সুস্থ হৃদয়ের জন্য..
- রোজকার অনন্যা

- Sep 21, 2025
- 2 min read
ডাঃ অসীম কুমার দে
এমবিবিএস, এমএস (জেনারেল সার্জারি), এমসিএইচ (সিটিভিএস)
সিনিয়র কনসালট্যান্ট কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জেন, পিয়ারলেস হসপিটাল

এখন বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ২কোটির বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেলিওর–সহ হার্টের একাধিক সমস্যা। হার্টের অসুখ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো ও হৃদ্রোগের প্রকোপ কমাতে প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’। এবারের থিম ‘ইউস হার্ট ফর অ্যাকশন’। অর্থাৎ হার্টের অসুখে আক্রান্তকে হার্টের যত্নে সহায়তা করা এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। কলকাতার পিয়ারলেস হসপিটাল হার্টের চিকিৎসায় এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
হার্টের অসুখ সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। যেমন হার্টের অসুখ তরুণদের হয় না। একেবারেই ভুল ধারণা। ওবেসিটি, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, ধূমপান, শরীরচর্চায় অনীহা এখন তরুণদেরও হার্টের অসুখের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আরেকটি ধারণা, হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা শুধুমাত্র বুকেই হয়। তা কিন্তু নয়। বুক ছাড়াও, কখনও কখনও পিঠ, চোয়াল, পেটের উপরের অংশ ইত্যাদিতেও ব্যথা অনুভূত হয়। অনেকে মনে করেন ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছি, তাই হার্টের অসুখ হবে না। ডায়াবেটিস কিন্তু নীরব ঘাতক।
ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত ব্লাড সুগার টেস্ট করা, ইসিজি, কোলেস্টেরল টেস্টের পাশাপাশি সম্ভব হলে ট্রেডমিল টেস্টও করুন। আর বয়স ৪০ পেরলে বছরে অন্তত একবার সবারই কোলেস্টেরল টেস্ট জরুরি। অনেকের ধারণা, কোনও উপসর্গ নেই, তাই হৃদরোগের সম্ভাবনা নেই বা হার্টের অসুখ শুধুমাত্র পুরুষদেরই হয় বা ভিটামিন ওষুধ খেলে হার্টের অসুখ হবে না। এগুলো প্রতিটিই ভুল ধারণা। কখনোই এইসব ভাবনার বশবর্তী হবেন না।
হার্টের অসুখ প্রতিরোধে জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস। খেতে হবে সবুজ শাক–সবজি, ফলমূল। কমাতে হবে খাবারে নুনের পরিমাণ। দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট। ছাড়তে হবে ধূমপান, মদ্যপানের বদভ্যাস। হার্টের অসুখের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে জরুরি আগাম সচেতনতা। মানুষের সচেতনতা আর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে হার্টের সমস্যার কারণে হওয়া মৃত্যুকে অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। জরুরি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আগাম চিহ্নিতকরণ। এখন অত্যাধুনিক ইমেজিং পদ্ধতির মাধ্যমে হার্ট ও হার্টের রক্তবাহী নালীকে খুব সুন্দরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। ফলে কোনও সমস্যা থাকলে আগাম তা ধরা পড়ে।

পিয়ারলেস হসপিটালে হার্টের অসুখ চিহ্নিতকরণে স্ক্রিনিংয়ের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও আয়োজিত হয় একাধিক স্বাস্থ্যশিবির। সেখানে হার্টের বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষা ছাড়াও হার্টের অসুখের ঝুঁকি, উপসর্গ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবগত করা হয়।








Comments