েন্টের ব্যথাকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। যদি ব্যথা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, জয়েন্ট ফুলে যায়, জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হয়, হাঁটাচলায় অসুবিধা হয় বা হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়, তাহলে দ্রুত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বা রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে এক্স-রে, রক্তপরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা হয়।



বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে নিজের হাড় ও জয়েন্টের যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বর্ষায় জয়েন্ট পেন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, ব্যথাকে স্বাভাবিক বলে মেনে না নিয়ে সময়মতো তার কারণ খুঁজে বের করাই সুস্থ ও সক্রিয় জীবনের প্রথম শর্ত।

ফেসপ্যাক বানাতে ফিটকিরি!


নিজস্ব প্রতিনিধি


প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার প্রবণতা আজও সমান জনপ্রিয়। রান্নাঘর বা ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই ত্বক পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। তেমনই একটি পরিচিত উপাদান হলো ফিটকিরি। সাধারণত জল পরিশোধন, ক্ষত পরিষ্কার করা, শেভিংয়ের পর রক্তপাত বন্ধ করা কিংবা মুখের দুর্গন্ধ কমানোর কাজে ফিটকিরি ব্যবহার করা হলেও সৌন্দর্যচর্চাতেও এর ব্যবহার কম নয়। বিশেষ করে ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈরিতে ফিটকিরির ব্যবহার নিয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। তবে এটি ব্যবহারের আগে এর উপকারিতা যেমন জানা জরুরি, তেমনই জানা দরকার এর সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতার বিষয়গুলিও।



ফিটকিরির রাসায়নিক নাম পটাশিয়াম অ্যালাম। এটি একটি প্রাকৃতিক খনিজ লবণ, যার মধ্যে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট বা সংকোচনকারী গুণ রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ত্বকের রোমছিদ্র সাময়িকভাবে টানটান করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। তাই তৈলাক্ত ত্বক বা ব্রণের প্রবণতা রয়েছে এমন অনেকেই ঘরোয়া ফেসপ্যাকে অল্প পরিমাণ ফিটকিরি ব্যবহার করে থাকেন।


ফেসপ্যাকে ফিটকিরি ব্যবহার করার অন্যতম কারণ হলো এটি ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। সারাদিনের ধুলো, ঘাম ও অতিরিক্ত তেলের কারণে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ফিটকিরিযুক্ত ফেসপ্যাক ত্বকের উপরিভাগ পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে এবং অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। ফলে মুখ কিছুটা উজ্জ্বল ও সতেজ দেখাতে পারে। যদিও এটি স্থায়ীভাবে ত্বক ফর্সা করে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।


তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফিটকিরির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি জনপ্রিয়। ফিটকিরির অ্যাস্ট্রিনজেন্ট বৈশিষ্ট্য অতিরিক্ত সেবাম নিঃসরণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে মুখে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব কম অনুভূত হয় এবং মেকআপও কিছুটা বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। তবে যাদের ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক বা সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে ফিটকিরি উল্টো শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।



ব্রণের সমস্যা কমানোর ক্ষেত্রেও অনেকেই ফিটকিরির কথা বলেন। ফিটকিরির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ত্বকের কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা ব্রণের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি ব্রণের চিকিৎসা নয়। হরমোনজনিত বা গুরুতর ব্রণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফিটকিরির ওপর নির্ভর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। প্রয়োজনে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


ফিটকিরি দিয়ে একটি সহজ ফেসপ্যাক তৈরি করা যায় গোলাপজল ও সামান্য ফিটকিরির গুঁড়ো মিশিয়ে। এক চিমটি ফিটকিরির গুঁড়োর সঙ্গে পর্যাপ্ত গোলাপজল মিশিয়ে একটি পাতলা পেস্ট তৈরি করুন। মুখ পরিষ্কার করে সেই প্যাক ৫ থেকে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট।


মুলতানি মাটি ও ফিটকিরির সংমিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া ফেসপ্যাক। দুই চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে এক চিমটি ফিটকিরির গুঁড়ো এবং প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং সতেজ অনুভূতি দিতে সাহায্য করতে পারে।



মধু ও ফিটকিরি দিয়েও একটি হালকা ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। এক চা-চামচ মধুর সঙ্গে খুব সামান্য ফিটকিরির গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগান। পাঁচ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে ফিটকিরির কারণে হওয়া অতিরিক্ত শুষ্কতার সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে।


দই, বেসন ও অল্প ফিটকিরি মিশিয়েও একটি কার্যকর ফেসপ্যাক তৈরি করা সম্ভব। এই মিশ্রণ ত্বক পরিষ্কার করতে, মৃত কোষ দূর করতে এবং ত্বককে মসৃণ অনুভব করাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ফিটকিরির পরিমাণ অবশ্যই খুব কম রাখতে হবে, কারণ বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।


অনেকেই মনে করেন ফিটকিরি ব্যবহারে বলিরেখা সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায় বা ত্বক স্থায়ীভাবে টানটান হয়। বাস্তবে ফিটকিরি ত্বকে সাময়িক টানটান ভাব আনতে পারে, কারণ এটি রোমছিদ্র সংকুচিত করে। কিন্তু এটি বার্ধক্যের লক্ষণ দূর করার কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত স্কিনকেয়ার উপাদান ব্যবহারই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।



ফিটকিরি ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। হাতে বা কানের পিছনে সামান্য পরিমাণ লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি লালচে ভাব, চুলকানি, ফুসকুড়ি বা জ্বালাপোড়া না হয়, তবেই মুখে ব্যবহার করা নিরাপদ। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এই ধাপটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


ফেসপ্যাকে কখনোই বেশি পরিমাণ ফিটকিরি ব্যবহার করা উচিত নয়। অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় বেশি ফিটকিরি মিশিয়ে ফেলেন, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে শুষ্কতা, খসখসে ভাব ও জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে।


ফিটকিরি ব্যবহারের পর অবশ্যই একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। কারণ ফিটকিরি ত্বকের তেল কমানোর পাশাপাশি কিছুটা আর্দ্রতাও কমিয়ে দিতে পারে। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শুষ্কতা কম হয়।


যাদের একজিমা, সোরিয়াসিস, অ্যালার্জি বা ত্বকে কাটা-ছেঁড়া রয়েছে, তাদের ফিটকিরিযুক্ত ফেসপ্যাক ব্যবহার না করাই ভালো। একইভাবে সম্প্রতি কেমিক্যাল পিল, লেজার ট্রিটমেন্ট বা অন্য কোনো কসমেটিক প্রক্রিয়া করিয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফিটকিরি ব্যবহার করা উচিত নয়।



ফিটকিরি কোনো অলৌকিক উপাদান নয়। এটি ত্বকের কিছু সাধারণ সমস্যায় সাময়িক উপকার দিতে পারে, কিন্তু সব ধরনের ত্বকের জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। ত্বকের ধরন বুঝে, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলেই এর সম্ভাব্য উপকার পাওয়া যায়। ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈরিতে ফিটকিরি একটি কার্যকর সহায়ক উপাদান হতে পারে, যদি তা সচেতনভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি অতিরিক্ত তেল কমাতে, ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং সাময়িক টানটান ভাব আনতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার বা ভুল পদ্ধতিতে প্রয়োগ করলে ত্বকের ক্ষতিও হতে পারে। তাই যে কোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ধরন বিবেচনা করা, প্যাচ টেস্ট করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সুন্দর ত্বকের জন্য শুধু একটি উপাদানের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

রবিবারের গল্প: বার্ষিক সাধারণ সভা


অর্জুন সরকার


কী ব্যাপার, সকাল সকাল কোথায় চললে?


গিন্নির মুখে এরকম মুখঝামটা খেয়ে প্রবীরবাবু কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন। তারপর নিজেকে কোনওমতে সামলে নিয়ে একটু নিচু স্বরে বললেন, "অফিসে যাচ্ছি।"


— অফিসে যাচ্ছি মানে?


— অফিসে কাজ আছে।


— আজকে ছুটির দিন। কিসের কাজ!


— না, আজকেও যেতে হবে অফিসে।


— ছুটির দিন কি অফিসে যেতে হচ্ছে? না কি? সে তো দেখতাম মার্চ মাসে হয়, ইয়ার এন্ডিং-এ। সে তো পেরিয়ে গেছে। এখন আবার কিসের কাজ!


— তুমি জানো না, আমাদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি। যেকোনও সময় ডাকতে হতে পারে।


না! স্ত্রীর চোখে সন্দেহের চাহনি।



— সত্যি করে বল তো! কোথায় যাচ্ছ? অফিসের নাম করে অন্য কোথাও না তো?


প্রবীরবাবু বুঝলেন, এবার যদি সত্যি কথাটা না বলেন, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অন্যরকম কিছু ভেবে বসতে পারে।


— অফিসেই যাচ্ছি, তবে ঠিক অফিসের কাজে নয়। আজ সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা, তাই।


কথাটা শুনেই গিন্নির মুখ দিয়ে অজস্র বাক্যবাণ নির্গত হয়ে তীরের গতিতে তার দিকে ধেয়ে আসতে লাগল।


— ও বুঝেছি, ইউনিয়নের মিটিং আছে। তা ইউনিয়নের মিটিংয়ে তুমি ওখানে গিয়ে কী করবে? তুমি কি কোনও নেতা? এক কাজ করো, সংসারধর্ম ছেড়ে নেতার দলে নাম লেখাও গিয়ে। সপ্তাহে তো একটা দিন ছুটি পাও, তাতেও আবার ইউনিয়ন! কাজের দিনেই তো এই মিটিং-মিছিলগুলো করতে পারে।


বোঝ ঠ্যালা, কে বোঝাবে কাকে?


আবার গিন্নি বলে উঠল, "অফিস তো যাবে বলছ। তা মামণির নাচের ক্লাসে নিয়ে যাওয়া, ছেলের আঁকার ক্লাসে নিয়ে যাওয়া আর বিকেলে ছেলেকে অঙ্ক নিয়ে বসা— এগুলো কে করবে শুনি?"


কঁকিয়ে ওঠে প্রবীরবাবু, "প্লিজ, আজকের দিনটা ম্যানেজ করে নাও।"


— না, আমি পারব না। অসম্ভব। আমার একার পক্ষে সংসারের দায়-দায়িত্ব সামলে এগুলো করা সম্ভব নয়।


প্রবীরবাবু বুঝলেন, এভাবে নরম গলায় কাজ হবে না। সুর একটু চড়াতে হবে।



বললেন, "তাই বলে কি বছরে এই একটা দিন অফিসের সংগঠনের কাজে আসব না? চাকরি করতে গেলে এগুলোর প্রয়োজন। ওসব তুমি বুঝবে না।"


— না, আমি বুঝব না। তুমিই সব বোঝ। তা এক কাজ করো, রাজনৈতিক দলে ফিরে যাও। সংসারে মন দিতে হবে না।


বুঝলেন, তর্ক করা বৃথা। ওদিকে অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে। কথা না বাড়িয়ে হাঁটা লাগালেন। মনে মনে ভাবছেন, আজকে আমাকে যেতেই হবে। চার বছর পর কোভিডের অতিমারির পরিস্থিতি কাটিয়ে আজ বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন হচ্ছে। মিস করার চান্সই নেই। কত পুরনো বন্ধুবান্ধব আসবে, অফিসের কলিগ, পরিচিত, অর্ধপরিচিত, অপরিচিত সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হবে। দুপুরে জম্পেশ খাওয়া হবে, জমিয়ে আড্ডা হবে। এগুলো কি ছাড়া যায়!

প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ অফিসে পৌঁছে দেখল, অফিসের যে সভাগৃহে অনুষ্ঠান হবে, তার পাশে থাকা লম্বা করিডোরে থিকথিকে ভিড়। প্রায় সকলের হাতেই চায়ের কাপ। করিডোরের একদিকে টেবিল পেতে সুশ্রী এক যুবতী বার্ষিক চাঁদা নিতে ব্যস্ত। তার পাশের যুবকটি টেবিলে রাখা একটা রেজিস্টারে একাগ্রভাবে সদস্যদের নাম লেখাতেই ব্যস্ত। সদস্যরা লাইন দিয়ে সেই খাতায় হস্তাক্ষর করছে। এটাই হচ্ছে সেদিনের সভায় উপস্থিতির অ্যাটেনড্যান্স রেজিস্টার, এককথায় প্রবেশপত্র। আর করিডোরের একটু দূরে অস্থায়ী চায়ের স্টল। ভিড়টা ওখানেই মনে হয় বেশি।


প্রবীরবাবু একটু দেরি করে ঢুকেছেন। মুখে একটু লজ্জার ভাব। সভার প্রাথমিক অনুষ্ঠান হয়ে গেছে। এখন মঞ্চে সদস্যদের বক্তব্যের পালা চলছে। একজনের বক্তব্য শেষ হচ্ছে, তো অন্য সদস্যের বক্তব্য শুরু। তারই মাঝে থেকে থেকেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বারবার বলছেন, "আপনারা সবাই ভেতরে এসে নিজেদের আসন গ্রহণ করুন। বাইরে ভিড় জমাবেন না।"



কে শোনে কার কথা!


প্রবীরবাবু লক্ষ্য করেছেন, সভাগৃহের ভেতরে যতটা না ভিড়, তার থেকে ঢের বেশি ভিড় বাইরের করিডোরে। সবার মনে বেশ একটা খুশি-খুশি ভাব। গল্প, আড্ডায় নিজেদের মধ্যে মশগুল।


প্রবীরবাবু কোনওমতে সভাপতি ও সম্পাদককে দূর থেকে মুখটা দেখিয়ে হাত নেড়ে হাসিমুখে নিজের উপস্থিতির জানান দিলেন। তারাও মঞ্চে বসে প্রবীরবাবুর দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে উত্তর ফেরত দিলেন। যাক, নিশ্চিন্ত। উপস্থিতি গ্রান্টেড।


সে জানে, শুধু অ্যাটেনড্যান্স রেজিস্টার ভরাট করা যথেষ্ট নয়, সে যে এসেছে, তার চাক্ষুষ প্রমাণ রাখা চাই। আস্তে আস্তে সভাগৃহ ছেড়ে করিডোরের দিকে এগিয়ে চলল। এখন প্রবীরবাবুর অনেক কাজ বাকি। প্রথমে জম্পেশ করে চা খেতে হবে। তারপর ভালো করে খুঁজে দেখতে হবে, চেনা-পরিচিত কেউ এল কি না। তারপরই তো জমবে আসল মজা, জমিয়ে আড্ডা। যতবার খুশি চা খাও, একদম ফ্রি। তবে লাঞ্চ আসবে দুপুরে।


টি-স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে সবে চায়ের কাপ হাতে নেবে, পিঠে আলতো টোকা।


— কেমন আছিস বল?


ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে সোল্লাসে চিৎকার করে উঠল, "আরে সুবীর! কবে এলি?"


— এই আজকেই সকালে ট্রেন থেকে নামলাম। তারপর হোটেলে গিয়ে চেঞ্জ করে সোজা এখানে এসে হাজির। আমার কথা বাদ দে, তোর বাড়ি তো কলকাতাতেই। এত দেরিতে আসলি কেন?


— আমি সেই সকাল দশটা থেকে এখানে এসে উপস্থিত। হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়েই হাঁটা লাগালাম। আমি যখন এখানে আসি, তখন কেউ ছিল না। তারপর সবাই একে একে এসে হাজির হলো।



প্রবীরবাবু উদাসীন হয়ে বললেন, "আর বলিস না, বাড়ি থেকে গিন্নি কোনওমতেই আসতে দিচ্ছিল না। কোনোরকমে ম্যানেজ করে এলাম।"


— বলিসনি, অ্যাসোসিয়েশনের মিটিং আছে?


— হ্যাঁ, বললাম তো। সেটাই বলেই তো কাল হলো। হাজার কৈফিয়ত।


— ছাড়, বাদ দে। তোর খবর বল। কেমন আছিস? মেয়ে তো এবার মাধ্যমিক দিল। কী ভাবছিস— ডাক্তারি না ইঞ্জিনিয়ারিং? কতদিন পর দেখা তোর সঙ্গে! প্রায় বছর পাঁচেক তো হবেই। দেখে কী যে ভালো লাগছে, কী বলব! রায়গঞ্জের খবর কী বল?


একসঙ্গে এতগুলো কথা বলে থামল প্রবীরবাবু। কথা যেন ফুরোচ্ছেই না। আনন্দ আর উৎসাহ একসঙ্গে কথা হয়ে যেন ঝরে পড়ছে। এ এক অদ্ভুত প্রসন্নতা।

ওদের পাশে আরও দুজন হাসতে হাসতে এসে হাজির হলো। পুরুলিয়া থেকে অনির্বাণ আর বাঁকুড়া থেকে গৌতম। ওরা সব একই ব্যাচের।


— কী যে ভালো লাগছে তোদের দেখে! বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন তো নয়, যেন মিলনমেলা।


সুবীরবাবু বললেন, "তোকে আর কী বলব, আমারও একই অবস্থা।"


— কেন?


— আর বলিস না, আমাকেও কোনওমতেই আসতে দিচ্ছিল না।


মিটিংয়ের কথা বলাতেই গিন্নি বলছে, "তুমি আছ রায়গঞ্জে, আর তুমি এখন যাবে কলকাতায়, তাও এই সিজন টাইমে! ট্রেনের টিকিটই তো নেই। আমার বন্ধুরা কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে আসতে চাইছিল, ট্রেনের টিকিট পাইনি বলে ট্রিপ ক্যানসেল করতে হলো। আর তুমি যাবে কিনা কলকাতায়!"



প্রবীরবাবু সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল, "তুই কী বললি?"


হেসে উত্তর দিল সুবীরবাবু, "আমি আর কী বলব! ম্যানেজ করে নিলাম। বললাম, বোঝার চেষ্টা করো। এটা হচ্ছে সিজন টাইম উত্তরের জন্য, কিন্তু উত্তরবঙ্গের লোকেদের সাউথের জন্য অফ সিজন। এই সময় গরমে শনিবারের দিন উইকএন্ড। উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়ার ভিড় থাকে, কিন্তু দক্ষিণের গাড়ি খালি থাকবে।"


গিন্নি কিন্তু সে যুক্তি মেনে নিলেও বলল, "তা না হয় হলো। আর যাওয়ার টিকিট না হয় পেলে, কিন্তু রবিবার রাতে যেদিন তুমি উত্তর দিকে ফিরবে, সেদিন?"


উত্তরও বাতলে দিলাম। বললাম, "রবিবার উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতার ট্রেনে ভিড় থাকবে বেশি। সোমবার যে অফিস। সোমবার অফিস না করতে পারলে কতগুলো সিএল-এর ধাক্কা, বলো তো! তাই নর্থ থেকে সাউথের ট্রেনে ভিড় হবে, সাউথ থেকে নর্থের নয়।"


প্রবীরবাবু হো হো করে হেসে উঠে বলল, "অকাট্য যুক্তি! ভাবতে অবাক লাগছে, শুধু সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে হাজির হবি বলে উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রেনে চেপে হাজির হলি। আর আমি ঘরের সামনে থেকেও ভাবছিলাম যে আসব কি আসব না।"


সুবীরবাবু বলল, "বলছিস কী রে! এটা বার্ষিক সম্মেলন শুধু তো নয়, এটা আমাদের বন্ধুত্বের মেলা। ওরা ওদের মতো সংগঠন করুক, সে নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এই অনুষ্ঠানের কল্যাণে একটা দিন অন্তত আসতে পারি, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়। এটা কি কম! দেখবি, এইভাবেই আমাদের চাকরিজীবনটা আনন্দে কেটে যাবে।"


প্রবীরবাবু সহমত দিয়ে বলে উঠলেন, "ঠিক বলেছিস। সংসারের বাইরে বেরিয়ে পাখির ডানায় মুক্ত আকাশে রঙিন স্বপ্নগুলো খুঁজে নেওয়া।"


গমগম করছে সভাগৃহ। নেতারা তাঁদের জ্বালাময়ী ভাষণ দিচ্ছেন। কোথায় কী আন্দোলন করতে হবে, কোথায় কী প্রতিবাদে বেরোতে হবে, কোথায় সাংগঠনিক দোষ-ত্রুটি— সেখান থেকে শুরু করে সমাজের অবমূল্যায়ন, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব— সমস্ত কিছু যেন আগুন হয়ে ঝরে পড়ছে।


করিডোরে অনেকক্ষণ আড্ডার পর এবার দুই বন্ধু মিলে সভাগৃহে ঢুকল। বেশ কিছুক্ষণ বক্তৃতা শুনে প্রবীরবাবু বললেন, "চল, আর একবার চা হয়ে যাক।"

দুই বন্ধু মিলে সভাগৃহের বাইরে গিয়ে করিডোরে দাঁড়িয়ে সিগারেটে সুখটান দিতে ব্যস্ত।


— সত্যিই আজকের দিনটা বড় মিস করতাম, যদি না আসতাম। তা, মেনু কী আছে জানিস?


প্রবীরবাবুর প্রশ্নটা শুনে সুবীরবাবু বলল, "শুনলাম মটন থালি।"


— বাহ! খুব ভালো।


— এই থালি নিয়েও নাকি নেতাদের মধ্যে বিস্তর ঝামেলা হয়েছিল। অনেকে বলেছিল বিরিয়ানি, আবার অনেকে বলেছিল, না, বিরিয়ানি চলবে না। ভরদুপুরে ওই বিরিয়ানি খেয়ে পেট বোঝাই করে কাজ করতে পারব না। আবার কেউ কেউ বলেছিল চিলি চিকেন-ফ্রায়েড রাইস। কিন্তু সম্পাদক বললেন, তার থেকে পাত পেড়ে খাওয়ানো হোক মটন থালি। অনেকে সেই শুনে বলেছিল, পাত পেড়ে খাওয়ানো তো এলাহি ব্যাপার, অফিসে সেগুলো অ্যালাউ করবে না। তারপর দীর্ঘ তর্কবিতর্কের পরে মটন থালিই ঠিক হলো। গরম ভাতের সঙ্গে খাসির মাংসের ঝোল, সঙ্গে ঝুরঝুরে আলুভাজা, মিক্সড ভেজ, ডাল, একটা সবজি, চাটনি, পাঁপড়। তবে সবই থাকবে কমপ্যাক্ট প্যাক করা। খাও আর ডিসপোজাল করো।


কথাগুলো শুনে প্রবীরবাবুর খিদের চোটে পেটের ভেতরটা যেন আরও বেশি মোচড় দিয়ে উঠল।


বললেন, "তুই কী করে এত কথা জানলি?"


হেসে সুবীরবাবু জবাব দিলেন, "ওই যে সকাল থেকে এসে ধর্না দিয়ে বসে ছিলাম, আর নেতাদের সঙ্গে খেজুরে গল্প করছিলাম। তখন শুনলাম।"


কথার মাঝখানেই মঞ্চ থেকে কাঙ্ক্ষিত লাঞ্চ ব্রেকের ঘোষণা।


বন্ধুর সঙ্গে রসনার তৃপ্তি করতে করতে দুপুরের আহার সারলেন প্রবীরবাবু। খাবার শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু। তিনি লক্ষ্য করছেন, ঠিক দুপুরের লাঞ্চ ব্রেকের পর থেকে সভার ভিড়গুলো কেমন যেন আস্তে আস্তে পাতলা হতে চলেছে। সকালের দিকে যেরকম একটা গমগম ভাব ছিল, দুপুরের পর ভিড়টা আর নেই। লাঞ্চের আগে তাঁর সামনের সিটে বসা লোকটাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো অনেককেই পাওয়া যাচ্ছে না।


বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়, তবুও সদস্যদের বক্তব্য আর শেষ হয় না। একটার পর একটা বক্তা মঞ্চে উঠছে এবং আগুনের ফুলকি ধরিয়ে দিচ্ছে। এবার নাকি নতুন কমিটি আসবে, ভোটাভুটি হবে। কানাঘুষোই শুনেছে, বেশ কয়েকটা প্যানেলও নাকি জমা পড়েছে।


প্রবীরবাবু বুঝতে পারছে না, যদি ভোটাভুটি হয়, সে কোন প্যানেলে হাত তুলবে। ডান দিকে তাকালে সেও আপন, আবার বাম দিকে তাকালে সেও আপন। সে কোন দিকে যাবে? সামনের আসনে বসে রয়েছেন দপ্তরের বেশ কিছু বড়কর্তা। তাঁদের নামও নাকি প্যানেলে আছে।


প্রবীরবাবু বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বলল, "তুই কোন প্যানেলকে ভোট দিবি?"


সুবীরবাবু প্রশ্ন শুনে অস্ফুট স্বরে বলল, "পাগল নাকি! ভোট দেব? আমার পক্ষে ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। সবাই আপন, কাকে ছেড়ে কাকে দেব! আর সবার সামনে কারও পক্ষ নিয়ে হাতও তুলতে পারব না। তার চেয়ে বরং বাকি বুদ্ধিমান প্রাণীদের মতো চল, কেটে পড়ি।"


— আর সংগঠনের ভবিষ্যৎ?


— সে ভাগ্য ওদের উপরই ছেড়ে দে।


অস্ফুট স্বরে প্রবীরবাবু বলে ওঠে, "ঠিকই বলেছিস।"


তারপর হালকা করে চারদিকে তাকিয়ে দেখল, ভিড়ের মধ্যে অনেকে হালকা হয়ে গেছে। মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সাকুল্যে তিরিশজন।


সুবীর হেসে বলল, "যারা দাঁড়িয়ে আছে দেখছিস, এরাই আগের বারের নির্বাচিত সদস্য বা বিরোধী পক্ষ। চল, বাইরে চল।"


করিডোর ধরে দুজনে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা লাগাল। ওয়াশরুমের সামনেও তাদের মতো বেশ কিছু বুদ্ধিজীবীর ভিড়। গোটা দুয়েক সিগারেটে সুখটানের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা মেরে আধঘণ্টার মতো কাটিয়ে বাথরুম থেকে বেরোনোর সময় কানে এল— ভোটাভুটি কমপ্লিট। এখন নাম ঘোষণা হচ্ছে বিজয়ী প্যানেলের মুখপাত্র, প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী।

আর বিরোধী দলের মুখপাত্র! সে কি হেরে গেল নাকি? না, সে প্রেসিডেন্ট পদে হেরেছে বটে, তবে সে হচ্ছে জয়ী প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট।


— কিন্তু! ভাইস প্রেসিডেন্ট কী করে হলো? সে তো প্রেসিডেন্ট পদে জিততে পারেনি।


— প্রেসিডেন্ট পদে জিততে পারেনি তো ভাইস প্রেসিডেন্টে বাধা কোথায়?


প্রোডিয়ামের বরিষ্ঠ নির্বাচকমণ্ডলীর এই সিদ্ধান্ত। সবাইকে নিয়ে সংগঠন চালাতে হবে, তবেই হবে উন্নয়ন।


কিছুক্ষণ পরপর ঘোষণা হচ্ছে, বিরোধী প্যানেলের পরাজিত সভাপতি পদপ্রার্থীকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত করা হয়েছে।


মনে মনে অস্ফুট স্বরে বলে উঠল প্রবীর, "যাক বাবা, বাঁচা গেছে।"


মিটিং শেষ। এবার ফেরার পালা।


মঞ্চের সামনে থেকে হাসিমুখে ছুটে আসছেন সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। সামনে এসে একগাল হেসে সুবীরবাবুকে বললেন,


— তুমি তো আজ রাতে ফিরে যাবে?


— হ্যাঁ দাদা, রাতের টিকিট কাটা আছে।


— কয়েকটা প্যাকেট বেঁচে গেছে। তুমি বরং একটা নিয়ে যাও। রাতে তোমাকে আর খাবার কিনতে হবে না, ট্রেনে খাবে।


এই বলে একজনকে ইশারা করে বললেন, "৭০৫ থেকে গোটা চারেক প্যাকেট নিয়ে আয়।"


প্রবীরবাবু জানেন, ৭০৫ নম্বর— ওটা অফিসার রুম। করিডোর ধরে ওয়াশরুমের দিকে যেতে ডানদিকে, সিঁড়ির পরে তিনটে ঘর বাদে।


ওটাই সংগঠনের আজকের মতো টেম্পোরারি অফিস, তথা ওয়ার রুম অ্যান্ড স্টোর রুম।


প্যাকেটগুলো এসে পৌঁছালে একটা সুবীরের হাতে ধরিয়ে তিনটে প্রবীরবাবুর হাতে ধরিয়ে দিলেন।


প্যাকেটগুলো হাতে নিয়ে স্বলজ্জে বলে উঠলেন প্রবীরবাবু,


— আমার লাগবে না। আপনি বরং অন্যদের দিন।


গম্ভীর স্বরে সদ্য নির্বাচিত সম্পাদক মহাশয় বললেন,


— বাড়িতে ফ্যামিলি আছে, নিয়ে যাও।


প্রবীরবাবু হিসাব করে দেখলেন, একদম পাক্কা হিসাব। তিনজনের জন্য ঠিক গুনে গুনে তিনটে প্যাকেট। একটা কমও নয়, একটা বেশিও নয়।


সুবীরবাবু বলল,


— দেখলি, একেই বলে নেতা। কিছু বলতেও হলো না। আমি ট্রেনে একা মানুষ, অন্তত রাতে একা, তাই একটা। আর তুই রাতে বাড়ি ফিরবি। সারা পরিবারে আছে মোটে আরও দুইজন— গিন্নি আর মেয়ে। মোট তিন। আসলে ওরা জানে, আমরা এই যে চুপ থাকি, এটাই ওদের নেতা হওয়ার কৌশল। আমরাই সংগঠনের আসল সম্পদ। আর এখানেই সাধারণ সদস্যদের জয়।


প্রবীরবাবুও তারস্বরে বলে উঠলেন,


— সাধু, সাধু, জয় সাধারণ সভার জয়।


Comments


ssss.jpg
sssss.png

QUICK LINKS

ABOUT US

WHY US

INSIGHTS

OUR TEAM

ARCHIVES

BRANDS

CONTACT

© Copyright 2025 to Debi Pranam. All Rights Reserved. Developed by SIMPACT Digital

Follow us on

Rojkar Ananya New Logo.png
fb png.png

 Key stats for the last 30 days

bottom of page